• আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্ট
  • " />

     

    চট্টগ্রামে লিখনকে যে টিপস দিলেন রশিদ...

    হুট করে বৃষ্টিটা এসে পণ্ড করে দিল ম্যাচটা। রশিদ খানদের তাই আগেভাগেই ফুরসত হয়ে গেল স্টেডিয়াম ছেড়ে ঠিক উল্টোদিকের হোটেলে যাওয়ার। ওই সময়েই চট্টগ্রামের এমএ আজিজ স্টেডিয়ামের নিচতলায় দেখা গেল একজন বক্তা আর একজন শ্রোতাকে। রশিদ খান লেগ স্পিন নিয়ে টিপস দিচ্ছেন, আর জুবায়ের হোসেন লিখন সেটি শুনছেন তন্ময় হয়ে। প্রায় মিনিট দশেকেরও বেশি সময় দুজনের কথা হলো, এর মধ্যে সেখানে জমে গেছে উৎসাহীদের ভীড়। তবে এখানেই শেষ নয়, ঢাকায় ফিরে রশিদের সঙ্গে লম্বা সেশন করবেন জুবায়ের।

    দুজনেই লেগ স্পিন করেন, আপাতত মিলটা এখানেই শেষ হয়ে যাচ্ছে। নইলে রশিদ আর লিখনের মধ্যে এখন দুস্তর ব্যবধান। রশিদ এখন অন্তত সীমিত ওভারে বিশ্বের সেরা বোলারদের ছোট্ট তালিকাতেও থাকবেন। আর লিখন বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটেই এখন আর সুযোগ পান না ঠিকমতো। এই প্রস্তুতি ম্যাচই তো দুজনের মানটা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে। লিখন কাল বল করেছিলেন বিসিবি একাদশের হয়ে। তবে আলগা বল করেছেন একের পর এক। মাঝে এক দুইটি ভালো বল করেছিলেন, স্লিপে ক্যাচ না ছাড়লে একটা উইকেটও পেতে পারতেন। তবে আফগানদের ভোগানোর মতো কিছু করতে পারেননি। অথচ রশিদ আজ লাল বলে বিসিবি একাদশের ব্যাটসম্যানদের নাজেহাল করে ছেড়েছেন। তিনটি উইকেট পেয়েছেন, তবে নিজের স্বভাবসুলভ নিয়ন্ত্রণ দিয়ে তার চেয়েও বেশি ভুগিয়েছেন।

     

     

    কিন্তু রশিদ আর লিখনের মধ্যে অতক্ষণ ধরে কী আলাপ হলো? কাছ থেকে যদ্দুর বোঝা গেল, টেকনিক্যাল আলাপই হয়েছে বেশি। রশিদ বার বার আর্ম এবং রিস্ট পজিশন নিয়ে কথা বলছিলেন। লিখন এখন যেভাবে বল করেন, সেই অ্যাকশনের সমস্যা দেখিয়ে দিচ্ছিলেন। এমনকি মাটিতে বসেও রশিদ দেখিয়ে দিচ্ছিলেন রিস্ট পজিশন। এই মুহূর্তে লিখন যেরকম বোলিং করছেন, তাতে প্রচুর লং হপ হচ্ছে। রশিদ দেখিয়ে দিচ্ছিলেন, লিখনের ভুল কোথায় হচ্ছে। বিভিন্ন রকম ডেলিভারি নিয়েও কথা বলেছেন আলাদা করে। ওই সময় সেখানে ছিলেন ব্যাটসম্যান এনামুল হক বিজয়ও। তার কাছ থেকে জানা গেল, মনস্ত্বাতিক বা ওরকম কিছু নয়, টেকনিক্যাল ব্যাপার নিয়েই কথা হয়েছে।

     

    অথচ কী অদ্ভুত, সবকিছু ঠিক থাকলে আজ এর উল্টোটাও হতে পারত। ২০১৪ সালে লিখন যখন বাংলাদেশের হয়ে টেস্ট খেলেন, রশিদ তখন পেশাদার ক্রিকেটই শুরু করেননি। পরের বছর লিখন যখন বিরাট কোহলিকে দারুণ এক গুগলিতে বোল্ড করলেন, তখন রশিদ খানের নাম শোনেইনি ক্রিকেটবিশ্ব। এরপর লিখন সিড়ি থেকে পড়ে একের পর এক ধাপ করে শুধু নিচেই নেমেছেন, আর লিফটে চড়ে রশিদ উঠে গেছেন উঁচু থেকে আরও উঁচুতে। লিখন এখন একরকম হারিয়েই গেছেন, আর রশিদ আফগান ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় ব্র্যান্ড।

    কিন্তু আজ আরও কি কি টেকনিক্যাল ব্যাপারে লিখনকে বলেছেন রশিদ? বাংলাদেশের লেগ স্পিনার অনেক চাপাচাপির পরও এ নিয়ে কিছু বললেন না। তবে রশিদ সংক্ষিপ্ত করে যা জানিয়েছেন, তার সারমর্ম ঢাকায় ফেরার পর লম্বা সময় নিয়ে কাজ করবেন লিখনের সঙ্গে, ‘খুবই ভালো লাগে, এটা দেখে যে অনেকেই অনুপ্রাণিত হচ্ছে। সে যেই দেশেরই হোক, বাংলাদেশ হোক বা অন্য দেশের। আমার অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান তাদের সঙ্গে শেয়ার করতে চাই। তরুন লেগ স্পিনারদের সবসময় দেখতে ভালো লাগে। ওরা ব্যাটসম্যানদের কঠিন পরীক্ষা নিয়ে থাকে সবসময়। আর সবাই তো একজন আরেকজন থেকে আলাদা। ওর সঙ্গে আলাদা করে কথা হলো। আশা করছি ঢাকায় আলাদা করে কাজ করবো।'’  

    ঢাকায় রশিদ-লিখনের দ্বিতীয় পর্বের জন্য অপেক্ষাটা তাহলে বাড়ল!