• লা লিগা
  • " />

     

    ১০ গোলের পর টাইব্রেকারে আর্সেনালকে টপকে গেল লিভারপুল

    অ্যানফিল্ডের অদ্ভুত রাতে গোল উৎসব হয়েছে দুই প্রান্তে। আর্সেনাল ৫, লিভারপুলও ৫। দশ গোলের কারাবাও কাপের ম্যাচ এরপর গড়িয়েছে টাইব্রেকারে। লিভারপুলের ২০ বছর বয়সী আইরিশ গোলরক্ষক চাওমহিন কেলেহার এর পর ঠেকিয়ে দিয়েছেন দানি সেবায়োসের নেওয়া চতুর্থ পেনাল্টি কিকটি। টাইব্রেকারে শেষ পর্যন্ত লিভারপুল ম্যাচ জিতেছে ৫-৪ ব্যবধানে। আর্সেনালকে বিদায় করে কারাবাও কাপের কোয়ার্টার ফাইনালেও উঠে গেছে তারা। রাতে অন্য কোয়ার্টার ফাইনালে চেলসিকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে লিভারপুল, ম্যানচেস্টার সিটির সঙ্গী হয়েছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডও।

    ইনজুরি সময়ের একেবারে শেষ মিনিটেও জয় দেখছিল আর্সেনাল। উনাই এমেরির দলের কপাল পুড়েছে ডিভক অরিগির গোলে। নাটকীয়তাও ঠাসা ম্যাচে ৯৪ মিনিটে  সিজার কিক থেকে নিজের দ্বিতীয় আর লিভারপুলের পঞ্চম গোলটি করে ম্যাচ টাইব্রেকারে নিয়ে গিয়েছিলেন অরিগি। এর আগে লিভারপুল ম্যাচে এগিয়ে গিয়েছিল শুরুতেই, এর পর আর্সেনাল দুই দফায় দুই গোলেও এগিয়ে গিয়েছিল।  

    লিগ কাপের ম্যাচ বলেই ইউর্গেন ক্লপ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার সুযোগ পেয়েছিলেন একাদশে। সালাহ-মানে-ফিরমিনোরা ছিলেন না। উনাই এমেরিও একই কাজ করেছেন। অ্যালেক্সান্ডার লাকাজেত, পিয়ের এমেরিক অবামেয়েংদের কাউকেই দলে রাখেননি তিনি। তরুণরাই উপহার দিয়েছেন উত্তেজনা।

    আনকোরা লিভারপুল ম্যাচের একেবারে শুরুতেই এগিয়ে গিয়েছিল, একাদশে সুযোগ পাওয়া স্কদ্রান মুস্তাফির আত্মঘাতী গোলে। সেই গোল ১৯ মিনিটেই শোধ করে দেন লুকাস তোরেয়ারা। যদিও গোলের সময় অফসাইডে ছিলেন তিনি, ভিএআর না থাকায় বাতিল হয়নি গোল। তাই অ্যানফিল্ডে মৌসুমের দ্বিতীয় গোল পেয়ে যান উরুগুইয়ান মিডফিল্ডার।

    এরপর প্রথমার্ধে গোল হয়েছে আরও তিনটি। ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকার গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেলি দশ মিনিটের ব্যবধানে দুই গোলের লিড এনে দিয়েছিলেন আর্সেনালকে। দুই দলের তরুণদের ভেতর সবচেয়ে উজ্জ্বল ছিলেন মার্তিনেলি। আর্সেনালের জার্সিতে সপ্তম ম্যাচেই করে ফেলেছেন সাত নম্বর গোল। এই মৌসুমে ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগে টিনএজারদের ভেতর সর্বোচ্চ গোলদাতাও তিনি। কিন্তু বিরতির দুই মিনিট আগেই সেই মার্তিনেলি লিভারপুলের হার্ভি এলিয়টকে ফাউল করে পেনাল্টি দিয়ে বসেন লিভারপুলকে। জেমস মিলনার এমিলিয়ানো মার্টিনেজকে পরাস্থ করে আবার লিভারপুলকে ফিরিয়ে আনেন ম্যাচে। 

    প্রথম ৪৫ মিনিটে দুই দলের খেলা ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছিল দ্বিতীয়ার্ধেও গোলবন্যা হবে। লিভারপুল বা আর্সেনাল-যে দল যখন আক্রমণে উঠেছে তাদেরকেই ভয়ঙ্কর মনে হয়েছে আক্রমণে। রক্ষণে মনোযোগী ছিল না কেউই, একের পর এক ভুল করে গেছে দুই দল। গাদা গাদা গোল করে কিছুক্ষণ পর পরই রক্ষণের ভুল-ভ্রান্তি ভুলেছে আর্সেনাল আর লিভারপুল।

    মেসুত ওজিল এদিন একাদশে পেয়েছিলেন বিরল এক সুযোগ। আর্সেনালের তৃতীয় আর চতুর্থ গোলে বড় অবদান রেখেছেন ওজিল। বিরতির পর বাইলাইনের কাছে তার দারুণ এক ফ্লিক ফাঁকা বারে গোল পেতে সাহায্য করেছে মাতিলান্ড নাইলসকে। আর্সেনাল তখন দুই গোলের লিড ফিরে পায় আবারও। কিন্তু মিনিট চারেক পর অ্যালেক্স অক্সলেড চেম্বারলেইন বক্সের বাইরে থেকে দুর্দান্ত এক শটে সাবেক ক্লাবের বিপক্ষে গোল করে বসেন। এর চার মিনিট ডিভক অরিগি আরেক গোল শোধ করে আবার সমতায় ফেরান লিভারপুলকে। ৬২ মিনিটে তখন ম্যাচের স্কোরলাইন ৪-৪।

    চার মিনিট করে ব্যবধানে তিনটি গোলের পর ম্যাচের নবম গোল হয়েছে আট মিনিট পর। খুব সম্ভব ম্যাচের সবচেয়ে চোখ ধাঁধানো গোলও হয়েছে সেটি। মিডফিল্ড থেকে বল নিয়ে দৌঁড়ে গিয়ে প্রায় ২০ গজ দূর থেকে জোসেফ উইলকক দারুণ এক গোল করলে আবার এগিয়ে যায় আর্সেনাল। এই নিয়ে অ্যানফিল্ডে লিভারপুল পাঁচ গোল হজম করেছে শেষ ৬৬ বছরে মাত্র দুইবার। এর আগের রেকর্ডটিও আর্সেনালের। সেবার ৬-৩ গোলে ম্যাচ জিতেছিল থিয়েরি অঁরিরা। 

    ৭০ মিনিটে উইলককের গোলের পর লম্বা একটা বিরতি গেছে। দুইদলের কেউই গোল করতে পারেনি। ক্লপ ডাগ আউটে উপভোগ করে গেছেন পুরোটা সময়। এই ম্যাচে জয়টা তার জন্য এমেরির মতো গুরুত্বপূর্ণ ছিল না। এমেরিও উপভোগ করে যাচ্ছিলেন। তবে অরিগির তার মুখের হাসি কেড়ে নিয়েছেন শেষে গিয়ে। পরে টাইব্রেকারে খালি হাতে ফিরেছেন এমেরি।   

    স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে শেষ ষোলোর অন্য ম্যাচে মার্কস র‍্যাশফোর্ড করেছেন জোড়া গোল। ২৫ মিনিটে মার্কস আলোন্সো ড্যানিয়েল জেমসকে ফাউল করার পর পেনাল্টি পেয়েছিল ইউনাইটেড। আগের ম্যাচে পেনাল্টি মিস করলেও র‍্যাশফোর্ড এ দফায় সফল হয়েছেন। ৬১ মিনিটে মিচি বাতসুয়াই প্রায় এক দক্ষতায় চেলসিকে সমতায় ফেরান ম্যাচে। ইউনাইটেডের তিন ডিফেন্ডারকে ফাঁকি দিয়ে প্রায় ২০ গজ দূর থেকে গোলে শট করে তিনি চমকে দিয়েছিলেন সার্জিও রোমেরোকে। কিন্তু ম্যাচের সেরা গোল বাতসুয়াই নয়, করেছেন র‍্যাশফোর্ড। ৩০ গজ দূর থেকে পাওয়া দুর্দান্ত এক ফ্রি কিকে দ্বিতীয় গোলটি করেছেন ইংলিশ ফরোয়ার্ড। ম্যাচ শেষের ১৭ মিনিট বাকি থাকতে করা র‍্যাশফোর্ডের ওই  গোলে ভাগ্য নির্ধারণ হয়েছে ম্যাচের।