• ইংল্যান্ডের দক্ষিণ আফ্রিকা সফর
  • " />

     

    আহত সিংহের থাবা থেকে বেরুতে পারবে আহত মহিষের পাল?

    ৪র্থ দিন, স্টাম্পস
    ইংল্যান্ড ২৬৯ অল-আউট (পোপ ৬১, রাবাদা ৩/৬৮, প্রিটোরিয়াস ২/২৬, ফিল্যান্ডার ২/৪৬) ও ৩৯১/৮ ডিক্লে.  (সিবলি ১৩৩*, রুট ৬১, নরকিয়া৩/৬১)
    দক্ষিণ আফ্রিকা ২২৩ (এলগার ৮৮, ভিডি ডুসেন ৬৮, অ্যান্ডারসন ৫/৪০, ব্রড ২/৩৬, কারান ২/৩৯) ও ১২৬/২* (মালান ৬৩*, অ্যান্ডারসন ১/১৮)
    জয়ের জন্য ৮ উইকেটে আরও ৩১২ রান প্রয়োজন দক্ষিণ আফ্রিকার 


    আহত ‘মহিষের পাল’, নাকি আহত ‘সিংহ’? কেপটাউনে শেষদিনে কে হয়ে উঠবে ভয়ঙ্কর? আপাতত বলা যায়, সিংহের থাবায় পড়ে আছে মহিষ। টিকে থাকতে হলে প্রাণপণ লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। আপাতত ওই টিকে থাকাটাই লক্ষ্য হতে পারে তাদের, সিংহকে ঠিক পরাজিত করার মতো অবস্থা খুব একটা যে নেই। শেষদিন জয়ের জন্য ৩১২ রান রীতিমতো অলৌকিক এক পথ, ৯০ ওভার ব্যাটিং করাটাই সেখানে হতে পারে দক্ষিণ আফ্রিকার মূল লক্ষ্য। আর ইংল্যান্ড বিজয় হুঙ্কারটা দিতে পারে ৮ উইকেট নিয়ে। 

    ডম সিবলির ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি, বেন স্টোকসের দানবীয় ৪৭ বলে ৭২ রানের ইনিংসের পর পিটার মালানের ফিফটি কেপটাউন টেস্টকে নিয়ে গেছে এই পর্যায়ে। ডিন এলগারের পর জুবায়ের হামজার সঙ্গে দুটি জুটিতে ইংল্যান্ডকে বেশ হতাশ করেছেন মালান, ওই দুজনকে ফেরালেও তাকে এখনও টলাতে পারেনি ইংল্যান্ড। 

    ২৬৪ রানে এগিয়ে থেকে দিন শুরু করেছিল ইংল্যান্ড, শুরুটা একটু শুনশানই ছিল তাদের। এক ওভার পরই নতুন বল পাওয়ার কথা থাকলেও দক্ষিণ আফ্রিকা সেটি নেয়নি তখন, হয়তো আগেরদিন পুরোনো বলের সাফল্য ফাফ ডু প্লেসিকে একটু আশা জুগিয়েছিল। দিনের তৃতীয় ওভারে ডোয়াইন প্রিটোরিয়াসকে মিডউইকেট দিয়ে চার মেরে স্টোকস তার পার্টি শুরু করেছেন, প্রিটোরিয়াসের পরের ওভারেই ছয়ের পর রিভার্স হিটে চার মেরে চালিয়ে গেছেন। পুরোনো বল নিয়েই মহারাজ এসেছিলেন, স্টোকস তাকেও আছড়ে ফেলেছেন কাউ-কর্নারের ওপাশে। 

    পরের ওভারেই নতুন বল নিলেও অবশ্য খুব একটা সুবিধা হয়নি দক্ষিণ আফ্রিকার। অবশ্য ফিল্যান্ডারকে দুই চারের পর রাবাদার বলে স্টোকস আকাশে তুলেছিলেন বল, তবে কুইন্টন ডি ককের অনেক দৌড়ে গিয়ে করা চেষ্টা শেষ পর্যন্ত বৃথাই গেছে, ৩৮ রানে প্রথম লাইফলাইন পেয়েছেন স্টোকস। স্টোকসের তোপে যেন হারিয়ে যেতে বসেছিলেন সিবলিও, নড়বড়ে নব্বইয়ে একটা চারের পর আরেকটি এজে বাউন্ডারি- আরও নড়বড়ে নিরানব্বইয়ে গিয়ে সিবলি অবশ্য অপেক্ষা করেছেন মাত্র ২ বল। মহারাজকে সুইপে চার, এরপরই সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। যে ক্ষণ সিবলি মনে রাখবে হয়তো আজীবনই।

    সিবলির মাইলফলকের আগেই স্টোকস ৩৪ বলে পেয়ে গেছেন ফিফটি, এরপর আরও কিছুক্ষণ ঝড় তুলে মহারাজকে তুলে মারতে গিয়ে লং-অনে ক্যাচ দেওয়ার আগে করেছেন মেরেছেন ৭টি চার, ৩টি ছয়। কাগিসো রাবাদার বলে ওলি পোপ স্টাম্পে বল ডেকে আনলে দক্ষিণ আফ্রিকা আরেকটু স্বস্তি পেয়েছে, তবে বাটলার এসে স্টোকসের রেখে যাওয়া কাজ যেন আবার শুরু করেছিলেন। 

    সিবলির সঙ্গে ৩২ বলে ৪১ রান তোলার পর আনরিখ নরকিয়াকে স্কুপ করতে গিয়ে গ্লাভড হয়ে অবশ্য ফিরতে হয়েছে বাটলারকে, কারান এসে দুই চার মেরে ইনিংস ঘোষণাকে এগিয়ে এনেছেন বলতে গেলে কিছুটা। ইংল্যান্ড অবশ্য লাঞ্চের পর খেলেছে আর কিছুক্ষণ, কারানের উইকেটের পর বোর্ডে ৪৩৭ রান করে প্রোটিয়াদের আমন্ত্রণ জানিয়েছে তারা ব্যাটিংয়ে। 

    এলগার-মালানের ব্যাটিংয়ের সময় হুট করেই যেন পিচ বদলে গেল, কোনো ফোঁসফাঁস করা ভুলে গেল সেটি। চা-বিরতির আগে তো রুট-ডেনলির অল-আউট স্পিন আক্রমণও দেখা গেল। তবে এলগার মালানকে শীঘ্রই টলাতে পারেনি তারা। ইংল্যান্ডকে প্রথম ব্রেকথ্রু এনে দিয়েছেন ওই ডেনলিই। 

    এলগারের সে উইকেটে অবশ্য মিশে আছে বিতর্ক। আম্পায়ার পল রাইফেল বেশ কিছুক্ষণ সময় নিয়ে তাকে কট-বিহাইন্ড দিলেও এলগার রিভিউ নিয়েছিলেন সঙ্গে সঙ্গেই, আল্ট্রা-এজ সেখানে দেখিয়েছে সূক্ষ্মতম এক এজ। টিভি আম্পায়ার তাতেই বহাল রেখেছেন অন-ফিল্ড কল, ৭১ রানের ওপেনিং জুটিও ভেঙেছে তাতে। 

    হামজা এসেও দিয়েছেন লম্বা ইনিংসের ইঙ্গিত, তবে শেষবেলায় অ্যান্ডারসনের রিভার্স সুইংয়ে হার মানতে হয়েছে তাকে। ওপাশে অবশ্য ১৯৩ বল খেলে ৬৩ রানে অপরাজিত মালান। তবে শেষদিন মালানকে করতে হবে আরও অনেক কিছু, অথবা মালানের মতো আরও ইনিংস প্রয়োজন হবে দক্ষিণ আফ্রিকার। 

    আর তাতেই নির্ধারিত হবে, কেপটাউনে আহত মহিষের পাল বের হতে পারবে কিনা আহত সিংহের থাবা থেকে।