• ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ
  • " />

     

    চেলসির হারের রাতে টটেনহামকে নিয়ে হাসলেন মরিনহো

    ফুল-টাইম

    চেলসি ০-১ ওয়েস্ট হাম ইউনাইটেড

    টটেনহাম হটস্পার ৩-২ এএফসি বোর্নমাউথ


    গত সপ্তাহে ম্যানচেস্টার সিটির কাছে হেরে টানা ৬ ম্যাচ জয়ের রেকর্ড হাতছাড়া হয়েছিল চেলসির। কিন্তু তারপরও ওয়েস্ট হাম ইউনাইটেডের বিপক্ষে স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে ফেভারিট ছিল ফ্র্যাঙ্ক ল্যাম্পার্ডের দলই। কিন্তু লন্ডনে নিজেদের প্রতিবেশিদের তাদেরই মাঠে হারিয়ে মৌসুমের অন্যতম চমক উপহার দিল ‘হ্যামার্স’রা, ১৭ বছর পর চেলসিকে ব্রিজেই ১-০ গোলেই হারিয়েছে তারা। চেলসি হারলেও নতুন ম্যানেজার হোসে মরিনহোর অধীনে জিতেই চলেছে টটেনহাম হটস্পার। ওয়েস্ট হামের পর বোর্নমাউথকও ৩-২ গোলে হারিয়েছে স্পার্স।

    স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে আক্রমণে নিজেদের অন্যতম ভরসা ট্যামি আব্রাহামকে ছাড়া নামতে হয়েছিল চেলসিকে। কিন্তু পুলিসিচ-উইলিয়ানদের পক্ষেই বাজি ধরার লোকের সংখ্যাই ছিল বেশি। কিন্তু ম্যাচের শুরু থেকেই চেলসিকে সমানে সমান টেক্কা দিয়েছেন ম্যানুয়েল পেলেগ্রিনির দল। প্রথমার্ধে গোলের সুযোগ পেলেও আব্রাহামের অভাবটা বেশ ভুগিয়েছে চেলসিকে, গোলমুখে এসে ফরোয়ার্ডদের ফিনিশিংয়ের ভুলে লিড নিতে পারেনি ল্যাম্পার্ডের দল। প্রথমার্ধে দুর্দান্ত ফর্মে চিলেন দুই গোলরক্ষকই।

    প্রিমিয়ার লিগে এই ম্যাচ দিয়ে অভিষেক হওয়া ডেভিড মার্টিন প্রথমার্ধেই ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিচের দুটি নিশ্চিত গোল ফিরিয়ে দিয়েছেন। কেপা আরিজাবালাগাও কম যাননি, দুর্দান্ত পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে মিকেল আন্তোনিওকে ফিরিয়ে দিয়েছেন তিনি। তবে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে আর ওয়েস্ট হামকে ফেরাতে পারেননি কেপা। ৪৮ মিনিটে পাবলো ফোরনালসের পাস থেকে দুর্দান্ত বাঁকানো শটে গোল করে দলকে লিড এনে দেন অ্যারন ক্রেসওয়েল।

     

     

    লিড নিয়ে চেলসিকে আরও চেপে ধরে ওয়েস্ট হাম, ৬৭ মিনিটে রবার্ট স্নডগ্রাসের ক্রসে হেড করে ব্যবধান দ্বিগুণও করেছিলেন আন্তোনিও। কিন্তু গোলের সময় বল হাতে লাগায় ‘ভিএআর’-এ বাতিল হয় গোলটি। দ্বিতীয়ার্ধের চেষ্টার কমতি রাখেনি চেলসি, কিন্তু ‘হ্যামার্স’দের রক্ষণব্যূহ আর ভেদ করা হয়নি। শেষ পর্যন্ত মাটি কামড়ে থাকা ওয়েস্ট হামই হেসেছে শেষ হাসি। টানা ২ ম্যাচ হেরে ১৪ ম্যাচে ২৬ পয়েন্ট নিয়ে চার-এ নেমে গেছে ‘ব্লুজ’রা।

    নিজেদের সাবেকের হতাশার দিনে বর্তমানের সাথে হেসেছেন মরিনহো। স্পার্সের ম্যানেজার হয়ে আসার পর থেকেই ড্যালে আলিকে নিয়ে উচ্চাশা এবং প্রত্যাশার কথা জানিয়েছিলে মরিনহো। ‘স্পেশাল ওয়ান’-এর আস্থার প্রতিদান দিয়েছেন আলি। ২১ মিনিটে তার গোলেই লিড নিয়েছিল স্পার্স। মিনিট পাঁচেক বাদে আবারও বোর্নমাউথের জালে বল পাঠিয়েছিলেন আলি, কিন্তু এবার অফসাইডে বাতিল হয় গোলটি। প্রথমার্ধে পিছিয়ে পড়েও সন-আলি-কেইনদের আক্রমণজোয়ারে ভেসে যাওয়ায় ৫-৪-১ ফর্মেশনে দল সাজিয়েছিলেন বোর্নমাউথ ম্যানেজার এডি হাও।

     

     

    প্রথমার্ধে এক গোলে স্পার্সকে আটকে রাখলেও দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে আলির গোলেই ব্যবধান দ্বিগুণ করে স্পার্স। এরপর আর মরিনহোর দলকে আটকাতে পারেনি ‘চেরি’রা, উল্টো ৬৯ মিনিটে ব্যবধান ৩-০ করেন মুসা সিসোকো। কিন্তু ওয়েস্ট হাম ম্যাচের মত এবারও শেষদিকে মনযোগের অভাবে বিপদে পড়তে হয়েছে স্পার্সকে।

    শেষদিকে জোড়া গোল করে বোর্নমাউথকে ম্যাচে ফেরার স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন হ্যারি উইলসন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত স্বস্তির জয়ই পেয়েছে স্পার্স। মরিনহোর অধীনে ৩ ম্যাচে ১০ গোল করলেও ৬ গোল হজম করেছে টটেনহাম। রক্ষণ নিয়েই তাই হয়তো ভাবতে হবে মরিনহোকে। মাত্র দুই ম্যাচের ব্যবধানে ১৩ থেকে স্পার্সকে প্রিমিয়ার লিগ টেবিলের ৫-এ নিয়ে এসেছেন ‘দ্য স্পেশাল ওয়ান’।