• বিপিএল ২০১৯
  • " />

     

    "ধারাভাষ্যকার হিসেবে ক্রিকেট আমার কাছে নাটকের মতো"

    বৈচিত্রময় উপস্থাপনা ও নাটকীয় বাচনভঙ্গি তাকে বানিয়েছে সময়ের অন্যতম জনপ্রিয় ধারাভাষ্যকার। খেলোয়াড়ি জীবনে নেতৃত্ব দিয়েছেন নিউজিল্যান্ডের পেস আক্রমণের। তবে সেই পরিচয় ছাপিয়ে বর্তমানে ধারাভাষ্যকার হিসেবেই বেশি পরিচিতি তার। ফ্র‍্যাঞ্চাইজিভিত্তিক টুর্নামেন্টগুলোতে থাকে তার সরব উপস্থিতি। সেই ড্যানি মরিসন এবারও এসেছিলেন বিপিএলে। তারই ফাঁকে ধারাভাষ্য, বিপিএল, বাংলাদেশের বিশ্বকাপ সম্ভাবনা সহ অন্যান্য বিষয়ে কথা বলেছেন রিমন ইসলামের সঙ্গে….


    শুরু থেকেই এই আসরে আপনি একজন পরিচিত মুখ। সেই অভিজ্ঞতার আলোকে বিগত কয়েক বছরে বিপিএল কতটা এগিয়েছে বলে মনে করেন?

     

     

    মরিসন : বিপিএল প্রতি আসরেই উন্নতি করছে। বিশ্বের নানান প্রান্ত থেকে জনপ্রিয় তারকারা এখানে খেলতে আসেন। খেলাগুলোও হয় বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। দেশ-বিদেশের তারকাদের পাশাপাশি প্রতি আসরেই স্থানীয় তরুণরাও নিজেদের প্রমাণের সুযোগ পাচ্ছে যা বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য মঙ্গলজনক। আয়োজনের বিশালত্ব কিংবা খেলার মান যাই বলুন না কেন, বিপিএল তাতে অন্যতম সেরা।

    এবারের বিপিএলে প্রথমবারের মতো খেলতে এসেছেন এবি ডি ভিলিয়ার্স, স্টিভ স্মিথ, ডেভিড ওয়ার্নার, অ্যালেক্স হেলসের মত তারকারা। তাদের উপস্থিতি কতটা উপকৃত করবে বাংলাদেশের ক্রিকেটকে?

    মরিসন : বিপিএলের জন্য অনেক বাড়তি পাওয়া ছিল ওদের মত তারকা খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণ। দুঃখজনকভাবে ইনজুরির কারনে স্মিথ মাত্র দুই ম্যাচ খেলতে পারলেও আমি বিশ্বাস করি ডি ভিলিয়ার্স, ওয়ার্নার, হেলসদের সান্নিধ্যে স্থানীয় তরুণরা বেশ উপকৃত হবে। নতুন অনেক কিছু শিখতে পারবে। প্রতিদিন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের এই মহাতারকাদের সাথে ড্রেসিংরুম ভাগাভাগি করা এবং মতবিনিময়ের সুযোগ আপনি পাবেননা। তাই তাদের কাছ থেকে যতটা রপ্ত করতে পারবেন ততটাই সমৃদ্ধ হবেন আপনি। আর তাতে লাভবান হবে বাংলাদেশের ক্রিকেট।

    ধারাভাষ্য নিয়ে জানতে চাই এবার। আপনার বাচনভঙ্গি, শরীরী ভাষা সবকিছুই অন্যদের চেয়ে একদমই আলাদা। সংক্ষেপে মরিসন মানেই বিনোদন। এর রহস্য কি?

    মরিসন : দেখুন পর্দায় যা দেখানো হচ্ছে সেটা দর্শকরা দেখতেই পাচ্ছেন। তাই চেষ্টা করি তাদের জন্য একটু ভিন্ন কিছু যোগ করার যাতে তাদের কাছে খেলাটা আরো জীবন্ত হয়ে ওঠে। আর মাঠে খেলায় যা হচ্ছে তার বর্ণনা তো আমাদের দিতেই হয়। আমার চেষ্টা থেকে সেটি ভিন্ন আঙ্গিকে নাটকীয় ভঙ্গিতে তুলে ধরার। কারণ মাঠে যা হচ্ছে সেটা আপনি মুখস্থ বলতে পারবেন না। সৃষ্টিশীলতা যোগ করতে হবে।

    যেমন? সেটা কিভাবে হয়?

