• ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ
  • " />

     

    'রুদ্ধ' পাকিস্তানে দলীয় সংহতির অন্য পিঠ দেখছেন বাংলাদেশ কোচ

    নাজমুল হাসান পাপন গত কদিনে নিয়মিতই এসেছেন ক্রিকেট বোর্ডে। বিপিএলের কোয়ালিফায়ার, ফাইনাল এর মধ্যে আবার পাকিস্তান সফর নিয়ে সিদ্ধান্ত ছিল। সেই সফরের পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবে আজ এসেছিলেন বাংলাদেশ দলের ক্যাম্পে। কোচ রাসেল ডমিঙ্গোর সঙ্গে কথা বলেছেন, তামিমদের সঙ্গেও আলাপ করেছেন। বাংলাদেশ দল তো নিয়মিতই বিদেশ সফরে যায়, তবে এবারেরটা অনেক দিক দিয়েই অন্যরকম। শংকা আর অনিশ্চয়তার এই দোলাচলের মধ্যেও একটা ইতিবাচক দিক দেখতে পাচ্ছেন বাংলাদেশ দলের কোচ রাসেল ডমিঙ্গো।

    ২০০৯ সালে শ্রীলংকা দলের ওপর সন্ত্রাসী হামলার পর দীর্ঘদিন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট নির্বাসিত ছল পাকিস্তান। এরপর জিম্বাবুয়ে, ওয়েস্ট ইন্ডিজ এলেও টেস্ট ম্যাচ হয়নি পাকিস্তানে। কিছুদিন আগে শ্রীলংকাই আবার টেস্ট খেলে নির্বাসন থেকে মুক্তি দিয়েছে পাকিস্তানকে। বাংলাদেশের ওপর থেকে চাপ বাড়ছিল এরপর নানা কারণে। এরপর নানান আলোচনা, কূটনৈতিক পর্যায় পেরিয়ে ঠিক হয়েছে  তিন ধাপে বাংলাদেশ পাকিস্তান যাবে। ২৪ সেপ্টেম্বর টি-টোয়েন্টি সিরিজ দিয়ে যেটি শুরু হচ্ছে।

    সবার আগে প্রশ্ন আসছে নিরাপত্তার কারণেই। পাকিস্তান কতটা নিরাপদ, সেটি নিয়ে মুশফিকের মতো নিশ্চিত নন বাংলাদেশ দলের বোলিং কোচ ভেট্টোরি, ব্যাটিং পরামর্শক নিল ম্যাকেঞ্জিসহ কোচিং স্টাফের আরও কয়েকজন। সেজন্য তারা এই সফর থেকে নাম উঠিয়ে নিয়েছেন। ডমিঙ্গো আগেই বলেছিলেন, তার পাকিস্তান যেতে আপত্তি নেই। আজ নিজের কথার বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন, ‘আমার কাছে কাজটা সহজ ছিল। আমি বাংলাদেশে কাজ করতে এসেছি দলটাকে দেখভাল করার জন্য এবং উন্নতি করার জন্য। এই কাজটা আমাকে যেখানেই হোক করতে হবে। আমি কখনো পাকিস্তানে যাইনি। আমি মনে করি ভালো একটা চ্যালেঞ্জের সঙ্গে অ্যাডভেঞ্চারও হয়ে যাবে। আমি দেখতে চাই ওখানে ক্রিকেট কীভাবে কাজ করে।’

    তবে কোচিং স্টাফের কেউ কেউ এই ‘অ্যাডভেঞ্চার’ নিতে রাজি হননি। যেমন হননি মুশফিকও। ডমিঙ্গো সিদ্ধান্তের ভার ছেড়ে দিচ্ছেন তাদের ওপরেই, ‘এটা তো ওদের সিদ্ধান্ত। দুঃখজনক তো বটেই। তবে খেলা তো আর বন্ধ থাকবে না। খেলোয়াড়েরা হচ্ছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। যতক্ষণ পর্যন্ত তারা রাজি হচ্ছে, সেটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’

    না হয় শেষ পর্যন্ত দল গেলই, প্রশ্ন হচ্ছে এমন অন্তরীণ অবস্থায় খেলায় মনযোগ দেওয়া কতটা সম্ভব? যেখানে বাংলাদেশ দলের কাছে ক্রাইস্টচার্চের স্মৃতি এখনও পুরনো হয়নি? এমনিতে পাকিস্তানে একেবারেই সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য যাচ্ছে বাংলাদেশ। ম্যাচ শুরুর আগের দিন লাহোর পৌঁছাবে, বিসিবি সভাপতি আজ অবশ্য বললেন পৌঁছানোর দিন বিকেলে হালকা অনুশীলন করতে পারবে দল। আর পরের দিন রাতে ম্যাচ হওয়ায় কিছুটা বিশ্রামও পাবে। তবে টানা দুই দিন ম্যাচের পর একদিন বিরতি হয়ে আবার একটি ম্যাচ। এই কদিন মোটামুটি অন্তরীণ সময় কাটবে ক্রিকেটারদের। সর্বোচ্চ পুলিশি প্রহরায় হোটেলেই বন্দি থাকতে হবে।

    ডমিঙ্গো অবশ্য বলছেন, এমন পরিস্থিতিতে মনযোগ ধরে রাখাটা সমস্যা হবে না। বরং উল্টো একটা দিক দেখছেন, ‘এজন বোলার যখন বল করতে নামবে তখন সে শুধু বলটার কথাই চিন্তা করবে। একই কথা ব্যাটসম্যানের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। আমার মনে হয় না ফোকাসে তেমন কোনো সমস্যা হবে। আবার কখনো কখনো এরকম রুদ্ধ পরিবেশ দলের জন্য ভালোও হতে পারে। সবাই একসঙ্গে থাকলে বন্ধনটা আরও জোরালো হতে পারে। আমরা অপেক্ষা করছি সামনে কী হয়।’

    ডমিঙ্গো স্বীকার করলেন, টানা সিরিজ খেলে ফেললে সেটা ক্রিকেটারদের জন্য ভালো হতো। কিন্তু সেটা তো আর হাতে নেই, আপাতত মেনে নিতে হচ্ছে বাস্তবতা। সেটি মেনে নিয়েই পাকিস্তান সফর থেকে আনতে চান ভালো কিছু।