• নিউজিল্যান্ডের বাংলাদেশ সফর
  • " />

     

    সিলেটে স্পিনারদের ঘূর্ণি জাদুতে জয়ের কাছাকাছি বাংলাদেশ

    সিলেটে স্পিনারদের ঘূর্ণি জাদুতে জয়ের কাছাকাছি বাংলাদেশ    

    ১ম টেস্ট, বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড, সিলেট (টস-বাংলাদেশ/ব্যাটিং)
    বাংলাদেশ - ৩১০ ও ৩৩৮  (শান্ত ১০৫, মুশফিক ৬৭, মিরাজ ৫০*, আজাজ ৪/১৪৮, সোধি ২/৭৪, সাউদি ১/৩৩)
    নিউজিল্যান্ড - ৩১৭ ও ১১৩/৭, ৪৯ ওভার (মিচেল ৪৪*, কনওয়ে ২২, তাইজুল ৪/৪০, শরিফুল ১/১৩, নাঈম ১/২৪)
    জয়ের জন্য নিউজিল্যান্ডের ২১৯ প্রয়োজন রান
    ৪র্থ দিন, স্টাম্পস


     

    ঘরের মাঠে এর আগে কখনই নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্টে জয় পায়নি বাংলাদেশ। সেই আক্ষেপটা এবার যেন ঘুচিয়ে ফেলতে চলেছে তাড়া। গত টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে এই নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম টেস্ট জয়টা বাংলাদেশ পেয়েছিল কিউইদের মাঠে; এবারের টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ চক্রেও শুরুটা তাদের বিপক্ষে জয় দিয়েই যেন শুরু করতে যাচ্ছে স্বাগতিকরা।

    দিনের শুরুটা অবশ্য বাংলাদেশের মনমত হয়নি। মাত্র ৫ বল টিকে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত লেগ সাইড দিয়ে বেরিয়ে যাওয়া সাউদির নিরীহ বলে খোঁচা মেরে ফেরেন ১০৫ রানে। ফিফটি পেয়ে যাওয়া মুশফিক এরপর দীপুকে সঙ্গী করে জুটি গড়ার চেষ্টা করলেও কিউই স্পিনাররা ধীরে ধীরে ম্যাচে নিজেদের আধিপত্য বিস্তার করতে শুরু করেন। ১৮ রানে দীপু সোধির পাতা এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়লে ৬৭ রানে আজাজের এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়েন মুশফিক। ফিলিপসকে ফিরতি ক্যাচ দিয়ে ১০ রানে নুরুলও ফিরলে লাঞ্চের আগে অবশ্য মিরাজের দৃঢ়তায় তিনশো পার করে বাংলাদেশ।

    উইকেটে স্পিন ধরার লক্ষণ দেখা গেলেই মিরাজ যতটুকু পারা যায় রান বাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। অন্য প্রান্তে টেইল এন্ডারদের আশা যাওয়ার মিছিলের মাঝেই মিরাজ তাই ফিফটি তুলে নিয়ে অপরাজিত থাকলে বাংলাদেশ পেয়ে যায় ৩৩১ রানের লিড।

    সেই আত্মবিশ্বাস থেকেই বল হাতে দুর্দান্ত শুরু করে বাংলাদেশ। প্রথম ওভারেই শরিফুলের দারুণ এক বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন টম ল্যাথাম। তবে বাংলাদেশের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত উইকেটটা এনে দেন বাংলাদেশের সেরা স্পিনার। পুরো টেস্টের সবচেয়ে বড় লড়াই হওয়ার কথা ছিল উইলিয়ামসন বনাম তাইজুল; হয়েছেও তাই। আর সেই লড়াইয়ে তাইজুল নিজেকে বিজয়ী ভাবতেই পারেন। প্রথম ইনিংসে আর্ম বলে স্ট্যাম্প উপড়ে ফেলার পর এবার আর্ম বলে উইলিয়ামসনকে এলবিডব্লিউ করেন তাইজুল। লাঞ্চের একটু আগে মিরাজকে সুইপ করতে গিয়ে শর্ট ফাইন লেগে ক্যাচ দিয়ে নিকোলস ফিরলে ৩৭ রান তুলতেই ৩ উইকেট খুইয় লাঞ্চে যায় কিউইরা।

    লাঞ্চের পর অধিনায়ক শান্তের দারুণ অধিনায়কত্বকে একই দক্ষতায় কাজে লাগান স্পিনাররাও। তাতেই চাপে পড়ে যায় কিউই ব্যাটাররা। স্পিন মোকাবেলা করতে বেরিয়ে এসে খেলতে গিয়ে কনওয়ে ব্যাট-প্যাড করলে দীপুর দক্ষ ক্যাচে ২২ রানে থামেন তিনি। মিচেল এক প্রান্ত ধরে রেখে যেন অন্য উইকেটে ব্যাট করছিলেন। কিন্তু বাংলাদেশি স্পিনারদের তোলা প্রশ্নের উত্তর জানা ছিল া অন্য ব্যাটারদের। তাইজুলের লাফিয়ে উঠা দুর্দান্ত এক অফ ব্রেকে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ব্লান্ডেল ফিরলে এরপর নাঈমের তীক্ষ্ণ এক অফ স্পিনে এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরেন ফিলিপস। ঘুরতে থাকা বল এরপর মিচেলের সাথে যোগ দিয়ে জেমিসন ভালভাবেই মোকাবেলা করলে আর্ম বলে তাকে কাবু করেন তাইজুল। দিনের শেষটুকু মাটি কামড়ে পড়ে থেকে সোধি-মিচেল পার করে দিলেও দেশের মাঠে প্রথম জয়টা বাংলাদেশের জন্য হয়ত সময়ের ব্যাপার মাত্র।