• ফ্যান্টাসি ক্রিকেট
  • " />
    X
    GO11IPL2020

     

    কেমন হলো ফ্যান্টাসি ফজলুর সুপার ইলেভেন?

    ফ্যান্টাসি দল করার সময় কয়েকটা জিনিস অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে।

    ১) স্কোরিং সিস্টেমটা কেমন

    ২) ব্যাটসম্যান, বোলার, উইকেটকিপার, অলরাউন্ডার কয়জন করে নেওয়া যাবে

    ৩) পরিবর্তন করা যাবে কয়টি?

    ৪) কারা কারা প্রথম একাদশে থাকবেই।

    আমি ফজলু, দল বানানোর সময় মাথায় রেখেছি এসব ব্যাপার। সুপার ইলেভেনের যে পয়েন্ট পদ্ধতি, তাতে ব্যাটসম্যানদের পয়েন্ট নেওয়া কয়েকটা ব্যাপারের ওপর নির্ভর করে। চার, ছয়ের সঙ্গে মাথায় রাখতে হবে স্ট্রাইক রেটও। আবার বোলারদের ক্ষেত্রে যেমন উইকেট নেওয়ার সঙ্গে মাথায় রাখতে হবে ইকোনমিও।

    সুপার ইলেভেনের নিয়ম অনুযায়ী এক দলে ব্যাটসম্যান নেওয়া হবে তিন থেকে পাঁচজন। বোলারও সর্বনিম্ন তিন থেকে পাঁচজন পর্যন্ত নেওয়া যাবে। একজন উইকেটকিপার নেওয়া যাবে সর্বোচ্চ, আর অলরাউন্ডার নেওয়া যাবে এক থেকে তিন জন পর্যন্ত। প্রতিদিন পাঁচটি করে পরিবর্তন করা যাবে, যার মানে আপনার প্রতি ম্যাচের জন্য আলাদা আলাদা করে দলের কথা ভাবতে হবে। আপাতত দলটি বানিয়েছি প্রথম সপ্তাহের জন্য।

     

     


    ব্যাটসম্যান :

    যে কোনো ক্রিকেটার নেওয়ার ক্ষেত্রে মাথায় রাখতে হবে সে ফিট কি না। দ্বিতীয়ত, দলের সঙ্গে সে যোগ দিয়েছে কি না। তৃতীয়ত,তার প্রথম একাদশে থাকার সম্ভাবনা কতটা। আর ব্যাটসম্যানদের ক্ষেত্রে সে টপ অর্ডারে ব্যাট করে কি না, সেটা জানা জরুরি। তাহলে তার পয়েন্ট পাওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যাবে।

    সুপার ইলেভেনে দেশী বা বিদেশী নেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো বিধিনিষেধ রাখা হয়নি। তবে বিদেশীদের দাম তুলনামূলক বেশি ধরা হয়েছে বলে আপনি শুধু বিদেশীদের দিয়ে দল সাজাতে পারবেন না। আর এবারের বিপিএলে কে কত ম্যাচ খেলবেন সেটা এখনই বলা মুশকিল বলে যারা শুরু থেকে থাকবেন তাদেরকেই আপাতত নেওয়া উচিত।

    এখন পর্যন্ত গেইল, সিমন্সদের মতো অনেকে শুরু থেকে খেলছেন না। সেক্ষেত্রে বিপিএলে পরীক্ষিত বিদেশীদের ওপর আস্থা রাখা উচিত। সবার আগে তাই এসে পড়ে খুলনার রাইলি রুশোর নাম। গত বিপিএলে রংপুরের হয়ে দুর্দান্ত খেলেছেন, পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে ছিলেন ধারাবাহিক। এবার রুশো খেলছেন খুলনার হয়ে।

    এরপর আরও দুজন অন্তত টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান বেছে নেওয়া উচিত। রাজশাহীর হজরত জাজাই এর মধ্যেই যোগ দিয়েছেন দলের সঙ্গে, ৯ ভ্যালু নিয়ে দামও তুলনামূলক কম। গত বছর ঢাকার হয়ে শুরুটাও ভালো হয়েছিল জাজাইয়ের। আমি তাই রেখেছি তাকে। সিলেটের জনসন চার্লসের ভ্যালু ৮ হিসেবে বেশ কম। বিপিএলে ভালো অভিজ্ঞতা আছে তারও, রংপুরের হয়ে সেঞ্চুরি আছে। গত বছরও খেলেছিলেন রাজশাহীর হয়ে। আমি তাই তাকে নিয়েছি। আরেকজন বিদেশী বিপিএলে মোটামুটি ধারাবাহিক, তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার ক্যামেরন ডেলপোর্ট। গত বছর খেলেছিলেন চট্টগ্রামের হয়ে, এবার খেলবেন রংপুরের হয়ে। আর আরেকজন দেশী হতে পারেন কিছুদিন আগে ভারতের বিপক্ষে দুর্দান্ত ইনিংস খেলে আসা মোহাম্মদ নাঈম শেখ। ৮.৫ ভ্যালুতে তিনিও ভালো একটা অপশন। এক্ষেত্রে বাজেট মাথায় রাখায় তামিম, সৌম্যদের মতো বেশ কিছু বড় নামকে বাদ দিতে হয়েছে। আর বাজেট কম থাকলে ব্যাটসম্যানদের মধ্যে নিতে পারেন চট্টগ্ররামের জুনাইদ সিদ্দিকীকে।


     

    উইকেটকিপার

     একজন উইকেটকিপার হিসেবে মুশফিকুর রহিম অনেকেরই প্রথম পছন্দ হবেন। লিটন দাস এক্ষেত্রে প্রতিদ্বন্দ্বী হতে পারতেন, কিন্তু মুশফিকের মতো তিনি ধারাবাহিক নন। ইদানীং মুশফিক টি-টোয়েন্টিতেও ধারাবাহিক, আর বিপিএলে তার রেকর্ডও ভালো। সেক্ষেত্রে দাম একটু বেশি (১২) হলেও আমি তাকেই নিয়েছি।

    অলরাউন্ডার

    সর্বনিম্ন একজন অলরাউন্ডার নেওয়া যাবে সুপার ইলেভেনে। কিন্তু স্বাভাবিকভাবেই ব্যাটে-বলে বেশি অবদান রাখার সুযোগ থাকায় বেশি অলরাউন্ডার নিতে পারলে পয়েন্ট পাওয়ারও সুযোগও বেশি হতে পারে। এবার রাজশাহীর আন্দ্রে রাসেল অটোমেটিক চয়েস, তবে শুরু থেকে খেলবেন কি না সেটি নিয়ে সংশয় থাকায় এখনই তাকে দলে নিচ্ছি না। এখানে আমি ভরসা রেখেছি দুজন দেশীর ওপর। ফরহাদ রেজা অনেক দিন ধরেই বিপিএলে পরীক্ষিত, বোলিং অলরাউন্ডার হিসেবে শেষ দিকে নেমে কিছু ঝড়ো ইনিংসও খেলেছেন। পুরনো দল রাজশাহীতে ফিরে গেছেন এবার, তার ওপরে ভরসা রাখাই যায়। আরেকজন আফিফ হোসেন ব্যাটিং অলরাউন্ডার, তবে বোলিংও যে দারুণ সেটার প্রমাণ কিছুদিন আগে আফগানিস্তান-জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দিয়েছেন। এই দলে তার স্থানও পাকা। আর দুজনের দামও (৯ করে) সাধ্যের মধ্যে। এক্ষেত্রে তাই নবীর মতো অলরাউন্ডারকে বাজেটের জন্য নেওয়া গেল না। দেশীদের মধ্যে স্বল্প বাজেটে সোহাগ গাজী হতে পারেন আরেকটি বিকল্প। আর বিদেশীদের মধ্যে বাজেট কম থাকলে নিতে পারেন চট্টগ্রামের ইমাদ ওয়াসিমকে।

     

    বোলার

    নিয়ম অনুযায়ী তিন জন বোলার নিতেই হবে। একজন হচ্ছেন মোস্তাফিজুর রহমান। এখানে অনেকের ভুরু কুঁচকে যেতে পারে। গত কিছুদিনে মোস্তাফিজের ফর্ম ভালো নয় একদমই। কিন্তু বিপিএলে বিশেষ করে ঢাকার স্লো উইকেটে মোস্তাফিজ কতটা ম্যাচ উইনিং, সেটা গতবার রাজশাহীর হয়ে দেখিয়েছেন। একজন বোলার হিসেবে তাকে সবার আগে নিয়েছি। এরপরের দুজন বোলার জন্য বাজেট খুব বেশি আর থাকে না। সেক্ষেত্রে তরুণ দুজন বোলারই পছন্দ আমার। দুজনেই এসএ গেমস খেলে এসেছেন, টুর্নামেন্টজুড়ে ভালো বলও করেছেন। ঢাকার হাসান মাহমুদ ও কুমিল্লার সুমন খানকে তাই আমি আমার দলে নিয়েছি। কম বাজেটে আরও যাদের কথা মাথায় এসেছে সঞ্জিত সাহা (রংপুর)। মিনহাজুল আবেদীন আফ্রিদি (রংপুর)।

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন