• বাংলাদেশের নিউজিল্যান্ড সফর
  • " />

     

    • বাংলাদেশের নিউজিল্যান্ড সফর

    "আমরা বলে এসেছি, পৃথিবীর কোনো জায়গাই নিরাপদ নয়"


    ক্রাইস্টচার্চে মসজিদে সন্ত্রাসী হামলাকে ‘অত্যন্ত দুঃখজনক’ বলে সে সময় সেখানে যাওয়া বাংলাদেশের ক্রিকেট দলের সঙ্গে ‘দৃশ্যমান’ কোনও নিরাপত্তাব্যবস্থা না থাকাকেও ‘দুঃখজনক’ বলেছেন বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দিন চৌধুরি। অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশ বাংলাদেশে আসার ক্ষেত্রে নিরাপত্তার দুশ্চিন্তার বিপরীতে বিসিবির বলা কথাটাই আবার মনে করিয়ে দিয়েছেন তিনি- ‘পৃথিবীর কোনও জায়গাই নিরাপদ নয়।’ 

    হ্যাগলি ওভাল থেকে জুমার নামাজ পড়তে পাশের আল নূর মসজিদে গিয়েছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট দল, যেখানে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত হয়েছেন কমপক্ষে ৪১ জন। সে সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত টিম বাসে এক চালক ছাড়া নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ডের পক্ষ থেকে ছিলেন না কেউই। প্রায় ‘৮-১০ মিনিট’ বাসে অবরুদ্ধ অবস্থায় থাকা ক্রিকেটাররা পরে নিজেদের সিদ্ধান্তেই বেরিয়ে আসেন, এরপর হ্যাগলি পার্কের বেষ্টনি টপকে ভেতরে ঢুকে হেঁটে আসেন মাঠে। ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশ বিদেশ সফরের ক্ষেত্রে নিজস্ব নিরাপত্তা দল নিয়ে যায়, তবে নিজাম বলছেন, সফরকারী দলের নিরাপত্তা  নিশ্চিত করার পুরো দায়িত্ব আয়োজক বোর্ডেরই। 

    “যখন কোনো দল বিদেশে যায়, বিদেশে পৌঁছে, তখন কিন্তু তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব আয়োজক ক্রিকেট বোর্ডের। অন্যান্য বিষয়ও ঠিকঠাক আছে কি না, তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব তাদের। এটাই প্রচলিত নিয়ম। বছরের পর বছর, যুগ যুগ ধরে এটাই হয়ে আসছে। অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডের পাশাপাশি বিশ্বের অন্যতম বড় দল কিন্তু ভারত। তারা বিভিন্ন সময় বাংলাদেশ সফর করে। কিন্তু তাদের সাথে নিরাপত্তা ম্যানেজার বা নিরাপত্তা দল যাওয়া, এ ধরনের প্রচলিত কোনো বিধান কিন্তু ছিল না”, সাংবাদিকদের শনিবার বলেছেন নিজাম। 

    ক্রাইস্টচার্চে দলের নিরাপত্তা নিয়ে নিজের হতাশা জানিয়েছেন তিনি, “এটা দুঃখজনক যে দৃশ্যমান কোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থা আমরা দেখিনি, আমরা জানি না তাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থাটা কী। কিন্তু যখন দুই দেশের সিরিজ বিষয়ক সমঝোতা চুক্তি হয়, তখন কিন্তু জাতীয় পর্যায়ের নিরাপত্তার কথা বলা হয়। কিন্তু একেকটা দেশের নিরাপত্তার মান নির্ধারণ করা হয় নিরাপত্তা পরিস্থিতি মূল্যায়নের মাধ্যমে। আমাদের দেশে যখন কোনো দল আসে, তখন কিন্তু আমাদের নিরাপত্তা বাহিনী নিরাপত্তা পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে এবং সে অনুযায়ী নিরাপত্তা পরিকল্পনা প্রণয়ন করে। এর সাথে সফরকারী দল যদি আরো কিছু যোগ করার প্রয়োজন মনে করে তাহলে তারা তাদের স্থানীয় হাই কমিশনের সহায়তায় সেটা করে। এটাই হলো সাধারণ অনুশীলন। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া বা নিউজিল্যান্ডের মতো দলের সাথে এ রকম করা হয়। এ ছাড়া উপমহাদেশের দলগুলোর জন্য এ রকম হয় না। তবে বিশেষ পরিস্থিতির কারণে এ রকম হয়ে থাকতে পারে।” 

    অবশ্য এ ঘটনার আকস্মিকতায় পুরো বিশ্বের মতো নিউজিল্যান্ডও হতবিহবল হয়ে পড়েছিল বলে ধারণা তার, “আমরা যেমন ‘শকড’, তারাও কিন্তু ‘শকড’। আমি যখন নিউজিল্যান্ড ক্রিকেটের প্রধান নির্বাহীর সাথে কথা বলছিলাম, তারা কিন্তু দিশেহারা ছিলো। তারা কখনো এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবেলা করেনি। ওদের ধারণাতেই ছিলো না। আমাদের প্রথম কাজ ছিলো আমাদের দলকে নিরাপদ রাখা এবং নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনা। অন্যান্য বিষয়ে আমরা আলোচনা করবো। নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ড তাদের সরকারের সাথে আলোচনা করছে। আমরা হয়তো পরবর্তীতে আলোচনা করতে পারবো।"

    “(হামলার পুরো) বিষয়টা অত্যন্ত দুঃখজনক। বর্তমান পরিস্থিতিতে দেখা যাচ্ছে যে, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড অনেক আগে থেকেই বলে আসছে যে, বিভিন্ন সময় অস্ট্রেলিয়া- ইংল্যান্ডসহ অন্যান্য দেশ আমাদের বিভিন্ন ইস্যুতে নিরাপত্তা দুশ্চিন্তা নিয়ে কথা বলেছে, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট আয়োজনের সময়। আমরা বলে এসেছি, পৃথিবীর কোনো জায়গাই নিরাপদ নয়। সেটাই দেখা গেলো যে, নিউজিল্যান্ডের মতো একটা দেশ, যেখানে কোনোদিন এ রকম কিছু ঘটেনি, সেখানেই এ রকম ঘটনা ঘটলো। সুতরাং এটা বিস্ময়কর তো অবশ্যই, একই সাথে দুঃখজনক, এতগুলো প্রাণহানী ঘটেছে। আল্লাহর অশেষ রহমত আমদের জাতীয় ক্রিকেট দল সুস্থভাবে দেশে ফিরছে, তারা বিমানে উঠে গেছেন।”

     

     

    ভবিষ্যতে সফরের ক্ষেত্রে নিরাপত্তার একটা ন্যূনতম ব্যবস্থা নিশ্চিত করেই দল পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। একই ধরনের কথা এর আগে বলেছিলেন বিসিবি প্রেসডেন্ট নাজমুল হাসানও। আর নিউজিল্যান্ড ক্রিকেটের প্রধান নির্বাহী ডেভিড হোয়াইট বলেছেন, ক্রাইস্টচার্চের ঘটনার পর বদলে যাবে তাদের দেশে সফরকারী যে কোনও দলের ক্ষেত্রেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা।