• ২০২২ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ
  • " />

     

    তাসকিন-হাসান আর দুর্দান্ত ফিল্ডিংয়ে অবশেষে অধরা জয় বাংলাদেশের

    তাসকিন-হাসান আর দুর্দান্ত ফিল্ডিংয়ে অবশেষে অধরা জয় বাংলাদেশের    

    সুপার ১২, হোবার্ট (টস- নেদারল্যান্ডস/ বোলিং)

    বাংলাদেশ, ১৪৪/৮, ২০ ওভার (আফিফ ৩৮, শান্ত ২৫, মেকারান ২/২১)

    নেদারল্যান্ডস, ১৩৫, ২০ ওভার ১২০/১০ (আকারম্যান ৬২, তাসকিন ৪/২৫, হাসান ২/১৫)

    ফলঃ বাংলাদেশ ৯ রানে জয়ী। 

     

    আরেকটি ব্যাটিং ব্যর্থতার গল্পে নিরাশ করেছিল বাংলাদেশ। তাসকিন আহমেদ ও হাসানের আগুনে বোলিংয়ে সেই নিরাশা উড়িয়ে বাংলাদেশ পরে লিখেছে সাফল্যের এক গল্প। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে যে সাফল্যের দেখা আগে পায়নি বাংলাদেশ, দ্বিতীয় রাউন্ডে সেই অধরা জয় এলো এই প্রথম। দীর্ঘদিন পর ওপেনিংয়ে প্রাণ ফিরে আসার পরও বাংলাদেশ ব্যাটিং ধ্বস।তবে আফিফের ৩৮ ও মোসাদ্দেকের ২০ রানের কার্যকরী ইনিংসে বাংলাদেশের লড়াইয়ের রসদ ১৪৫ । তাসকিন ও হাসানের ছয় উইকেটের দুর্দান্ত বোলিংয়ের সাথে দুরন্ত ফিল্ডিংয়ে নেদারল্যান্ডসকে  ৯ রান দূরেই আটকে দিতে পেরেছে টাইগাররা। 

    প্রথম রাউন্ডের প্রথম দুই ম্যাচে ভালো শুরু পাওয়া ডাচরা এ ম্যাচের শুরুতেই খেয়েছিল বড়সড় ধাক্কা। প্রথম দুই বলেই নেই দুজন। তাসকিনের আগুনের হলকা ফোস্কা ফেলেছিল ডাচদের গায়ে, পেসের সাথে সিম মুভমেন্টে কোণঠাসা হয়ে পড়লো তারা। বিনা রানেই দুই উইকেট ফেলে দেওয়া উজ্জীবিত বাংলাদেশ দুর্দান্ত ফিল্ডিংয়ে আরও দুজনকে ফিরিয়ে দেয় রান আউটে। ১৫ রানে চার উইকেট হারিয়ে দিশেহারা নেদারল্যান্ডসকে ম্যাচে ফেরাতে আক্রমণের পথ বেছে নিলেন অ্যাকারম্যান। পঞ্চম ওভারে তাসকিনকে দুই চারের পর হাসানকে আরেকটি মারলে পাওয়ারপ্লে শেষ করে তারা ৩২ রানে। 

    অ্যাকারম্যান কিছুটা স্বচ্ছন্দে খেললেও অধিনায়ক এডওয়ার্ডস ভুগছিলেন। শেষমেশ ২৪ বলে ১৬ রানে সাকিবের বলে রিভার্স সুইপে আউট হলেন, তখন নেদারল্যান্ডস ৫ উইকেটে ৫৯ রানে। অ্যাকারম্যান ওপাশে ৩৬ বলে ৪১ রানে অপরাজিত, প্রিঙ্গল জীবন পেয়েও হাসানের ওই ওভারেই আউট হয়ে গেলে ৬৬ রানে ষষ্ঠ উইকেট খুইয়ে বসে নেদারল্যান্ডস। অবিশ্বাস্য কিছু না হলে বাংলাদেশের জয় তখন সময়েরই ব্যাপার। 

    দ্বিতীয়বারের মতো বাগড়া বাধায় বৃষ্টি। কিছুক্ষণ পরে খেলা শুরু হলে সেই সময়টাও চলে আসে। তবে ২০তম ওভারে নেদারল্যান্ডসকে অলআউট করতে করতে তারা পৌঁছে যায় ১৩৫ রানে। আকারম্যান ৬২ রানে আউট হয়ে যাওয়ার পরও মেকারান ১৪ বলে ২৪ রান করে টেনে নিয়ে যান ডাচদের।  

    বিগত সময়ে বাংলাদেশের ওপেনিং নিয়ে ঘটেছে অনেক কিছুই। একের পর এক বদল, একের পর এক জুটি। শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপে বাংলাদেশ নামে শান্ত-সৌম্যকে নিয়েই। নেদারল্যান্ডসের এলোমেলো বোলিংয়ের সুবিধা নিয়ে পাওয়ারপ্লেতে দুজন তোলেন ৪৩ রান। ওপেনিংয়ে বাংলাদেশ চল্লিশের বেশি রান সর্বশেষ পেয়েছিল ২০২১ সালে নিউজিল্যান্ড সিরিজে।  দ্রুতগতির বল বাংলাদেশের আরেক ভোগান্তির বিষয়। মেকারানের পেসে এদিনও ভুগেছে বাংলাদেশ। পাওয়ারপ্লেতে দুই ওভারে ৭ রান দিয়ে ১৪ রানে সৌম্যকে ফেরান মেকারান। 

    পাওয়ারপ্লের পরের বলেই প্রিঙ্গলের করা অফ স্টাম্পের বাইরের বল টেনে মারতে গিয়ে ২৫ রানের সম্ভাবনাময় ইনিংসের সমাপ্তি ঘটান শান্ত। লিটনও এসে ৯ রানেই নিয়ন্ত্রণহীন শট খেলে আউট হয়ে গেলে ৬০ রানেই তৃতীয় উইকেট হারিয়ে ফেলে বাংলাদেশ। অধিনায়ক সাকিব এসে এরপর ফিরে যান স্লগ সুইপে বাউন্ডারিতে দুর্দান্ত ক্যাচের শিকার হয়ে। তরুণ ডাচ লেগি শারিজের উপর চড়াও হন আফিফ। দশম ওভারে মারেন একটি ছয়। 

    এরপর আবার শারিজের ওপর আক্রমণ শানান আফিফ। ১৫তম ওভারে চারের পর মারেন ছয়। কিন্ত ২৮ রানে জীবন পাওয়া আফিফের ইনিংস থেমে যায় ৩৮ রানেই। শেষ পাঁচ ওভারে আবারও একই দশা, দ্রুত উইকেট হারাতে থাকে বাংলাদেশ। শেষের ৩০ বলে মাত্র ৩৮ রানই আনতে পারে। ইনিংসের প্রথম অর্ধে ৭২ রান আনা বাংলাদেশ শেষ অর্ধেও আনে ৭২ রানই! মোসাদ্দেকের ১২ বলে ২০ রানের ক্যামিওর সুবাদে তবু ১৪৪ পর্যন্ত যেতে পারে বাংলাদেশ। তাসকিন-হাসানের আগুনে বোলিং সেই রানটাকেই পরে যথেষ্ট প্রমাণিত করেছে বাংলাদেশের জয়খরা কাটানোর জন্য। সাথে দুর্দান্ত ফিল্ডিং তো ছিলই।