• ফুটবল

লিভারপুলকে হারিয়ে গ্রুপের লড়াই জমিয়ে তুলল রেড স্টার

 

লিভারপুল, পিএসজি, নাপোলি; গ্রুপের বাকি তিন দলের পাশে তাদের নামটা যেন একটু বেমানান। রেড স্টার বেলগ্রেডকে তাই হয়ত কেউ গোনাতেই ধরেননি! প্রথম তিন ম্যাচ পর সবার ধারণাই সত্যি বলে মনে হচ্ছিল, ১ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট তালিকার তলানিতে ছিল সার্বিয়ান ক্লাবটি। তবে কাল বদলে গেছে সব সমীকরণ, দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠতে পারে রেড স্টারও! ঘরের মাঠে লিভারপুলকে ২-০ গোলে হারিয়ে গ্রুপ সির লড়াইটা আরও জমিয়ে তুলেছে তারা।

কিছুদিন আগে অ্যানফিল্ডে গিয়ে ৪-০ তে হেরে এসেছিল রেড স্টার। পরের রাউন্ডে যাওয়ার লড়াইয়ে টিকে থাকতে হলে জয়ের বিকল্প ছিল না তাদের। অন্যদিকে গ্রুপের শীর্ষে থাকা লিভারপুল ছিল ফুরফুরে মেজাজেই। ম্যাচের শুরুর ২০ মিনিটে লিভারপুল-বেলগ্রেড দুই দলই ছিল আক্রমণাত্মক মুডে। ১৫ মিনিটে দুসান জোভানসিচের হেড ঠেকিয়ে দেন অ্যালিসন বেকার। তিন মিনিট পর ড্যানিয়েল স্টারিজের শট ঠেকিয়ে দেন বোরজান। পরের দুই মিনিটে দুবার বেলগ্রেডকে হতাশ করেন অ্যালিসন।

২২ মিনিটে অবশেষে পরাস্ত হন অ্যালিসন। মার্কো মারিনের ক্রসে হেড করে বল জালে জড়ান মিলান পাভকভ। দুই মিনিটে পর মোহাম্মদ সালাহর শট ঠেকিয়ে দেন বেলগ্রেড কিপার। লিভারপুলকে হতবাক করে ২৯ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন পাভকভ। সেই মারিনের পাসেই বক্সের বাইরে বল পেয়েছিলেন। তাঁর ডান পায়ের জোরালো শট ঠেকানোর কোনো উপায়ই ছিল না অ্যালিসনের। ব্যবধান কমানোর কিছু সুযোগ এসেছিল বিরতির ঠিক আগে, লিভারপুল ফরোয়ার্ডরা সেগুলো কাজে লাগাতে পারেননি।

দ্বিতীয়ার্ধে গোল শোধ করার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে লিভারপুল। সালাহ, সাদিও মানে, অ্যাডাম লালনা; গোলপোস্টের সামনে গিয়ে হতাশ হতে হয়েছে সবাইকেই। চারটিরও বেশি গোলের সুযোগ হাতছাড়া হয়েছে সালাহর। শেষ মুহূর্তে গোলের ব্যবধান কমানোর সবচেয়ে সহজ সুযোগ পেয়েছিলেন লিভারপুলের ভ্যান ডিক,  তাঁর হেড দুর্দান্তভাবে ঠেকিয়ে দেন বোরজান। শেষ পর্যন্ত ২-০ গোলের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে রেড স্টার। এই প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়নস লিগে টানা তিন অ্যাওয়ে ম্যাচে হারল লিভারপুল। ৪ ম্যাচে লিভারপুলের পয়েন্ট ছয়, হেড টু হেডে এগিয়ে থেকে সমান পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে নাপোলি। ৫ পয়েন্ট নিয়ে তিন নম্বরে আছে পিএসজি। আর ৪ পয়েন্ট নিয়ে তাদের ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছে রেড স্টার।

অন্যদিকে গ্রুপ ‘এ’ এর গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার লড়াইয়ের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে বরুশিয়া ডর্টমুন্ডকে ২-০ গোলে হারিয়ে আগের ম্যাচের বড় হারের বদলা নিয়েছে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ। প্রতিপক্ষের মাঠে ৩৩ মিনিটে এগিয়ে যায় ডিয়েগো সিমিওনের দল, গোল করেন সাউল। ম্যাচের ৮০ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন আঁতোইন গ্রিজমান। এই ম্যাচে হারলেও ৪ ম্যাচে ৯ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আছে ডর্টমুন্ড, সমান পয়েন্ট নিয়ে গোল ব্যবধানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় স্থানে অ্যাটলেটিকো। পরের রাউন্ডে যেতে হলে দুই দলেরই দরকার মাত্র এক পয়েন্ট।

 

 

গ্রুপ বি এর টটেনহাম-পিএসভির ম্যাচে জয় দরকার ছিল দুই দলেরই। পিছিয়ে পড়েও হ্যারি কেইনের জোড়া গোলে পিএসভিকে ২-১ গোলে হারিয়েছে টটেনহাম। ২ মিনিটের মাথায় ডি জংয়ের গোলে এগিয়ে যায় পিএসভি। সমতা আনতে ৭৮ মিনিট পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে লন্ডনের ক্লাবটিকে, বাঁ পায়ের শটে গোল করেন কেইন। শেষ বাঁশি বাজার দুই মিনিট আগে দারুণ এক হেডে দলকে মহা গুরুত্বপূর্ণ তিন পয়েন্ট এনে দেন সেই কেইনই। চার ম্যাচে তাদের পয়েন্ট চার। তবে অন্য ম্যাচে বার্সেলোনার সাথে ড্র করে দ্বিতীয় রাউন্ডের পথে অনেকটাই এগিয়ে গেছে ৭ পয়েন্টে থাকা ইন্টার মিলান। পরের রাউন্ডে ওঠার জন্য শেষ দুই ম্যাচে জয়ের পাশাপাশি ইন্টারের হারও প্রার্থনা করতে হবে টটেনহামকে।