• ক্রিকেট বিশ্বকাপ ২০১৯
  • " />

     

    • ক্রিকেট বিশ্বকাপ ২০১৯

    জাদেজা, গাপটিল, স্মিথের জাদুকরী 'কম্বো' : "ইউ লাভিট্ট!"

    একজন বাঁহাতি অলরাউন্ডার, যার প্রথম কেনা কারে লেখা ছিল ‘লাইফ ইজ ক্রিকেট’, যাকে ‘স্যার’ বলে ডাকা হয়, যাকে একজন সাবেক ক্রিকেটারের ‘বিটস অ্যান্ড পিসেস’ ক্রিকেটার বলা নিয়ে তোলপাড় উঠেছিল টুইটারে। একজন ডানহাতি ওপেনার, যিনি ব্যাটিং ছাড়াই অতিমানবীয় ফিল্ডিং দিয়ে হয়ে উঠলেন জিরো থেকে হিরো। একজন সাবেক উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান, ১৯৯২ সেমিফাইনালের ভূত যাকে তাড়া করে বেড়ায় এখনও, যার মোলায়েম কন্ঠস্বরের জাদু ভরিয়ে তোলে এক অদ্ভুত মাদকতায়। 

    রবীন্দ্রসিন অনিরুদ্ধসিন জাদেজা। মার্টিন জেমস গাপটিল। ইয়ান ডেভিড স্টকলি স্মিথ। তিনজনের কম্বো বিশ্বকাপের এক সেমিফাইনালের পর আপনাকে বলতে বাধ্য করবে, ‘আই ডন্ট লাইক ক্রিকেট্ট! আই লাভ ইট্ট!’

    **** 

    মিডল-লেগে পড়া স্লোয়ার। জাদেজা ফ্রন্টফুট ক্লিয়ার করে জায়গা বানালেন। তার ব্যাট ফার্গুসনের বলের মোমেন্টাম বদলে পাঠালো লং-অফের দিকে। ছয়। ম্যাট হেনরিকে অফস্টাম্প থেকে টেনে পুল করে মিডউইকেট দিয়ে চার বা জিমি নিশামকে পুল করে কাউ কর্নার দিয়ে মারা চারে নয়- যে দুটিতেই ইসা গুহ তার টাইমিং নিয়ে উচ্চকিত ছিলেন- এ ইনিংসে জাদেজার অসাধারণ টাইমিং বুঝতে ফার্গুসনের ওই স্লোয়ারে মারা ছয়টিই যথেষ্ট। এ এমন শট, যে শট অসম্ভবের স্বপ্ন দেখায়। এ এমন শট, যে শট প্রতিপক্ষের মনোবল ভেঙে দেয়। এ এমন শট, যা বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম সেরা ইনিংসের গল্প তৈরি করে। এ এমন শট, যা আপনাকে বলে- ‘আই লাভ ইট্ট!’ 

    এমনকি কেন উইলিয়ামসনও ম্যাচের পর সরাসরিই বললেন, এ ম্যাচে আর যে কোনও ব্যাটসম্যানের চেয়ে ভাল হিটিং ছিল জাদেজার। জাদেজা হাসি ফোটালেন কোহলি-রোহিতদের মুখে। একটু আগেও যেগুলো ঢেকে ছিল ম্যানচেস্টারের আকাশের মেঘের চেয়েও বেশি নিকষ কালোয়। 

    নিশামকে স্লটে পেয়ে মারা ছয়ে শুরু করেছিলেন আক্রমণ। এর আগেই ফিরেছেন পান্ডিয়া। ছিলেন শুধু ধোনি। স্বর্ণালী সময় যিনি পেরিয়ে এসেছেন বলেই ধরে নিচ্ছেন সবাই, তবে তিনি ধোনি বলেই তাকে অগ্রাহ্য করতে পারছেন না কেউ। সেই ধোনিও স্ট্রাইক রোটেট করে তাকে দিচ্ছিলেন। ওল্ড ট্রাফোর্ডে সব আলো তখন জাদেজার ওপর। সেই জাদেজা, যিনি হুট করেই ফিরেছিলেন ভারতের ওয়ানডে লাইন-আপে। কারণ- যুঝভেন্দ্র চাহাল ও কুলদিপ যাদবের অভিষেক। 


    "আই ডন্ট লাইক ক্রিকেট্ট!" "হোয়াট্ট"?/আইসিসি 


    কুলদিপের অভিষেক হয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ২০১৭ সালের সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে। তৃতীয় ওয়ানডের পর বাদ পড়েছিলেন রবি আশ্বিন, আর ওয়ানডে খেলেননি তিনি এখনও। ৫ম ও শেষ ওয়ানডের পর জাদেজা। কুলদিপের অভিষেকের পর থেকে এ  বিশ্বকাপের আগ পর্যন্ত ভারত খেলেছে ৫৪টি ম্যাচ। কুলদিপ খেলেছেন এর ৪৪টি, চাহাল খেলেছেন ৩৮টি। কেদার যাদব খেলেছেন ৩৯টি। রবীন্দ্র জাদেজা? ১৯টি। স্পিনার হিসেবে তো নয়ই, অলরাউন্ডার হিসেবেও তার জায়গা ছিল না প্রায়ই। 

    ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের পর জাদেজা ফিরেছিলেন গত বছরের এশিয়া কাপে হুট করেই। জামনগরে নিজের ঘোড়া নিয়ে পর্যটন প্রচারণায় ব্যস্ত ছিলেন, প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন বিজয় হাজারে ট্রফি খেলার। আক্সার প্যাটেলের চোট দলে আনলো তাকে। প্রত্যাবর্তনের ম্যাচে বাংলাদেশের বিপক্ষে ২৯ রানে নিলেন ৪ উইকেট, হলেন ম্যাচসেরা। এরপর মোটামুটি খেলেছেন নিয়মিতই, তবে বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে ভারতের প্রথম পছন্দ ছিলেন ওই চাহাল ও কুলদিপই।

    শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচে সুযোগ পেলেন প্রথম এ বিশ্বকাপে। এর আগেই জাদেজা তার উপস্থিতি জানান দিয়েছেন ফিল্ডিংয়ে। জেসন রয়ের সেই ক্যাচ ধরে, অথবা রান বাঁচিয়ে। কোনও ম্যাচ না খেলেই রান বাঁচানোর তালিকায় শীর্ষের দিকে ছিলেন। 

    শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তার আঁটসাঁট বোলিং সেমিফাইনালেও জায়গা করে দিল তাকে। জাদেজা করলেন সেই বোলিং-ই, চোখের পলকে ওভার শেষ করেন, রান আসে না। সঙ্গে আছে ফিল্ডিং। টেইলরকে পরদিন রান-আউট করলেন, ল্যাথামের ক্যাচ নিলেন। প্রথম দিনই দারুণ ডেলিভারিতে বোল্ড করেছিলেন নিকোলসকে। পাচ্ছিলেন বড় বড় টার্ন। 

    বোলিং ফিল্ডিং গেল, এবার জাদেজাকে নামতে হলো ব্যাটিংয়ে, তাও আবার ভারতকে রক্ষা করতে। নিশামকে ছয় মেরে শুরু করলেন। তলোয়ার ঘুরিয়ে ফিফটির উদযাপন করলেন। হয়তো মিডিয়া সেন্টারের দিকে দুহাত মেলে একটু অবাক হয়ে তাকিয়ে মাঞ্জরেকারকে জবাব দিলেন। ফার্গুসনের স্লোয়ারে ঐ ছয় মেরে ভারতকে অসম্ভব আশা দিলেন। আশ্বিন টুইট করলেন, “‘জাড্ডু’ পারবেন’। 

    তবে ট্রেন্ট বোল্টকে তুলে মারতে গিয়ে শেষটা করে আসতে পারলেন না জাড্ডু। বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা এক ইনিংস সফল না ব্যর্থ, সেটি নির্ধারণের জন্য ভারতের হয়ে বাকি রইলেন শুধু ধোনি।

    আর থাকলেন গাপটিল।  

    **** 

    গত বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ রান ছিল গাপটিলের। ছিল প্রথম নিউজিল্যান্ড ব্যাটসম্যান হিসেবে করা ডাবল সেঞ্চুরি। সে ম্যাচে ওয়েলিংটনের ‘কেক-টিন’-এর ছাদে বল পাঠিয়েছিলেন তিনি। পরিসংখ্যানপ্রিয় খেলায় এসব ছাদে বল পাঠানোর সংখ্যা থাকে না অবশ্য, তবে বলা হয়, দ্বিতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে আন্তর্জাতিক ম্যাচে এ কাজটা করেছিলেন তিনি। 

    ছাদে বল পাঠালেই তো আর সব হয় না! রান করতে হয়। গাপটিল সেটা করছিলেন। 

    এ বিশ্বকাপে তিনি এসেছিলেন দারুণ ফর্মে থেকেই। চোটের কারণে কিছু ম্যাচ মিস করেছিলেন, তবে বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজে ফিরে টানা দুই সেঞ্চুরিতে নিজের প্রস্তুতিটা জানান দিয়েছিলেন তিনি। গত বিশ্বকাপের পর থেকে গড় ছিল ৫০, রস টেইলরের পর নিউজিল্যান্ডের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে সর্বোচ্চ। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ১০ উইকেটের জয়ে ৫১ বলে অপরাজিত ৭৩। গাপটিল যেখান থেকে শেষ করেছিলেন গত বিশ্বকাপ, এবার যেন শুরু করলেন সেখান থেকেই। অন্তত ভাবা হয়েছিল সেরকমই। 

    গাপটিল এরপর নিজের ছায়া হয়ে গেলেন। দুই ডাক, দুটি এক অঙ্ক, ২৫, ৩৫, ২০- গাপটিলের খেরোখাতা থাকলো এমন। সেমিফাইনালে বুমরাহর লাফিয়ে ওঠা বলে খোঁচা দিয়ে নিউজিল্যান্ডের টসে জিতে ব্যাটিং নেওয়ার সিদ্ধান্তকে প্রথম প্রশ্নবিদ্ধ করলেন তিনিই। 


    "আই লাভিট্ট"!


    তবে গাপটিল আলো হয়ে ছিলেন তার ফিল্ডিংয়ে। স্টিভ স্মিথের সেই দুর্দান্ত ক্যাচ বা গ্রাউন্ড ফিল্ডিংয়ে। জাদেজার পর এ বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি রান বাঁচিয়েছেন তিনিই। 

    সেই গাপটিলের কাছেই বলটা গেল। আদতে তার কাছে গেল না, তিনি ছুটে এলেন ডিপ স্কয়ার লেগ থেকে। ফার্গুসনের বাউন্সারে খেলতে গিয়ে ঠিকঠাক টাইমিং হয়নি ধোনির, সেটা সামলাতে প্রথমে স্টার্টিংয়ে লেট করে ফেললেন একটু। এরপর ফলো-থ্রুতে থাকা ফার্গুসন সরে যাওয়ার আগে ধোনিকে একটু অ্যাঙ্গেল বের করতে হলো, হয়তো ব্যবধান গড়ে দিল সেসবই।  

    এক বল আগেই ফার্গুসনের শট বলে কিছুটা লাফিয়ে উঠে চিরায়ত স্টাইলে পয়েন্টের ওপর দিয়ে ছয় মেরেছিলেন ধোনি। যেন বেলাশেষের অদ্ভুত সুরে জানিয়েছিলেন, তিনি আছেন। তিনি ছিলেন। সেই ডাবলসটা নিতে গিয়েই অবশ্য গড়বড় হয়ে গেল সব। 

    ল্যাথাম ছুটছিলেন, তবে গাপটিল এলেন তার আগেই। ভুবনেশ্বর মুহুর্তের জন্য দ্বিধায় ছিলেন, ডাবলস নেবেন কিনা। ধোনি অবশ্য আগে থেকেই সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছেন যেন। গাপটিলের দৃষ্টিসীমায় তখন এক স্টাম্প। গাপটিলের দৃষ্টিসীমায় তখন ফাইনাল। গাপটিল তাক করলেন। থ্রো করলেন। ব্যাক-আপে আসা কলিন ডি গ্র্যান্ডোম বুঝে গেলেন, এ থ্রো ধরতে যাওয়ার মানে নেই। 

    ধোনি ব্যাট ফেলে ঢুকলেন, তবে ইঞ্চি ব্যবধানটা গড়ে দিল পার্থক্য। আট বছর আগে মুম্বাইয়ে ফাইনালে ছয়ের পর তার ব্যাট ঘুরানোটা ক্রিকেটের অন্যতম সেরা ছবি, সেই ছবির কারিগর ‘দ্য ফিনিশার’ এদিন বিদায় নিলেন ‘ফিনিশ’ করতে পারার আগেই। ব্যাটিংয়ে বিভৎস সময় কাটানো গাপটিল হয়ে গেলেন নায়ক। 

    **** 

    এবার টানা দ্বিতীয়বার ফাইনালে গেল নিউজিল্যান্ড। অথচ তারাই সেমিফাইনালে এর আগে আটকে গিয়েছিল ছয়বার। সবচেয়ে কাছে গিয়েছিল ১৯৯২ সালে, যেদিন ইনজামাম-উল-হক নামের এক তরুণ জয়টা ছিনিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন তাদের কাছ থেকে। 

    সে দিনটা মনে আছে স্মিথের। এমন না, যে প্রতি রাতে সেটা হানা দেয়। তবে সে ম্যাচটার কথা মনে পড়ে তার। আফসোসটা থেকে যায়। 

    সেই স্মিথ ধারাভাষ্যে চিৎকার করে উঠেছিলেন ২০১৫ সেমিফাইনালে, সেই ইডেন পার্কের সেমিফাইনালে। যেদিন গ্রান্ট এলিয়টের ছয় নিউজিল্যান্ডকে নিয়ে গিয়েছিল প্রথমবারের মতো ফাইনালে। স্মিথ চিৎকার করে বলে উঠলেন, ‘সুপারম্যাননননন’! স্মিথের সেই কন্ঠ হয়তো এখনও ভেসে বেড়ায় বিশ্বকাপের ইথারে। 


    স্মিথ : থ্রি (ফাইভ) ম্যাজিক লেটার ওয়ার্ড!


    ওল্ড ট্রাফোর্ডে আরেকটি সেমিফাইনালেও ধারাভাষ্যে স্মিথ, সঙ্গে সৌরভ গাঙ্গুলি। জাদেজা ততক্ষণে ফিরেছেন। তবে আশা হয়ে আছেন ধোনি। ফার্গুসনের বলে ধোনির ছয়। স্মিথ বর্ণনা করছেন- 

    “ধোনি গোজ বিগ। গোজ বিগ। হাউ বিগ? আই থিংক ইটস বিগ এনাফ। ইট ইজ! ওহ ম্যান! জাস্ট বাই আ মেটার অফ ইঞ্চেস!” 

    এরপর ধোনির রান-আউট। 

    “নাউ দে গটা পুশ ফর টু। হুজ গনা কাভার ফর কিপারস স্টাম্পস। দে গনা গো। গটা গেট’ইম। ওওও ডিরেক্ট হিট!” 

    ততক্ষণে উঠে দাঁড়িয়েছেন। আরেকটু হলে হয়তো পড়েই যেতেন। 

    “ইজ দিস দ্য ওয়ার্ল্ড কাপ? ইটস মার্টিন গাপটিল। ইজ দিস দ্য ফাইনাল?” 

    রড টাকার তার এভিডেন্স পেয়ে গেছেন, সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন। জায়ান্ট স্ক্রিনে ভেসে উঠবে আউট। শেষবারের মতো বিশ্বমঞ্চ ছেড়ে যাবেন ধোনি। 

    “ইট সেইজ দ্যাট ম্যাজিক থ্রি লেটার ওয়ার্ড!” 

    গাঙ্গুলি মুখে হাসি নিয়ে ততক্ষণে তাকিয়েছেন স্মিথের দিকে। খানিক পর ভুবনেশ্বর বোল্ড। স্মিথ বর্ণনা করছিলেন, এরকম মুহুর্তের মাঝেই কীভাবে ফার্গুসনের মতো তরুণরা বড় হয়ে ওঠেন। নিশাম এলেন শেষ ওভারে, প্রথম বল ডাউন দ্য লেগে। স্মিথ মুখে হাসি নিয়ে বললেন, কীরকম বিশ্রী ডেলিভারি সেটা। এরপর ভারতের দুইটি ছয় লাগবে, পার্কের বাইরে পাঠাতে হবে বলছিলেন। 

    এক বল পর কট-বিহাইন্ড চাহাল। স্মিথ নিউজিল্যান্ডের ফাইনালে ওঠার বর্ণনা করছেন, স্ক্রিনে ভেসে ওঠা কেন উইলিয়ামসনের দিকে তাকিয়ে বললেন, সব কৃতিত্ব তার। এ দল এতো কম সংগ্রহ নিয়েও যে নার্ভ ধরে রেখেছে, তার কৃতিত্ব উইলিয়ামসনের। হয়তো সেই সেমিফাইনালে ফিরে গিয়েছিলেন স্মিথ। যেদিন মার্টিন ক্রো মাঠে থাকলে ফলটা ভিন্ন হতে পারতো তাদের। হয়তো ফাইনালে যেতে পারতেন তারা। 

    চার বছর আগে এলিয়টকে বলা তার সুপারম্যান কানে বাজে। চার বছর পর তার এই ধারাভাষ্য কানে বাজবে হয়তো অনেক দিন। 

    যেদিন জাদেজা ব্যাটিংয়ে দেখান অসম্ভব স্বপ্ন, যেদিন গাপটিলের গোল্ডেন আর্ম ভুলিয়ে দেয় তার দুঃস্বপ্নের ফর্ম, যেদিন স্মিথ সেসব বর্ণনা করেন জাদুকরী কন্ঠ ও শব্দ-বাক্যে, সেদিনটাও তো তাই মনে থাকে। 

    এদিন তাই বলা হয়, ‘লাইফ ইজ ক্রিকেট’। 

    এদিন তাই বলা হয়, ‘আই লাভ ইট্ট’।