• ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ
  • " />

     

    কিক অফের আগে: ইংলিশ ক্লাসিকোতে 'জাজমেন্ট ডে'?

    কিক অফের আগে: ইংলিশ ক্লাসিকোতে 'জাজমেন্ট ডে'?    

    “লিভারপুল-ম্যানচেস্টার সিটি ইংলিশ ফুটবলের ইতিহাসে সবচেয়ে তীব্র এবং সর্বোচ্চ মানের লড়াইয়ের ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে । ইংলিশ ফুটবলের ইতিহাসে সর্বশ্রেষ্ঠ প্রতিদ্বন্দ্বিতা এটি।” বলছিলেন সাবেক ইংল্যান্ড তারকা ও ফুটবল পন্ডিত জ্যামি কারাগার। টেলিগ্রাফে তার কলামের সঙ্গে সুর মিলিয়েছেন গার্ডিয়ানের খ্যাতনামা কলামিস্ট জোনাথান লিউও। ক্লপ-গার্দিওলার এই প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে ‘ইংলিশ ক্লাসিকো’ হিসেবে আখ্যা দেয়ারই দাবি জানালেন তিনি। 

    কেনই বা জানাবেন না। গত চার মৌসুমে ক্লপ ও গার্দিওলার গড়ে তুলেছে ৯০ পয়েন্ট করে। যেখানে এর বাইরে প্রিমিয়ার লিগে ৯০-ঊর্ধ পয়েন্ট সংগ্রহ করতে পেরেছে মাত্র দুটি ক্লাব। ওয়েঙ্গারের ইনভিন্সিবলরা মৌসুম শেষ করেছিল ৯০ পয়েন্ট নিয়ে। কিংবদন্তি অ্যালেক্স ফার্গুসন তার প্রিমিয়ার লিগ ক্যারিয়ারে সর্বোচ্চ পয়েন্ট কুড়িয়েছিলেন ১৯৯৯-০০ মৌসুমে। সেবার ট্রেবলজয়ী ইউনাইটেড কুড়িয়েছিল ৯১ পয়েন্ট। 

    এদিকে এবারও ৯০-ঊর্ধ পয়েন্ট নিয়ে হয়তো রানার আপ হবে সিটি, লিভারপুলের মধ্যকার এক দল। কিন্তু প্রতিযোগিতা কিন্তু মোটেও আগের চেয়ে সহজ হয়নি। পূর্বের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে প্রিমিয়ার লিগ। তার মাঝে এই দুই দলের শ্রেষ্ঠত্ব শুধু ইংলিশ ফুটবলকেই আলোড়িত করেনি, করেছে পুরো ইউরোপকে। লিভারপুল ও সিটি এখন তর্কসাপেক্ষে ইউরোপ তথা বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী দুই ক্লাব।  

    গার্দিওলা এ ম্যাচের আগেও বলেছেন, তার ১৩ বছরের ম্যানেজার জীবনে লিভারপুলের মতো কঠিন প্রতিপক্ষ আর পাননি তিনি। এ কথা এর আগেও কয়েকবার বলেছেন এই কাতালান। ভুলে গেলে চলবে না, এই গার্দিওলাই খেলেছেন মরিনহোর রিয়াল, সিমিওনের অ্যাটলেটিকো, কন্তের চেলসির বিপক্ষে। সাম্প্রতিক মহান দলগুলোর মাঝে এই লিভারপুল কোন উচ্চতায় তা এখান থেকেই বুঝা যায়। ওদিকে ইয়ুর্গেন ক্লপ গত তিন-চার বছরে ধারবাহিকভাবে বলে এসেছেন, গার্দিওলাই বিশ্বের সেরা ম্যানেজার, এবং সিটি সর্বশ্রেষ্ঠ দল। 

    শ্রেষ্ঠ দুই দল, শ্রেষ্ঠ দুই ম্যানেজার, শ্রেষ্ঠ লড়াই; লিভারপুল বনাম সিটিকে ‘ইংলিশ ক্লাসিকো’ আখ্যা দিতে এরচেয়ে বেশি কিছু লাগার কথা না। কিন্তু আজকের এই ম্যাচের আগে এসব কথাবার্তায় নিশ্চিতভাবেই কান দিবে না দুই দল। বলতে গেলে তাদের পুরো মৌসুমের ভাগ্য নির্ভর করছে এই এক ম্যাচের উপর।       

     

    শিরোপা নির্ভর করছে এ লড়াইয়ের উপর? 

    অনেকাংশেই। ৩০ ম্যাচ শেষে ম্যান সিটি ও লিভারপুল সংগ্রহ করেছে যথাক্রমে ৭৩ ও ৭২ পয়েন্ট। সর্বশেষ এরকম হাড্ডাহাড্ডি শিরোপা লড়াই হয়েছিল ২০১৮-১৯ মৌসুমে। সেবার সর্বশেষ ৯টি ম্যাচ টানা জিতেছিল এই দুই দল। এবারও সম্ভাবনা আছে একইরকম কিছু হওয়ার। সেক্ষেত্রে এই ম্যাচটিই বলতে গেলে মৌসুমের ফাইনাল। 

     

    সাম্প্রতিক ফর্ম 

    দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছে লিভারপুল। ২ জানুয়ারির পর লিগে গত চার মাসে সব ম্যাচ জিতেছে ক্লপের শিষ্যরা। টানা ১০ ম্যাচ জিতে লিগ চ্যাম্পিয়নদের ডেরায় পা দিতে যাচ্ছে তারা। 

    লিভারপুলের মতো ছন্দে না থাকলেও সিটি জিতেছে তাদের সর্বশেষ তিন ম্যাচ। এফএ কাপে সাউদাম্পটন, লিগে বার্নলি ও চ্যাম্পিয়ন্স লিগে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ; তিন প্রতিযোগিতায় তিন দলকে হারিয়ে লিভারপুলের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে গার্দিওলার দল। 

     

    মাঠ ও রেফারি 

    ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে সিটির মাঠ, ইতিহাদ স্টেডিয়াম। হোম অ্যাডভান্টেজ পেতে যাচ্ছে সিটিজেনরাই।র

    এই ম্যাচে অন ফিল্ড রেফারি হিসেবে থাকছেন অ্যান্থনি টেইলার। আর ভিএআরে থাকছেন পল টিরানি। দুই রেফারিই ম্যানচেস্টার অঞ্চলের হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নিয়ে বেশ রোষানলে পড়তে হয়েছে লিগ কর্তৃপক্ষকে। 

     

    দলের খবর 

    ম্যাচের আগে ইয়ুর্গেন ক্লপ জানিয়েছেন, পুরোপুরি ইনজুরিমুক্ত লিভারপুল। তবে রবার্তো ফিরমিনোকে গত দুইদিন দলগত অনুশীলনে দেখা যায়নি। 

    আর সিটির দল থেকে একমাত্র অনুপস্থিত খেলোয়াড় হচ্ছেন রুবেন ডিয়াজ। হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটে এই ম্যাচও বাইরে থেকে দেখতে হবে এই সেন্টার ব্যাককে। 

     

    সম্ভাব্য একাদশ  

    সিটি 

    এডারসন, ক্যান্সেলো, লাপোর্ত, স্টোনস, ওয়াকার, রদ্রি, ডি ব্রুইনা, বার্নাদো সিলভা, মাহরেজ, ফোডেন, স্টারলিং 

     

    লিভারপুল 

    অ্যালিসন; আলেকজান্ডার-আর্নল্ড, মাতিপ, ভ্যান ডাইক, রবার্টসন; হেন্ডারসন, ফ্যাবিনহো, থিয়াগো; সালাহ, ফিরমিনো, মানে।