• " />

     

    ‘সাদা’ ক্রিকেট, ‘কালো’ ক্রিকেট - পর্ব ৩

     

    সাদা-কালো বৈষম্য, শ্বেতাঙ্গ-অশ্বেতাঙ্গ জাতিবিদ্বেষ- বিংশ শতাব্দীতেও দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে এসবের শিকড় উপড়ে ফেলা যায়নি। ইতিহাসের একমাত্র দেশই হচ্ছে দক্ষিণ আফ্রিকা, যেখানে প্রত্যেক খেলার জাতীয় দল ছিল একাধিক! প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেট ছিল শুধু সাদা ক্রিকেটারদের জন্যে, কালো তো বটেই অশ্বেতাঙ্গরাই সেখানে সু্যোগ পেত না। কালোদের জন্যে চালু ছিল আলাদা লিগ, সু্যোগ-সুবিধা ছিল সীমিত, মাঠ সংকট ছিল প্রকটঅনেক ক্ষেত্রেই মাঠগুলোতে কালোদের প্রবেশাধিকার সংরক্ষণ করা হত। বিস্ময়কর হলেও সত্যি গত শতাব্দীর ষাটের দশকে দুনিয়ার একপ্রান্তে যখন চাঁদে মানুষ পাঠানোর প্রস্তুতি চলছিল, দক্ষিণ আফ্রিকার তৎকালীন সরকার তখন ব্যস্ত ছিল সাদা-কালো বৈষম্য জিইয়ে রাখার নির্লজ্জ এবং প্রকাশ্য অনাচারে। খেলাধুলায় যেখানে জয়-পরাজয়ের ঊর্ধ্বে সম্প্রীতিই যেখানে শেষ কথা, দক্ষিণ আফ্রিকায় সেই খেলাধুলা নিয়েই ঘটছিল সম্প্রীতি বিনাশের কর্মযজ্ঞ। এসবের ফলশ্রুতিতেই তাদের উপর নেমে আসে নিষেধাজ্ঞা। দীর্ঘ ২২ বছর দক্ষিণ আফ্রিকায় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ছিল নির্বাসিত। ক্রিকেটীয় চেতনার জন্যে অপমানকর সেই ঘটনাবলীর পূর্বাপর আর প্রভাব নিয়েই চার পর্বের এই ধারাবাহিক।

     


    আরো পড়ুনঃ

    'সাদা ক্রিকেট, 'কালো' ক্রিকেট - পর্ব ১ 

    'সাদা ক্রিকেট, 'কালো' ক্রিকেট - পর্ব  ২


     

    ১০. লজ্জার নির্বাচন, লজ্জার আইন!!!

     

    দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ, পৃথিবী জুড়ে হাহাকার। অর্থ নেই, খাবার নেই, যোগাযোগ নেই, অর্থনীতির কোন অস্তিত্বই নেই। ইউরোপে তখন ভ্রাতৃত্বের সুর, বিপর্যস্ত দেশগুলো কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে।

     

    ১৯৪৮ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় একটা বিপ্লবের মত ঘটে গেল। দুনিয়ার একমাত্র জাতি হিসেবে তারা এমন এক সরকারকে ক্ষমতায় আনলো, যাদের নির্বাচনী স্লোগানই ছিল ‘অ্যাপার্টহিড’ অর্থাৎ ‘জাতিবিদ্বেষ’! সরকারের মূল লক্ষ্য ছিল শ্বেতাঙ্গদের জন্যে সকল সুবিধা বরাদ্দ রেখে, অশ্বেতাঙ্গদের নাগরিক জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলা। তাদের থাকার জায়গা হবে আলাদা, কোনো ‘ব্লু কলারড’ কাজ তারা পাবে না। অশ্বেতাঙ্গদের মধ্যেও আবার ছিল শ্রেণীবিন্যাস! ‘বান্টু’ মানে একদম ‘কালো’ আদিবাসী, ‘কালারড’ মানে মিশ্র শ্রেণী এবং ‘এশিয়ান’ যারা ভারত অথবা পাকিস্তান থেকে সেখানে বসতি গড়েছে। মূল উদ্দেশ্য ছিল একটাই- শ্বেতাঙ্গরা সংখ্যালঘু হয়েও যাতে সংখ্যাগুরু অন্য জাতিগুলোর উপরে ছড়ি ঘুরাতে পারে।

     

    লজ্জার সেই আইনকে তখন দক্ষিণ আফ্রিকান জনগণেরাই সমর্থন দিয়েছিল। গুটিকয়েক মানুষ ছাড়া এর দৃঢ় প্রতিবাদ কেউই করেনি। শুধু আইন প্রণেতাদের উপর দোষ চাপানো তাই অর্থহীন। অন্যায় দেখে চুপ থাকার মানে হচ্ছে অন্যায়কে সহ্য করে নেয়া যেটার ভবিষ্যৎ কখনোই ভাল হয়না। এই একবিংশ শতকে এসে আমাদেরও এখান থেকে অনেক কিছু শিখার আছে!

     

    ১১. অলিম্পিক

     

    যে দেশের সরকার প্রকাশ্যে জাতিবিদ্বেষী, যেখানে পিতা শ্বেতাঙ্গ হওয়ায় বিশেষ সুবিধাভোগী হলেও, মা-সন্তানেরা সেই নাগরিক সুবিধা থেকে কেবল মাত্র অশ্বেতাঙ্গ হবার জন্য বঞ্চিত থাকে, যেখানে মানুষের পরিচয় হয় শুধু গায়ের রঙ, সেখানে খেলার মাঠেও যে বৈষম্য বজায় থাকবে তাতে তো আর অবাক হবার কিছু নেই। তাঁদের জাতীয় দলগুলোতে অশ্বেতাঙ্গরা সুযোগ পেত না, এটা তো আগের পর্বগুলোতেই জানিয়েছি। প্রথম প্রথম দেশটির অভ্যন্তরীন ব্যাপার ভেবে অন্য দেশরা শুধু প্রতিবাদই করে যাচ্ছিল, কিন্তু তেমন কোন শক্ত পদক্ষেপ ফেলতে পারছিল না।

     

    ১৯৬৪ সাল, টোকিও প্রস্তুত সারা বিশ্বের সেরা অ্যাথলেটদের বরণ করে নিতে। সামার অলিম্পিকের মঞ্চ প্রস্তুত কালজয়ী কিছু ঘটনা প্রত্যক্ষ করার জন্যে, খেলোয়াড়ি মনোভাবের আড়ালে সম্প্রীতির বাতাবরণ বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দেয়ার জন্যে।

     

    দক্ষিণ আফ্রিকান কর্তৃপক্ষ অবশ্য এরকমটা ভাবে নি, কখনো ভাবতোও না। তারা ৬২ জনের অলিম্পিক দলে একজনও অশ্বেতাঙ্গ রাখে নি। আইওসি প্রথমবারের মতো দৃষ্টান্ত স্থাপন করে দক্ষিণ আফ্রিকান অলিম্পিক কমিটিকে সতর্ক করে দিল, বর্ণবাদ এড়িয়ে যোগ্যতা অনুসারে দল তৈরি করার জন্যে। কর্ণপাত না করায় আইওসি টোকিও অলিম্পিকে থেকে দক্ষিণ আফ্রিকাকে নিষিদ্ধ করল। সাথে বেঁধে দিল ৫০ দিন সময়; এর মধ্যে যদি দল পুনর্গঠন করে, তাহলে তারা অলিম্পিকে যেতে পারবে। দক্ষিণ আফ্রিকা যদিও ৯ জন অশ্বেতাঙ্গকে বিশেষ কোটায় সুযোগ দেয়ার কথা বলে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করেছিল, কিন্তু আইওসি চাচ্ছিলো, এই বিশেষ কোটাপদ্ধতিও যাতে বাতিল হয়। স্বাভাবিকভাবেই দক্ষিণ আফ্রিকান সরকার এটা মেনে নেয়নি। বারবার সতর্ক করার পরও নীতিতে সংশোধন না আনায় দক্ষিণ আফ্রিকাকে আইওসির সদস্যপদ থেকেই শেষে বহিষ্কার করা হয়। অলিম্পিক কমিটির তৎকালীন মহাসচিব অটো মেয়ার বলেছিলেন,

    ''দক্ষিণ আফ্রিকানদের হৃদয় অবরুদ্ধ হয়ে গেছে, ওদের অবরুদ্ধ না করা ব্যতীত আমাদের আর দ্বিতীয় সুযোগ ছিলনা।''

     

    বর্ণবাদের বিরুদ্ধে আইওসির এই সিদ্ধান্ত অন্য খেলার আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো একটা উদাহরণ হিসেবে গ্রহণ করে এবং দক্ষিণ আফ্রিকাকে বারবার কোটা প্রথা তুলে যোগ্যতা অনুসারে দল গঠনের জন্যে চাপ দিতে থাকে। ওই বছরেই উইম্বলডনে দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদের বিরুদ্ধে মাঠে বসেই স্লোগান দেয়া হয় এবং পরিস্থিতি ক্রমশ খারাপের দিকে যাওয়ায় কোন দক্ষিণ আফ্রিকান খেলোয়াড়কেই আর সেই টুর্ণামেন্টে পরবর্তীতে খেলতে দেয়া হয়নি! ঐ বছরই অক্টোবরে আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থা ফিফাও দক্ষিণ আফ্রিকার সদস্যপদ বাতিল করে দেয়।

