• শ্রীলংকার বাংলাদেশ সফর
  • " />

     

    হারের দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ

    হারের দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ    

    ১ম টেস্ট, সিলেট, বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা (টস-বাংলাদেশ/বোলিং)
    শ্রীলঙ্কা - ২৮০ ও ৪১৮  (কামিন্দু ১৬৪, ধনঞ্জয়া ১০৮, করুনারত্নে ৫২, মিরাজ ৪/৭৪, তাইজুল ২/৭৫, নাহিদ ২/১২৮)
    বাংলাদেশ - ১৮৮ ও ৪৭/৫ (জাকির ১৯, মুমিনুল ৭*, বিশ্ব ৩/১৩, কুমারা ১/৬)


    জয়ের জন্য বাংলাদেশের প্রয়োজন ৪৬৪ রান
    ৩য় দিন, স্টাম্পস


     

    টেস্টে নিজেদের চালকের আসনে বসিয়েছিলেন আগের দিনেই; আজ দিন শেষ হওয়ার পর সেই শ্রীলঙ্কা এখন আছে শুধু জয়ের অপেক্ষায়। আগের ইনিংসের দুই সেঞ্চুরিয়ান ধনঞ্জয়া ডি সিলভা ও কামিন্দু মেন্ডিস দ্বিতীয় ইনিংসেও পেলেন সেঞ্চুরি। তবে পাহাড়সম লক্ষ্য পেয়েও বাংলাদেশি ব্যাটারদের উইকেট ছুঁড়ে দিয়ে আসার মিছিলটাই যেন এই টেস্টের সবচেয়ে বড় চিন্তার খোরাক জুগিয়ে গেল।

    আগের দিন শ্রীলঙ্কা ৫ উইকেট হারালেও সেই ধনঞ্জয়া ও কামিন্দু উইকেটে ছিলেন বলেই চিন্তাটা বেশি ছিল। সেই ভাবনার জায়গাটা সত্যি করে দুজনেই আরও একবার দেওয়াল হয়ে দাঁড়ালেন বাংলাদেশের বোলারদের সামনে। বিন্দুমাত্র ছেড়ে কথা না বলে সেশন হিসেব করে দুজনে দারুণভাবে এগিয়ে নিয়ে যান নিজেদের ইনিংস।। অবশ্য বাংলাদেশের দুর্বল বোলিং ও ফিল্ডিংটাও তাদের প্রতি সদয় হয়েছে বলা যায়। যথারীতি ফিফটি পূর্ণ করে দুজনেই সেঞ্চুরির দিকে যখন এগুচ্ছিলেন, সুযোগ পেয়েও বাংলাদেশ তখন তা পায়ে ঠেলে দিয়েছে।

    মজার ব্যাপার, ঘটনাটা একেবারে প্রথম ইনিংসের মতই! প্রথম ইনিংসে ৯৫ রানে থাকার সময় ধনঞ্জয়া বেঁচে গিয়েছিলেন তার বিপক্ষে বাংলাদেশ রিভিউ না নেওয়ায়। এবার ঘটল আরও অদ্ভুত এক কাণ্ড! ৯৬ রানে থাকার সময় উইকেটের একদম পেছন থেকেই লিটন দাস লুফে নিলেন ধনঞ্জয়ার ক্যাচ; অথচ কোনও আবেদনই করলেন না। এর আগেও খাপছাড়া উইকেটকিপিংয়ে বেশ কয়েকবার ভুগিয়েছেন বোলারদের। মোক্ষম এই সুযোগ পেয়ে শ্রীলঙ্কা অধিনায়ক তা লুফে নিয়েছেন দুই হাত ভরে। প্রথম লঙ্কান অধিনায়ক হিসেবে বাংলাদেশের বিপক্ষে এক টেস্টে পেয়েছেন জোড়া সেঞ্চুরি। সেঞ্চুরির পরও ধনঞ্জয়া একবার শরিফুলের বলে ক্যাচ দিয়ে বেঁচে গিয়েছিলেন। অবশ্য তার কিছুক্ষণ পরেই তিনি মিরাজের শিকার হয়ে ১০৮ রানে থামেন। তবে থামেননি কামিন্দু; যদিও সুযোগ যে বাংলাদেশ পায়নি এমনটা না। সেঞ্চুরির আগে এই বাঁহাতিও দিয়েছিলেন সুযোগ। মিরাজের বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিলে আবারও দলকে ডোবান লিটন। এরপরের ওভারেই যেন বাংলাদেশের সাথে পরিহাস করতেই তাইজুলকে বেরিয়ে এসে বাউন্ডারির ওপর দিয়ে উড়িয়ে মেরে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন তিনি। সেঞ্চুরির পর বেধড়ক পিটুনি দিয়ে প্রায় একাই লিড নিয়ে গিয়েছিলেন পাঁচশোর ওপরে। শেষ ব্যাটার হিসেবে যখন থামলেন তখন তার নামের পাশে রান ১৬৪। সেঞ্চুরি যেখানে পেয়েছিলেন ১০৭-তম ওভারে সেখানে ১১১-তম ওভারে থামার আগেই বাংলাদেশের নাভিশ্বাস ছুটিয়ে ছেড়েছিলেন।