• ক্রিকেট বিশ্বকাপ ২০১৯
  • " />

     

    ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারাতে যে চারটি কাজ করতে হবে বাংলাদেশকে...

    প্রশ্নটার উত্তর দিতে কোনো দ্বিধাই করলেন না তামিম ইকবাল। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে আগামীকাল টন্টনের ম্যাচে বাংলাদেশ ফেবারিট কি না, প্রশ্নের জবাবে গতকাল তামিমের অকপট উত্তর, ‘কেন নয়?’ পরিসংখ্যানও সেরকম সাক্ষ্যই দিচ্ছে, ২০১৫ বিশ্বকাপের পর থেকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে যে নয়টি ম্যাচ বাংলাদেশ খেলেছে, এর মধ্যে জিতেছে সাতটিতেই। তবে কালকের ম্যাচের জয়ের রেসিপিটা বাংলাদেশের জন্য হয়ে যেতে পারে একটু অন্যরকম

     

    শর্ট বল সামলাও

    টন্টনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলারদের ফর্মুলাটা সহজেই অনুমান করে ফেলা যায়, বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের শরীর বরাবর একের পর এক ধেয়ে আসবে শর্ট বল। পাকিস্তানের বিপক্ষে শর্ট বলে সাতটি উইকেট নিয়েছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ পেসাররা, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে নিয়েছেন পাঁচটি। দেশের মাটিতে বাংলাদেশের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতেও শর্ট বলে সাফল্য পেয়েছিলেন ক্যারিবিয় পেসাররা। শেলডন কটরেল, ওশান টমাস, শ্যানন গ্যাব্রিয়েল, জ্যাসন হোল্ডার বা আন্দ্রে রাসেলরা শুরু থেকেই সেই ফায়দা নিতে চাইবেন। বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা সেজন্য ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ইংল্যান্ডের জো রুট-জনি বেইরস্টোদের ব্যাটিংটা দেখতে পারেন। সেই ম্যাচে শর্ট বল দিয়ে খুব একটা কিছু করতে পারেননি ক্যারিবিয় পেসাররা। তামিমরা সেভাবে নিজেদের প্রস্তুত করতে পারেন কটরেলদের জন্য।

     

    গেইল, লুইস নয়; হোপ ঠেকাও

    গত দুই সিরিজে ওয়েস্ট ইন্ডিজ-বাংলাদেশ ম্যাচে ফল যা-ই হোক না কেন, একটা ব্যাপার মোটামুটি স্বতঃসিদ্ধের মতো হয়ে গেছে। আর কিছু হোক না হোক, শেই হোপ জ্বলে উঠবেনই। বাংলাদেশের বিপক্ষে সর্বশেষ যে ছয়টি ওয়ানডে খেলেছেন- তাতে হোপের স্কোর এরকম- ৪৩, ১৪৬*, ১০৮*, ১০৯, ৮৭, ৭৪। বাংলাদেশকে পেল যেন বদলে যান হোপ, কাল তাকে নিয়ে আলাদা পরিকল্পনাই হয়তো করবে বাংলাদেশ। বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত খুব ভালো কিছু করতে পারেননি হোপ, প্রথম তিন ম্যাচে পেয়েছেন একটি ফিফটি।

     

    ছোট মাঠের ‘বড় সুবিধা’ নাও

    টন্টন ইংল্যান্ডের সবচেয়ে ছোট মাঠগুলোর একটি, বিশ্বকাপের মাঠগুলোর মধ্যে সীমানাদৈর্ঘ্যে সবচেয়ে ছোটই। বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত যে দুইটি ম্যাচ এখানে হয়েছে, সেখানে মোট ছয় হয়েছে ১৫টি। এর মধ্যে ১৩টি হয়েছে আবার শুধু পাকিস্তান আর অস্ট্রেলিয়ার ম্যাচেই। সেখানে আবার ছয়টি ছয় মেরেছেন পাকিস্তানের দুই পেসার ওয়াহাব রিয়াজ ও হাসান আলী। যেটি বার্তা দিচ্ছে, টন্টনে ছোট মাঠের সুবিধা কাজে লাগাতে পারে বাংলাদেশও। গেইল, রাসেলরা যেমন যে কোনো মাঠেই সীমানা পার করতে পারবেন, টন্টনে সেই সুবিধাটা বাংলাদেশের বেশি হতেই পারে।

     

    স্পিনে বেশি নির্ভর করো না

    টন্টনের মাঠ আর যাই হোক, স্পিন সহায়ক নয় মোটেই। এই মাঠে বিশ্বকাপে যে দুইটি ম্যাচ হয়েছে, তাতে স্পিনাররা নিয়েছেন মাত্র ২ উইকেট। সেই দুজনও আবার স্পেশালিস্ট স্পিনার নন। সর্বশেষ অস্ট্রেলিয়া-পাকিস্তান ম্যাচে দুই দলের কেউই কোনো স্পেশালিস্ট স্পিনার নামায়নি। টন্টনের ছোট বাউন্ডারিতে কীভাবে স্পিনারদের কাজে লাগাবেন, সেটা মাশরাফি বিন মুর্তজার জন্য বড় একটা চ্যালেঞ্জই হতে পারে।

    ছবি: রতন গোমেজ, বিসিবি