• ইংল্যান্ডের দক্ষিণ আফ্রিকা সফর
  • " />

     

    এলগার, ভ্যান ডার ডুসেনের লড়াইয়ের পর ইংল্যান্ডের প্রত্যাবর্তন

    ২য় দিন, স্টাম্পস
    ইংল্যান্ড ১ম ইনিংস ২৬৯ অল-আউট (পোপ ৬১, রাবাদা ৩/৬৮, প্রিটোরিয়াস ২/২৬, ফিল্যান্ডার ২/৪৬)
    দক্ষিণ আফ্রিকা ১ম ইনিংস ২১৫/৮* (এলগার ৮৮, ভিডি ডুসেন ৬৮, অ্যান্ডারসন ৩/৩৪, ব্রড ২/৩৬, কারান ২/৩৯) 
    দক্ষিণ আফ্রিকা ১ম ইনিংসে ৫৪ রানে পিছিয়ে 


    প্রথম ইনিংসে ২৬৯ রানে গুটিয়ে যাওয়ার পর আবারও ইংল্যান্ডের হাত ফসকে বেরিয়ে যেতে ধরেছিল আরেকটি টেস্ট। বোলিংয়ে শুরুতে তিন আঘাতের পরও ডিন এলগার ও রাসি ভ্যান ডার ডুসেন চোখ রাঙাচ্ছিলেন তাদের। সে জুটি ইংল্যান্ড ভেঙেছে, দিনশেষে এগিয়ে গেছে। কেপটাউন টেস্টে দ্বিতীয় দিনটা তাই ইংল্যান্ডের, ৫৪ রানে পিছিয়ে যেটি শেষ করেছে দক্ষিণ আফ্রিকা, বাকি আছে ২ উইকেট। 

    প্রথম সেশনে জেমস অ্যান্ডারসনের উইকেট নিতে ১১ বল লেগেছিল দক্ষিণ আফ্রিকার, ৭ রান যোগ করেছিল ইংল্যান্ড। কাগিসো রাবাদার বাইরের বলে খোঁচা দিয়ে চিরায়ত টেইল-এন্ডারের মতো করেই আউট হয়েছেন অ্যান্ডারসন। সেটা বাদ দিলে ইংল্যান্ডের দারুণ এক সকালের তিন কারিগরের একজন ছিলেন তিনি। 

    অবশ্য প্রথম ব্রেকথ্রু দিয়েছিলেন ব্রড। ১২ রানের প্রথম ওভারের পর টানা দুই মেইডেন, এবং তৃতীয় ওভারে তিনি খুঁজে পেয়েছেন পিটার মালানের আউটসাইড-এজ। অফস্টাম্পের বাইরের সেই চ্যানেল, যেখানে ইংল্যান্ড ব্যাটসম্যানদের যবনিকাপাত ঘটেছে অসংখ্যবার, সেখানেই আঘাত করেছিলেন ব্রড। স্লিপে প্রায় গলার ওপর ক্যাচ নিয়ে বাকি কাজ সেরেছেন জো রুট। পরের ওভারে আবার ব্রড উল্লাসে ভেসেছেন, এবার জুবাইর হামজার আউটসাইড-এজ প্রায় মাটি থেকে ছোঁ মেরে নীচু হয়ে তুলেছেন বেন স্টোকস। 

    সকালে ইংল্যান্ডকে তৃতীয় সাফল্য এনে দিয়েছেন অ্যান্ডারসন, অফস্টাম্পের বাইরে থেকে সামান্য মুভমেন্ট করে বেরিয়ে যাওয়া বলটা কাল হয়েছে প্রোটিয়া অধিনায়ক ফাফ ডু প্লেসির, বাকি কাজটা সেরেছেন স্টোকস। ডিন এলগারকে ৩৫ ও রাসি ভ্যান ডার ডুসেনকে ১০ রানে রেখে হয়েছে লাঞ্চ। 

    তবে দ্বিতীয় সেশন ছিল ইংল্যান্ডের হতাশার, যেটি হতে পারত প্রথম সেশনের মতোই। ভ্যান ডার ডুসেনকে দারুণ এক ডেলিভারিতে প্রায় ফিরিয়ে দিয়েছিলেন ব্রড, তবে বেরসিক টিভি আম্পায়ার পরে চেক করে সেটিকে পেয়েছেন নো হিসেবে। স্টোকস প্রায় মাটি থেকে তুলেছিলেন আরেকটি ক্যাচ, তবে ধরে রাখতে পারেননি, এলগার অল্পর জন্য বেঁচে গেছেন রান-আউট থেকে। এর উলটো দিকে আছে এলগারের দারুণ এক ফিফটি, যে কোনও আলগা বল কাজে লাগিয়েছেন তিনি। ভিডি ডুসেনও কম যাননি, দুজনের জুটি ১০০ পেরিয়েছে এ সেশনেই। 

    ভিডি ডুসেন এরপর পেয়েছেন ফিফটি, অসাধারণ ব্যাটিং না হলেও ছিল কার্যকরী। আর এলগার ছুটছিলেন সেঞ্চুরির দিকে। তবে ডম বেস তার উপস্থিতি জানান দেওয়ায় ঘটেছে বিপত্তি। অফস্টাম্পের বাইরে থেকে তাকে তুলে মারতে গিয়েছিলেন এলগার, বলের পিচিংয়ে ঠিকঠাক পৌঁছাতে না পেরে ক্যাচ তুলে তাকে ফিরতে হয়েছে তিন অঙ্ক থেকে ১২ রান দূরে, পেছন ফিরে যেটি ভালভাবে নিয়েছেন রুট। এ উইকেট দিয়েই ইংল্যান্ড যেন পেয়েছে তাদের এ টেস্টে টিকে থাকার লাইফলাইন। 

    অবশ্য কুইন্টন ডি কক শুরু করেছিলেন সেঞ্চুরিয়নে তার ম্যাচসেরা ইনিংসের স্টাইলেই, ভিডি ডুসেনও চালিয়ে যাচ্ছিলেন। এবার স্যাম কারানের স্লোয়ার বুঝতে না পেরে মিড-অফে ধরা পড়েছেন ডি কক। ভারনন ফিল্যান্ডারকে নিয়ে বেশিক্ষণ থাকতে পারেননি ভ্যান ডার ডুসেন, কারানের ৭৯ মাইল গতির অফস্টাম্পের বাইরের বলে শেষ মুহুর্তে ব্যাটের ফেস ওপেন করে এজড হয়েছেন। তবে এ উইকেট যতটা কারানের, ততটা স্টোকসেরও, দ্বিতীয় স্লিপ থেকে ডানদিকে ঝাঁপিয়ে তিনি নিয়েছেন দারুণ সে ক্যাচ। 

    পুরোনো বলে আর কিছু ঘটেনি, নতুন বল নিয়েই অ্যান্ডারসন বের করেছিলেন ডোয়াইন প্রিটোরিয়াসের এজ। সেটা স্টোকসের হাতে ঢুকেই বেরিয়ে গেছে, বাঁদিকে ডাইভ দিয়েছিলেন স্টোকস। অবশ্য দায়মোচনের জন্য বেশি সময় নেননি তিনি, দুই বল পর ডানদিকে ঝাঁপিয়ে নিয়েছেন আরেকটি দারুণ ক্যাচ। নিজের আর এক ওভার পর দিনটা ইংল্যান্ডের জন্য পারফেক্ট বানিয়েছেন অ্যান্ডারসন, ব্যাট-প্যাডে ক্যাচ তুলে স্লিপে ধরা পড়ে ফিরেছেন কেশভ মহারাজ।