• ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ
  • " />

     

    ভিএআর রঙ্গে গার্দিওলাকে টপকে গেলেন মরিনহো

    ফুলটাইম
    টটেনহাম ২-০ ম্যানচেস্টার সিটি


    ভিএআর আসার পর ফুটবলে যোগ হয়েছে বাড়তি মাত্রা। তবে এখন পর্যন্ত ভিএআর রোমাঞ্চ সবচেয়ে বেশি দেখেছে বোধ হয় টটেনহাম-ম্যানচেস্টার সিটির ম্যাচগুলোই। গতবার চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালের স্মৃতিটা এখনই ভুলে যাওয়ার কথা নয় আপনার। ভুলে গেলেও দোষ নেই যদিও, টটেনহাম-সিটি উপহার দিয়েছে আরেক প্রস্থ রোমাঞ্চ, তাতে আছে ভিএআর বিতর্ক, আছে লাল কার্ড, আছে এক তরুণের অভিষেকে গোল করার গল্পও।

    এতো গল্পের মাঝেও অবশ্য দিন শেষে আলো হোসে মরিনহোর ওপরই। পেপ গার্দিওলার বিপক্ষে ২৩ তম বারের মতো মুখোমুখি হয়েছিলেন তিনি। গার্দিওলার সিটিকে হারিয়ে মরিনহো তাদের ঠেলে দিলেন আরও দূরে। আরও এক হারে লিভারপুলের চেয়ে ২২ পয়েন্ট পেছনে এখন সিটি। লিভারপুলের পয়েন্ট এখন ৭২, ইংলিশ যে কোনো স্তরের লিগে শীর্ষস্থানে এতো পয়েন্টের লিডের রেকর্ডই নেই। আর মরিনহোর টটেনহাম ৩৭ পয়েন্ট নিয়ে ৫ এ লাফ দিয়ে উঁকি দিচ্ছে চ্যাম্পিয়নস লিগের জায়গা দখলের জন্য।    

    টটেনহাম হটস্পার স্টেডিয়ামে ম্যাচের মোড় ঘুরেছে দুই দফায়। দুই দফাই কপাল খুলেছে টটেনহামের। সিটি তাদের স্বভাবসুলভ শুরুটাই করেছিল। আর মরিনহোর বাকি দলগুলোর মতো টটেনহামও খোলসবন্দী হয়ে থাকল ধারালো সিটির বিপক্ষে। এর পর হলো নাটক। আসলে ভিএআর রঙ্গমঞ্চ। গল্পটা এমন- সার্জ অরিয়ের নিজের বক্সের ভেতর সার্জিও আগুয়েরোকে ফেলে দিয়েছিলেন ট্যাকেল করতে গিয়ে। কিন্তু রেফারির কাছে পেনাল্টি মনে হয়নি। তাই তিনি খেলা চালিয়ে গেছেন। দুই মিনিট ধরে ভিএআর ওই অবস্থাতেই চেক-রিচেক চালিয়ে রেফারিকে বলেছে ওটা পেনাল্টি।



    তিন মিনিট পর পেনাল্টি নিয়েছেন ইলকে গুন্দোয়ান। আগুয়েরো থাকতে গুন্দোয়ান- সেটাও একটা চমক ছিল। হুগো লরিস ঠেকিয়ে দিয়েছেন গুন্দোয়ানকে। রিবাউন্ডে রাহিম স্টার্লিং গোলে শট করতে গিয়ে পড়ে গেলেন বক্সের ভেতর। স্টার্লিং পেনাল্টি চান, টটেনহাম চায় নিস্তার। ভিএআরে সেই নিস্তার মিলেছে সিটির। ভিএআর বলেছে ওটা পেনাল্টি নয়। যার মানে দাঁড়ায় স্টার্লিং ডাইভ দিয়েছেন। যিনি এরই মধ্যে হলুদ কার্ড দেখেছেন একবার। কিন্তু রেফারি আবার সে ব্যাপারে উদাসীন। রেফারি যেমন উদাসীন ছিলেন পেনাল্টির সময় লরিসের পা দেখতে। নিজের গোললাইন ছেড়ে বেরিয়ে আসার কারণে আরও আগেই পেনাল্টি বাতিলের সঙ্গে একটি হলুদ কার্ডও তো পাওনা লরিসের! 

    লরিস তাই এবার সবশেষ ৬ পেনাল্টির চারটিই ঠেকালেন। প্রথমার্ধও শেষ হলো গোলশূন্যভাবে। কিন্তু তাতে গল্প যতোখানি জমলো, সেটা দ্বিতীয়ার্ধ শুরুর অপেক্ষা বাড়িয়ে দিল আরও।

    বিরতির পর নাটক জমে গেল শুরুতেই। লরিস এবার নিজ ডিফেন্ডারের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে গোলবার অরক্ষিত হয়ে বক্সের মাথায় পড়ে গেলেন। আগুয়েরোর সামনে ফাঁকা বার। আগুয়েরো মারলেন, গোললাইন থেকে সেটা ক্লিয়ারও হলো, পরের দফায় বাইরে মারলেন গুন্দোয়ান। গোল আর হয় না! ততোক্ষণে ১৩ বার গোলে শট নেওয়া হয়ে গেছে সিটি। কিন্তু একবারও সেটা থাকল না লাইন বরাবর।

    ৬০ মিনিটে লাল কার্ড। কাউন্টার অ্যাটাকে টটেনহামকে আটাকাতে গিয়ে দ্বিতীয় হলদু কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লেন জিনচেঙ্কো। দশ জনের সিটি আগুয়েরোকে বদলি করিয়ে ক্যান্সেলোকে নামানোর প্রক্রিয়া শুরু করে দিয়েছে তখনই। কিন্তু তার আগেই গোল খেয়ে বসল সিটি। যিনি গোল করলেন তার তিনি লিখলেন বীরত্বের গল্প। ২২ বছর বয়সী স্টিভেন বারউইন টটেনামে যোগ দিয়ে প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমেছিলেন সিটির বিপক্ষে। ৬৩ মিনিটে লুকাস মউরার উঠিয়ে দেওয়া পাস বক্সের ভেতর বুক দিয়ে নামিয়ে মারলেন ভলি। ওই ভলিতেই গোল। সে গোল মৌসুমের অন্যতম সেরা হওয়ার দাবি রাখবে- সেটা এখনই বলে দেওয়া যায়। কিন্তু গোল যে করল? কে বলবে, এই ছেলে এক সপ্তাহ আগেই ডাচ লিগের হিসেব-নিকেশ করছিল! 

    সিটি এর পরও আগুয়েরোকে বসিয়ে ক্যান্সেলোকেই নামিয়েছে। গোল শোধ আর দেওয়া হয়নি তাদের। লাগামও টানা হয়নি গার্দিওলার। যা হয়েছে তা দুর্যোগের মতো ঠেকবে সিটি সমর্থকদের কাছে।  ৭১ মিনিটে ম্যাচের দ্বিতীয় শট অন টার্গেটে হিউং মিন সন করে ফেলেছেন দ্বিতীয় গোল। ওই গোলে ততোক্ষণে জয় নিশ্চিত হয়ে গেছে টটেনহামের।