• ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপ
  • " />

     

    নাটক জমিয়ে অবশেষে ক্লাব বিশ্বকাপের শিরোপা জিতল লিভারপুল

    নাটক জমিয়ে অবশেষে ক্লাব বিশ্বকাপের শিরোপা জিতল লিভারপুল    

    ফুল-টাইম

    লিভারপুল ১-০ ফ্লামেঙ্গো


    ১৯৮১, ১৯৮৪, ২০০৫। নিজেদের ইতিহাসে খেলা তিন ক্লাব বিশ্বকাপের ফাইনালের প্রতিটিই হেরেছিল লিভারপুল। ফ্লামেঙ্গোর বিপক্ষে যখন নির্ধারিত ৯০ মিনিটে যখন ফ্লামেঙ্গোর জালে বল পাঠাতে পারেনি লিভারপুল, তখন হয়তো আবারও দশক চারেক আগের দুঃস্মৃতির কথাই ভাবছিলেন লিভারপুল সমর্থকেরা। ১৯৮৪-তে ফ্লামেঙ্গোর কাছে ক্লাব বিশ্বকাপের ফাইনাল হেরেছিল 'অলরেড'রা। কিন্তু এবার আর ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটেনি। শেষ পর্যন্ত নিজেদের ব্রাজিলিয়ান প্রতিপক্ষকে ডোবালেন লিভারপুলেরই ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড রবার্তো ফিরমিনো। অতিরিক্ত সময়ে তার গোলে প্রথমবারের মত ক্লাব বিশ্বকাপ জিতল লিভারপুল।

    নির্ধারিত ৯০ মিনিটেই অবশ্য ম্যাচের ফলাফল নির্ধারণ করে দিতে পারতেন ফিরমিনো, কিন্তু ম্যাচের শুরুর দিকে সহজ দুটি সুযোগ হাতছাড়া করেন তিনি। চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালে টটেনহাম হটস্পারের বিপক্ষে দুই মিনিটেই গোল পেয়েছিল লিভারপুল। ফ্লামেঙ্গোর বিপক্ষেও জাল খুঁজে পেতে পারত শুরুর দিকেই। কিন্তু জর্ডান হেন্ডারসনের পাসে ফিরমিনোর চিপ ফ্লামেঙ্গো গোলরক্ষক ডিয়েগো আলভেজকে পরাস্ত করলেও প্রতিহত হয় বারপোস্টে। প্রথম ১০ মিনিটে গোলের আরও দুটি সুযোগ পেয়েছিল লিভারপুল, কিন্তু ফিরমিনোর মতই নাবী কেইটা এবং মোহামেদ সালাহদের কেউই জাল খুঁজে পাননি।

     

     

    প্রথমার্ধে সময় যত গড়িয়েছে, আক্রমণের ধার তত কমেছে লিভারপুলের। ফিরমিনো-সালাহদের দমিয়ে আক্রমণের সুযোগ তৈরি করতে থাকে ফ্লামেঙ্গো। কিন্তু প্রথমার্ধে স্বদেশী গ্যাব্রিয়েল বার্বোসার দুটি প্রচেষ্টা দারুণভাবে ফিরিয়ে দেন লিভারপুল গোলরক্ষক অ্যালিসন বেকার। প্রথমার্ধের মত দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেও দলকে লিড এনে দেওয়ার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গিয়েছিলেন ফিরমিনো। কিন্তু আবারও তার চিপ আলভেসকে পরাস্ত করলেও প্রতিহত হয় বারপোস্টে। প্রথমার্ধে অ্যালিসনকে বিপাকে ফেলা বারবোসা দ্বিতীয়ার্ধেও ছিলেন উজ্জ্বল, কিন্তু গোলটা আর পাওয়া হয়নি। ৫৮ মিনিটে ডিবক্সের প্রায় ২০ গজ দূর থেকে তার শট ফিরিয়ে দেন অ্যালিসন। দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের সুযোগ বেশি পেয়েছিল লিভারপুল, ফ্লামেঙ্গোর জালে বলও পাঠিয়েছিল তারা। ৭৬ মিনিটে সাদিও মানের পাস থেকে গোল করেন সালাহ, কিন্তু অফসাইডে থাকায় বাতিল হয় গোলটি।

    নির্ধারিত সময়ে চেষ্টা করেও গোল পায়নি কোনো দল। দ্বিতীয়ার্ধের যোগ করা সময়ে শুরু হয় নাটক। অতিরিক্ত সময়ের প্রথম মিনিটেই মানেকে ফাউল করে লিভারপুলকে পেনাল্টি উপহার দেন রাফিনহা। পেনাল্টির সিদ্ধান্ত জানালেও 'ভিএআর'-এর শরণাপন্ন হয়ে মাঠের বাইরের মনিটরে পেনাল্টির ঘটনা আবারও দেখে নেন রেফারি। এবার বাতিল হয় পেনাল্টির সিদ্ধান্ত, খেলা গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। এবার আর হাঁফ ছেড়ে আর বাঁচতে পারেনি ফ্লামেঙ্গো। ১০০ মিনিটে মানের পাস থেকে অবশেষে জাল খুঁজে পান ফিরমিনো। ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ডের উদযাপনই প্রমাণ করছিল, গোল করতে পেরে কতটা নির্ভার ছিলেন তিনি।

    মিনিটখানেক পর জয় নিশ্চিত করার সুযোগ পেয়েছিলেন সালাহ, কিন্তু রীতিমত অবিশ্বাস্য সেভে তাকে ফিরিয়ে দেন আলভেস। সমতায় ফেরার দারুণ এক সুযোগ পেয়েছীল ফ্লামেঙ্গো। অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধে বারবোসার মাইনাস থেকে ডিবক্সে ভিতিনিয়োর শট অল্পের জন্য চলে যায় গোলের বাইরে দিয়ে। শেষ পর্যন্ত অবশ্য আর ম্যাচে ফেরা হয়নি ফ্লামেঙ্গোর। ৩৮ বছরের প্রতিশোধ নিল লিভারপুল, ট্রফিকেসে যোগ হল এতদিনের অধরা ক্লাব বিশ্বকাপ।