• বঙ্গবন্ধু বিপিএল
  • " />

     

    'পরিণত' লিটনের পেছনে অবদান তার বিয়ের, তৃপ্তি আছে নিজের মতো খেলতে পেরে

    'পরিণত' লিটনের পেছনে অবদান তার বিয়ের, তৃপ্তি আছে নিজের মতো খেলতে পেরে    

    লিটন দাসের একটা আফসোস আছে। চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের বিপক্ষে যখন আউট হলেন, জয় থেকে ১৮ রান দূরে ছিল তার দল। ম্যাচটা শেষ করে আসতে পারতেন। অবশ্য সে আফসোসটুকু বাদ দিলে লিটনের তৃপ্তিই আছে। এবার বিপিএলে যেভাবে খেলতে চেয়েছিলেন, মোটামুটি সেভাবে খেলতে পারছেন বলে। তবে এর জন্য নিজের পরিণতবোধকে কৃতিত্ব দিচ্ছেন তিনি। আর সে পরিণতবোধের পেছনে কারণে হিসেবে জাতীয় দলের এই উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান দেখছেন নিজের বিয়েকেও। 

    চট্টগ্রামের বিপক্ষে ৭৫ রানের ইনিংস দিয়ে এ বিপিএলে ৪০০ পেরিয়ে গেছেন লিটন, তিনটি ফিফটির দুটি করেছেন টানা। স্ট্রাইক রেটটাও ধরে রেখেছেন প্রায় ১৪০-এর কাছাকাছি রেঞ্জে। গত বিপিএলে ১৪১ স্ট্রাইক রেটে ব্যাটিং করলেও ১১ ইনিংস খেলে করতে পেরেছিলেন ১৭.৪৫ গড়ে ১৯২ রান। এখানেই পরিবর্তন আনতে চেয়েছিলেন লিটন। 

    “পরপর দুই ম্যাচে ফিফটি করা এটা তো অবশ্যই তৃপ্তিদায়ক”, বলছেন লিটন, “টুর্নামেন্ট যখন শুরু হয় তখন হয়তো আমার লক্ষ্য ছিল স্বাভাবিক ব্যাটিং করা। হয়তো আমার স্ট্রাইক রেট থাকবে ১৪০-এর বেশি। নিজের মনের ভেতর এটা ছিল যে ১৩০ বা ১৩৫-এর ভেতরে থাকব। আবার ১৩০-এর নিচেও থাকতে পারে। কিন্তু আমার পরিকল্পনা ছিল লম্বা ইনিংস খেলার। ১২ কিংবা ১৫ ওভার পর্যন্ত খেলার। তাহলে ৪০ বা ৫০ হয়ে যায়।”

    লিটন তার এই পরিবর্তনে প্রক্রিয়াকে আলাদা কোনও কিছু বলতে চান না, “আমার তো একটাই প্রক্রিয়া-  অনুশীলনে যা করি। কোনো সময় হয়, কোনো সময় হয় না। এবার হয়তো হচ্ছে। এর পেছনে বড় কারণ থাকতে পারে যে, পরিণতবোধ লাগবে। আমি এর আগে যে কয়েকটি বিপিএল খেলেছি, (সেগুলোতে) মারলে মারতেই থাকতাম। আমার পরিকল্পনা থাকতো আমি সব ধরনের শট খেলতে পারি তাই সব শট খেলবো। কিন্তু এই বিপিএলে আমি অনেক শট কমিয়ে দিয়েছি।”
     


    “আগের দুই-তিন বিপিএলে হয়তো আমার ১৫ বলে ২৭ বা ৩০ রান থাকত। তখন আউট হয়ে যেতাম। কিন্তু এ বিপিএলে দেখবেন আমার (প্রথম) ১৫ বলে সর্বোচ্চ রান ১৭ বা ১৩। ওই জায়গাটায় আমি হয়তো স্বাভাবিক ক্রিকেট খেলছি। পাওয়ারপ্লেতে অবশ্য বোলাররা ব্যাকফুটে থাকে সব সময়। আমি যদি একটা চার মেরে দেই পরের বলে বোলাররা কী করবে তা একবার হলেও চিন্তা করতে পারে। এখানে নিজের ওপর একটু ভরসা করার চিন্তা করছি। তাই সব ধরনের শট খেলা বাদ দিয়েছি। বেছে বেছে খেলছি।”

    লিটন নিজের টেকনিকেও কিছুটা পরিবর্তন এনেছেন, চেষ্টা করছেন সে পরিবর্তন কাজে লাগাতে, “আমি আগে এভাবে ব্যাটিং করতাম না। নিলের (ম্যাকেঞ্জির) সঙ্গে অনেক দিন হলো কাজ কেরছি। কাজের কারণে একটু পরিবর্তন হয়েছে। ফিট মুভমেন্ট মূলত মাথার পজিশনের সঙ্গে আমার পরিবর্তন হয়েছে। আমি দুই-তিনটা ম্যাচেও আমার মাথা নিচে নেমে যাচ্ছে। সেখানে এখনও কাজ করছি।”

    তবে এই যে টেকনিক, নিজের ব্যাটিং নিয়ে পরিকল্পনা- সেসবের পেছনে যে পরিণতবোধের কথা লিটন বলছেন, তার পেছনে আছে মূলত দুটি কারণ। এক- তার অল্প বয়সে বিয়ে। দুই- জাতীয় দল থেকে বাদ পড়া। 

    “ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা তো আছেই। তবে আমি খুব সৌভাগ্যবান যে কম বয়সে বিয়ে করতে পেরেছি। বিয়ে জিনিসটা আমার পরিণতবোধের মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে। এটা আমার অনুভূতি। জানি না কার কী অনুভূতি।” 

    “আমি যখন ২০১৬-১৭তে খারাপ ক্রিকেট খেলেছি তখন জাতীয় দলের বাইরে ছিলাম। আমি কিন্তু অফফর্মে থাকিনি। ওই জায়গায় আমি অনেক কিছু শিখেছি। ঠেকেছি সঙ্গে শিখেছি। ওটা আমাকে অনেক সাহায্য করেছে। আবার বিয়ের পর পরিণবোধটা বেড়েছে। সেটা মাঠে হোক বা বা মাঠের বাইরে হোক। সবকিছুতেই।”