• ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ
  • " />

     

    এমিরেটসের প্রতিশোধ স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে নিল আর্টেটার আর্সেনাল, সিটিকে জেতালেন আগুয়েরো

    ফুল-টাইম

    চেলসি ২-২ আর্সেনাল

    শেফিল্ড ইউনাইটেড ০-১ ম্যানচেস্টার সিটি


    এমিরেটসে ম্যাচের প্রায় পুরোটা সময় এগিয়ে থেকেও শেষদিকে চেলসির জোড়া গোলে মাটি হয়ে গিয়েছিল আর্সেনাল ম্যানেজার মিকেল আর্টেটার 'হোম' অভিষেক। স্ট্যামফোর্ড ব্রিজেও আরেকটু হলে হারতে বসেছিল আর্সেনাল। কিন্তু এবার প্রতিশোধ নিল আর্টেটার দল। চেলসির মাঠে জিততে পারেনি আর্সেনাল, তবে অন্তিম মুহূর্তের গোলে পয়েন্ট ছিনিয়ে এনেছে তারা। হেক্টর বেয়েরিনের শেষদিকের গোলে চেলসির বিপক্ষে দু'বার পিছিয়ে পড়েও ড্র করেছে আর্সেনাল। লন্ডনের দুই ক্লাবের পয়েন্ট ভাগাভাগির দিনে জয় পেয়েছে ম্যানচেস্টার সিটি। সার্জিও আগুয়েরোর একমাত্র গোলে শেফিল্ড ইউনাইটেডকে হারিয়েছে পেপ গার্দিওলার দল।

    নিজেদের মাঠে শেষ ৫ ম্যাচের ৩টিতেই হেরেছিল চেলসি। অন্যদিকে প্রতিপক্ষের মাঠে আর্সেনালের শেষ হার এসেছিল প্রায় মাস দুয়েক আগে। স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে অবশ্য শুরুটা দারুণ করেছিল চেলসিই। অবশ্য এগিয়ে যাওয়ার জন্য আর্সেনালের দুই সেন্টারব্যাক স্কোদরান মুস্তাফি এবং ডেভিড লুইজকে ধন্যবাদ জানাতেই পারে চেলসি। মুস্তাফির ভুল ব্যাকপাসে আর্সেনাল গোলরক্ষক বার্নড লেনোকে একা পেয়ে যান ট্যামি আব্রাহাম। জার্মান গোলরক্ষককে কাটিয়ে শট নেওয়ার আগে তাকে ডিবক্সে ফেলে দেন লুইজ। পেনাল্টি পায় চেলসি, লাল কার্ড দেখেন সাবেক 'ব্লুজ' ডিফেন্ডার। স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে ফেরাটা মোটেও স্মৃতিময় হল না তার।

    এমিরেটসে গোল করে দলকে সমতায় ফিরিয়েছিলেন জর্জিনহো এবার নিজেদের মাঠে ২৮ মিনিটে পেনাল্টিতে গোল করে দলকে লিড এনে দেন তিনিই। লাল কার্ড পেয়ে আর দশজন ম্যানেজারের মত বদলি ফুটবলার না নামিয়ে ট্যাকটিক্স বদলে ফেলেন আর্টেটা। টোটকা কাজে লেগেছে তার। লিড নিলেও ম্যাচের বাকিটা সময় সুবিধা করতে পারেনি চেলসি। অবশ্য সমতায় ফিরতে বেশ অনেকটাই অপেক্ষা করতে হয়েছিল আর্সেনালকে। ৬৩ মিনিটে সেই মুস্তাফির ক্লিয়ারেন্সেই নিজেদের অর্ধে বল পেয়ে চেলসির তিন ফুটবলারকে কাটিয়ে গোলরক্ষক কেপা আরিজাবালাগাকে পরাস্ত করেন গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেলি। নিষেধাজ্ঞার কারণে অনুপস্থিত আর্সেনাল অধিনায়ক পিয়ের-এমেরিক অবামেয়াংয়ের অভাবটা বুঝতেই দেননি তিনি।

     

     

    তবে ম্যাচের শেষদিকে জয় ছিনিয়ে আনার ইঙ্গিত দিচ্ছিল ল্যাম্পার্ডের দল। ৮৪ মিনিটে ক্যালাম হাডসন-ওদোয়ের ক্রসে পা ছুঁয়ে লিড পুনরুদ্ধার করেন সিজার অ্যাজপিলিকুয়েতা। কিন্তু আবারও নিজেদের 'অ্যাকিলিস হিল' রক্ষণের কারণে হতাশ হতে হয়েছে চেলসিকে। ৮৭ মিনিটে লুকাস তোরেইরার পাসে ডানপ্রান্ত থেকে কাট করে বাঁ-পায়ের চমৎকার বাঁকানো শটে দলকে সমতায় ফেরান বেয়েরিন। স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে দারুণ এক ড্রয়ে নিজেদের শেষ ৫ম্যাচে অপরাজিত থাকল আর্সেনাল। ২৪ ম্যাচে ৩০ পয়েন্ট নিয়ে ১০-এই থাকল আর্টেটার দল। ৪০ পয়েন্ট নিয়ে চার-এ আছে চেলসি।

     

     

    শেফিল্ডের মাঠে ম্যাচের শুরু থেকে আক্রমণে এগিয়ে ছিল সিটিই। মাহরেজ-হেসুস-স্টার্লিং ত্রয়ীর একের পর এক আক্রমণে 'ব্লেইডস' রক্ষণভাগকে কাঁপিয়ে দিচ্ছিল তারা। কিন্তু শেফিল্ড গোলরক্ষক ডিন হেন্ডারসন ছিলেন দুর্দান্ত ফর্মে। দুর্দান্ত সব সেভে শুধু প্রথমার্ধেই সিটির অন্তত ৩টি নিশ্চিত গোল ফিরিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। তবে প্রথমার্ধে লিড নিতে না পারায় নিজেদেরও দুষতে পারে সিটি। ৩৬ মিনিটে মাহরেজকে ডিবক্সে ফেলে দিয়ে সিটিকে পেনাল্টি উপহার দেন ক্রিস ব্যাশাম। আগুয়েরোর অনুপস্থিতিতে ১২ গজ থেকে পেনাল্টি নিতে এগিয়ে আসেন হেসুস। কিন্তু তাকেও ফিরিয়ে দেন হেন্ডারসন।

    আবারও পয়েন্ট হারানোর আশঙ্কায় শেষ পর্যন্ত ৬৭ মিনিটে আগুয়েরোকে নামিয়ে দেন গার্দিওলা। ম্যানেজারের আস্থার প্রতিদান দিতে প্রায় ৬ মিনিট নেন 'কুন'। কেভিন ডি ব্রুইনের পাসে গোলের একেবারে সামনে থেকে সিটির জার্সিতে নিজের ২৫৩তম গোল করেন আগুয়েরো। শেষ পর্যন্ত আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি শেফিল্ড। ২৪ ম্যাচে ৫১ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে থাকল সিটি। তাদের থেকে এক ম্যাচ কম খেলা লেস্টার সিটির চেয়ে ৬ পয়েন্টে এগিয়ে আছে গার্দিওলার দল। সবার ওপরে থাকা লিভারপুলের সংগ্রহ ২২ ম্যাচে ৬৪ পয়েন্ট।