• ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ
  • " />

     

    লিভারপুলের ১৯-এ ১৯, ডার্বি হেরেও কাপ ফাইনালে সিটি

    ফুল-টাইম

    ওয়েস্ট হাম ইউনাইটেড ০-২ লিভারপুল 

    ম্যানচেস্টার সিটি ০-১ ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড


    ক্লাব বিশ্বকাপের জন্য গত ডিসেম্বরে ওয়েস্ট হাম ইউনাইটেডের বিপক্ষে ম্যাচটি বাকি ছিল লিভারপুলের। এই মৌসুমে লিগে সব দলকেই হারিয়েছিল ইয়ুর্গেন ক্লপের দল, বাকি ছিল শুধু ‘হ্যামার্স’রা। লন্ডন স্টেডিয়ামে ডেভিড ময়েসের দলকেও হারিয়ে দিল ‘অল রেড’রা। প্রিমিয়ার লিগে নিজেদের ইতিহাসে এবারই প্রথম এক মৌসুমে বাকি ১৯ দলকে হারাল লিভারপুল। ওয়েস্ট হামকে ২-০ গোলে হারিয়েছে লিভারপুল, প্রিমিয়ার লিগের শীর্ষে তাদের লিড এখন ১৯ পয়েন্টের। লিভারপুলের জয়ের রাতে নগর প্রতিদ্বন্দ্বী ম্যানচেস্টার সিটিকে তাদেরই মাঠে হারিয়ে দিয়েছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। কিন্তু ইএফএল কাপের সেমিতে অ্যাগ্রিগ্রেটে এগিয়ে থেকে ফাইনালে গেল সিটিই।

    ইনজুরির কারণে সাদিও মানেকে একাদশে রাখতে পারেননি ক্লপ। তার বদলি হিসেবে নেমেছিলেন ডিভক ওরিগি। লিভারপুলকে লিড এনে দিতে পারতেন তিনিই, কিন্তু অ্যান্ড্রু রবার্টসনের ক্রসে অল্পের জন্য পা ছোঁয়াতে পারেননি তিনি। কিছুক্ষণ বাদে দারুণ এক আক্রমণে রবার্তো ফিরমিনোর পাসে ‘হ্যামার্স’ গোলরক্ষক লুকাস ফাবিয়ান্সকিকে একা পেয়ে গিয়েছিলেন রবার্টসন। দারুণ চিপে তাকে পরাস্ত করলেও স্কটিশ লেফটব্যাকের শট লাইন থেকে ফিরিয়ে দেন ইসা দিওপ। তবে প্রথমার্ধে লিভারপুলকে লিড নেওয়া থেকে বিরত রাখতে পারেনি ওয়েস্ট হাম।

     

     

    ৩২ মিনিটে ওরিগিকে ডিবক্সে ফেলে দেন দিওপ, পেনাল্টি পায় লিভারপুল। ১২ গজ থেকে ভুল করেননি সালাহ। ২০১৭-১৮ মৌসুম থেকে এখন পর্যন্ত লিগে সালাহর চেয়ে বেশি গোল করতে পারেননি কেউ (৬৬)। প্রথমার্ধে লিড নিলেও আক্রমণে তেমন সুযবিধা করতে পারেনি ক্লপের দল, ওয়েস্ট হামের গোলে মাত্র একবার শট নিতে পেরেছিল তারা। তবে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ব্যবধান দ্বিগুণ করে লিভারপুল। প্রতি-আক্রমণে সালাহর দুর্দান্ত পাসে ফাবিয়ান্সকিকে একা পেয়ে যান অ্যালেক্স ওক্সলেড-চেম্বারলেইন। জোরাল শটে গোল করেন ইংলিশ ফরোয়ার্ড।

    দুই গোলে পিছিয়ে পড়লেও হাল ছাড়েনি ময়েসের দল। দ্বিতীয়ার্ধে ফরোয়ার্ডরা গোলমুখে ব্যর্থ না হলে ম্যাচে ফিরতেও পারত তারা। তবে লিভারপুল গোলরক্ষক অ্যালিসন বেকারও ছিলেন দুর্দান্ত ফর্মে। শেষদিকে সালাহর বাঁকানো শট বারপোস্টে প্রতিহত না হলে জয়ের ব্যবধানটা আরও বড় হতে পারত লিভারপুলের।

     

     

    ইএফএল কাপ সেমিফাইনাল প্রথম লেগে ইউনাইটেডকে ৩-১ গোলে হারিয়ে দিয়েছিল সিটি। মার্কাস রাশফোর্ড ইনজুরিতে, ‘রেড ডেভিল’রা নেই ফর্মে- ইতিহাদ স্টেডিয়ামে ফেভারিট ছিল সিটিই। ফেভারিটদের মতই খেলছিল পেপ গার্দিওলার দল। প্রথমার্ধে নিশ্চিত গোলের অন্তত ৪টি সুযোগ পেয়েছিল সিটিজেনরা। কিন্তু ইউনাইটেড গোলবারের নিচে ডেভিড ডি গিয়া ছিলেন অসাধারণ ফর্মে। সার্জিও আগুয়েরো, রহিম স্টার্লিংদের একাই ফিরিয়ে দিয়েছেন তিনি। ডি গিয়ার কারণে সমতায় থাকতে পারা ইউনাইটেডকে সবাইকে অবাক করে লিডও নিয়েছিল প্রথমার্ধে। ফ্রেডের ফ্রি-কিক সিটি রক্ষণভাগ ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ হলে বল আসে নেমানিয়া মাতিচের পায়ে। দুর্দান্ত হাফভলিতে গোল করেন তিনি। অতিরিক্ত সময়ে যেতে আরও এক গোল লাগত ওলে গানার সোলশারের দলের।

    কিন্তু প্রথমার্ধের মত দ্বিতীয়ার্ধেও আক্রমণে এগিয়ে ছিল সিটিই। কিন্তু বারবার ডি গিয়ার কাছে খালি হাতে ফিরতে হচ্ছিল তাদের। দ্বিতীয়ার্ধের পুরোটা সময়ই প্রতি-আক্রমণে খেলেছে ইউনাইটেড, কিন্তু গোলের তেমন সুযোগ আর তৈরি করা হয়নি। উল্টো ৭৬ মিনিটে ‘হিরো’ থেকে ‘জিরো’ বনে যান মাতিচ। দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় তাকে। ১০জন নিয়েও ইতিহাদ থেকে ক্লিনশিট নিয়ে ফিরেছে ইউনাইটেড, কিন্তু ইএফএল কাপের ফাইনালে আর যেতে পারেনি। কিন্তু ভঙ্গুর ইউনাইটেডও প্রমাণ করেছে, এই মুহূর্তে আত্মবিশ্বাসের অভাবে ঠিক কতটা ভুগছে গার্দিওলার দল।

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন