• ফুটবল

একজন মায়েস্ত্রো, যিনি জাদু জানতেন

পোস্টটি ৫৭৪ বার পঠিত হয়েছে
'আউটফিল্ড’ একটি কমিউনিটি ব্লগ। এখানে প্রকাশিত সব লেখা-মন্তব্য-ছবি-ভিডিও প্যাভিলিয়ন পাঠকরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে নিজ উদ্যোগে করে থাকেন; তাই এসবের সম্পূর্ণ স্বত্ব এবং দায়দায়িত্ব লেখক ও মন্তব্য প্রকাশকারীর নিজের। কোনো ব্যবহারকারীর মতামত বা ছবি-ভিডিওর কপিরাইট লঙ্ঘনের জন্য প্যাভিলিয়ন কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে না। ব্লগের নীতিমালা ভঙ্গ হলেই কেবল সেই অনুযায়ী কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিবেন।

আধুনিক ফুটবলে ক্লাসিক্যাল নাম্বার টেনের অস্তিত্ব হুমকির মুখে। অথচ একটা সময় ছিলো, যখন ফুটবল মাঠের সৌন্দর্যই ছিলো এই নাম্বার টেন। ফুটবলের যে প্রকৃত শিল্পরূপ, তা প্রকাশ পেত তাঁদের পায়েই। পায়ের জাদুকরী কারিশমায় তাঁরা মাঠে তৈরি করতেন হাজারো ইলিউশান, আর তাতে হতবাক হতো শত কোটি ফুটবল সমর্থক। সেকালের ম্যাজিক্যাল ম্যাগিয়ার্সের নান্দোর হিদেকুটি থেকে শুরু করে এ যুগের রিকার্দো কাকা, যুগের পর যুগ ধরে ফুটবল দুনিয়ায় মুগ্ধতা ছড়িয়ে এসেছেন ক্লাসিক্যাল নাম্বার টেনরা।

নব্বই এর দশকের ইতালি ছিলো এই নাম্বার টেন দের স্বর্ণযুগ। আজ্জুরিদের তখনকার প্রজন্মে ছিলো রবার্তো বাজ্জিও, আলেসান্দ্রো ডেল পিয়েরো, ফ্রান্সেস্কো টট্টির মতো এমন বেশ কটি নাম, যারা নিজেদের সীমানা পেরিয়ে জায়গা করে নিয়েছিলেন কিংবদন্তিদের তালিকায়। পাশাপাশি ছিলেন রোমানিয়ার সর্বকালের অন্যতম সেরা গোর্গে হাজি। আর জুভেন্টাসে জিনেদিন জিদান তো ছিলেনই। তবে একজন ছিলেন অন্য সবার চেয়ে একটু আলাদা, নিজের গল্প লিখেছিলেন একটা অন্যভাবে, যা সবার মাঝেও তাঁকে করে তুলছিলো অনন্য। তাঁর নাম রুই ম্যানুয়েল সিজার কস্তা।

১৯৭২ সালের ২৯ মার্চ পর্তুগালের রাজধানী লিসবোনের উত্তর-পশ্চিমে আমাদোরা নামক শহরতলিতে জন্মগ্রহণ করেন কস্তা। ফুটবলে হাতেখড়ি হয় একদম ছেলেবেলাতেই। মাত্র পাঁচ বছর বয়সে স্থানীয় একটা দলে যোগ দেন তিনি। এখানে থাকা অবস্থাতেই পর্তুগালের প্রসিদ্ধতম ক্লাব বেনফিকায় ট্রায়ালের একটা সুযোগ পেয়ে যান। আর সেখানে মাত্র ১০ মিনিট ট্রেইনিং করেই তিনি নজর কাড়েন বালকদের দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা পর্তুগিজ কিংবদন্তি ইউসেবিওর। ক্ষুদে রুই কস্তার দক্ষতায় মুগ্ধ হয়ে তাঁকে আর একদমই হাতছাড়া করেননি ইউসেবিও। আর এভাবেই বেনফিকার সাথে পথ চলা শুরু করেন রুই কস্তা।

১৯৯০ সাল পর্যন্ত বেনফিকার জুনিয়র দলগুলোয় খেলেন কস্তা। অতঃপর নিম্নসারির দল ফাতে তে এক সিজন লোনে কাটান। দারুণ এক লোন স্পেল শেষ করে অবশেষে তিনি বেনফিকার মূল দলে জায়গা করে নেন।

এরমধ্যেই এসে পড়ে ১৯৯১ সালের যুব বিশ্বকাপের আসর। সেবারের আসর টা আবার বসেছিলো পর্তুগালেই। ফাতে তে লোনে তার দুর্দান্ত পারফর্মেন্স নজর কেড়েছিলো তৎকালীন পর্তুগাল যুব দলের কোচ কার্লোস কোয়েরোজ এর। ফলাফল, পর্তুগাল অনূর্ধ্ব-২০ দলের বিশ্বকাপ স্কোয়াডে জায়গা পান কস্তা। সেবারের আসরটা ছিলো তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা টুর্নামেন্ট। রুই কস্তাদের সে পর্তুগাল দল সেবার ফাইনালে ব্রাজিল কে হারিয়ে জয় করে শিরোপা। জাতীয় দলের হয়ে তাঁর যাত্রাটা শুরু হয় অসাধারণ ভাবে। ফাইনালে ব্রাজিলের বিপক্ষে ক্লিনিক্যাল পেনাল্টি থেকে তাঁর গোলই জয় এনে দেয় পর্তুগাল কে। পর্তুগালের সে দলটি "সোনালি প্রজন্ম" হিসেবে পরিচিতি পায় চারিদিকে, আর তার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হয়ে ওঠেন রুই ম্যানুয়েল সিজার কস্তা।

image_search_1679929622255
ট্রফি জয় করে ফিরে বেনফিকা দলে নিয়মিত হয়ে ওঠেন রুই কস্তা। পরের দুই সিজনে হয়ে ওঠেন দলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়। সেসময় বেনফিকায় খেলতেন জোয়াও ভিয়েইরা পিন্টো। কস্তা আর পিন্টো মিলে বিশ্বের অন্যতম সেরা মিডফিল্ড পার্টনারশিপ গড়ে তোলেন। তাঁদের হাত ধরেই ১৯৯৩-৯৪ মৌসুমে দীর্ঘ ১১ বছর অপেক্ষার পর লিগ শিরোপা ঘরে তোলে বেনফিকা।

বেনফিকার ফিন্যান্সিয়াল অবস্থা তখন তেমন ভালো যাচ্ছিলোনা। ঠিক এসময় কস্তার জন্য প্রায় ৬ মিলিয়ন ইউরোর অফার নিয়ে হাজির হয় ইতালিয়ান জায়ান্ট ফিওরেন্টিনা। এ অফার ফিরিয়ে দেওয়ার মতো অবস্থায় বেনফিকা ছিলোনা। অবশেষে বেনফিকায় দুর্দান্ত তিনটি সিজন কাটিয়ে ফ্লোরেন্সের উদ্দেশ্য যাত্রা করলেন রুই কস্তা।

ভিন্ন প্রতিযোগিতা, ভিন্ন পরিবেশ। ইতালিতে সবকিছুই ছিলো তাঁর জন্য নতুন। এখানে যেমন ছিলো ক্লাব গুলোর চরম প্রতিযোগিতা, তেমনি সবসময় প্রতিযোগিতা চলতো খেলোয়াড়দের নিজেদের মধ্যে। আগেই বলেছি, তখনকার ইতালি ছিলো নাম্বার টেন দের তীর্থ। তাই রুই কস্তার প্রতিযোগীর কমতি ছিলোনা। তাঁর সবচেয়ে বড় প্রতিযোগী অবশ্য ছিলেন একদমই অন্য উচ্চতায়, যাকে ফুটবল ইতিহাসের শ্রেষ্ঠতম নাম্বার টেন বলাই যায়। তিনি আর কেউ নন, স্বয়ং জিনেদিন জিদান।

তবে ইতালিতে নিজের স্বরুপ চেনাতে দেরী করেননি কস্তা। তাই ফিওরেন্টিনাতে যেকদিন ছিলেন, পুরোটা সময় জুড়েই আরও সব বড় বড় ক্লাব তাঁকে দলে ভেড়ানোর জন্য উঠে পড়ে লেগেছিলো। এর মধ্যেই লা ভায়োলাদের হয়ে দুর্দান্ত কিছু মৌসুম কাটান রুই কস্তা। সেখানে থাকাকালীন দুইবার কোপা ইতালিয়া জয় করেন, পাশাপাশি সুপারকোপাও ঘরে তোলেন। জিদান কে পেছনে ফেলে একাধিকবার সিরি আর বেস্ট নাম্বার টেন নির্বাচিত হন তিনি। অবশেষে ২০০১ সালের সামার ট্রান্সফার উইন্ডো তে অনেক নাটকের পর ফ্লোরেন্স ছেড়ে এসি মিলানে যোগ দেন রুই কস্তা।

image_search_1679930034966
২০০০-০১ সিজনে ফিওরেন্টিনার কোচ ছিলেন ফাতিহ তেরেম। সে সিজনে তাঁর সবচেয়ে প্রিয় ছাত্রে পরিণত হন রুই কস্তা। সিজন শেষে মিলানের কোচ নিযুক্ত হন তেরেম। নতুন ক্লাবে গিয়েও পুরনো শিষ্যকে একদমই ভুলতে পারেননি তিনি। মূলত তার জোরাজুরিতেই রুই কস্তা কে দলে ভেড়ায় মিলান। অর্থের হিসাবে প্রায় ৪৪ মিলিয়ন ইউরোর বিনিময়ে কস্তাকে সাইন করায় মিলান। এর ফলে মিলান ইতিহাসের সবচেয়ে দামী খেলোয়াড়ে পরিণত হন রুই কস্তা।

এসি মিলানে দারুণ কিছু সময় কাটান কস্তা। এখানেই মূলত ক্যারিয়ারের সেরা সাফল্য গুলোর দেখা পান। ২০০৩ সাল টা ছিলো তাঁর ক্যারিয়ারের সবচেয়ে সাফল্যমণ্ডিত সময়। সেবছর শুরুতেই জয় করেন কোপা ইতালিয়া। এরপর বছরের মাঝামাঝিতে প্রথমবারের মতো জিতে নেন বহুল আকাঙ্ক্ষিত ইউয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ। তবে জুভেন্টাসের বিপক্ষে ফাইনাল ম্যাচে পুরোটা সময় খেলতে পারেননি কস্তা। রেগুলেশন টাইমের শেষ পর্যায়ে ইঞ্জুর্ড হয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন। অবশেষে পেনাল্টি শুট আউটে জয় পায় মিলান। এরপর আগস্টে ইউয়েফা সুপার কাপে তাঁর বাড়ানো বল থেকে আন্দ্রেই শেভচেঙ্কোর একমাত্র গোলে সে শিরোপাও ঘরে তোলে রোজোনেরিরা।

এর পরপরই মিলানে আগমন ঘটে আরেক কিংবদন্তির, যাকে বলা হয় মিলানের রাজপুত্র, সেই রিকার্দো কাকার। দুজনই নাম্বার টেন হওয়ায় কাকার উত্থানে আস্তে আস্তে প্লেয়িং টাইম কমে আসতে থাকে রুই কস্তার। এর মাঝেই ২০০৩-০৪ মৌসুমে লিগ টাইটেল জয় করে মিলান। ইতালিতে আসার পর প্রথমবারের মতো সিরি আ শিরোপা ছুঁয়ে দেখেন রুই কস্তা। এরপর আরও দুইটা তিনি সিজন মিলানে কাটান। অবশেষে ২০০৬ সালের সামারে কাকা কে পুরোপুরি জায়গা ছেড়ে দিয়ে আবারও নিজের শেকড় বেনফিকায় ফিরে আসেন কস্তা।

image_search_1679929826499
বেনফিকায় ফিরে শুরুটা বেশ ভালোভাবেই করেন। তবে সে ধারা বজায় রাখতে পারেননি। খুব বাজে ভাবে বারবার ইঞ্জুরির কবলে পড়তে থাকেন। ২০০৬ সালের অক্টোবরে পেশির ইঞ্জুরিতে তিন মাসের জন্য ছিটকে যান কস্তা। সেখান থেকে ফিরে ফেব্রুয়ারিতে আবারও ইঞ্জুরি আঘাত হানে। সে সিজনের শেষদিকে গিয়ে কস্তা ঘোষণা দেন আসছে সিজনই হতে যাচ্ছে তাঁর প্রোফেশনাল ক্যারিয়ারের শেষ সিজন। সেবার চ্যাম্পিয়নস লিগে বেনফিকা অপনেন্ট হিসেবে পায় এসি মিলান, সেই এসি মিলান, যে মিলান কস্তাকে উপহার দিয়েছিলো ক্যারিয়ারের সেরা মুহূর্ত গুলো। ২০০৭ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর শেষবারের মতো সান সিরো তে মাঠে নামেন, মিলানের বিরুদ্ধে।

এর মাঝে বেনফিকার ম্যানেজার পদে আসে পরিবর্তন, দায়িত্ব নেন হোসে আন্তোনিও কামাচো। তবে নতুন কোচের আন্ডারেও ফার্স্ট চয়েসই ছিলেন রুই কস্তা। ক্যারিয়ারের একদম সায়াহ্নে এসেও অবশ্য বজায় রেখেছিলেন তাঁর মোহময়তা। ২০০৭ সালে বেনফিকার প্লেয়ার অব দ্য ইয়ার নির্বাচিত হন রুই কস্তা। অবশেষে ২০০৮ সালের ১১ মে এস্তাদিও দা লুজে শেষবারের মতো বুট পায়ে মাঠে নামেন রুই কস্তা। ৮৬ মিনিটের মাথায় যখন বদলি হয়ে মাঠ ছেড়ে যাচ্ছিলেন, গ্যালারির হাজার হাজার দর্শক সবাই দাঁড়িয়ে করতালিতে শেষবারের মতো তাঁকে অভিবাদন জানায়।

তবে জাতীয় দলের তার যাত্রাটা ক্লাব ক্যারিয়ারের মতো রঙিন হয়নি, অথচ এটাই কিনা আরও বেশি রাঙা হওয়ার কথা ছিলো। শুরুতেই যেমনিভাবে পুরো বিশ্বকে চমকে দিয়ে রুই কস্তাদের সে জেনারেশন পর্তুগালের হয়ে জয় করে এনেছিলো যুব বিশ্বকাপ শিরোপা, গোল্ডেন জেনারেশন হিসেবে নাম কামিয়েছিলো বিশ্বজোড়া, সে নামের প্রতি খুব একটা সুবিচার তারা করতে পারেনি। বরং স্বপ্নভঙ্গ আর হতাশাই সঙ্গী হয়েছে বারংবার।

১৯৯৬ সালের ইউরোতে কোয়ার্টার ফাইনাল, ২০০০ ইউরোতে সেমি ফাইনাল ও ২০০৪ ইউরোতে ফাইনাল খেলে রুই কস্তাদের সে জেনারেশন, কিন্তু ট্রফি ছুঁয়ে দেখা হয়নি একবারও। ২০০৪ সালের ইউরো যাত্রায় রুই কস্তার বিশেষ ভূমিকা ছিলো। কোয়ার্টার ফাইনালে তাঁর অবিশ্বাস্য স্ক্রিমারেই জয় পায় পর্তুগাল। ফাইনালে গ্রিসের সাথে পরাজয়ের পর পর তার বিধ্বস্ত রূপ ছিলো সেবারের টুর্নামেন্টের অন্যতম কঠিন চিত্র।

২০০২ বিশ্বকাপেও পর্তুগালের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেন রুই কস্তা। পোল্যান্ডের বিপক্ষে জয়সূচক গোলটিও আসে তাঁর পা থেকেই। পুরো ক্যারিয়ারে পর্তুগালের জার্সিতে সর্বমোট ৯৪ ম্যাচ খেলেন রুই কস্তা, গোল করেন মোট ২৬ টি।

image_search_1679929868251
পেশাদারী ফুটবল ক্যারিয়ার কে বিদায় জানানোর পর বেনফিকায় ফুটবল ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন রুই কস্তা। দলে বেশ কিছু যুগান্তকারী পরিবর্তন আসে তাঁর হাত ধরেই। ২০০৮ সালের ১৪ মে বেনফিকার অ্যাডমিনিস্ট্রেটর হিসেবে কাজ শুরু করেন রুই কস্তা। অবশেষে তাঁর দায়িত্বেই পাঁচ বছরের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ২০০৯-১০ সিজনে লিগ শিরোপা পুনরুদ্ধার করে বেনফিকা।

২০২০-২৪ পিরিয়ডের জন্য গঠিত নব্য ক্লাব কমিটিতে ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন রুই কস্তা। এরপর ২০২১ সালের জুলাই পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করেন। অবশেষে ২০২১ সালের ৯ অক্টোবর বেনফিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ৮৪.৪৮% ভোট পেয়ে বিজয়ী হন রুই কস্তা, নির্বাচিত হন বেনফিকার ৩৪তম প্রেসিডেন্ট। বর্তমানে রুই কস্তা সফলভাবে তাঁর এ দায়িত্ব পালন করছেন।

সিরি আর মতো ঐতিহ্যবাহী ডিফেন্সিভ লিগে রুই কস্তা ছিলেন অ্যাটাকিং প্লের একজন ম্যাজিশিয়ান। চোখ ধাঁধানো ড্রিবলিং এ প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারের নাস্তানাবুদ করে দেওয়া, পিন পয়েন্ট ক্রসিং বা ফিনিশিং এর আগে ফাইনাল টাচ, রুই কস্তা ছিলেন আক্ষরিকভাবেই অনবদ্য ও যেকোনো খেলোয়াড়ের জন্য আদর্শ।

রুই কস্তার পায়ে বল আসলে তিনি অন্যরকম এক আবহ তৈরি করে ফেলতে পারতেন। তার উপস্থিতি দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে অন্যরকম এক প্রেরণা যোগাত, ফলে সতীর্থরাও হয়ে উঠতেন আরও শক্তিশালী। রুই কস্তা ইলিউশন তৈরি করতে পারতেন, যাতে দর্শক আকৃষ্ট না হয়ে পারতোই না। সিরি আর ইউরোপজুড়ে দর্শক সংখ্যা চূড়ায় পৌঁছায় সে সময়টাতে, যার পেছনে বিশেষ ভূমিকা ছিলো রুই কস্তার।

ফুটবলে যে সময়টাতে পরিশ্রমী ফুটবলার আর নিঃস্বার্থ ফুটবলার বলতে পরস্পর বিরোধী সম্পুর্ণ আলাদা দুটি কন্টেক্সট তৈরি হয়েছিলো, ঠিক সেসময় রুই কস্তা প্রমাণ করে দিয়েছিলেন কিভাবে এ দুটি গুণের উভয়টিই একজন ব্যক্তির মধ্যেই পরিপূর্ণ ভাবে বিরাজ করতে পারে। অ্যাচিভমেন্ট, ট্রফি, স্ট্যাটিস্টিক্স সব কিছু কে বাদ দিয়ে ফুটবল মাঠের তার যে অনন্য উপস্থিতি, এটিই তাকে ফুটবল ইতিহাসে সম্পূর্ণ ভিন্ন ও অনন্য এক আসন এনে দিয়েছে।