• ফ্যান্টাসি ফুটবল
  • " />

     

    • ফ্যান্টাসি ফুটবল

    ফ্যান্টাসি প্রিমিয়ার লিগ প্রিভিউ-১: দল বানানোর জন্য যা জানা দরকার

    ১০ আগস্ট অ্যানফিল্ডে লিভারপুল এবং নরউইচ সিটির ম্যাচ দিয়ে পর্দা উঠছে ২০১৯-২০ প্রিমিয়ার লিগ। ইংল্যান্ডের শীর্ষ সারির ক্লাবগুলোর লড়াইয়ের সাথে ফিরছে ফ্যান্টাসি প্রিমিয়ার লিগ। এতদিন দল বাছাইয়ে হাজারো জল্পনা-কল্পনার পর আজ রাত ১২টায় ডেডলাইন প্রথম গেমউইকের দল নির্ধারণের। মোহামেদ সালাহ না হ্যারি কেইন- কাকে ক্যাপ্টেন দিলে ভাল হবে? অ্যালিসন না কম দামে মাঝারি সারির দলের কোনও গোলরক্ষক- কে আনবেন ক্লিনশিট? রহিম স্টার্লিং না সার্জিও আগুয়েরো- কে হবেন ম্যানচেস্টার সিটির আক্রমণের নিউক্লিয়াস? এরকম হাজারো প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে ফ্যান্টাসি ম্যানেজারদের মাথায়।

     

    কিছু কথা

    অনেক ম্যানেজারই হয়তো এবার প্রথমবার খেলবেন ফ্যান্টাসি, আবার নিজেদের ৫ম/৬ষ্ঠ মৌসুমেও আছেন অনেকে। ফ্যান্টাসিতে ভাল করার জন্য চাই ধৈর্য, দলের ওপর বিশ্বাস এবং ফিক্সচার অ্যানালাইসিস। সালাহ, কেইনরা প্রতি সপ্তাহেই গোল করে আপনাকে পয়েন্ট এনে দেবেন না, আবার ৬-৭ মিলিয়ন দামের মিডফিল্ডার বা ফরোয়ার্ডরা গোল করে হয়ে যেতে পারেন বাজির ঘোড়া। কিন্তু এক সপ্তাহে গোল না পেলেই দল থেকে বাদ করে দেওয়া কখনোই বুদ্ধিমানের কাজ নয়। প্রতি সপ্তাহে একটি করে ট্রান্সফার করতে পারবেন, এর চেয়ে যত বেশি ট্রান্সফার করবেন; প্রতিটির জন্য কাটা যাবে ৪ পয়েন্ট করে (২টি ট্রান্সফার করলে ৪ পয়েন্ট, ৩টি করলে ৮ পয়েন্ট)।

    অবশ্য আগের সপ্তাহের ফ্রি ট্রান্সফার আপনি ব্যবহার না করলে সেটি পরের সপ্তাহেও ব্যবহার করতে পারবেন। গেমউইক ১-এর পর পাওয়া ফ্রি ট্রান্সফার গেমউইক ২-এর আগে ব্যবহার না করলে গেমউইক ৩-এর জন্য আপনি ফ্রি ট্রান্সফার পাবেন ২টি। ফ্যান্টাসি নিয়ে একটি ভুল ধারণা হল, কেইন-স্টার্লিং-সালাহ-আগুয়েরোদের দলে নিলেই আপনার কাজ অনেকটাই শেষ। ব্যাপারটি কখনোই এরকম না। ‘বিগ হিটার’রা প্রায় সব দলেই থাকবেন, আপনার এবং অন্য কারো দলের মাঝে ব্যবধান গড়ে দিতে পারে মাঝারি প্রাইসের ফুটবলাররাই। সেজন্য প্রাক-মৌসুমে ক্লাবগুলোর একাদশের ব্যাপারে আপনাকে অবগত থাকতে হবে। কারণ প্রি-সিজনে ফর্মে থাকা দলের অনেকেই সুযোগ পেয়ে যান মূল একাদশে। এসব কিছু দেখার পর ফিক্সচারের দিকে নজর দিতে হবে আপনার।