    মরিসন :  ধরুন তামিম ইকবাল একটি বল জোরে মারলেন। নিশ্চিত ছক্কা হতে যাওয়া সেই বলটি বাউন্ডারি লাইন থেকে লুফে নিলেন পোলার্ড। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে ঘটে যাওয়া ঘটনগুলো বর্ণনা করতে গেলে আমি শুরুতে চিৎকার করে উঠলেও শেষটা করবো ধীরে। গলার এই ওঠানামা আমাকে দর্শকদের সাথে সমন্বয়ে সাহায্য করে। আমার কাছে পুরো ব্যপারটা অনেকটা নাটকের মত।

    আমার মা নাটকে কাজ করতেন বলে কাছ থেকে তাদের কাজ দেখার সুযোগ হতো। আমি নিজেও কিছুদিন আমার মায়ের অধীনে নাটকের ক্লাস করেছি। সেখানেই দেখতাম তারা ভিন্ন ভিন্ন ঘরানার চরিত্রের সাথে খুব দ্রুত মিশে যেতেন। আমিও ধারাভাষ্যে থাকাকালীন সময়ে মাঠে যা যা হচ্ছে সেটিকে দেখি নাটকের মত। যেখানে ২২ জন খেলোয়াড় ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রে আবির্ভূত হয়েছেন। আমার কাজ সেটিকে শুধুমাত্র ব্যাট-বলের লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ না রেখে আরো জমজমাট ও প্রাণবন্ত করে তোলা।

    ধারাভাষ্যকার হওয়ার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়?

    মরিসন : আমার মনে হয়না এই বিষয়ে কথা বলার ব্যাপারে আমি আদর্শ মানুষ। তবে পরামর্শ দিতে পারি যে খেলাটা যতটা সম্ভব উপভোগ করুন। নিজের মতো করে খেলাটা দর্শকদের কাছে উপস্থাপন করুন। চেষ্টা করবেন ব্যাট বলের লড়াইটাকে দর্শকদের কাছে উত্তেজনাময় করে তোলার। যাতে ঢাকার জ্যামে বসেও খেলাটা লোকে যেন উপভোগ করতে পারে (হাসি)।

    আপনাকে প্রায়ই একদমই নতুন কিছু শব্দ, বাক্য বলতে শোনা যায়। যেমন “বুমফা”, “গেস হোয়াট, দিস ওয়ানস গট অ্যান এয়ার হোস্টেস অন ইট!”। এসব কি সহজাত?

    মরিসন : হাহাহা। আপনার কাছে কি এর কোনো তালিকা আছে? থাকলে দেবেন! আসলে পুরো ব্যাপারটাই নির্ভর করে মাঠের তাৎক্ষনিক পরিস্থিতির ওপর। মজার ব্যাপার কি জানেন? এমন অনেক মুহূর্ত গেছে যখন আমি নিজেও খেয়াল করতে পারিনা যে কী বলেছিলাম কোনো উইকেট যাওয়া কিংবা ছয় হওয়ার পর। পরে অন্যদের মুখে শুনে দেখি ভালোই বলেছিলাম। এগুলো কখনো পরিকল্পনা করে হয়না আসলে।

    আপনার ধারাভাষ্যে শব্দের খেলা প্রকটভাবে দৃশ্যমান। বর্তমানে ধারাভাষ্যকারদের আলাদাভবে দায়িত্ব থাকে ধারাবিবরণীর ফাঁকে বিজ্ঞাপনদাতাদের নাম উল্লেখ করার। কাজটা কতটা গুরুত্বপূর্ণ?

    মরিসন : খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এসব ফ্র্যাঞ্চাইজিত্তিক লিগগুলোতে বিজ্ঞাপনদাতারা বিপুল পরিমান অর্থ লগ্নি করে থাকেন। আমাদেরকেও তাই সেভাবে তাদের উপস্থাপন করতে হয়। পাশাপাশি এটাও মাথায় রাখতে হয় যাতে দর্শকদের আগ্রহ যাতে খেলা থেকে না সরে যায়। তাই আমি চেষ্টা করি শব্দের খেলার মাধ্যমে পুরো ব্যাপারটা উপস্থাপনের জন্য যাতে দুই পক্ষই সন্তুষ্ট হয়।

    ধারাভাষ্যে আপনার আদর্শ?

    মরিসন : ধারাভাষ্য মানেই আমার কাছে রিচি বেনো। তার ধারাভাষ্য শুনেই আমরা বড় হয়েছি, নিজেরা একদিন ধারাভাষ্যকার হওয়ার স্বপ্ন দেখেছি। এছাড়া ব্রায়ান জনস্টন, ফ্রেডি ট্রুম্যানের পর জিওফ বয়কট, টনি গ্রেগ, বিল লরিদের ভালো লাগত। মার্টির ক্রো, টনি গ্রেগের সাথেও কাজ করার সুযোগ হয়েছিল আমার। অভিজ্ঞতাটা দারুণ ছিল, অনেক কিছু শিখেছি তাদের কাছ থেকে।

     

     

    বর্তমান সময়ে কার সঙ্গে ধারাভাষ্য উপভোগ করেন?

    মরিসন : অ্যালান উইলকিন্সের সাথে অনেক কাজ করেছি এবং ওর সাথে ধারাভাষ্যকক্ষে সময়টা সমসময়ই উপভোগ্য। আইপিএলের সুবাদে রবি শাস্ত্রী, সঞ্জয় মাঞ্জরেকারদের সাথে অনেক কাজ করা হয় এবং আমার বেশ ভালোই লাগে ওদের কাজ। দেশে সাইমন ডুল, ইয়ান স্মিথ, স্কট স্টাইরিসদের সাথেও কাজ করে মজা পাই।

    ক্রিকেট এবং অন্যান্য খেলায় ধারাভাষ্য একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। তবে সময়ের সাথে সাথে অনেক কিছুই বদলে গেছে। রেডিও ধারাবিবরণীর যুগ পার হয়েছে অনেক আগে। এরপর টেলিভিশন। তবে বর্তমানে টেলিভিশনই একমাত্র উপায় নয় খেলা দেখার জন্য। নানারকম প্ল্যাটফর্মে মানুষ এখন মোবাইল ফোনেই খেলা দেখতে পারছে লাইভ স্ট্রিমিং করে। আপনাদের মানে ধারাভাষ্যকারদের জন্য এটা কি নতুন চ্যালেঞ্জ?

    মরিসন : ভাল প্রশ্ন। এখন আমরা সবাই খুব ব্যস্ত। সেটা শুধু এশিয়া কিংবা ইউরোপ নয়, সারাবিশ্বেই। তাই দীর্ঘ সময় নিয়ে একটি বিষয়ে মনোনিবেশ করাটা বেশ কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ছে। তাছাড়া প্রযুক্তি প্রতিনিয়ত মানুষের জীবন সহজ করে দিচ্ছে। ফলে খেলা দেখাটাও যেমন আগের চেয়ে সহজ, তেমনি মনোযোগ ধরে রাখাটাও বেশ কঠিন। আপনি চাইলেই এখন ঘরে বসে মোবাইলে নেটফ্লিক্সে পছন্দের মুভি দেখতে পারছেন। তাই আমরা ধারাভাষ্যকে যতটা সম্ভব প্রাণবন্ত এবং আকর্ষণীয় করে তোলার চেষ্টা করি যাতে শ্রোতারা আগ্রহ না হারিয়ে ফেলেন।

    আপনার যেমন অসংখ্য ভক্ত রয়েছেন, তেমনি অনেক সমালোচকও রয়েছেন। সমালোচনা কিভাবে সামলান?

    মরিসন : যেকোনও কাজে সমালোচনা থাকবেই। আপনাকে জানতে হবে আপনি কিভাবে তা সামলে নিজের কাজটা করে যাবেন। নিজের প্রতি কখনই আস্থা হারানো যাবেনা। তাহলেই সমালোচনা আপনাকে ঘিরে ধরবে। সত্যি বলতে, সমালোচকদের কথা শুনলে আমার হাসি পায়। এখন প্রযুক্তি কত এগিয়ে গেছে। আপনার যদি আমাকে, আমার বাচনভঙ্গি ভালো না লাগে তাহলে চ্যানেল বদলে ফেলুন অথবা শব্দ কমিয়ে দিন।

     

     

    একটি সাক্ষাৎকারে বলেছেন সাবেক কিউই অধিনায়ক মার্টির ক্রো আপনাকে 'দক্ষিন এশিয়ান প্রতিনিধি' বলতেন। কেন?

    মরিসন : হ্যাঁ, কথাটা সত্যি। ইশ্বর তাকে স্বর্গে মঙ্গল করুন। ক্রো এমনটা বলতেন কারণ তখন কেউই উপমহাদেশে আসতে চাইতোনা নিউজিল্যান্ড থেকে। তাই আমাকেই পাঠানো হত কারন আমি বরাবররই উপমহাদেশে আসতে পছন্দ করতাম। এখানে মানুষের জীবন নিউজিল্যান্ড কিংবা অন্য দেশগুলোর চেয়ে বেশ আলাদা এবং বৈচিত্রময়। মানুষ এখানে ব্রিজের নিচে কিংবা রাস্তার পাশে বাস করে। এটা আপনাকে জীবন নিয়ে আশাবাদী করবে এবং নিজের অবস্থান নিয়ে সন্তুষ্টি যোগাবে।

    বর্তমানে নিউজিল্যন্ডের একজন সাবেক ক্রিকেটারের চেয়ে বিশ্বজুড়ে আপনার ধারাভাষ্যকার পরিচিতিটাই বেশি জনপ্রিয়। এটা কি আপনাকে ভাবায়?

    মরিসন : একদমই নয়। আমি খেলা ছেড়ে দিয়েছি প্রায় ২২ বছর আগে। এর পরে একটা নতুন প্রজন্ম এসেছে যাদের কাছে আমার প্রথম পরিচিতি ধারভাষ্যকার মরিসনের, ক্রিকেটার নয়। কারণ তারা আমাকে খেলতেই দেখেনি। তাছাড়া এখন আমি হ্যান্ডসামও বেশ (হাসি)। চুলগুলো হয়ত হারিয়েছি, তবে তাতে লাভও হয়েছে বেশ। মেয়েরা মাঝে মাঝে এসে জিজ্ঞসা করে, "তুমি কি পিটবুল!"

    আপনাকে মাঝে মাঝেই দেখা যায় বাংলাদেশ, ভারত কিংবা ওয়েস্ট ইন্ডিজের ঐতিহ্যবাহী পোশাকে হাজির হতে। এটা আপনি উপভোগ করেন?

    মরিসন : অবশ্যই। এটা আমি উপভোগ করি বলেই যখন যে দেশে যাই সেখানকার স্থানীয় সাঁজে মাঠে হাজির হই। সাংস্কৃতিক এই মেলবন্ধন আমার ভীষণ পছন্দের। তাছাড়া দর্শকরাও আমাকে তাদের ঐতিহ্যবাহী পোশাকে দেখে মজা পায়। আমাকেও তাদেরই একজন মনে করে যা আমার কাজটা সহজ করে দেয়। আমার কাছে এটাই মুখ্য। অনেকেই এর সমালোচনা করলেও আমি তাতে দমে যাইনা। এই যে দেখুন আজ আপনাদের দেশী পাঞ্জাবি পরে এসেছি (ফাইনালের দিন পরিহিত নীল পাঞ্জাবী দেখিয়ে)। দর্শকদের আনন্দ দেয়াটাই আমার কাজ, এটাও তারই একটা অংশ।

    একটা বড় সময় পরিবারের থেকে দূরে থাকতে হয় আপনাকে। পরিবারের জন্য সময় বের করাটা কতটা কঠিন?

    মরিসন : একজন পারিবারিক মানুষ হিসেবে কাজটা বেশ কঠিন আমার জন্য। আমার স্ত্রী একজন ব্যবসায়ী এবং সেও ভীষণ ব্যস্ত থাকে সারাবছরই। তাই আমাদের দুজনের পক্ষেই পরিবারের জন্য সময় বের করাটা বেশ কঠিন। দুই সন্তান টায়লা এবং জ্যাকব প্রায়ই অভিযোগ করে তাদের আরো বেশি সময় দেয়ার জন্য। আমি এবং কিম তাই ছুটি পেলেই তাই পরিবার নিয়ে অবকাশযাপনে বের হয়ে যাই। তখন আমরা শুধুই পরিবারের সবাই মিলে সুন্দর কিছু সময় কাটানোর চেষ্টা করি।

    কাজের সুবাদে পৃথিবীর নানা প্রান্তে ঘুরাঘুরির সুবাদে জীবনটা খুব কাছ থেকে সুযোগ পেয়েছেন। আপনার কাছে জীবনের সংজ্ঞা কি?

    মরিসন : জীবনে অপ্রাপ্তির চেয়ে প্রাপ্তিগুলোই আমাকে আনন্দ দেয় বেশি। নিজের পছন্দের কাজ করছি, নানান দেশে ঘুরে বেরাচ্ছি, দামী হোটেলে থাকছি, ভালো খাবার খাচ্ছি। এরচেয়ে বেশি আর কি চাই বলুন? জীবনে যা পেয়েছি তা নিয়েই আমি সন্তুষ্ট। চেষ্টা করি জীবনটা সহজভাবে যাপন করার।

    ক্রিকেটে ফেরা যাক। বাংলাদেশ দলে আপনার প্রিয় খেলোয়াড় কে?

    মরিসন : ফিজ (মোস্তাফিজুর রহমান)। ওর বোলিং দেখাটা সবসময়ই উপভোগ্য। আর সাকিবকেও ভাল লাগে। সে বাংলাদেশের ক্রিকেটকে বিশ্বদরবারে শক্তিশালী দল হিসেবে উপস্থাপনের অন্যতম বড় কুশিলব।

    নিউজিল্যান্ডে সফরে বাংলাদেশ দল কেমন করতে পারে বলে মনে করেন?

    মরিসন : আমি বিশ্বাস করি নিউজিল্যান্ডে এবার বাংলাদেশ ভালো কিছু করবে। টেস্ট, ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টিতে সবকটি ম্যাচে হারলেও গত সফরে টাইগাররা ভালো প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলেছিল। তবে তাসকিনের ইনজুরি বাংলাদেশের জন্য বড় আঘাত। নিউজ্যান্ডের কন্ডিশনে ও হতে পারতো তুরুপের তাস।

    মাশরাফি, মোস্তাফিজ, রুবেলদের সমন্বয়ে গঠিত পেস আক্রমণটাও বেশ সমৃদ্ধ। আবু জায়েদ, খালেদরাও সুযোগ পেলে ভাল করতে পারবে, তারাও বেশ প্রতিশ্রুতিশীল। ওয়ানডেতে বাংলাদেশ চমক দেখাতে পারে সেটা সীমিত ওভারের ক্রিকেটে তাদের সাম্প্রতিক ফর্মের সুবাদেই। তবে তিন টেস্ট সিরিজে ভাল করতে বোলারদের পাশাপাশি বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদেরও কঠিন পরীক্ষা দিতে হবে।

    বিশ্বকাপে উভয় দলের সম্ভাবনা কিভাবে দেখেছেন?

    মরিসন : বিশ্বকাপ নিয়ে বলতে গেলে বলব- উভয় দলেরই সম্ভাবনা আছে বড় কিছু অর্জনের। অভিজ্ঞতা এবং তারুণ্যের মিশেলে বাংলাদেশ দলটা বেশ সমৃদ্ধ। বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সাফল্যের অনেকটাই নির্ভর করবে সাকিব, তামিম, মুশফিকুর এবং ফিজের ওপর।

    অন্যদিকে সম্প্রতি ভারতের কাছে ওয়ানডে সিরিজ হারলেও বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ড ভাল কিছু করবে বলেই আমার বিশ্বাস। বড় দলগুলোকে দেখি আমাদের তেমন সমীহ করেনা। যদিও বড় টুর্নামেন্টে আমাদের রেকর্ড বরাবরই ভালো। অধিনায়ক এবং ব্যাটসম্যান হিসেবে কেন উইলিয়ামসন আগের চেয়ে এখন অনেক পরিণত। রস টেইলরের মত অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যানের সাম্প্রতিক ফর্ম ব্যাটিং অর্ডারকে করেছে শক্তিশালী। সাউদি এবং বোল্টের নেতৃত্বে পেস আক্রমণ নিজেদের দিনে গুঁড়িয়ে দিতে পারে যেকোনো দলকেই। বেশকিছু বিশ্বমানের অলরাউন্ডারও রয়েছে আমাদের। সবমিলিয়ে বিশ্বকাপে কেনের দল নিয়ে আমি বেশ আশাবাদী।

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন