• ইংল্যান্ডের দক্ষিণ আফ্রিকা সফর
  • " />

     

    জোহানেসবার্গ লেট কাট : উড যখন অলরাউন্ডার, ফিল্যান্ডারের বিবর্ণ বিদায়

    ইংল্যান্ড ৪০০ ও ২৪৮
    দক্ষিণ আফ্রিকা ১৮৩ ও ২৭৪
    ইংল্যান্ড ১৯১ রানে জয়ী ও সিরিজ ৩-১ ব্যবধানে জয়ী


    সেঞ্চুরিয়নে জয় দিয়ে সিরিজের শুরুটা দক্ষিণ আফ্রিকা করেছিল দারুণ প্রত্যাশা জাগিয়ে। তবে এরপর থেকে মিলিয়ে গেছে সেসব, টানা ৩ টেস্ট হেরে সিরিজ খুইয়েছে তারা। শেষ হারটি এলো জোহানেসবার্গে। জ্যাক ক্রলি, জো রুট ও ওলি পোপের ফিফটির সঙ্গে টেইল-এন্ডারে গুরুত্বপূর্ণ অবদানে প্রথম ইনিংসে ৪০০ রান তোলার পর মার্ক উডের ৫ উইকেটে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ১৮৩ রানে অল-আউট করে কাজটা এগিয়ে রেখেছিল ইংল্যান্ড। দ্বিতীয় ইনিংসে রুটের ফিফটির সঙ্গে সিবলি-কারানদের অবদানে স্বাগতিকদের ৪৬৬ রানের প্রায় অসম্ভব লক্ষ্য দিয়েছিল ইংল্যান্ড। রাসি ভ্যান ডার ডুসেনের ৯৮ রানের ইনিংসের সঙ্গে ফাফ ডু প্লেসি ও কুইন্টন ডি ককের ৩০-পেরুনো দুটি ইনিংস দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য যথেষ্ট হয়নি। বৃষ্টিবিঘ্নিত টেস্টেও ইংল্যান্ড ৪ দিনের ভেতরই জিতে গিয়ে সিরিজ জিতে গেছে ৩-১ ব্যবধানে।  


    উড যখন অলরাউন্ডার

    বোধহয় এই মুহুর্তে ইংল্যান্ডের সবচেয়ে সুখী মানুষ তিনি। চোটের সঙ্গে নিত্য বসবাস তার, প্রায় ৫ বছরের ক্যারিয়ারে এটি ছিল মাত্র ১৫তম টেস্ট। ২০১৭ সালের পর প্রথমবার টানা দুই টেস্ট খেললেন, ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারির পর প্রথম টেস্ট খেলতে নেমেছিলেন পোর্ট এলিজাবেথে। ৩ উইকেটের সঙ্গে ৪২ রানের ট্যালি ছিল তার। জোহানেসবার্গে উড রীতিমতো আগুন ঝড়ালেন, দক্ষিণ আফ্রিকা তার আগুনে পুড়ে হলো ছারখার। প্রথম ইনিংসে ৫ উইকেটের পর দ্বিতীয় ইনিংসে নিলেন আরও ৪টি, চতুর্থ দিনেই ইংল্যান্ডের জয় নিশ্চিত করার কাজটা এগিয়ে দিলেন। ব্যাটিংয়েও প্রথম ইনিংসে ৩৯ বলে ৩৫ রানের পর দ্বিতীয় ইনিংসে করেছেন ১২ বলে ১৮- স্যার রিচার্ড হ্যাডলির পর এক টেস্টে ৯ বা এর বেশি উইকেটের সঙ্গে ১০০-এর বেশি স্ট্রাইক রেটে ৫০ বা এর বেশি রান করা দ্বিতীয় ক্রিকেটার তিনি! ক্যারিয়ারে দ্বিতীয়বার ম্যাচসেরার পুরষ্কারটাও পেলেন, উড ছাড়া এটি আর এই টেস্টে কেইবা পাবেন!

    বর্ণিল ক্যারিয়ারে বিবর্ণ বিদায় ফিল্যান্ডারের 

    এমন বিদায় কেইবা চায়। এমন বিদায় সতীর্থকে কোন দলই বা দিতে চায়। তবে চাওয়ার সঙ্গে পাওয়া তো মেলে না সবসময়! ভারনন ফিল্যান্ডারের ক্ষেত্রেও হলো তাই। সেঞ্চুরিয়নের প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসে ১৬ রানে ৪ উইকেট নিয়ে বিদায়ী সিরিজ শুরু করেছিলেন, এরপর থেকেই নিজেকে হারিয়ে খুঁজেছেন। শেষ টেস্টের প্রথম ইনিংসে ৫০ রানে ২ উইকেট নিলেন, তবে জস বাটলারের উইকেটে তার উদযাপনে বাড়াবাড়ি খুঁজে পেয়ে ম্যাচ ফির ১৫ শতাংশ জরিমানা করল আইসিসি। 

    ব্যাটিংয়ে ৩ বলে ৪ রানের পর দ্বিতীয় ইনিংসে বোলিং করতে গিয়ে মুখোমুখি হলেন দুঃস্বপ্নের। ৮ বল করার পর হ্যামস্ট্রিংয়ে টান পেলেন, ৯ম বল করার পর উঠে গেলেন, আর ফিরতে পারলেন না বোলিংয়ে। ব্যাটিংয়ে অবশ্য নেমেছিলেন, ১১ বলে ১০ রানের ইনিংস পরাজয়টা খুব একটা বিলম্বিত করতে পারেনি। ফিল্যান্ডার শেষবার টেস্ট আঙিনা ছেড়ে গেলেন। রেখে গেলেন দেশের মাটিতে কমপক্ষে ১০০ উইকেট নেওয়া পেসারদের মধ্যে সবচেয়ে ভাল গড়, দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে ৭ম সর্বোচ্চ উইকেট, ২৬৯ আন্তর্জাতিক উইকেট ও ১৯৪৪ রানের বর্ণিল এক ক্যারিয়ার। 
     


    বিদায়, ভারনন!/ক্রিকইনফো


    স্টোকস, আবারও 

    ২০১৫-১৬ তে ইংল্যান্ড এসে সিরিজ জিতে গিয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকায়, সিরিজসেরা হয়েছিলেন বেন স্টোকস। ২০১৯-২০ এ এসে আবার সিরিজ জিতল ইংল্যান্ড, আবারও সিরিজসেরা স্টোকস। ২০১৫ বা রূপকথার মতো কাটানো ২০১৯-এর রেশ যেন এখনও টেনে নিচ্ছেন এই অলরাউন্ডার। ৩১৮ রানের সঙ্গে ১০ উইকেট নিয়েছেন তিনি এবার। বাবার অসুস্থতা, দর্শককে গালি দিয়ে জরিমানা- স্টোকসকে থামাতে পারেনি কিছুই। ক্যারিয়ারে এ নিয়ে তৃতীয়বার সিরিজসেরা হলেন এই অলরাউন্ডার, ২০১৯ অ্যাশেজে ইংল্যান্ড ক্রিকেটারদের মধ্যে সেরা হয়েছিলেন। 

    এ শুধু জরিমানার টেস্ট, সঙ্গে ডিমেরিট পয়েন্টেরও

    বেন স্টোকস জরিমানা গুণেছিলেন দর্শককে গালি দিয়ে, সঙ্গে পেয়েছিলেন একটি ডিমেরিট পয়েন্ট। ফিল্যান্ডার জরিমানা গোণার সঙ্গে ডিমেরিট পয়েন্ট পেয়েছেন বাটলারের উইকেট অতি-উদযাপনে। যদিও ডিমেরিট পয়েন্টে কিছু যায় আসবে না আর এখন তার। জোহানেসবার্গে জরিমানা বা পয়েন্ট পাওয়া খোয়ানোর পালা শেষ হয়নি তাতেও। স্লো ওভাররেটের কারণে ম্যাচ ফির ৬০ শতাংশ জরিমানা করা হয়েছে পুরো দক্ষিণ আফ্রিকাকে, সঙ্গে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ থেকে ৬টি পয়েন্ট কাটাও গেছে তাদের। নির্ধারিত সময়েরে চেয়ে ৩ ওভার পিছিয়ে ছিল এ টেস্টে স্পিনারদের দিয়ে একটিও ওভার না করানো দক্ষিণ আফ্রিকা। নিয়ম অনুযায়ী, বাড়তি এক ওভারের জন্য ম্যাচ ফির ২০ শতাংশ করে জরিমানা করা হবে। তবে এটিও ঠিক শেষ নয়। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ের সময় ইংল্যান্ড ফিল্ডারদের সঙ্গে ‘ঝামেলায়’ জড়িয়ে পড়েছিলেন ডু প্লেসি, বল কুড়িয়ে ফিল্ডারকে ফেরত পাঠানোর পর। যদিও ডু প্লেসি বা জো রুট- দুই অধিনায়কই বলছেন, এটি তেমন কোনো ঘটনা ছিল না। ম্যাচ রেফারি কী বলবেন, সেটি অবশ্য নিশ্চিত হয়নি এখনও। 

    দক্ষিণ আফ্রিকার বিস্মৃত খরা 

    ৭০ বছর আগে ঘরের মাটিতে টানা দুটি সিরিজ হেরেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা, সেই রেকর্ড ফিরে এলো আবার। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ হারের আগে তারা হেরেছিল শ্রীলঙ্কার কাছে। মাঝে ভারতের বিপক্ষে অ্যাওয়ে সিরিজ ধরলে টানা ৩ সিরিজ হারলো প্রোটিয়ারা, ২০০৪-০৫ এর পর যা প্রথমবার। সব মিলিয়ে ঘরের মাঠে শেষ ৬ টেস্টের ৫টিই হারলো তারা, এটিও ১৯৪৯-৫০ এর প্রথমবার। প্রোটিয়াদের যখন দুঃস্বপ্ন চলছে, ইংল্যান্ড তখন হাসছে বিজয়ের হাসি। ১৯৯৯ সালে শেষ দক্ষিণ আফ্রিকায় এসে সিরিজ হেরেছিল তারা, এরপর ৫ বার এসে ৩ বার জয়ের সঙ্গে দুইবার ড্র করে ফিরেছিল তারা। 
     

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন