• " />

     

    সনজিতের আকাশ ছোঁয়ার গল্প

    সনজিতের আকাশ ছোঁয়ার গল্প    

     

    কীর্তিটা শুধু বড় নয়, অনন্যই। যুব ক্রিকেটের কোনো পর্যায়েই ছয় উইকেট নেওয়ার কৃতিত্ব ছিল না বাংলাদেশের কোনো বোলারের। কাল সনজিত সাহা  তাঁর অফস্পিনে জিম্বাবুয়ের অনূর্ধ্ব ১৯ দলের বিপক্ষে সেই কীর্তি করে ফেললেন। অনেক দিন থেকেই খেলছেন বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব ১৯ দলে, এবার স্বপ্নটা নিয়ে যেতে চান বহুদূর। সেই গল্পটাই এবার শোনা যাক...

     

    মিঠু ভাইয়ে শুরু...

    দীপ তখনও আর দশটা কিশোরের মতোই। স্কুল, টেনিস বা টেপ টেনিস বলের ক্রিকেট, বন্ধু, আড্ডা নিয়ে মেতে থাকেন। দিনাজপুরে সেবার একটা টুর্নামেন্ট হলো। মুক্তা স্মৃতি অনূর্ধ্ব-১৫ টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট। সেই প্রথম বড় কোনো টুর্নামেন্টে খেলা, কালিতলার নাবিল পরিবহন নামের এক দলের হয়ে। দীপরা সেবার চ্যাম্পিয়ন হলেন। দীপ তখন দিনাজপুর জিলা স্কুলে অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র।এরপর এক ভাইয়ের সঙ্গে ঘুরতে যেতেন, গোর-এ-শহীদ বড় ময়দানে, যে মাঠকে সবাই ডাকেন ‘বড় মাঠ’ নামে। দিনাজপুরের ক্রীড়ার সূতিকাগার সেই বড় মাঠেই পরিচয় ‘মিঠু ভাইয়ের’ সঙ্গে। মিঠু ভাই, আবু সামাদ মিঠু, দিনাজপুরের ক্রিকেটে এক অনন্য নাম! মিঠু ভাইয়ের সঙ্গে পরিচয় হওয়া বদলে দিল অনেক কিছু!

    এর কিছুদিন পরই অনূর্ধ্ব-১৪ এর জেলা ডিভিশন টিমের মেডিকেল টেস্ট। মিঠু ভাই দীপকে আসতে বললেন। দীপ উতড়ে গেলেন সে টেস্ট। খেলতে লাগলেন দিনাজপুরের অনূর্ধ্ব-১৪ দলে। বাসা থেকে এরপর প্র্যাকটিসে ভর্তি করে দেয়া হলো দীপকে। মিঠু ভাইয়ের প্রচেষ্টা ক্রিকেট কোচিং সেন্টারেই। অবশ্য এর পেছনে অন্য একটা কারণও ছিল, ‘যাতে পড়াশুনায় মনোযোগ থাকে, আড্ডা-টাড্ডা কম দিই, বাইরে ঘোরাঘুরি কম করি!’

    সেই দীপই আজকের সনজিত সাহা।

     

    ব্যাটসম্যান থেকে অফস্পিনার!

    মিঠু ভাইয়ের অধীনেই চলতে লাগলো দীপের অনুশীলন। আলাদা করে কথা বলতেন, জানতেন সনজিত আসলে প্র্যাকটিসে যান পারিবারিক কারণে, অন্য জায়গায় আড্ডা দিয়ে সময় নষ্ট যাতে না করতে পারে সে কারণে। তবে তিনি বুঝতেন, সনজিত ক্রিকেটে কিছু একটা করতে পারবেন। আলাদা করে তাঁর যত্ন নিতেন, বোঝাতেন, ‘ক্রিকেটে তোর একটা ফিউচার(ভবিষ্যৎ) আছে’।

     

    প্র্যাকটিসে মাত্র তিন চারদিন গিয়েছেন তখন সনজিত। ব্যাট করতেন, সনজিত তো মূলত ছিলেন ব্যাটসম্যানই। একদিন ব্যাট করছিলেন ‘বাপ্পী দা’, জাতীয় দলের ক্রিকেটার লিটন দাসের ভাই। তিনিই বলেছিলেন, ‘বল কর তো দেখি দীপ’। সনজিত দুষ্টামির ছলেই বল করেছিলেন। অ্যাকশনটা আলাদা ছিল, বল টার্নও করেছিল। অবাকই হয়েছিলেন প্রায় সবাই, এ অ্যাকশনে তো বল এমন টার্ন করার কথা না। মিঠু ভাই সনজিতকে তখন বলেছিলেন, ‘তুই তাহলে অফস্পিনই কর!’ ব্যাটসম্যান সনজিত হয়ে গেলেন অফস্পিনার, নিছকই দুষ্টামির ছলে!

     

    ক্রিকেট ধাপে ধাপে

    অনূর্ধ্ব-১৫ জাতীয় দলের ক্যাম্প কদিন পরই। নির্বাচকদের মিঠু বলতেন, ভাল এক অফস্পিনারের কথা। তাঁর সুপারিশেই ডাক পান সে ক্যাম্পে। অ্যাকশন, বোলিং দেখে সে ক্যাম্পেও সনজিত শুনেছিলেন সে কথা, ‘তুই একদিন অনেক বড় অফস্পিনার হবি!’ ভারত সফরে ডাক পেলেন, কিন্তু যেতে পারলেন না পরীক্ষার কারণে। এরপর অনূর্ধ্ব-১৭ এর ক্যাম্পে ডাক পেলেন না সে বছর, পারফম্যান্সের কারণে। সনজিত হতাশ হলেন, তবে জিদটাও পেয়ে বসলো তখনোই, ‘আমাকে ভাল খেলতেই হবে। এরপর সিক্সটিন (অনূর্ধ্ব-১৬) এ খেলি, সবচে বেশি উইকেট পাই। এরপর সেভেনটিন (অনূর্ধ্ব-১৭) এর ক্যাম্পে ডাক পেলাম।’

     

    আবার বাগড়া বাধালো সেই পরীক্ষা। এবার উচ্চ মাধ্যমিক। নির্বাচকরা বোঝালেন, পরীক্ষা যাতে দেন দীপ। অনূর্ধ্ব-১৭ ব্যাপার না, আসল লক্ষ্য তো অনূর্ধ্ব-১৯। পরের বছরই অনূর্ধ্ব-১৯ এর ক্যাম্প। ২০১৩ সাল তখন।

     

    অঘটন যখন ঘটনা ঘটায়!

    সেই পরীক্ষাই ছিল সনজিতের জীবনে একটা ‘টার্নিং পয়েন্ট’। উচ্চ মাধ্যমিকে ‘গোল্ডেন এ প্লাস’ পেয়ে বসলেন তিনি। নাহ্‌, এটা অঘটন নয়, সনজিত একই কৃতিত্ব দেখিয়েছিলেন মাধ্যমিকেও! পরিবার থেকে তখন বলা হয়, পড়াশুনাতে মনোযোগ দিতে, প্রকৌশলবিদ্যা পড়তে। সনজিত ভর্তি হয়ে যান আহসানউল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে; ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে।

     

    সনজিত সিদ্ধান্ত নিলেন, পড়াশুনাই করবেন। ক্রিকেট ছেড়েই দিলেন, প্রায় ৫-৬ মাস ক্রিকেট থেকে দূরে ছিলেন। তবে খারাপ লাগতো, বন্ধুরা খেলছেন, অনূর্ধ্ব-১৯ দলে ডাক পেয়েছেন কতজন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে খেলছেন। আর তিনি বসে আছেন! ভাল লাগতো না কিছু, পড়াশুনা, জীবন। মন পড়ে থাকতো ওই ক্রিকেটেই!

     

    এর মাঝেই একটা অঘটন ঘটলো। দীপের মোবাইল ফোনটা ছিনতাই হয়ে যায়। ঢাকার জীবনটা আরও বিষাদে ভরে ওঠে তার। বাবাকে ফোন করেন, পড়াশুনা ছেড়ে দিয়ে যেতে চান দিনাজপুরে। বাবা না করেন না, বরং বলেন, ‘চলে আয়!’

     

    তবে আবার হোক শুরু

    সনজিতের তখন পড়াশুনা নেই, অনূর্ধ্ব-১৯ এর ক্যাম্পও নেই। তাঁর ভাষায়, তিনি তখন ‘ফ্রি’। কিন্তু ক্রিকেট তো খেলতে হবে। সিদ্ধান্ত নিলেন, তাহলে জেলা দল, অনূর্ধ্ব-১৮ এর ডিভিশন দলে খেলবেন। মিঠু ভাইকে জানালেন সে কথা। আবার সেই মিঠু ভাই? দীপকে এমন প্রশ্ন করলে দীপের সোজাসুজি উত্তর, ‘মিঠু ভাই আমার জীবনে সব!’

     

    সনজিত সে টুর্নামেন্ট টানা তিন ম্যাচে ফিফটি করেছিলেন, উইকেটও পেয়েছিলেন বেশ কয়েকটি। এর মাঝেই চলে আসলো অনূর্ধ্ব-১৯ এর ক্যাম্প। অনুশীলনে মনোযোগ বাড়ালেন। ডাক পেলেন অনূর্ধ্ব-১৯ দলে, ২০১৪ সালে। মধ্য প্রদেশ এসেছিল, এরপর থেকেই ক্যাম্প হতো। প্রথম সিরিজ খেলেছিলেন শ্রীলঙ্কার সঙ্গে। এরপরই যেন বদলে গেল অনেক কিছু! যে সনজিত ক্রিকেটের কারণে পড়াশুনা ছেড়েছিলেন, সেই দীপ যেন প্রথমবার উপলব্ধি করলেন, পেশাদারিত্ব আসছে তাঁর মাঝে। একে একে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সব ধরনের ক্রিকেটই খেললেন। প্রিমিয়ার লিগ, জাতীয় লিগ।

     

    তিনিই তো ঠিক!

    সনজিত ঢাকায় খেলেননি এর আগে। থার্ড ডিভিশন, সেকেন্ড ডিভিশন, ফার্স্ট ডিভিশন, কোথাও না। অনেক আগে, যখন অনূর্ধ্ব-১৫ দলে, তখন একবার থার্ড ডিভিশনে সুযোগ পেয়েছিলেন। তবে বাবা চাননি, ছেলে ঢাকায় এসে খেলুক। কষ্ট করুক। বাবা বলতেন, ‘দেখিস তুই একদিন সরাসরি প্রিমিয়ার লিগ খেলবি!’ সনজিত হেসেই উড়িয়ে দিতেন। যে লিগে জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা খেলেন, বিদেশীরা খেলেন, সেই লিগে তিনি কিভাবে সুযোগ পাবেন। কোন ডিভিশন না খেলেই! বাবার সঙ্গে এ নিয়ে কথা কাটাকাটিও হতো! তবে তিনি অনড় ছিলেন, নিজের কথায়। সনজিত প্রিমিয়ার খেলবেনই!

    বাবার কথাটা সত্যি হয়েছিল। ওল্ড ডিওএইচ এর হয়ে যখন প্রিমিয়ার খেলার জন্য ডাক পেলেন, বাবাকে প্রথম ফোনটা করেছিলেন সনজিত, ‘বাবা তোমার কথাটাই সত্যি হলো!’

     

    স্বপ্ন আর একজন ‘শকড’ সনজিত

    সনজিত যখন সেই মুক্তা স্মৃতি টুর্নামেট খেলেন, তখন ধীমান ঘোষ তারকা। দিনাজপুর ধীমানকে নিয়ে গর্ব করে, জেলার প্রথম জাতীয় ক্রিকেটার বলে কথা! অনেক বছর পর, ২০১৩ সালে দিনাজপুরের সিনিয়র দলে যখন খেলেন সনজিত, তখন ধীমান সে দলেরই উইকেটকিপার! সনজিত বল করছেন, ধীমান উইকেটকিপিং করছেন, ব্যাপারটা স্বপ্নের মতো তাঁর কাছে! আগে থেকেই ধীমানও অন্য নজরে দেখতেন সনজিতকে, উচ্চাশা করতেন তাঁকে নিয়ে। জেলা দলের সে ম্যাচে তিন উইকেট পেয়েছিলেন সনজিত। ধীমান বলেছিলেন, জাতীয় লিগে খেলার মতো সামর্থ্য আছে তাঁর!

     

     

    সনজিত ‘শকড’ হয়েছিলেন, ‘আমি এত ছোট একটা ছেলে, আমি খেলবো জাতীয় লিগে! প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেট!’ বাবাকে গিয়ে বলেছিলেন সে কথা। শেষ পর্যন্ত অবশ্য সেবার খেলা হয়নি, তবে অনূর্ধ্ব-১৯ খেলার পর ডাক পেলেন রংপুর দল থেকে। ২০১৪-১৫ মৌসুমে। প্রথম ম্যাচেই খুলনার সঙ্গে পেলেন ৬ উইকেট। তবে সনজিতের ‘শকড’ হওয়া চলতেই থাকলো। ‘একসময় যাদের খেলা টেলিভিশনে দেখতাম, আমি তাঁদের সঙ্গে খেলছি! শাহরিয়ার নাফিসের উইকেট পেয়েছিলাম। আমি তাঁদের উইকেট নিচ্ছি, তাঁরা আমাকে ডেকে কথা বলছেন। আদর করছেন! আমি আসলে ‘শকড’ হতাম, এখনও হই! স্বপ্নের মতো মনে হতো!’

     

    একটু আলাদা  আর একজন সোহেল স্যার

    ‘আসলে মুত্তিয়া মুরালিধরন বা সাঈদ আজমলের মতো আমিও ‘আন-অর্থোডক্স’ ধরনের অফস্পিনার। আমার অ্যাকশনটা আলাদা। বাংলাদেশে কেন, বিশ্বেই তাই আমার কোনো আইডল নেই। আমি আসলে সেভাবে কারও বোলিং অনুসরণ করিনি, কারণ তাদের সঙ্গে আমার বোলিং মিলতো না।’এই আলাদা হওয়ার পরেও টিকে থাকা, বোলিং করে যাওয়ার মূল প্রেরণা দীপ পেয়েছিলেন অনূর্ধ্ব-১৯ দলের সোহেল স্যারের কাছে। মিঠু ভাইয়ের অবদান দীপের ক্রিকেটীয় জীবনে সবচেয়ে বেশী, কিন্তু তিনি আজ যে মানের বোলার, এর পেছনের অবদানের স্বীকৃতিটা দিতে চান তিনি সেই সোহেল স্যারকেই, ‘স্যার আমাকে নিয়ে পরিশ্রম করতেন। মুশফিক ভাই (মুশফিকুর রহিম, বাংলাদেশ টেস্ট দলের অধিনায়ক)-সহ আরও অনেক জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা বলতেন, দীপ, তোর অ্যাকশনে একটু সমস্যা আছে, ঠিক করে নিস। তাঁরা সোহেল স্যারকেও বলতেন। আমি আপসেট (হতাশ) হতাম। তবে স্যার আমাকে ভরসা দিতেন, সব ঠিক আছে। আমার অ্যাকুরেসি নিয়ে কাজ করতেন, কিছু সমস্যা ছিল, সেসব নিয়ে কাজ করতেন।’

     

    দীপ ব্যাটসম্যান ছিলেন। অথচ সেই দীপই এখন হয়ে গেছেন পুরোদস্তুর অফস্পিনার। ব্যাটিংয়ে আবার ভাল করার ইচ্ছাটা কি মরে গেছে! নাহ্‌, ‘ইচ্ছা আছে। আসলে বোলিংয়ে বেশী সময় দেয়াতে হয়ে ওঠে না। তবে সামনে নাইনটিন ওয়ার্ল্ড কাপের (অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ) পর অবসরে ইচ্ছা আছে ব্যাটিং নিয়ে আরও কাজ করার।‘

     

    বন্ধু তুমি, ‘শত্রু’ তুমি

    শেখ নাসের স্টেডিয়ামে খুলনার সঙ্গে রংপুরের ম্যাচ জাতীয় লিগের। তবে সব ছাপিয়ে ম্যাচটা দাঁড়িয়েছিল দুই সতীর্থের লড়াইয়ে। অনূর্ধ্ব-১৯ দলের মেহেদি হাসান মিরাজের সঙ্গে সনজিত সাহা দীপ! প্রথম ইনিংসে রংপুরের সনজিত নিয়েছিলেন ৪ উইকেট, খুলনার মিরাজ ৬। দ্বিতীয় ইনিংসে সনজিত নিলেন ৭টি, মিরাজ ৪টি। রংপুর যখন জয় থেকে ১৩ রান দূরে দাঁড়িয়ে, সনজিত নন-স্ট্রাইকে দাঁড়িয়ে দেখলেন, শেষ উইকেটের পতন। ক্যাচ ধরলেন সেই মিরাজই! ম্যাচসেরাও তিনি। সনজিত হতে পারতেন, হলে সেটি হতো প্রথম শ্রেণীতে প্রথম ম্যাচসেরা হওয়া। মিরাজ নীচে যখন পুরস্কার নিচ্ছেন, সনজিত তখন ড্রেসিংরুম থেকে দেখছেন সব। তবে এগিয়ে এসে অভিনন্দন জানিয়েছিলেন, ‘কংগ্রাটস দোস্ত!’ হ্যাঁ, শুধু সতীর্থ না, মিরাজ যে সনজিতের ‘ছোটবেলার বন্ধু!’ সেই অনূর্ধ্ব-১৫ এর ক্যাম্প থেকেই তাঁদের বন্ধুত্ব।

     

    সনজিত সেদিন না পাওয়ার বেদনায় পুড়েছিলেন, আবার আনন্দও ছিল। বন্ধু পেয়েছেন ম্যাচসেরার পুরস্কার, আর তাঁর এই না পাওয়াটাই হয়তো কাজে দেবে ভবিষ্যতে। প্রেরণা জোগাবে আরও ভাল কিছু করার!

     

    বাবা যখন বন্ধু

    স্বপ্নের অনেক ধাপ পেরিয়ে এসেছেন সনজিত, সেদিনের সেই দীপ। সামনে লক্ষ্য অবশ্যই জাতীয় দলে খেলা। যখন দিনাজপুরে যান, বন্ধু-আত্মীয় স্বজন সবাই জিজ্ঞাসা করেন, ‘কিরে, খেলাধুলা কেমন চলে, ন্যাশনালে কবে খেলবি?’ দীপ খুশী হন, যে পড়াশুনা ছেড়ে খেলতে এসেছিলেন, সেই খেলায় আসলেই কিছু করতে পেরেছেন বা পারবেন এই ভেবে! রাস্তায় দাঁড় করিয়ে সবাই কথা বলে, আদর করে, স্নেহ করে।

    তবে দীপের কাছে সবচেয়ে বড় প্রেরণার নাম তাঁর বাবা। যিনি তাঁর কাছে বন্ধুর মতো, যাঁকে খুলে বলা যায় সবকিছু। ভাল কিছু করলেই তিনি তাই বাবাকে উৎসর্গ করেন তা! যে বাবা কতো ত্যাগ করেছেন, ছেলের ইচ্ছাকে প্রাধান্য দিতে! যে ছেলে হতে পারতো প্রকৌশলী, তাঁকে অনুমতি দিয়েছেন পড়াশুনা ছেড়ে চলে আসতে! দীপ জানেন, নিজেকে নিয়ে তাঁর যে চিন্তা, এর চেয়ে বেশী চিন্তা তাঁর বাবা করেন। দীপ সবসময় পাশে পেয়েছেন বাবাকে। বাবার শুধুই একটাই কথা, ‘তুই কোনদিন খারাপ হবি না। আমি আছি তোর পাশে, সবসময়।’

    দীপ নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করেন, এমন একজন বাবা পাওয়াতে।

     

    সামনে ব্যস্ত সময়

    ১৮ নভেম্বর যাবেন ভারতে, ফিরবেন ডিসেম্বরের ১ তারিখের দিকে। ছুটি মিলবে তখন, হয়তো দিনাজপুরে যাবেন ২ তারিখ। ১১ ডিসেম্বর থেকে আবার বিশ্বকাপের ক্যাম্প। দেশের মাটির বিশ্বকাপে সনজিতের ইচ্ছা ভাল কিছু করার। সেই যখন ধীমান ঘোষকে বল করতেন, তখন থেকে আজ পর্যন্ত তিনি শুনে এসেছেন, ‘এই ছেলে একদিন ভাল কিছু করবে’! তাঁদের কথা শুনে প্রেরণা নেন সনজিত, তাড়না আসে আরও ভাল কিছু করার।

    সনজিতের এই তাড়না বাড়ুক, সাফল্যক্ষুধা তীব্র হোক। সনজিত সাহা দীপের মতো তরুণদের দিকেই যে তাকিয়ে এদেশের ক্রিকেট!

     

    ছবিসৌজন্য- সনজিতের ফেসবুক প্রোফাইল