• বাংলাদেশের ভারত সফর
  • " />

     

    টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ : 'এশিয়া' থেকে 'ওয়ার্ল্ড'-এ বাংলাদেশের যাত্রা

    আগস্ট, ২০০১, মুলতান। পাকিস্তানের প্রথম ইনিংসে সবচেয়ে ‘আন্ডারপারফর্ম’ করা ব্যাটসম্যানের নাম ফয়সাল ইকবাল। তিনে নেমে মোহাম্মদ শরিফের বলে বোল্ড হওয়ার আগে এই ডানহাতি করেছিলেন ৯ রান, ১৩ বল খেলে। ফয়সালের আগে-পরে পাঁচ পাকিস্তান ব্যাটসম্যানের স্কোর ছিল এমন- সাইদ আনোয়ার, ১০১; তৌফিক উমর, ১০৪; ইনজামাম-উল-হক, ১০৫; মোহাম্মদ ইউসুফ, ১০২*; আব্দুল রাজ্জাক, ১১০*। এক ইনিংসে পাঁচজন ব্যাটসম্যানের সেঞ্চুরির ঘটনা টেস্ট ইতিহাসে সেটি ছিল দ্বিতীয়, যেটি এখন পর্যন্ত শেষ। এশিয়ান টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশকে পাকিস্তান স্বাগত জানিয়েছিল এভাবে। 

    এশিয়ার তিন টেস্ট খেলুড়ে দেশকে নিয়ে চ্যাম্পিয়নশিপ টুর্নামেন্টের সেটি ছিল দ্বিতীয় ও এখন পর্যন্ত শেষ আসর। ১৯৯৮-৯৯ মৌসুমে প্রথম আসর হওয়ার সময় বাংলাদেশ টেস্ট মর্যাদা পায়নি। তবে পাকিস্তান-শ্রীলঙ্কার সে ফাইনাল হয়েছিল ঢাকার বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে। যে ফাইনালে একই ইনিংসে ডাবল সেঞ্চুরি করেছিলেন পাকিস্তানের ইনজামাম ও ইজাজ আহমেদ, সে ম্যাচেই হ্যাটট্রিক করেছিলেন ওয়াসিম আকরাম। 

    ১৯১২ সালে ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকা মিলে একটি ত্রিদেশীয় টুর্নামেন্ট খেলেছিল সব মিলিয়ে ৯ ম্যাচের। অবশ্য সে সময় টেস্ট স্ট্যাটাসই ছিল এই তিন দেশের। প্রায় ৯০ বছর পর আরেকটি বহুজাতিক সিরিজ দেখেছিল টেস্ট ক্রিকেট। তবে বিতর্ক সে টুর্নামেন্টকে ঠিক বড় হয়ে উঠতে দেয়নি আর। 
     


    দেশের মাটিতে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে দিয়েছিল বাংলাদেশ/বিসিবি


    ২০০১-০২ আসরে রাজনৈতিক কারণে ভারত শেষ মুহুর্তে নিজেদের সরিয়ে নেওয়ার ফলে এশিয়ান টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ দাঁড়িয়েছিল ওই তিন দলের টুর্নামেন্টই। রাউন্ড-রবিন পদ্ধতিতে একটি করে ম্যাচ খেলার পর ফাইনাল- ফরম্যাট ছিল এমন। ভারত না থাকায় টাইটেল স্পন্সর বা টেলিভিশন স্বত্বও বিক্রি করতে পারেনি সেবার এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল। 

    মুলতানে পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের ওই ম্যাচই ছিল দ্বিতীয় আসরের প্রথম। ভারতের বিপক্ষে আগের বছর নিজেদের প্রথম টেস্টের পর বাংলাদেশ জিম্বাবুয়ে গিয়ে খেলেছিল দুই টেস্টের সিরিজ, সব মিলিয়ে তিন টেস্টের অভিজ্ঞতা নিয়ে তারা খেলতে গিয়েছিল এশিয়ার টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ। 


    আরও পড়ুন- টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ : কী, কোথায়, কীভাবে


    মুলতানে পাকিস্তানের কাছে গুঁড়িয়ে যাওয়ার পর কলম্বোতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে নেমেছিল বাংলাদেশ। মুলতানে প্রথম ইনিংসে ১০০ পেরিয়ে যাওয়া বাংলাদেশ কলম্বোতে আটকে গেল ৯০ রানেই। প্রথম ইনিংসে শ্রীলঙ্কা নেমে বাংলাদেশকে লেপ্টে দিল এমন এক ইতিহাসের সঙ্গে, যে ইতিহাস খুব কম করে বললে- কেউ চায় না। 

    স্যার ডন ব্র্যাডম্যান, ওয়ালি হ্যামন্ড ও জাভেদ মিঁয়াদাদের পর চতুর্থ ব্যাটসম্যান হিসেবে পঞ্চম ডাবল সেঞ্চুরি পেলেন মারভান আতাপাত্তু। হাসিবুল হোসেন শান্তর বলে চার মেরে ডাবল সেঞ্চুরি পূর্ণ করলেন ৮২তম ওভারের তৃতীয় বলে। ওভার শেষে উঠে গেলেন তিনি- টেস্ট ক্রিকেটে প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে আতাপাত্তু হলেন ‘স্বেচ্ছা আউট’ বা ‘রিটায়ার্ড আউট’। ১৫০ পূর্ণ করার পর একই কান্ড করলেন মাহেলা জয়াবর্ধনেও। অনুশীলন ম্যাচে অন্যকে সুযোগ দিতে হরহামেশাই আউট না হয়েও উঠে যান ব্যাটসম্যানরা, আতাপাত্তু-জয়াবর্ধনে টেস্ট ক্রিকেটে করলেন সেটি। যেন স্কুলে যাওয়া নতুন বাচ্চা পড়া না পারায় ক্লাস ছেড়ে বেরিয়ে গেলেন শিক্ষক! 

    কলম্বোর টেস্টটা শুধুই আতাপাত্তু-জয়াবর্ধনের সেই কান্ড বা বাংলাদেশের আরেকবার গুঁড়িয়ে যাওয়ার হয়ে থাকতে পারতো। যদি মোহাম্মদ আশরাফুল সেই কান্ডটা করে না বসতেন! দ্বিতীয় ইনিংসে ৮১ রানে ৪ উইকেট পড়ে যাওয়ার পর আশরাফুল নেমেছিলেন, রুচিরা পেরেরাকে ফিরতি ক্যাচ দিয়ে ৭ম ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হওয়ার সময় বাংলাদেশের রান ছিল ৩০৮ রান। আশরাফুলের পাশে তখন ১১৪, ১৬ বছর ৩৬২ দিন বয়সে তিন অঙ্কে পৌঁছে টেস্ট ক্রিকেটে সর্বকনিষ্ঠ সেঞ্চুরিয়ানের রেকর্ড হয়ে গেছে তার। ভারতের বিপক্ষে পাকিস্তানের মুশতাক মুহাম্মদের ১৭ বছর ৬২ দিন বয়সে করা সেঞ্চুরির রেকর্ড ভেঙে দিলেন তিনি, যে রেকর্ড টিকে ছিল প্রায় ৪০ বছর। ৩২৮ রানে গুটিয়ে গিয়ে ইনিংস ও ১৩৭ রানে হেরে এশিয়ান টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ শেষ করলো বাংলাদেশ। মুত্তিয়া মুরালিধরনের সঙ্গে যৌথভাবে ম্যাচসেরার পুরস্কার পেলেন আশরাফুলও। 

    এশিয়ান টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের শেষ রাউন্ডে শ্রীলঙ্কা-পাকিস্তান ম্যাচ হলো পরিত্যক্ত, প্রায় ছয় মাস পর হলো ফাইনাল। যেখানে পাকিস্তানকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল শ্রীলঙ্কা। 

    সেই টুর্নামেন্টের প্রায় ১৭ বছর পর, ১৯১২ সালের সেই প্রথম বহুজাতিক টেস্ট টুর্নামেন্টের প্রায় ১০৭ বছর পর আবার শুরু হয়েছে আরেকটি টুর্নামেন্ট, এবার টেস্ট খেলুড়ে ১২টি দেশের মধ্যে খেলছে ৯টি। ১ আগস্ট অ্যাশেজ ছিল এ টুর্নামেন্টের প্রথম সিরিজ, প্রতিটি দল খেলবে ছয়টি করে সিরিজ- যার তিনটি দেশে, তিনটি দেশের বাইরে। 

    ২০২১ সাল পর্যন্ত এ চ্যাম্পিয়নশিপে ভারতের পর বাংলাদেশের অ্যাওয়ে সিরিজ পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। তিনটি হোম সিরিজে প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ। 

    এশিয়ান টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের সময় বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা ছিল তিন টেস্ট, ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপ শুরুর আগে তারা খেলে ফেলেছে ১১৬টি। অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে যেমন জয়ের অভিজ্ঞতা আছে বাংলাদেশ, তেমনই আছে আফগানিস্তানের মতো নতুন দলের সঙ্গে হারের অভিজ্ঞতাও। 

    টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ কোন অভিজ্ঞতা দেবে বাংলাদেশকে? 
     

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন