• লা লিগা
  • " />

     

    সোসিয়েদাদে বার্সার স্বস্তির জয়

    সোসিয়েদাদে বার্সার স্বস্তির জয়    

    ৮৬ মিনিটের খেলা চলছে তখন। প্রথমার্ধে পিছিয়ে পড়েও লুইস সুয়ারেজ এবং উসমান ডেম্বেলের গোলে তখন এগিয়ে বার্সেলোনা। আক্রমণে তখন রিয়াল সোসিয়াদাদ। মাঝমাঠে বল পেলেন মিকেল মেরিনো। বার্সার ফুটবলারদের প্রেসিংয়ের আগেই চিপ করে চমৎকার এক পাস বাড়ালেন তিনি। বার্সার রক্ষণ চিরে দৌড়ে ডিবক্সে ঢুকে গেলেন হুয়ানমি। মেরিনোর চিপে হেড করলেন। বার্সা গোলরক্ষক মার্ক আন্দ্রে টার-স্টেগেনকে ফাঁকি দিয়ে বল যাচ্ছে গোলের দিকে। সোসিয়াদাদ সমর্থকেরা ততক্ষণে আসন ছেড়ে দাঁড়িয়ে উদযাপনের অপেক্ষায়। কিন্তু না! হল না! হুয়ানমির হেড চলে গেল বার্সা গোলের সামান্য বাইরে দিয়ে। হাঁফ ছেঁড়ে বাঁচল বার্সা, হতে হতেও হল না সোসিয়াদাদের। যে মাঠে একসময় জয়ের মুখ দেখাই ছিল অমাবস্যার চাঁদ, সেই স্তাদিও আনোয়েতায়ই টানা দুই মৌসুমে জিতল বার্সা। পিছিয়ে পড়েও ২-১ গোলের জয়ে লিগটেবিলের শীর্ষস্থানটা আরও সুসংহত করল বার্সা।

    আজকের ম্যাচ থেকে খালি হাতে ফেরার পুরোটাই অবশ্য সোসিয়াদাদের ব্যর্থতা। প্রথমার্ধের ১২ মিনিটে লিড নেওয়ার পর থেকে পুরো ম্যাচেই বার্সার ওপর ছড়ি ঘুরিয়েছে সোসিয়াদাদ। নিজেদের অর্ধে পাওয়া ফ্রিকিকে হেড করে পাস বাড়ান হেক্টর মরেনো। তার বাড়ানো পাসে দুর্দান্ত এক ভলিতে দলকে লিড এনে দেন এলুস্টন্ডো। গোলের পর থেকে বার্সাকে আরও ভালমত চেপে ধরে আসিয়ের গারিতানোর দল। মাঝমাঠে ইভান রাকিটিচ, সার্জি রবার্তোদের রীতিমত নাচিয়ে ছেড়েছেন সোসিয়াদাদের মিডফিল্ডাররা। সার্জিও বুস্কেটসের অভাবটা প্রথমার্ধে হারে হারে টের পেয়েছে বার্সা। রাফিনহাকে নামানোর জুয়াটাও কাজে দেয়নি এর্নেস্তো ভালভার্দের। সোসিয়াদাদের আক্রমণ রুখে দেওয়া, বা সুয়ারেজ-মেসিদের বাড়ানো- মাঝমাঠের তিনজনই ছিলেন ভীষণ নিষ্প্রভ।

    একসাথে কখনও না খেলায় বোঝাপড়ার অভাবটা ছিল সুস্পষ্ট। প্রথমার্ধে বার্সার মাঝমাঠের মতই নিষ্প্রভ ছিলেন মেসিও। নিচে নেমে এসে আক্রমণ গড়ার চেষ্টা করেছেন অনেক, কিন্তু প্রতিবারই ইয়ারামেন্ডি-জুরুতুজাদের সামনে ফিরতে হয়েছে খালি হাতে। প্রথমার্ধে প্রতিপক্ষের ডিবক্সে বল পাননি একবারও। সুয়ারেজ, ডেম্বেলেরাও পারেননি সোসিয়াদাদের রক্ষণ ভেদ করতে। দুর্দান্ত এক প্রথমার্ধের শেষটা ছিল বিতর্ক ঠাসা। ৪৩ এবং ৪৫ মিনিটে দুটি পেনাল্টির আবেদন নাকচ করে দেন রেফারি। বার্সার জোর আবেদনে সাড়া দেননি ভিডিও রেফারিও। সুয়ারেজ, পিকেদের আক্রোশের মাঝেই শেষ হয় প্রথমার্ধ।

    অবস্থা বেগতিক দেখে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই নেলসন সেমেদোর বদলে ফিলিপ কুতিনিয়োকে নামিয়ে দেন ভালভার্দে। আক্রমণের ধার বাড়লেও প্রতি-আক্রমণে বারবার বার্সার রক্ষণভাগকে কাঁপিয়ে দিচ্ছিল সোসিয়াদাদ। অবশেষে ৬০ মিনিটে বুস্কেটসকে নামিয়ে দেন ভালভার্দে। এরপর থেকেই খোলনলচে বদলে যায় বার্সা। খেলায় ফিরে আসে সেই পুরনো পাসিং স্বাচ্ছন্দ্য। কিন্তু বুস্কেটস নামার মিনিট পাঁচেকের মধ্যে দুটি অসাধারণ সু্যোগ পেয়েছিল সোসিয়াদাদ। কাজে লাগালে তিন পয়েন্ট নিশ্চিত করতে পারত তখনই। বার্সার তখনই ম্যাচ থেকে ছিটকে না পড়ার পুরো কৃতিত্বটা টার-স্টেগেনের।

    ৬২ মিনিটে রিয়াল মাদ্রিদ থেকে ধারে আসা থিও হার্নান্দেজ এবং ৬৪ মিনিটে হুলিও বাউতিস্তা একা পেয়ে গিয়েছিলেন বার্সার গোলরক্ষককে। কিন্তু দুবারই তাদের খালি হাতে ফিরিয়েছেন তিনি। এরপরের গল্পটা কেবলই বার্সার ঘুরে দাঁড়ানোর। ৬৩ মিনিটে কর্ণার পায় বার্সা। মেসির নেওয়া কর্ণার নিয়ন্ত্রণে আনতে গোলপোস্ট ছেড়ে বেরিয়ে আসেন সোসিয়াদাদ গোলরক্ষক জেরোনিমো রুলি। বল দখলে আনতে ব্যর্থ হন তিনি। বল পেয়েই সুয়ারেজের দিকে বাড়ান পিকে। ডানপায়ের আলতো টোকায় বার্সাকে সমতায় ফেরান সুয়ারেজ। এই গোলের পর বার্সা ফেরে স্বরূপে।

    সমতায় ফেরার মিনিট দুয়েক পর বাঁ-প্রান্ত থেকে কুতিনিয়োর ‘ট্রেডমার্ক’ বাঁকানো শট দুর্দান্তভাবে ফিরিয়ে দেন রুলি। প্রথম গোলটা হয়েছিল তার ভুলেই। কুতিনিয়োর শটটি ফিরিয়ে কিছুটা হলেও শাপমোচন করেছিলেন। কিন্তু এর মিনিটখানেক পর ৬৬ মিনিটে আবারও রুলির একই ভুলে পিছিয়ে পড়ে সোসিয়াদাদ। আবারও কর্ণারের বল নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যর্থ হন তিনি। ডিবক্সে বল পেয়েই বাঁ-পায়ের নিখুঁত শটে দলকে লিড এনে দেন ডেম্বেলে। এই মৌসুমে শুধুমাত্র তার গোল থেকে ৪ পয়েন্ট পেয়েছে বার্সা, যা লিগে অন্য যেকোনো ফুটবলারের চেয়ে বেশি। লিড নেওয়ার পর সোসিয়াদাদকে ম্যাচে ফেরার কোনো সুযোগই দেয়নি বার্সা। ৪ ম্যাচে ১২ পয়েন্ট নিয়ে রিয়াল মাদ্রিদের চেয়ে গোল ব্যবধানে এগিয়ে থেকে টেবিলের শীর্ষে থাকল বার্সা।