• ফুটবল

'দ্যা গোল্ডেন গ্যালিসিয়ান' - লুইস সুয়ারেজ মিরামন্তেস(স্পেনের একমাত্র ব্যালন ডি ওর উইনার)

পোস্টটি ২৯৫ বার পঠিত হয়েছে
'আউটফিল্ড’ একটি কমিউনিটি ব্লগ। এখানে প্রকাশিত সব লেখা-মন্তব্য-ছবি-ভিডিও প্যাভিলিয়ন পাঠকরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে নিজ উদ্যোগে করে থাকেন; তাই এসবের সম্পূর্ণ স্বত্ব এবং দায়দায়িত্ব লেখক ও মন্তব্য প্রকাশকারীর নিজের। কোনো ব্যবহারকারীর মতামত বা ছবি-ভিডিওর কপিরাইট লঙ্ঘনের জন্য প্যাভিলিয়ন কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে না। ব্লগের নীতিমালা ভঙ্গ হলেই কেবল সেই অনুযায়ী কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিবেন।

'দ্যা গোল্ডেন গ্যালিসিয়ান' - লুইস সুয়ারেজ মিরামন্তেস(স্পেনের একমাত্র ব্যালন ডি ওর উইনার)

 

স্পেন কিংবা বার্সেলোনার সেরা মিডফিল্ডারদের নাম বলা হলে জাভি,ইনিয়েস্তা,আলোনসো,ফ্যাব্রেগাস কিংবা সার্জিও বুস্কেটসের নাম আসবে।অনেকে হয়তো পেপ গার্দিওলার নামও নিতে পারেন।কিন্ত ষাটের দশকে বার্সেলোনার মিডফিল্ডারের মূল কান্ডারি ছিলেন লুইস সুয়ারেজ।না তিনি উরুগুয়ের স্ট্রাইকার লুইস সুয়ারেজ নন।তিনি হচ্ছেন একমাত্র ব্যালন ডি ওর জয়ী স্প্যানিশ মায়েস্ত্রো লুইস সুয়ারেজ মিরামন্তেস।FB_IMG_1714637012418

 

লা করুনার এক কসাই পরিবারে বেড়ে উঠা লুইস সুয়ারেজের।মাত্র ১৪ বছর বয়সেই দেপোর্তিভো লা করুনার যুব দলে যোগদান করেন সুয়ারেজ।১৯৫৩-৫৪ সিজনে কার্লোস ইতুরাস্পে তাকে মূল দলে নিয়ে আসেন।ক্যারিয়ারের অভিষেক ম্যাচেই মুখোমুখি হন বার্সেলোনার বিপক্ষে।প্রথম ম্যাচে ৬-১ গোলের হারের তিক্ত অভিজ্ঞতার মাধ্যমে তার ক্যারিয়ার শুরু।আস্তে আস্তে নিজেকে গ্যালিসিয়ানদের প্রিয় পাত্রে পরিণত হন তিনি।তার প্লেয়িং স্টাইলে মুগ্ধ হয়ে রিয়াল মাদ্রিদ এবং বার্সেলোনা উভয় ক্লাবই তাকে দলে ভেড়াতে চায়।কিন্ত শেষ মুহূর্তে বার্সেলোনা তাকে দলে ভেড়ায়।

 

  ব্লাউগ্রানা জার্সিতে তার অভিষেক হয় ১৯ তম জন্মদিনের দিন প্রতিপক্ষ এবার সাবেক ক্লাব দেপোর্তিভো লা করুনা।অভিষেক ম্যাচে ৪-০ গোল জয়ের দেখা পান।ফার্দিনান্দ ডাউকিকের আন্ডারে কোপা দেল জেনারালিসিমোতে বাকি ম্যাচগুলোতে মাঠে নামলেও ফাইনালে ভ্যালেন্সিয়ার কাছে হেরে যান।

 

পরবর্তী সিজনে সান্দ্রো পুপ্পোর অধীনে বেশিরভাগ সময় বেঞ্চেই থাকতে হয় তাকে।তার শারীরিক গঠন তেমন একটা খুশি ছিলেন না তৎকালীন বার্সা কোচ।পরের সিজনে ব্লাউগ্রানার কোচ হতে আসেন হেলেনিও হেরেরা।হেলেনিও হেরেরার অধীনে লেফট ইনসাইড ফরোয়ার্ড হিসেবে নিজের জাত চেনাতে থাকেন লুইস সুয়ারেজ।লাদিসলাও কুবালা, জোল্টান সিবোর, স্যান্ডর কোসিস, রামন ভিলাভার্ডে, জাস্টো তেজাদা, এভারিস্টো,লুইস সুয়ারেজ এবং ইউলোজিও মার্টিনেজকে খুব ভালো দল গঠন করেন হেরেরা।হেরেরা অধীনে সুয়ারেজ ডোমেস্টিক ডাবল জিতেন।এছাড়া ইউরোপিয়ান কাপের সেমিফাইনালেও পৌঁছে লুইস সুয়ারেজের বার্সা।

 

 হেলেনিও হেরেরা কড়া নিয়মে নিজেকে মানিয়ে নিয়েছিলেন লুইস সুয়ারেজ।কুবালা তখন বার্সা ফ্যানদের পছন্দের খেলোয়াড় হলেও কোচ হেরেরা তার উপর তেমন একটা খুশি ছিলেন না তার অনিয়ন্ত্রিত জীবনের কারণে।এই কারণে কুবালা দলে নিজের জায়গা হারাতে শুরু করেন।অপরদিকে লুইস সুয়ারেজ পারফর্ম করে যাচ্ছিলেন নিয়মিত।ইউরোপিয়ান কাপের সেমিফাইনালে রিয়াল মাদ্রিদের কাছে হেরে যায় হেরেরার বার্সা।সেই ম্যাচে কুবালাকে নামানো হয়নি।তার কারণে ফ্যানদের থেকে অনেক কটু কথা শুনতে হয় হেরেরাকে।শেষমেশ তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়।

 

এসময় লুইস সুয়ারেজ নিজের পারফরম্যান্স দ্বারা ব্যালন ডি ওর জিতে নেন ১৯৬০সালে।যা কিনা এখন পর্যন্ত কোনো স্প্যানিশ পুরুষ খেলোয়াড়ের জেতা একমাত্র ব্যালন ডি ওর।হেরেরা ইন্টার মিলানে যাওয়ার পরও পরের বছর চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মাদ্রিদের ইউরোপিয়ান কাপে অপরাজিত থাকার রেকর্ড ভেঙে ফাইনালে যায় সুয়ারেজের বার্সা।তবে বেনফিকার কাছে ফাইনাল হেরে যায় তারা।

 

সে সময়ের সেকেন্ড মোস্ট এক্সপেন্সিভ খেলোয়াড় হিসেবে ইন্টার মিলানে পাড়ি জমান সুয়ারেজ।সাবেক কোচ হেরেরার অধীনে অভিষেক ম্যাচেই গোল করেন লুইস সুয়ারেজ আতালান্টার বিপক্ষে।হেরেরা তাকে নাম্বার টেন থেকে ডিপ লায়িং মিডফিল্ডার হিসেবে খেলানো শুরু করেন।জেনোয়ার বিপক্ষে লিগ ম্যাচে প্রথম স্প্যানিশ খেলোয়াড় হিসেবে সিরি আতে হ্যাট্রিক করার রেকর্ড গড়েন সুয়ারেজ।সেই সিজনে নেরাজ্জুরিরিদের হয়ে প্রথম লিগ জেতেন।তারপর রিয়াল মাদ্রিদকে হারিয়ে নেরাজ্জুরিরিদের হয়ে প্রথম ইউরোপিয়ান কাপ জেতেন সুয়ারেজ।পরের বছর যেই বেনফিকার কাছে হহারতে হয় বার্সার জার্সি গায়ে সেই বেনফিকাকেই হারিয়ে দ্বিতীয় ইউরোপিয়ান কাপ জেতেন সুয়ারেজ।

 

১৯৬২ এবং ১৯৬৬ বিশ্বকাপে সুয়ারেজের স্পেন অংশগ্রহণ করলেও ইন্টারন্যাশনাল প্রতিযোগিতায় খুব একটা ভালো সময় যাচ্ছিলো না স্পেনের।কিন্ত ১৯৬৪'র স্পেন টিম ইউরো জয়ের স্বাদ পায়।সেই দলের অন্যতম গুরুত্বপুর্ণ খেলোয়াড় ছিলেন সুয়ারেজ।সেই টুর্নামেন্টে সেমিফাইনাল ও ফাইনালে স্পেন মোট ৪ গোল করে।এই ৪ গোলের প্রতিটিতেই সুয়ারেজ কোনো না কোনোভাবে জড়িত ছিলেন। 

 

গত বছর ৮৮ বছর বয়সে মারা যান স্পেন,বার্সেলোনা এবং ইন্টার মিলানের এই কিংবদন্তি মিডফিল্ডার।আজ তার জন্মদিন।শুভ জন্মদিন স্যার

লুইস সুয়ারেজ।