• ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ
  • " />

     

    ইতিহাস গড়লেন "কারখানার শ্রমিক"!

    ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে ২০০২-০৩ মৌসুমে রেকর্ডটা নিজের করে নিয়েছিলেন ডাচ স্ট্রাইকার রুদ ভ্যান নিস্টলরয়। টানা ১০ ম্যাচের প্রত্যেকটিতে গোল করে নাম লিখিয়েছিলেন ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগের রেকর্ড বুকে। রেকর্ড ভাঙ্গা-গড়ার এই লীগে তারপর খেলে গিয়েছেন অনেক রথী-মহারথীরা। কিন্তু এই একটি রেকর্ডের ধারে কাছে দিয়েও হাঁটা হয়নি কারো!

    নিস্টলরয় হয়তো জানতেন, কোন একদিন তাঁর কীর্তিতে ভাগ বসাবেন অন্য কেউ। রেকর্ড গড়াই হয় ভাঙার জন্য। তবুও মাত্র ৪ বছর আগে নন-প্রফেশনাল ফুটবল লীগ খেলা কোন এক স্ট্রাইকার তাঁর রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে, তা বোধ হয় স্বপ্নেও ভাবেননি নিস্টলরয়!

    “কারখানার শ্রমিক থেকে ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগের রেকর্ড বুকে” ইংলিশ স্ট্রাইকার জেমি ভার্ডিকে এক বাক্যে পরিচয় করিয়ে দেয়ার জন্য এর চেয়ে ভালো আর কিছুই হতে পারে না। অবাক হচ্ছেন? তবে আরো চমক অপেক্ষা করছে আপনার জন্য!

    ১৬ বছর বয়সে উচ্চতায় খাটো বলে শেফিল্ড ওয়েনেসডে ফিরিয়ে দিয়েছিল ভার্ডিকে। ফুটবলার হওয়ার স্বপ্নটা তখন একটু একটু করে মিলিয়ে যাচ্ছে। বাধ্য হয়ে দিনে ১২ ঘণ্টা করে খাটতেন স্থানীয় একটা কার্বন ফাইবারের কারখানায়। পরে যখন অপেশাদার দল স্টোকসব্রিজের হয়ে নাম লিখিয়েছেন, সপ্তাহে কত বেতন পেতেন জানেন? মাত্র ৩০ পাউন্ড!
     


    ২০১০ সালেও অপেশাদার নর্দার্ন প্রিমিয়ার লীগের ক্লাব হ্যালিফিক্সে খেলতেন এখনকার প্রিমিয়ার লীগের টপ স্কোরার! সেখান থেকে কনফারেন্সে প্রিমিয়ারের দল ফ্লিটউড টাউনে যোগ দেন । সেবার ৩১ গোল করে দলের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন, সাথে জেতেন কনফারেন্স টাইটেলটাও। তারপরের গল্পটা রূপকথার মতই।

    অপেশাদার লীগের এক নাম না জানা স্ট্রাইকারকে রেকর্ড ১ মিলিয়ন ডলারে দলে ভিড়িয়ে হইচই ফেলে দেয় তখনকার লীগ ওয়ান দল লিস্টার সিটি। প্রথম মৌসুমের অধারাবাহিক পারফরম্যান্স সাথে সমর্থকদের সমর্থন না পাওয়ার হতাশা! তাঁর সাথে এতো সব উটকো ঝামেলায় এক মৌসুম পরেই আবার দল ছাড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছিলো। লিস্টার ম্যানেজার নাইজেল পিয়ার্সন সে যাত্রায় ভার্ডিকে ফেরালেন। ভার্ডিকে ফুটবলে ফিরিয়ে আনতে পিয়ার্সন আর সহকারী কোচ ক্রেইগ শেক্সপিয়ারের ভূমিকা এতোটাই ছিলো যে, কখনো ভার্ডিকে নিয়ে সিনেমা বানানো হলে, পার্শ্ব চরিত্রে বেশ বড়সড় রোলই বরাদ্দ রাখতে হবে এই দু’জনের জন্য।

    তারপরের গল্পটা শুধুই উত্থানের। পরের মৌসুমেই ১৬ গোল করে লিস্টার সিটির প্রমোশনে অবদান রাখেন। ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগে ২০০২ সালের পর ২০১৪-১৫ মৌসুমে আবারো ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগে ওঠে লিস্টারের ক্লাবটি। পয়েন্ট টেবিলে ১৪ নম্বরে থামে লিস্টার। কিন্তু ভার্ডি নজর এড়াননি রয় হজসনের। এ বছরের মে মাসে জাতীয় দলের হয়েও অভিষেকটা হয়ে যায় লিস্টার সিটির নাম্বার নাইনের।
     

     

    প্রিমিয়ার লিগে ফেরার পর প্রথম মৌসুমেই খুব একটা সুবিধা করতে না পারলেও এই মৌসুমে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় চমক হয়ে রয়েছে লিস্টার সিটি। চেলসি, ম্যানচেস্টারের দুই ক্লাব, আর্সেনাল সবাইকে পিছনে ফেলে নভেম্বরের শেষে এসেও লীগে টেবিল টপের দলটির নাম লিস্টার সিটি। আর তাতে সবচেয়ে বড় অবদান ঐ ভার্ডিরই। টানা ১১ ম্যাচে গোল করে লিস্টার সিটির জয়রথ একাই টেনে নিয়ে যাচ্ছেন এই স্ট্রাইকার। পুরো মৌসুমে ১৪ গোল করে প্রিমিয়ার লীগের টপ স্কোরারও তিনি।

    মাত্র ৪ বছর আগেই অপেশাদার লীগে খেলা ভার্ডি গতকাল যখন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সাথে লিস্টারের কিংস পাওয়ার স্টেডিয়ামে নামলেন খেলতে, তার সামনে প্রিমিয়ার লীগে টানা ১১ ম্যাচে গোল করে রেকর্ড গড়ার হাতছানি ছিলো। বিপক্ষ ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড হওয়ায়, গল্পের রঙ বেড়েছিলো আরেকটু! গত বছরে সেপ্টেম্বরে এই দলের বিপক্ষেই ৯০ মিনিট খেলে প্রিমিয়ার লিগে অভিষেক হয়েছিলো এই স্ট্রাইকারের। দু'গোলে পিছিয়ে পড়েও শেষে ৫-৩ গোলের স্মরণীয় এক জয় তুলে নিয়েছিলো লিস্টার। আর সেই ম্যাচেই এক গোলের সাথে ৪টি অ্যাসিস্ট করে প্রিমিয়ার লীগে নিজের অস্তিত্বের জানান দিয়েছিলেন ভার্ডি! আর রেড ডেভিলদের হয়ে করা নিস্টলরয়ের রেকর্ডটি ভেঙে দিয়ে তো কাল নতুন ইতিহাসই লিখলেন নিজ হাতে। ২৪ মিনিটে ক্রিস্টিয়ান ফুকসের ডিফেন্সচেরা 'থ্রু' থেকে পাওয়া বল ডি গিয়ার পাশ দিয়ে নেটে জড়িয়ে ইতিহাসের অংশ হয়ে যান এই ইংলিশ স্ট্রাইকার।

     


    জেমি ভার্ডির ইতিহাস গড়া গোল 

     

    একসময় ফুটবলের আয়ে পেট চলতো না বলে শেফের গাড়ির গায়ে বিজ্ঞাপন লাগানোর কাজ নিয়েছিলেন। সেই ভার্ডি এখন ইউরোপের নামী দামী ক্লাব গুলোর জন্য হট কেক! ইংল্যান্ডের ক্লাব গুলো তো আছেই, সাথে রিয়াল মাদ্রিদ, বার্সেলোনার মতো ক্লাবগুলোও নাকি উঠে পড়ে লেগেছে ভার্ডিকে দলে ভেড়াতে। পরের মৌসুমে নতুন কোন ক্লাবে গিয়ে যদি ভার্ডি জানান দেন “জেমি ভার্ডি” নয় তাঁকে স্প্যানিশ উচ্চারণে “হেমি ভার্ডি” ডাকতে হবে, তাতেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না!

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন