• ভারতের ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফর
  • " />

     

    ব্যাটিং আধিপত্যে ভারতকে ছাড়িয়ে সিরিজে সমতা ওয়েস্ট ইন্ডিজের

    ভারত ১৭০/৭, ২০ ওভার 
    ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১৭৩/২, ১৮.৩ ওভার 
    ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৮ উইকেটে জয়ী 


    আগের ম্যাচে পকেট থেকে কল্পিত নোটবুক বের করে কেসরিক উইলিয়ামসকে তার উদযাপনটা ফিরিয়ে দিয়েছিলেন বিরাট কোহলি, সঙ্গে তার মাস্টারক্লাসে আটকে গিয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। কোহলি এবার ফিরলেন সেই উইলিয়ামসের বলেই, ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান পেসার এবার উদযাপনের জন্য বেছে নিলেন খুবই সরল এক উপায়- মুখের ওপর আঙুল তুলে চুপ করে দিলেন কোহলিকে, চুপ করে দিলেন থিরুভানানথাপুরামকেও। উইলিয়ামস এদিন ওয়েস্ট ইন্ডিজকে সিরিজে ফেরাতে ভূমিকা রেখেছেন। তবে লেন্ডল সিমন্স, এভিন লুইস, শিমরন হেটমায়ার ও নিকোলাস পুরানদের ব্যাটিং আধিপত্য থমকে দিয়েছে ভারতকে। আর তাতেই ম্লান হয়ে গেছে শিভাম দুবের ক্যারিয়ের প্রথম ফিফটি। 

    আগে ফিল্ডিং করে ভারতকে ১৭০ রান পর্যন্ত যেতে দিয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এ উইকেটে সেটি হয়তো যথেষ্ট হতে পারতো ভারতের, তবে পিচ্ছিল ফিল্ডিং আর সিমন্সদের ঠিক সময়ে জ্বলে ওঠায় সেটি হয়নি। সিমন্স শেষ পর্যন্ত রানতাড়ায় অপরাজিত ছিলেন ৬৭ রানে, ম্যাচসেরাও হয়েছেন তিনি। লুইসের সঙ্গে ওপেনিং জুটিতেই ৭৩ রান তুলে ভাল ভিত এনে দিয়েছিলেন, হেটমায়ার ও পুরানকে নিয়ে সে কাজই সহজ করেছেন পরে। সিমন্স ও লুইস- দুজনই থিতু হওয়ার আগে পেয়েছেন জীবন। 
     


    ভারতকে প্রথম ব্রেকথ্রু এনে দিয়েছিলেন ওয়াশিংটন সুন্দর, লুইসকে আউট করে। তবে এর আগেই সিমন্স খোলস ছেড়ে বেড়িয়ে এসেছেন। প্রথম ১০ ওভারে ৭৩ রান তুলেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ, তবে চাপটা ঠিক ধরে রাখতে পারেনি ভারত। হেটমায়ার এসে চড়াও হয়েছেন, জাদেজার বলে কোহলির দারুণ ক্যাচে পরিণত হওয়ার আগে করেছেন ১৪ বলে ২৩। নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ফেরা পুরান এবার মেতেছেন লুইসের সঙ্গে, ২৯ বল খেলেই দুজন মিলে তুলে ফেলেছেন ৬১ রান। পুরান অপরাজিত ছিলেন ১৮ বলে ৩৮ রান করে। আর ৬৭ রানের ইনিংসে সিমন্স মেরেছেন ৪টি করে চার ও ছয়। 

    এর আগে ভারতের ইনিংসে হাইলাইটস ছিল দুবের ব্যাটিং। রোহিত শর্মা ও লোকেশ রাহুল ইনিংস বড় করতে পারেননি, দুজন যথাক্রমে জেসন হোল্ডার ও ক্যারি পিয়েরের শিকার হয়ে ফেরার আগে করেছেন ১৫ ও ১১ রান। ব্যাটিং অর্ডার প্রমোশন দিয়ে ওপরে পাঠানো হয়েছিল দুবেকে, সে সুযোগ তিনি কাজে লাগিয়েছেন ভাল এক ইনিংসে। 

    প্রথম ১৪ বলে ১২ রান করা দুবে পরের ১৬ বলে করেছেন ৪২ রান। অবশ্য ফিফটির পরই হেইডেন ওয়ালশ জুনিয়রের বলে ক্যাচ দিয়ে ফিরেছেন, হয়তো তার ইনিংসটি আরেকটু বড় করে প্রয়োজন ছিল ভারতের। ১৭ বলে ১৯ রান করা কোহলির কাছ থেকেও হয়তো আরেকটু বেশি কিছু চাহিদা ছিল তাদের। শেষদিকে ঋষাভ পান্টের ২২ বলে ৩৩ রানের ইনিংস ভারতকে নিয়ে গিয়েছিল মোটামুটি এক সংগ্রহই। শুরুতে শেলডন কটরেলের সঙ্গে উইলিয়ামসের পেস আর ওয়ালশের স্পিন বৈচিত্র ঠিক পেখম মেলতে দেয়নি ভারতকে। সিরিজের শেষ ম্যাচটিকে তাই ফাইনালে রূপ দেওয়া হয়ে গেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের।