• ফ্রেঞ্চ লিগ ওয়ান
  • " />

     

    নেইমারের জোড়া গোলেও মোনাকোকে হারাতে পারল না পিএসজি

     ফুল-টাইম

    প্যারিস সেইন্ট জার্মেই ৩-৩ এএস মোনাকো 


    ফ্রেঞ্চ লিগে বরাবরের মত এবারও দুর্দান্ত ফর্মে আছে প্যারিস সেইন্ট জার্মেই। শিরোপা প্রত্যাশী অলিম্পিক মার্শেই, বা লিঁও- থমাস তুখলের দলের কাছে পাত্তা পায়নি কেউই। পার্ক দে প্রিন্সে ম্যাচডে ১৯-এ পিএসজির প্রতিপক্ষ ছিল শীর্ষ ১০-এই থাকতে হিমশিম খেতে থাকা এএস মোনাকো। দল নেই ফর্মে, তার ওপর নতুন ম্যানেজার রবার্তো মরেনোর প্রথম ম্যাচ ফ্রেঞ্চ চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে। কিন্তু ভুগতে থাকা মোনাকো যেন প্যারিসে ঘুরে দাঁড়াল আহত বাঘের মত। পিছিয়ে পড়েও ৩-৩ গোলে পিএসজিকে রুখে দিয়েছে তারা। মাউরো ইকার্দি, কিলিয়ান এমবাপ্পেরা জাল খুঁজে না পেলেও জোড়া গোল করেছেন নেইমার।

    তবে নিজেদের মাঠে ম্যাচের শুরুতে আরও এক সহজ জয়েরই ইঙ্গিত দিচ্ছিল পিএসজি। ৩ মিনিটেই মার্কো ভেরাত্তির লম্বা পাসে চমৎকার ফিনিশে দলকে এগিয়ে নিয়েছিলেন নেইমার। শুরুতেই গোল হজম করলেও মোনাকোর প্রত্যাবর্তন ছিল দুর্দান্ত। ৭ মিনিটে শট নেওয়ার আগে মোনাকো স্ট্রাইকার উইসাম বেন ইয়েদেরকে ফাউল করে বসেন পিসজি গোলরক্ষক কেইলর নাভাস। রেফারি ফাউলের বাঁশি না দিলে ফাঁকা পোস্ট পেয়ে দলকে সমতায় ফেরান জেলসন মার্টিন্স। মোনাকো সমতায় ফেরায় পিএসজি সমর্থকরা হতাশ হয়ে থাকলে মিনিট পাঁচেক পর রীতিমত হারের আশঙ্কা জেঁকে ধরে তাদের।

    ১৩ মিনিটে আলেকজান্ডার গলোভিনের সাথে দারুণ এক 'ওয়ান টু' করে ডিবক্সে ক্রস করেন মার্টিন্স। তার পাস থেকে দলকে এগিয়ে নেন বেন ইয়েদের। কিছুক্ষণ বাদে ব্যবধান আরও বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছিল মোনাকো। কিন্তু দুর্দান্ত সেভে কেইটা বালদেকে ফিরিয়ে দেন নাভাস। অবশ্য ব্যবধান ৩-১ করতে না পারার পেছনে নিজেদেরও দুষতে পারে মরেনোর দল। প্রথমার্ধের শেষদিকে সেস্ক ফ্যাব্রিগাসের কর্নারে মোনাকো অধিনায়ক কামিল গ্লিকের হেড ফিরিয়ে দিয়েছেন  তবে খুব বেশি সময় পিছিয়ে থাকতে হয় ফ্রেঞ্চ চ্যাম্পিয়নদের। বাঁ-প্রান্ত থেকে ইকার্দির উদ্দেশ্যে নেইমারের ক্রস ক্লিয়ার করতে যেয়ে নিজেদের জালে বল ঠেলে দেন বালো-তোরে।

     

     

    তার ক্রসে সমতায় ফিরেছিল পিএসজি। ৪২ মিনিটে নেইমারের গোলে আবারও লিড নেয় তুখলের দল। এমবাপ্পেকে ডিবক্সে ফেলে দিয়ে পিএসজিকে পেনাল্টি উপহার দেন জেলসন। ১২ গজ থেকে ভুল করেননি নেইমার। আক্রমণ, পাল্টা-আক্রমণে ঠাসা প্রথমার্ধে অবশ্য গোলের আরও সুযোগ পেয়েছিল দু'দলই। কিন্তু প্রথমার্ধের শেষদিকে সুযোগ দুটি হাতছাড়া করেছেন এমবাপ্পে এবং ফ্যাব্রিগাস। পিএসজির জার্সিতে খুব সম্ভবত নিজের অন্যতম গড়পড়তা পারফরম্যান্স দিলেন ফ্রেঞ্চ ফরোয়ার্ড।

    গোলের একাধিক সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারেননি। এমবাপ্পের মত ফর্মে ছিলেন না স্ট্রাইকার মাউরো ইকার্দিও। আক্রমণে নিজের ছায়া হয়েই ছিলেন তিনি। দুই ফরোয়ার্ডের বর্ণহীন থাকার দিনে পিএসজির আক্রমণ একা টেনেছেন নেইমার। দ্বিতীয়ার্ধেও ছিলেন ক্ষীপ্র, কিন্তু মোনাকোর 'বাস পার্ক' ট্যাকটিক্সের সামনে আর হ্যাটট্রিকটা পাওয়া হয়নি তার। প্রথমার্ধের মত দ্বিতীয়ার্ধেও গোলের সুযোগ পেয়েছিলেন এমবাপ্পে, কিন্তু আবারও তুখলকে হতাশ করেছেন তিনি। প্রথমার্ধে নিজের ছায়া হয়ে থাকলেও দ্বিতীয়ার্ধে গোলের সুযোগ পেয়েছিলেন ইকার্দিও। মোনাকো গোলরক্ষক বেনজামিন লেকঁনকে একা পেয়েছিলেন দু'বার, কিন্তু কোনোবারই জাল খুঁজে পাননি আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকার। পিএসজির মিসের মহড়ায় সমতায় ফেরে মোনাকো।

    ৭০ মিনিটে গোলমুখে জটলা থেকে গোল করেন স্ট্রাইকার ইসলাম স্লিমানি। প্রথমে অফসাইডের বাঁশি দিলেও শেষ পর্যন্ত 'ভিএআর'-এ বদলায় সিদ্ধান্ত। ম্যাচের শেষদিকে দলকে জেতানোর এবং হ্যাটট্রিক পূরণের আরও এক সুযোগ পেয়েছিলেন নেইমার, কিন্তু তার ফ্রি-কিক অল্পের জন্য চলে যায় গোলের ওপর দিয়ে। শেষ পর্যন্ত এমবাপ্পে-ইকার্দির গোলমুখে ব্যর্থতার দিনে পয়েন্ট ভাগাভাগি করতে হল পিএসজিকে। ১৯ ম্যাচে ৪৬ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষেই আছে তুখলের দল, এক ম্যাচ বেশি খেলা মার্শেইয়ের চেয়ে ৫ পয়েন্টে এগিয়ে আছে তারা।