• ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ
  • " />

     

    সেই সাউদাম্পটনের সাথে জিততেই ঘাম ছুটে গেল সিটির

    পেপ গার্দিওলা নিশ্চয় হাঁপ ছেঁড়ে বেঁচেছেন। সাউদাম্পটনের সাথে হেরে যাওয়ার সম্ভাবনাও জেগেছিল, সেটা হলে লিগ স্বপ্ন বড় একটা ধাক্কা খেত। ম্যানচেস্টার সিটির ভাগ্য ভালো, সেরকম কিছু হয়নি। দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়িয়ে শেষ পর্যন্ত সাউদাম্পটনকে হারিয়েছে ২-১ গোলে। ওদিকে লিভারপুলও জেতায় পয়েন্ট ব্যবধান রইল ছয়-ই।

    প্রতিপক্ষ সাউদাম্পটন বলেই সিটির জন্য ধাক্কাটা আরও বেশি হতে পারত। গত সপ্তাহেই লেস্টার সিটির কাছে নয় গোলে বিধ্বস্ত হয়েছিল, রীতিমতো ছেলেখেলা করেছিল লেস্টার তাদের নিয়ে। তিন দিন আগেই আবার লিগ কাপে উড়ে গেছে সিটির কাছে। লিগে সবচেয়ে বেশি হজম করেছে তারা, আর সিটি করেছে সব এয়ে বেশি গোল। অথচ আজ সিটির মাঠে শুরুতে বিহবল করে দিয়েছিল সাউদাম্পটন। সেটা অবশ্য এডারসনের ভুলে, ১৩ মিনিটে স্টুয়ার্ট আর্মস্ট্রংয়ের শট ঠিকমতো ধরতে পারনেনি সিটি গোলরক্ষক। বল হাত ফসকে বেরিয়ে যায়, সুযোগটা কাজে লাগাতে ভুল করেননি জেমস ওয়ার্ড প্রাউস। গোল করে এগিয়ে দেন সিটিকে।

    এরপর যা হওয়ার কথা, হয়েছে সেটাই। সিটি এরপর আক্রমণ করার চেষ্টা করেছে, কিন্তু খুব পরিষ্কার সুযোগ পাচ্ছিল না। একের পর এক শট নিলেও গোলে প্রথমার্ধে রাখতে পারেনি একটিও, সাউদাম্পটন কিপার অ্যালেক্স ম্যাকার্থিকে কোনো সেভও করতে হয়নি। প্রথমার্ধ শেষে ডেভিড সিলভা চোট পেয়ে উঠে যান, তার জায়গায় নামেন গ্যাব্রিয়েল জেসুস। মাঠে আগে থেকেই ছিলেন আগুয়েরো, স্টার্লিং, বার্নার্দো ইলভা, কেভিন ডি ব্রুইন। ঘুরিয়ে ফিরিয়ে সব খেলোয়াড়কে নামানো গার্দিওলা আজ সবগুলো তুরুপের তাস ব্যবহার করতে বাধ্য হলেন।

    শেষ পর্যন্ত গোলটা এলো ডান প্রান্ত থেকে। ডি ব্রুইনের পাসটা ডান দিকে পেয়েছিলেন কাইল ওয়াকার। ৭১ মিনিটে তার মাপা ক্রসটা ফাঁকায় পেয়ে জালে জড়িয়ে দেন আগুয়েরো। খুব বেশি কিছু করার ছিল না ম্যাকার্থির। অবিশ্বাস্যই বটে, ১৯তম বারে কোনো শট পোস্টে রাখতে পারল সিটি, সেটি থেকেই এলো গোল। এরপর সিটি আরও চেপে ধরে সেইন্টসদের, ম্যাকার্থি করেছেন ম্যাচে প্রথমবারের মতো দারুণ একটা সেভ। ডি ব্রুইন বক্সের ভেতর ফ্রিকিক পেয়েছিলেন, সেটি অল্পের জন্য চলে গেছে বাইরে।

    শেষ পর্যন্ত গোলটা এসেছে ম্যাকার্থির ভুলেই। ৮৭ মিনিটে ক্যান্সেলোর ক্রসটা ফিস্ট করতে গিয়ে ঠিকমতো করতে পারেননি, সেটি ফাঁকায় গিয়ে পড়ে ওয়াকারের কাছে। জালে জড়িয়েই ফেটে পড়েন উল্লাসে। নিশ্চিত হয়ে গেল, অবনমনে থাকা সাউদাম্পটনের কাছে পয়েন্ট খোয়াতে হচ্ছে না সিটিকে।

    দিনের অন্য ম্যাচে আর্সেনাল ১-১ গোলে ড্র করেছে উলভসের সাথে। পিয়েরে এমেরিক অবামেয়াংয়ের গোলে আর্সেনাল এগিয়ে যাওয়ার পর উলভসের হয়ে সমতা ফেরান রাউল জিমেনেজ। নিজেদের মাঠে পয়েন্ট হারানোয় এমেরির ওপর চাপও বাড়ল আরেকটু।