    কার শুরুর দিকের ফিক্সচার দারুণ, কে শুরু থেকেই খেলবেন- এসব যাচাইবাছাই করে দল সাজালে প্রতি গেমউইকেই ভাল পয়েন্ট পাওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায় অনেকাংশেই। ফরোয়ার্ড-মিডফিল্ডের মত ডিফেন্সেই টাকা ঢালার ব্যাপারে চিন্তা করতে হবে। রক্ষণে সেন্টার ব্যাকদের চেয়ে ফুলব্যাকদের নিলে কিছুটা হলেও হয়তো এগিয়ে থাকবেন। কারণ সেন্টারব্যাকরা সেটপিস ছাড়া ওপরে উঠবেন না, ফুলব্যাকরা পুরো ম্যাচে অসংখ্যবার আক্রমণে উঠবেন; আবার অনেক দলের ফুলব্যাকেরা সেটপিসও নিয়ে থাকেন (লুকাস ডিন, এভারটন)। সেক্ষেত্রে ক্লিনশিটের সাথে গোল, অ্যাসিস্টের সম্ভাবনাও বেড়ে যায় অনেক। মিডফিল্ডেও সালাহ, স্টার্লিংদের সাথে ৬-৯ মিলিয়নের মিডফিল্ডারদের ফিক্সচার, ফর্মও বিবেচনায় আনলে দল সাজাতে সুবিধা হবে বেশ।

     

     

    প্রথম ১২ গেমউইকে যাদের ফিক্সচার সহজ

    লিভারপুল, ম্যানচেস্টার সিটি, এভারটন, ওয়েস্ট হাম, অ্যাস্টন ভিলা, বোর্নমাউথ

    প্রথম ১২ গেমউইকে যাদের ফিক্সচার কঠিন:

    আর্সেনাল, টটেনহাম, উলভস, নিউক্যাসেল, নরউইচ

     

    গোলরক্ষক

    স্বাভাবিকভাবেই গত মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগের সেরা গোলরক্ষক অ্যালিসন বেকার এবং চ্যাম্পিয়ন সিটির কিপার এডারন মোরায়েসের দাম রাখা হয়েছে সর্বোচ্চ (৬ মিলিয়ন)। সর্বোচ্চ দামের পরও অ্যালিসনকে দলে নিয়েছেন এবার ফ্যান্টাসি খেলা ম্যানেজারদের তিন ভাগের এক ভাগ। লিভারপুলের শুরুর ফিক্সচার দারুণ হওয়ায় অ্যালিসনের এমন আকাশচুম্বী চাহিদা। আরেক ব্রাজিলিয়ান এডারসন আছেন পুরো ফ্যান্টাসির শতকরা ১৮ ভাগ দলে। গত মৌসুম খুব একটা ভাল কাটেনি ডেভিড ডি গেয়ার। ৫.৫ মিলিয়ন দামের স্প্যানিশ গোলরক্ষককে এবার দলে নিয়েছেন শতকরা ১১ ভাগ ম্যানেজার।

    শুরুর ফিক্সচার সহজ হওয়ায় একই দামে জর্ডান পিকফোর্ড আছেন ১০ ভাগ দলে, একই কারণে হুগো লরিসেরও চাহিদা বেশ। চেলসির গোলরক্ষক কেপা আরিজাবালাগার (৫.৫) ফিক্সচার কিছুটা কঠিন, ফ্র্যাঙ্ক ল্যাম্পার্ডের অধীনে চেলসির রক্ষণ কেমন হবে- সে ব্যাপারে আছে সংশয়। সেজন্য শুরু থেকেই তাকে নেওয়াটা হয়তো কিছুটা ঝুঁকিপূর্ণই। ৪.৫-৫ মিলিয়নের গোলরক্ষকদের চাহিদাও বেশ এবার। গোলরক্ষকের পেছনে ৫ মিলিয়ন খরচ করতে চাইলে নিতে পারেন ক্যাসপার স্মেইকেল, বার্নড লেনো, রুই প্যাট্রিসিও বা বেন ফস্টারদের। অ্যাস্টন ভিলার নতুন গোলরক্ষক টম হিটন গত দুই মৌসুমে ছিলেন দারুণ, সহজ ফিক্সচারের দৌঁড়ে শুরুর দিকেই থাকবে ভিলা।

     

     

    এই দামে হিটনের সাবেক ক্লাবের বর্তমান গোলরক্ষক নিক পোপ (৪.৫)-এর দিকেও ঝুঁকছেন ম্যানেজাররা। ফিক্সচার এবং গত মৌসুমের ফর্মের কারণে ব্রাইটন গোলরক্ষক ম্যাট রায়ানের (৪.৫) আছেন প্রায় ১৪ ভাগ দলে। পোপ, হিটন, রায়ান- ৪.৫ মিলিয়নে সেরা তিন চয়েস খুব সম্ভবত তারাই। একই বাজেটে স্রোতের বিপরীতে হাঁটতে চাইলে নিতে পারেন অ্যাঙ্গাস গান (সাউদাম্পটন), টিম ক্রুল (নরউইচ সিটি), আর্তুর বোরুচকে (বোর্নমাউথ)। ৪ মিলিয়নের গোলরক্ষকদের কেউই হয়তো শুরু থেকেই খেলবেন না। তবে এই দামে নিতে পারেন মার্টিন স্টেকেলেনবার্গ (এভারটন), ডেভিড বাটন (ব্রাইটন), জশ ম্যাকগভার্ন (নরউইচ সিটি)।

     

    ডিফেন্ডার

    গোলকিপিংয়ের মত ডিফেন্ডারদের মধ্যেও লিভারপুলের ফুটবলারদের চাহিদা আকাশছোঁয়া। চাহিদার দিক দিয়ে শীর্ষ পাঁচ ডিফেন্ডারের মধ্যে তিনজনই লিভারপুলের। ভার্জিল ভ্যান ডাইককেই (৬.৫) দলে নিয়েছেন প্রায় ৪৮ ভাগ ম্যানেজার। অ্যান্ডি রবার্টসন এবং ট্রেন্ট আলেকজান্ডার-আর্নল্ড, দুজনেরই দাম ৭ মিলিয়ন করে। সেরা পাঁচের বাকি দুজন ম্যান ইউনাইটেডের অ্যারন ওয়ান-বিসাকা (৫.৫) এবং ডিন (৬)। ৬.৫ মিলিয়নে আছেন আয়মেরিক লাপোর্তে, সিটি লেফটব্যাক বেনজামিন মেন্ডি ইনজুরিতে পড়ায় রক্ষণের বাঁ-প্রান্তে তার খেলার সম্ভাবনাই হয়তো বেশি। সেন্টারব্যাকের চেয়ে ফুলব্যাকদের চাহিদা অনেক বেশি এবার।

    ৬ মিলিয়নে দলে নিতে পারেন কাইল ওয়াকার, সিজার অ্যাজপিলিকুয়েতা, রিকার্ডো পেরেইরাকে। হোয়াও ক্যান্সেলো সিটিতে আসায় ওয়াকারের শুরু থেকে খেলার সম্ভাবনা কমে গেছে কিছুটা হলেও। লেস্টারের হয়ে গতবার পেরেইরা ছিলেন দারুণ ফর্মে। ৫.৫ মিলিয়নে ওয়ান-বিসাকার মত নিতে পারবেন ইউনাইটেডের তিন ডিফেন্ডার হ্যারি ম্যাগুয়ের, লুক শ’ এবং ভিক্টর লিন্ডেলফকে। স্পার্স এবং সিটির সেন্টারব্যাক জুটি টবি অল্ডারওয়েরেল্ড, ইয়ান ভার্টনহেন এবং জন স্টোনস, নিকোলাস অটামেন্ডিকেও পাবেন এই দামে। ক্লিনশিটের কথা চিন্তা করলে সিটির সেন্টারব্যাকদের একজনকে নিতে পারেন। শুরুর দিকে সহজ ফিক্সচার পাওয়া এভারটনের শেমাস কোলম্যান এবং জিব্রিল সিডিবিকেও নিতে পারবেন ৫.৫ মিলিয়নে। ডিফেন্ডারদের ক্ষেত্রে অনেকেই ৫ মিলিয়নের চেয়ে বেশি খরচ করতে চান না। সেক্ষেত্রে বোর্নমাউথের ডিফেন্ডাররা হতে পারে সেরা চয়েস।

    নাথান আকে এবং স্টিভ কুককে নিতে পারবেন এই দামে। গত মৌসুমে সাউদাম্পটনের ম্যানেজার হয়ে বেশ ভাল করেছিলেন রালফ হাসেনহুটেল। এবার তার অধীনে ‘সেইন্টস’দের ভাল করার সম্ভাবনাই দেখছেন পন্ডিতরা। সেক্ষেত্রে তাদের ডিফেন্ডারদের মধ্যে ইয়ানিক ভেস্টারগার্ড, রায়ান বার্ট্রান্ড, সেড্রিক সোয়ারেস এবং ইয়ান ভ্যালেরিদের সবাইকেই নিতে পারবেন এই দামে। জুলিয়ান ফয়েথ ইনজুরিতে পড়ায় এবং সার্জ অরিয়ের মাত্রই অনুশীলনে ফেরায় অন্তত মৌসুমের শুরুতে স্পার্সের রাইটব্যাক থাকবেন কাইল ওয়াকার-পিটার্স, ৫ মিলিয়নে দলে নিতে পারবেন তাকেও। গত মৌসুমে ওয়াটফোর্ডের দুই ফুলব্যাক হোসে হোলেবাস (৫) এবং কিকো ফেমেনিয়া (৪.৫) ছিলেন দারুণ ফর্মে। এবার শুরুর দিকে ‘হর্নেট’দের ফিক্সচারও ভাল, নিতে পারেন তাদেরও। ৪.৫ মিলিয়নে নিতে পারেন ফেমেনিয়ার মত আরেক রাইটব্যাক বোর্নমাউথের অ্যাডাম স্মিথকে। প্রিমিয়ার লিগে ফেরা ভিলার দুই ফুলব্যাক গিলবার্ট এবং ম্যাট টার্গেটের দামও ৪.৫ মিলিয়ন।

     

     

    গেমউইক ৭ পর্যন্ত ভাল ফিক্সচার পেয়েছে ক্রিস্টাল প্যালেস। নিতে পারেন গ্যারি কাহিল, স্টিফেন ওয়ার্ড এবং স্কট ড্যানকে (প্রত্যেকেই ৪.৫ মিলিয়ন)। নরউইচ সিটির মূল রক্ষণের তিনজনকে (গডফ্রি, জিমারম্যান, বিরাম) পাবেন এই দামেই। শুরুর দিকে সহজ ফিক্সচারের দিকে হয়তো সবার চেয়ে এগিয়ে আছে ওয়েস্ট হাম। রায়ান ফ্রেডরিক্স, মাসুয়াকু, বালবুয়েনা, ইসা দিওপদের নিতে পারবেন ৪.৫ মিলিয়নে। তবে এবার ‘হ্যামার’দের মত ব্যস্ত দলবদল কাটায়নি কোনও দলই। প্রি-সিজনেও নিজের পছন্দের একাদশের তেমন ইঙ্গিত দেননি ম্যানেজার ম্যানুয়েল পেলেগ্রিনি, সেক্ষেত্রে প্রথম কয়েক সপ্তাহ ওয়েস্ট হামের কাউকে নেওয়াটা বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। 

    গত মৌসুমে ডিফেন্ডারদের মধ্যে সবচেয়ে কম দামের হলে (৪ মিলিয়ন) শুরু থেকেই প্যালেসের হয়ে খেলেছিলেন ওয়ান-বিসাকা। নতুন মৌসুমের আগে রক্ষণে এবারের ওয়ান-বিসাকার খোঁজে ব্যস্ত ম্যানেজাররা। সে দৌঁড়ে হয়তো সবচেয়ে এগিয়ে আছেন বোর্নমাউথের দিয়েগো রিকো। ‘চেরি’দের হয়ে পুরো প্রি-সিজনই খেলেছেন তিনি। অন্য দুই লেফটব্যাক লয়েড কেলি এবং চার্লি ড্যানিয়েলস ইনজুরিতে থাকায় বাঁ-প্রান্তে তার নামার সম্ভাবনাই বেশি। এছাড়া আছেন শেফিল্ড ইউনাইটেডের জন লন্ডস্ট্রাম, ডিফেন্ডারদের তালিকায় নাম থাকলেও ‘ব্লেইড’দের হয়ে মিডফিল্ডে খেলেন তিনি। ভিলার বেন গিবসন, প্যালেসের কেলি, ওয়েস্ট হামের উইন্সটন রিডদের নিতে পারবেন ৪ মিলিয়নে। সবচেয়ে কম দামি ডিফেন্ডারদের মধ্যে এই কয়েকজনের নামার সম্ভাবনা বেশি হলেও নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না এখনও।

     

    মিডফিল্ডার

    গত মৌসুমে ফর্মের কারণে ম্যানেজারদের পছন্দের তালিকার শুরুতেই আছেন সালাহ (১২.৫) এবং স্টার্লিং (১২)। সালাহ এবং পিয়ের-এমেরিক অবামেয়াংয়ের মত গতবার প্রিমিয়ার লিগে সর্বোচ্চ গোল ছিল সাদিও মানের (১১.৫)। তাকে দলে নিয়েছেন প্রায় ১৭ ভাগ ম্যানেজার। কিন্তু আফ্রিকান কাপ অফ নেশনসের কারণে লিভারপুলের প্রি-সিজনে খেলেননি মানে, অন্তত প্রথম ম্যাচে শুরু থেকে খেলার সম্ভাবনা কম তার। তবে দীর্ঘকালীন পরিকল্পনা করলে থাকলে সালাহ, মানে দুজনকেই নেওয়া যেতে পারে। প্রিমিয়াম মিডফিল্ডারদের তালিকায় ১০ মিলিয়নের নিচে আছেন কেভিন ডি ব্রুইন, নিকোলাস পেপে, হিউঙ-মিন সন। গত মৌসুমের শেষ ম্যাচে লাল কার্ড দেখা সন প্রথম তিন থাকছেন না বহিষ্কারাদেশের কারণে।

    পেপে এখনও প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে শুরু থেকেই দলে নেওয়া বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। গত মৌসুমের অনেকটা সময় ইনজুরির কারণে বাইরে থাকা ডি ব্রুইন স্বরুপে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছেন কমিউনিটি শিল্ডের ম্যাচে। ৯ মিলিয়ন পাউন্ডে দলে নিতে পারবেন ক্রিশ্চিয়ান এরিকসেনকে। স্পার্সের গোল, অ্যাসিস্ট পাওয়ার দিক দিয়ে সন, কেইনের সাথে নাম থাকবে তার। দাম ৮.৫ মিলিয়ন হলেও ইউনাইটেডে তার ভবিষ্যৎ নিয়ে সংশয় থাকায় এখনই পল পগবাকে নেওয়া বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। একই দামে পাওয়া যাওয়া ড্যালে আলি আছেন ইনজুরিতে, আর রিয়াদ মাহরেজের আছে রোটেশনের ঝুঁকি।৮.৫ মিলিয়নের মিডফিল্ডার নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্ব ভুগলেও ৮ মিলিয়নের মিডফিল্ডারদের দলে নিতে পারেন অত চিন্তা আব ঝুঁকি ছাড়াই। বের্নার্দো সিলভা, রিচার্লিসন, গিলফি সিগুর্ডসনদের নিতে পারবেন এই দামে। রিচার্লিসন মাত্রই কোপা থেকে ফেরায় হয়তো শুরু থেকেই খেলবেন না প্রথম ম্যাচ দুয়েক, সেক্ষেত্রে এভারটন থেকে সিগুর্ডসনকে নেওয়াই হয়তো শ্রেয়।

     

     

    এভারটনের সবধরণের সেটপিস নেওয়া সিগুর্ডসন ‘ভিএআর’-এর কারণে আগেরবারের চেয়েও হয়তো বেশি পয়েন্ট আনতে পারেন তিনি। সিটির মিডফিল্ডে রোটেশনের ভয়ের কারণে সিলভাকে নেওয়ার ব্যাপারে ভেবে দেখাই বুদ্ধিমানের কাজ। গত মৌসুমে মিডফিল্ডারদের দাম নিয়ে বেশ অসন্তুষ্টই ছিলেন ফ্যান্টাসি ম্যানেজাররা। এবার দাম নির্ধারণের দিকে দারুণ কাজই করেছে ফ্যান্টাসি কর্তৃপক্ষ। ৭.৫ মিলিয়নে দলে নিতে পারবেন রায়ান ফ্রেজার, লুকাস মউরা, ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিচদের। ফ্রেজারের ফিক্সচার দারুণ, সন (বহিষ্কারাদেশ) এবং আলি (ইনজুরি) শুরুর দিকে না থাকায় স্পার্সের আক্রমণভাগে মউরার থাকার সম্ভাবনাই বেশি। চেলসির হয়ে নিশ্চিতভাবেই মূল একাদশে থাকবেন পুলিসিচ। একই দামে পাবেন ডেভিড সিলভাকে, কিন্তু রোটেশনের কারণে তাকে দলে ভেড়ানো বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। গত মৌসুমে নিজের ছায়া হয়ে থাকা মেসুত ওজিলকেও পাবেন এই দামে। আর্সেনালের দারুণ ফরোয়ার্ড লাইন পাওয়ায় এবার হয়তো নিজেকে আবারও নতুনকরে চেনাতে পারেন তিনি।

    প্রি-সিজনে ইউনাইটেডের হয়ে ফর্মে ছিলেন অ্যান্থনি মার্শিয়াল, ৭.৫ মিলিয়নে দলে নিতে পারবেন তাকেও। রোমেলু লুকাকু ইন্টার মিলানে চলে যাওয়ায় ইউনাইটেডের একাদশে তার নামার সম্ভবনাও হয়তো বেড়ে গেল অনেকখানিই। ৭ মিলিয়নে পাবেন উইলফ্রেড জাহা, জেমস ম্যাডিসন, ফেলিপে অ্যান্ডারসন, লুকা মিলিভোয়েভিচ, পেদ্রো রদ্রিগেজ, মিকেল অ্যান্টোনিও, অ্যালেক্স সানচেজ এবং উইলিয়ানকে। প্যালেসের শুরুর দিকের ফিক্সচার বেশ ভাল হওয়ায় জাহা-মিলিভোয়েভিকে নিতে পারেন। সিগুর্ডসনের মতই ‘ঈগল’দের সব সেটপিস নেন মিলিভোয়েভিচ, ‘ভিএআর’-এর কারণে দারুণ করতে পারেন তিনিও। একই কারণে দলে নিতে পারেন ম্যাডিসনকেও। পুলিসিচ আসায় চেলসির একাদশে পেদ্রো, উইলিয়ানের খেলা নিয়ে আছে সংশয়। অবশ্য জিরুকে বসিয়ে পেদ্রোকে ফরোয়ার্ড খেলালে নামতে পারেন উইলিয়ানও। তার ওপর চেলসির শুরুর দিকের ফিক্সচারও সহজ নয় তেমন। তাই উইলিয়ান-পেদ্রোকে শুরু থেকে দলে নেওয়ার চেয়ে কিছুদিন ‘ওয়াচলিস্ট’-এ রাখাই হয়তো শ্রেয়। দারুণ ফিক্সচার থাকার পরও রোটেশনের কারণে এখনই অ্যান্ডারসনকে দলে নেওয়া কিছুটা ঝুঁকিই হয়তো। 

     

     

    ৬.৫ মিলিয়নে সবচেয়ে জনপ্রিয় চয়েস লেস্টার জুটি ইয়ুরি তিয়েলেম্যান্স এবং আয়োজে পেরেজ। জেমি ভার্ডির সাথে হয়তো ‘সেকেন্ড স্ট্রাইকার’ হিসেবেই খেলবেন পেরেজ, প্রি-সিজনেও ছিলেন ফর্মে। আর মোনাকো থেকে পাকাপাকিভাবে লেস্টারে আসা তিয়েলেম্যান্সেরও একাদশে নামার সম্ভাবনাই প্রবল। হাসেনহুটেলের সাউদাম্পটনের আক্রমণের নিউক্লিয়াস হওয়ার সম্ভাবনা বেশি নাথান রেডমন্ডের। এই দামে দলে নিতে পারেন তাকেও, শুরুর ৬ ফিক্সচারও ভালোই পড়েছে ‘সেইন্টস’দের। ওয়েস্ট হাম থেকে ৬.৫ মিলিয়নে পাবেন পাবলো ফর্নলাস এবং ম্যানুয়েল লানজিনিকে। কিন্তু অ্যান্ডারসনের মতই রোটেশন ঝুঁকি আছে তাদেরও। ৬ মিলিয়নে পাবেন চেলসি জুটি রস বার্কলি এবং মেসন মাউন্টকে, ‘ব্লুজ’দের হয়ে প্রি-সিজনে দারুণ ফর্মে ছিলেন দুজনই। কিন্তু একাদশে হয়তো বার্কলির নামার সম্ভাবনাই বেশি।

    একই দামে পাবেন অ্যাস্টন ভিলা মিডফিল্ডার জ্যাক গ্রিলিশকে, শুরুর ফিক্সচার দারুণ হওয়ায় তাকে দলে নিচ্ছেন অনেকেই। ওয়াটফোর্ডের আব্দুলাই দুকুরে এবং রবার্তো পেরেইরা দামও ৬ মিলিয়ন, দেউলোফেউ ইনজুরিতে পড়ায় এবং আন্দ্রে গ্রে ফর্মে না থাকায় নিতে পারেন তাদেরও। এই দামে আরও আছেন এরিক লামেলা, এমিলিয়ানো বুয়েন্দিয়া, জোটা পেরেইরা, আন্দ্রেই ইয়ারমোলেঙ্কোরা। ৫.৫ মিলিয়নের মিডফিল্ডারদের মধ্যে মূল একাদশে খেলার সম্ভাবনা বেশি উলভস জুটি রুবেন নেভেস এবং হোয়াও মুতিনিয়োর। অ্যাস্টন ভিলার জশ ম্যাকগিন এবং ত্রেজেগের দামও একই, দুজনই হয়তো নামবেন একাদশেই। ৫.৫ মিলিয়নের নিচে মূলত মাঝমাঠ থেকে গোল, অ্যাসিস্ট আনা মিডফিল্ডারের সংখ্যা নেই বললেই চলে। ৫ মিলিয়নে সেরা পিক হয়তো নিউক্যাসেলের জনজো শেলভি, ৪.৫-এর সেরা হয়তো উলভসের লিয়ান্দ্রো ডেনডঙ্কার। 

     

    ফরোয়ার্ড

    গত মৌসুমের চেয়ে দাম কমা কেইনকে (১১) নিয়েছেন প্রায় ২৯ ভাগ ম্যানেজার। এবারের ফরোয়ার্ডদের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পছন্দ গতবারের গোল্ডেন বুট জেতা অবামেয়াং, দামও কেইনের সমান ১১ মিলিয়ন। এতদিন ফ্যান্টাসি ম্যানেজারদের প্রিয় ফরোয়ার্ড সার্জিও আগুয়েরোর দাম ১২ মিলিয়ন হলেও তাকে দলে নিয়েছেন মাত্র ২০ ভাগ ম্যানেজার, কোপা আমেরিকা খেলায় এবারের প্রি-সিজনে তেমন খেলতে পারেননি তিনি। আর সিটির রোটেশন ঝুঁকি তো আছেই। ৯.৫ মিলিয়নে দলে নিতে পারবেন রবার্তো ফিরমিনো, আলেকজান্ডার লাকাজেত এবং গ্যাব্রিয়েল হেসুসকে। সালাহ, মানের ভীড়ে কিছুটা চাপাই পড়ে গেছেন ফিরমিনো, কিন্তু গত মৌসুমে ঠিকই ২৫ গোল করেছিলেন তিনি। পেপে ডানপ্রান্তে এবং অবামেয়াং কিছুটা বাঁ-প্রান্তে খেলায় আর্সেনালের মূল ‘টার্গেটম্যান’ হয়তো থাকবেন লাকাজেতই। রোটেট করে আগুয়েরো-হেসুসকে খেলাবেন গার্দিওলা, তাই সিটি থেকে হয়তো স্টার্লিংকে নেওয়া শ্রেয়।

     

     

    ৮.৫ মিলিয়নে নিতে পারবেন মার্কাস রাশফোর্ডকে, লুকাকু চলে যাওয়ায় ইউনাইটেডের মূল স্ট্রাইকার থাকবেন তিনিই। ফিক্সচার দারুণ হওয়ায় শতকরা ২১ ভাগ ফ্যান্টাসি দলে আছেন বোর্নমাউথের ক্যালাম উইলসন, প্রি-সিজনেও ৩ গোল, ৩ অ্যাসিস্ট করেছেন তিনি। গতবার উলভসের অসাধারণ মৌসুম কাটানোর পেছনে মূল কান্ডারি রাউল হিমেনেজকে নিতে পারবেন মাত্র ৭.৫ মিলিয়নে। কিন্তু উলভসের এবার ইউরোপা লিগ থাকায় তাদের ব্যাপারে ভেবে দেখা উচিত আবার। কারণ ইউরোপা লিগের কারণেই গতবার প্রিমিয়ার লিগে ভাল করতে পারেনি বার্নলি। ট্রান্সফার রেকর্ড ভেঙ্গে ফ্রাঙ্কফুর্ট থেকে আনা সেবাস্তিয়ান হলারকেও পাবেন ৭.৫ মিলিয়নে, কিন্তু রোটেশন ঝুঁকিতে পড়তে পারেন তিনিও।

    এভারটনে নতুন আসা মইসে কিনের দাম মাত্র ৭ মিলিয়ন, কিন্তু শুরু থেকেই খেলবেন কি না- সে ব্যাপারে আছে সংশয়। কিনকে এভারটন শুরু থেকে খেলালে তাকে যত দ্রুত সম্ভব নিয়ে নেওয়া উচিত। কারণ গেমউইক ১৪ পর্যন্ত প্রিমিয়ার লিগের শীর্ষ ৬-এর মাত্র তিন দলের বিপক্ষে খেলবে ‘টফি’রা। চেলসির তিন স্ট্রাইকার অলিভিয়ের জিরু, মিচি বাতশুয়াই এবং ট্যামি আব্রাহাম- তিনজনের দামই ৭ মিলিয়ন। প্রি-সিজনে আব্রাহামকেই খেলিয়েছেন ল্যাম্পার্ড, গোলও করেছেন আব্রাহাম। ৬.৫ মিলিয়নে নিতে পারেন বোর্নমাউথের জশ কিংকে, উইলসনের সাথে ‘চেরি’দের হয়ে নিশ্চিতভাবেই শুরু করবেন তিনি। একই দামে পাবেন ওয়াটফোর্ড জুটি দেউলোফেউ এবং ট্রয় ডিনিকে, ‘হর্নেট’দের ফরোয়ার্ড লাইনে দুজনেরই খেলার সম্ভাবনা প্রবল।

     

     

    প্রি-সিজনে ৯ গোল করা বার্নলির ক্রিস উডের দামও ৬.৫ মিলিয়ন, ‘ক্ল্যারেট’দের একাদশে জায়গা পাকা তার; ফিক্সচারও দারুণ। বার্নলির সেটপিসের দায়িত্বে থাকবেন  উডের সতীর্থ অ্যাশলি বার্নস, ৬.৫ মিলিয়নে নিতে পারেন তাকেও। প্রিমিয়ার লিগে নরউইচের ফেরার পেছনে অন্যতম অবদান যার, সেই টিমু পুক্কিকেও পাবেন একই দামে। কিন্তু শুরুর দিকে ফিক্সচার বেশ কঠিন তাদের। ফিক্সচার বিবেচনায় ৬ মিলিয়নের মধ্যে সেরা চয়েস হতে পারেন ড্যানি ইঙ্কস (সাউদাম্পটন), জে রদ্রিগেজ (বার্নলি), ওয়েসলি (অ্যাস্টন ভিলা)। ৫.৫ মিলিয়ন বা কম দাম থেকে মূল একাদশে সুযোগ পাওয়া ফরোয়ার্ডদের সংখ্যা একেবারেই কম। তারপরও সেরা চয়েস হতে পারেন ডিভগ ওরিগি (৫.৫, লিভারপুল), জোসেপ দারমিচ (৫.৫, নরউইচ), মেসন গ্রিনউড (৪.৫, ম্যান ইউনাইটেড)। 

     

    [বি.দ্র: প্যাভিলিয়নের ফ্যান্টাসি খেলুড়েরাও আপনাদের মতই মানুষ। আমাদের সাজেশন ভুল হতেই পারে। আমরা কাউকে নিতে আপনাকে বাধ্য করছি না, করবোও না৷ আমাদের পরামর্শে এজন্যই 'সম্ভাবনা কম/বেশি', 'নিতে পারেন'ইত্যাদি বলা থাকে কারণ ফ্যান্টাসির মত আনপ্রেডিক্টেবল জিনিস দুনিয়াতে কম আছে। আমাদের পরামর্শে দল বদলে পরে ভুক্তভোগী হলে প্যাভিলিয়ন দায়ী থাকবে না৷ পরামর্শ নিন, কিন্তু নিজের দল নিজে সাজান। নতুন মৌসুমের জন্য শুভকামনা।]