• ক্রিকেট

"ওয়ানডের ব্যাটিং থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি বাংলাদেশীরা"

ইমরুল কায়েস, লিটন দাস, নাজমুল হোসেন শান্ত, মাহমুদউল্লাহ, মুমিনুল হক, মুশফিকুর রহিম- বাংলাদেশের স্বীকৃত ছয় ব্যাটসম্যানের একজনও সে অর্থে ‘আনপ্লেয়েবল’ ডেলিভারি পাননি। বরং তাদের উইকেটের পেছনে আছে নিজেদের মনযোগের ঘাটতি, সঙ্গে জিম্বাবুইয়ান বোলারদের ঠিক জায়গা খুঁজে বোলিং করে যাওয়ার দক্ষতা। এ উইকেটে ন্যাচারাল ভ্যারিয়েশন আছে, অসমান বাউন্সও আছে। মাঝে মাঝে অনিয়মিত বড় টার্নও পেয়েছেন স্পিনাররা। তবে প্রথম দুই দলেরই প্রথম ইনিংস শেষে বলা যায়, জিম্বাবুইয়ান ব্যাটসম্যানরা এ উইকেটকে বুঝেছেন বাংলাদেশীদের চেয়ে অনেক ভাল করে। একই কথা প্রযোজ্য বোলারদের ক্ষেত্রেও, পুরস্কার বেশি মিলেছে তো তাদেরই। 

জিম্বাবুইয়ান বোলারদের ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দিয়েছেন পেসার টেনডাই চাতারা। সঙ্গে ছিলেন কাইল জারভিস, সিকান্দার রাজা। ওয়ানডে সিরিজে এসব বোলারদের ওপর ছড়ি ঘোড়ানো বাংলাদেশীরাই মিইয়ে গেলেন প্রথম ইনিংসে। চাতারার ধারণা, ওয়ানডের মোড থেকে বেরিয়ে আসতে পারেননি বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। 

 

বাংলাদেশী ব্যাটসম্যানদের এ ইনিংসে প্রতীকি চিত্র এটি/ক্রিকইনফো

“তারা ওয়ানডেতে ভাল একটা সিরিজ কাটিয়েছে। আমরা জানতাম, তারা এসে সেই মোডেই খেলার চেষ্টা করবে, যেটা আমাদের টেস্টে অনেক বেশি সুযোগ দিবে। টেস্টে ফিল্ড-সেটিং তো আক্রমণাত্মক হবেই। আমার মনে হয়, তারা আসলে ওয়ানডে থেকে টেস্টে এসে মানিয়ে নিতে পারেনি। এখানে আপনাকে অনেক বল ছাড়তে হবে, আর ওয়ানডেতে আপনি স্কোরিং শট খুঁজবেন।” 

ব্যাটসম্যানদের ক্ষেত্রে চাতারার ‘পরামর্শ’টাই বলে দেয় মূলত এই উইকেটের ধরন, এখানে আক্রমণের চেয়ে রক্ষণটা বড়। আর অপেক্ষা করতে হবে আলগা বলের জন্য। বোলারদের ক্ষেত্রে তাই ব্যাপারটা খুব প্যাঁচানো নয়, শুধু সঠিক জায়গাটা খুঁজে বোলিং করে যাওয়া। শুনতে সহজ কিন্তু করতে কঠিন এ কাজটাই করেছেন চাতারারা, “শুরুতে আমি উপযুক্ত জায়গা খুঁজে বল করার চেষ্টা করছিলাম। বাংলাদেশের উইকেট ফ্ল্যাট- এ নিয়ে অনেক কথা হয়েছে। ব্যাটসম্যানকে এখানে যতো বেশি সম্ভব খেলানোর চেষ্টা করেছি তাই।” 

জিম্বাবুয়ে এ টেস্টে খেলছে স্বীকৃত দুই পেসার নিয়েই, চাতারা-জারভিস মিলে নিয়েছেন ৫ উইকেট। পেসারদের ক্ষেত্রে মন্ত্রটাও সরল ছিল জিম্বাবুয়ের বোলিং কোচ ডগলাস হন্ডোর, “শুধু বলেছি, ঠিক জায়গায় বল করে যেতে, যাতে ব্যাটসম্যানদের পরীক্ষা নেওয়া যায়। হাল না ছাড়তে, বেশি কিছু না করতে। শুধু ঠিক জায়গায় বল করলেই হবে। পিচে ন্যাচারাল ভ্যারিয়েশন আছে, পিচই বাকিটা করবে।” 

জিম্বাবুইয়ান পেসাররা সেটা করেছেন, পিচও তার কাজ করেছে। শুধু নিজেদের কাজটা করতে পারলেন না বাংলাদেশী ব্যাটসম্যানরাই।