     

    ১২. ‘অলিভেইরা অ্যাফেয়ার’

     

    দক্ষিণ আফ্রিকা যে শুধু নিজের মধ্যেই বর্ণবাদকে জিইয়ে রেখেছিল ব্যাপারটা সেরকম নয়। তারা কেবলমাত্র শ্বেতাঙ্গ ক্রিকেট দলগুলোর সাথেই টেস্ট খেলতো। একারণেই ক্রিকইনফোতে ১৯৯১ সালের আগে দক্ষিণ আফ্রিকা বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যকার টেস্ট ক্রিকেটের কোনো স্কোরকার্ডই পাবেন না, এই দুই দল যে এর আগে মুখোমুখিই হয়নি, বলা ভাল দক্ষিণ আফ্রিকা ‘কালো’ দের সাথে খেলতেই চায়নি! কেনিয়া, জিম্বাবুয়ে এসব দেশে ক্রিকেট খেলতেও তাই কেবলমাত্র অশ্বেতাঙ্গদের দলকেই পাঠানো হত, মূল দল কখনোই ওসব দেশ সফরে যেত না!

     

    বাসিল ডি অলিভেইরার কাছে আবার ফিরে আসি। তাঁর তখন সুসময়, ইংল্যান্ডের হয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে হীরন্ময় অভিষেক, ভারতের বিরুদ্ধে অসাধারণ ১০৯, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে দুই ইনিংসে ফিফটি- সারা জীবন বৈষম্যের মধ্যে থাকা অলিভেইরা তখন ক্রিকেটসুখে বিভোর। ফর্মের একটু ছন্দপতন ঘটল ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে গিয়ে। ৫০ এর উপর গড় নিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ গিয়ে ফিরে আসলেন ৫০ এর নিচে গড় নিয়ে।

     

    তখন অ্যাশেজের মৌসুম। প্রথম টেস্টে ইংল্যান্ড শোচনীয়ভাবে হারল, কিন্তু অলিভেইরা ৮৭ রান করে অপরাজিত থাকলেন। তবুও ‘টিম কম্বিনিশন’ এর জন্যে তিনি পরের তিনটি টেস্টে সুযোগ পেলেন না। পঞ্চম টেস্টে রজার প্রাইডক্সের চোটের কারণে আবার দলে ফিরলেন। বলা ভাল, রাজসিকভাবে দলে জায়গা পাকা করলেন। তাঁর অনবদ্য ১৫৮ রানের উপর ভর করে ইংল্যান্ড ২২৬ রানে টেস্ট জিতল। পিছিয়ে থেকেও ড্র করে ফেললো অ্যাশেজটা।

     

    ইংল্যান্ডের পরবর্তী সফর দক্ষিণ আফ্রিকায়। মাতৃভূমির বিরুদ্ধে টেস্ট খেলতে যাবার জন্যে অলিভেইরাও তৈরি। কিন্তু এমসিসি দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের জন্যে অলিভেইরাকে দলেই রাখলো না! এর পিছনে কোনো যুক্তি না দাঁড় করাতে পারলেও স্পষ্টতই বুঝা যাচ্ছিল, অলিভেইরা আবারও বর্ণবাদের শিকার! এমসিসি, দক্ষিণ আফ্রিকার সাথে কোনোরকম রাজনৈতিক বিবাদে জড়াতে চায়নি বলেই এই সিদ্ধান্ত। লন্ডন টাইমসে এর পরদিন শিরোনাম কি ছিল জানেন?

    ''খেলার সাথে রাজনীতি মিশাবেন না - বোকার দল ছাড়া এটা এখন কেউ আর বিশ্বাস করে না।''

     

    সাংবাদিক মাইকেল পার্কিনসন প্রচন্ড ক্ষোভের সাথে লিখেন যে,

    '' অলিভেইরাকে বাদ দিয়ে একদল ইংলিশ ভদ্রলোক তাঁদের ভদ্রতাকে বর্ণবাদের কবরে গতকাল বিকালে মাটিচাপা দিয়েছে’।''

     

    সমস্ত ইংল্যান্ডেই তখন প্রতিবাদের সুর। মিছিল, সমাবেশ, মানববন্ধন-ও হলো। ওইদিকে দক্ষিণ আফ্রিকা সরকার সাফ সাফ জানালো, কোন অশ্বেতাঙ্গ ক্রিকেটারকে তারা দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের আতিথেয়তা দিবে না! এমসিসি অবশ্য প্রতিবাদের মুখে পরে শেষ পর্যন্ত অলিভেইরাকে দলে নিয়ে নেয়। ফলশ্রুতিতে তৎকালীন দক্ষিণ আফ্রিকান প্রেসিডেন্ট বিবৃতি দিলেন,
     

    ‘এমসিসি কোন ক্রিকেট দল নয়, তারা দক্ষিণ আফ্রিকার অভ্যন্তরীন ব্যাপারে নাক গলাতে রাজনৈতিক দল পাঠাচ্ছে। এই রাজনৈতিক দলকে দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে পা দিতে দেয়া হবে না!’

     

    শেষ পর্যন্ত বাতিলই হয়ে গেল সফর। আন্তর্জাতিকভাবে এই ঘটনার পরই সিদ্ধান্ত হলো দক্ষিণ আফ্রিকার এই বর্ণপ্রথা আর মেনে নেয়া হবেনা।

     

    ১৩. সোবার্স কান্ড

     

    জন ভোর্স্টার, দক্ষিণ আফ্রিকান তৎকালীন প্রেসিডেন্ট যখন দেখলেন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তার ভাবমূর্তি টালমাটাল, তখনি তিনি ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্যাপ্টেন গ্যারি সোবার্সকে দক্ষিণ আফ্রিকায় আমন্ত্রণ জানালেন একটি প্রীতি টুর্নামেন্ট খেলার জন্যে। এর মধ্যেই সোবার্স প্রধানমন্ত্রী ইয়ান স্মিথের সাথে ডিনার করলেন। সাথে এক বিবৃতিতে স্মিথের ব্যক্তিত্ববোধ নিয়ে প্রশংসাও করলেন।

     

    ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান গ্রেটের এই প্রীতি সফর, প্রীতিভোজ আর বিবৃতি ওয়েস্ট ইন্ডিজে হারিকেন তুললো। জ্যামাইকান সরকার তাঁর অধিনায়কত্ব কেড়ে নিল, গায়ানিজ প্রধানমন্ত্রী জানিয়ে দিলেন- সোবার্স তাঁর বক্তব্যের জন্যে ক্ষমা না চাইলে গায়ানা তাঁকে ভিসা দিবে না!

     

    প্রথম দিকে অবশ্য সোবার্স বারবার বলছিলেন খেলার সাথে রাজনীতি না মিশাতে। কিন্তু প্রবল চাপ আর জনমানুষের প্রবল ধিক্কারের মুখে পরে অবশেষে তিনি ক্ষমা চেয়ে বিবৃতি দেন।

    এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী-ও ভারতীয় দলকে দক্ষিণ আফ্রিকা সফর করতে মানা করে দেন।

     

    ১৪. নিষেধাজ্ঞা

     

    অলিম্পিক থেকে বহিষ্কৃত; ফুটবল, রাগবি এবং টেনিসেও ঠাঁই নেই। বাকি ছিল ক্রিকেট। ১৯৭০ সালের পর তাও আর থাকলো না। সমস্ত ক্রিকেট খেলুড়ে দেশই দক্ষিণ আফ্রিকাকে বয়কট করল।

     

    বিভিন্ন খেলার সংস্থা থেকে বহিষ্কার হবার সময় থেকেই ঐ দেশের কিছু ব্যক্তিত্ব এবং সাংবাদিক বারবার বলছিলেন খেলাধূলাকে ‘বর্ণ আইন’ এর আওতামুক্ত রাখতে। কিন্তু সরকার কান দেয়নি। ১৯৭০ সালে ভারত, পাকিস্তান, ইংল্যান্ড যখন  আক্ষরিক অর্থেই দক্ষিণ আফ্রিকা সফর বয়কট করল তখন ''ক্রিকেট সাউথ আফ্রিকা'' কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করে। ১৯৭১ সালে দলে দুইজন ‘কালো’ খেলোয়াড়কে নিয়ে হলেও অস্ট্রেলিয়া সফর করতে চায়। কিন্তু অস্ট্রেলিয়া রাজি হয়নি। আক্ষরিকভাবেই গোটা ক্রিকেট দুনিয়া থেকে দক্ষিণ আফ্রিকা নিষিদ্ধ হয়ে যায়।

     

    ক্ষতিটা কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকার একা হয়নি। ব্যারি রিচার্ডস, ক্লাইভ রাইস কিংবা গ্রায়েম পোলকদের মতো খেলোয়াড়দের এজন্যে শুধুই প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেট অথবা মাত্র কয়েকটি টেস্ট খেলেই সন্তুষ্ট থাকতে হয়।

     

    ঘটনাপ্রবাহের কিন্তু ওখানেই শেষ নয়। এরপরের ২২ বছর দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেট নিয়ে আরো অনেক মহাযজ্ঞ চলেছে। সেগুলো পরের পর্বের জন্যে তোলা থাকলো।

     


    আরো পড়ুনঃ

    'সাদা' ক্রিকেট, 'কালো' ক্রিকেট - শেষ পর্ব 


     

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন