• অস্ট্রেলিয়া-পাকিস্তান সিরিজ
  • " />

     

    ওয়ার্নার-ল্যাবুশেনের জোড়া সেঞ্চুরি ও রেকর্ড জুটিতে পিষ্ট পাকিস্তান

    ১ম দিন, স্টাম্পস
    অস্ট্রেলিয়া ৩০২/১* (ওয়ার্নার ১৬৬*, ল্যাবুশেন ১২৬*, আফ্রিদি ১/৪৮)


    ডেভিড ওয়ার্নার ও মারনাস ল্যাবুশেনের রেকর্ড জুটি ও জোড়া সেঞ্চুরিতে অ্যাডিলেডে সিরিজের দ্বিতীয় ও দিবা-রাত্রির টেস্টের প্রথম দিনে পিষ্ট হয়েছে পাকিস্তান। ওয়ার্নার অপরাজিত ১৬৬ রানে, ল্যাবুশেনের ১২৬ রানে, দুজনের জুটি অবিচ্ছিন্ন ২৯৪ রানে- দিবা-রাত্রির টেস্টে যা যে কোনও উইকেটেই সর্বোচ্চ। ২০১৭ সালে বার্মিংহামে অ্যালেস্টার কুক ও জো রুটের ২৪৮ রানের জুটিকে ছাড়িয়ে গেছেন তারা। প্রথম সেশনে জো বার্নসের উইকেট নিয়েছিল পাকিস্তান, তবে দিনের খেলা শেষে হয়তো তারা ভুলেই গেছে সেটি! 

    বৃষ্টিতে বেশ কিছুক্ষণ বন্ধ ছিল খেলা, বাকি সময়ে ওভারপ্রতি ৪.১৩ করে ৩০২ রান তুলে ফেলেছে অস্ট্রেলিয়া। এ ম্যাচ দিয়ে পাকিস্তান দলে ফেরা মোহাম্মদ আব্বাস ও শাহিন শাহ আফ্রিদি ছাড়া বাকিরা ছিলেন বেশ খরুচে, লেগস্পিনার ইয়াসির শাহ তো ৬.২১ হারে দিয়েছেন ৮৭ রান। অভিষিক্ত মোহাম্মদ মুসাও খরচ করেছেন ৫.২১ হারে রান। সঙ্গে আছে পিচ্ছিল ফিল্ডিং, আর এলোমেলো থ্রো- পার্থে পাকিস্তানের জন্য ছিল আরেকটি ভুলে যাওয়ার দিন। 
     


    অ্যাডিলেড ওভালে দিবা-রাত্রির টেস্টের এমন দৃশ্য হয়ে উঠছে 'আইকনিক'/টুইটার


    তবে দারুণ স্মরণীয় আরেকটি দিন ছিল ওয়ার্নার-ল্যাবুশেনের। দুজনই করলেন টানা দ্বিতীয় সেঞ্চুরি, গ্যাবায় প্রথম টেস্টের একমাত্র ইনিংসেও দুজন করেছিলেন সেঞ্চুরি। আগে ব্যাটিং নেওয়া অস্ট্রেলিয়া শুরুতেই পেয়েছিল আঘাত, ৪র্থ ওভারে আফ্রিদির বলে এজড হয়ে ফিরেছিলেন বার্নস। তবে এরপর আর ফিরে তাকায়নি তারা, এগিয়ে গেছে শুধু। 

    চা-বিরতির আগে ওয়ার্নার-ল্যাবুশেন তুলেছিলেন ৭০ রান। বিরতির থেকে শীঘ্রই ফিরতে পারেনি খেলা, পড়েছে বৃষ্টির কবলে। এরপর ফিরে ওয়ার্নার পেয়ে গেছেন ফিফটি, আধিপত্য বিস্তার করা শুরু করেছেন আরও। ডিনারে যাওয়ার আগে সেঞ্চুরি থেকে ২৮ রান দূরে ছিলেন তিনি, ল্যাবুশেনের প্রয়োজন ছিল ৪০ রান। 

    ৯৯ রানে দাঁড়িয়ে টানা দুটি মেইডেন দিয়েছিলেন ওয়ার্নার, তবে ইয়াসিরের বলে সিঙ্গেল নিয়ে ঠিকই মেতেছেন উল্লাসে। ক্যারিয়ারে ২৩তম সেঞ্চুরি এটি তার, দুঃস্বপ্নের এক অ্যাশেজের পর ঘরের গ্রীষ্মটা তিনি করে রাখছেন পুরো বিপরীত। ওয়ার্নার পরে আরেকবার ব্যাট তুলেছেন- ১৫০ পূর্ণ করার পর। 

    ল্যাবুশেন তিন অঙ্কে প্রায় ছয় মেরেই পৌঁছে গিয়েছিলেন, ইয়াসিরকে মারা তার শটটা পড়েছিল বাউন্ডারির একটু ভেতরে। ঠিক পরের বলেই ডাবলসে সেঞ্চুরি হয়ে গেছে তার, ক্যারিয়ারের প্রথম দুই সেঞ্চুরিই ল্যাবুশেন করলেন টানা দুই ইনিংসে। 

    এ দুজনের ব্যাটিংয়ের সামনে পাকিস্তান ছিল যেন অসহায়। কোন চ্যানেলে বোলিং করলে তারা একটু সুযোগ তৈরি করতে পারবে- সেটি ভেবেই কূল করতে পারেনি। ওয়ার্নারের বিপক্ষে রিভিউ কাজে আসেনি, শেষদিকে রান-আউটের হাত থেকে বেঁচে গেছেন ল্যাবুশেন ইমাম-উল-হকের থ্রো বাজে হওয়ায়।