• ভারতের নিউজিল্যান্ড সফর
  • " />

     

    ৩০ বছর পর ওয়ানডেতে ধবলধোলাই ভারত

    টি-টোয়েন্টির বিপর্যয়টাই ভারতকে ফিরিয়ে দিল নিউজিল্যান্ড। ২০ ওভারের ম্যাচে ধবলধোলাই হওয়ার পর ৫০ ওভারে উল্টো ভারতকে ধবলধোলাই করল কিউইরা। ৩০ বছর পর তিন ম্যাচ বা তার বেশি ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ধবলধোলাই হলো ভারত। এর আগে ১৯৮৩-৮৪ ও ১৯৮৮-৮৯ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে এই স্বাদ পেয়েছিল। 

    আজকের ম্যাচটা একটা সময় মনে হচ্ছিল বেশ জমজমাট হবে। ভারতের ছুঁড়ে দেওয়া ২৯৬ রান তাড়া করে শুরুটা বেশ ভালো করেছিল নিউজিল্যান্ড। মার্টিন গাপটিল আর হেনরি নিকোলসের উদ্বোধনী জুটিতেই আসে ১০৬ রান, সেটিও মাত্র ১৬.৩ ওভারে। গাপটিলই বেশি আগ্রাসী ছিলেন, মাত্র ২৯ বলে পেয়েছেন ফিফটি। শেষ পর্যন্ত ৪৬ বলে ৬৬ রান করার পর বোল্ড হলেন চেহেলের বলে। এরপর নিকোলস আর উইলিয়ামসন হাল ধরেছিলেন, দুজন যোগ করলেন আরও ৫৩ রান। তবে কিউই অধিনায়ক টেকেননি বেশিক্ষণ, ২২ রান করে ফিরেছেন চেহেলের বলেই। তারপরও নিউজিল্যান্ডের জয়ের জন্য খুব বেশি বেগ পেতে হবে না বলেই মনে হচ্ছিল। তবে সমীকরণ বদলে গেল রস টেলর আসার পর।

    ১২ রান করে টেলর আউট হলেন জাদেজার বলে, অন্য প্রান্তে নিকোলস একটু একটু করে এগিয়ে যাচ্ছিলেন সেঞ্চুরির দিকে। কিন্তু ৮০ রান করে শেষ পর্যন্ত শার্দুল ঠাকুরের বল কাট করতে গিয়ে ক্যাচ দিলেন উইকেটের পেছনে। ১৮৯ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে হঠাৎ একটু দিশেহারা নিউজিল্যান্ড।

    জিমি নিশন আর টম ল্যাথাম দ্রুত যোগ করলেন ৩১ রান। কিন্তু নিশম ২৫ বলে ১৯ রান করে যখন আউট হলেন, তখনও জয়ের জন্য নিউজিল্যান্ডের দরকার ৬৩ বলে ৭৭ রান। কিন্তু ডি গ্র্যান্ডোম এমনই ঝড় শুরু করলেন, ১৭ বল হাতে রেখেই সেই লক্ষ্যে পৌঁছে গেল নিউজিল্যান্ড। মাত্র ২১ বলে ফিফটি পেয়েছেন, ২৮ বলে ৫৮ রানে অপরাজিত থেকে শেষ করে এসেছেন ম্যাচ। অন্য প্রান্তে ৩৪ বলে ৩২ রান করে অপরাজিত ছিলেন ল্যাথাম। শার্দুলের ওপর দিয়ে ঝড় বেশি গেছে, ৯.১ ওভারে দিয়েছেন ৮৭ রান। তবে বিস্ময়করভাবে পুরো ওয়ানডে সিরিজে অফ ফর্মে ছিলেন জাসপ্রিত বুমরা। তিন ম্যাচে একটি উইকেটও পাননি, আজও ৫০ রান দিয়ে ছিলেন উইকেটশুন্য।

    তার আগে ভারতের জন্য ২৯৬ রানই একসময় মনে হচ্ছিল অনেক বড় কিছু। মায়াংক আগারওয়াল শুরুতেই আউট, আর বুমরার মতো অভাবনীয় একটি অফ ফর্মের সিরিজ কাটিয়েছেন কোহলিও। আজ আউট হয়েছেন ৯ রানে, পুরো সিরিজে করেছেন মাত্র ৭৫ রান। ৬২ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর হাল ধরেছেন শ্রেয়াস আইয়ার ও লোকেশ রাহুল। এই সিরিজে ভারতের বড় আবিষ্কার দুজনেই। ৬৩ বলে ৬২ রান করেছেন আইয়ার, আর পাঁচে নেমে ১১৩ বলে ১১২ রান করে আউট হয়েছেন রাহুল। দ্রাবিড়ের পর ভারতের মাত্র দ্বিতীয় উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান হিসেবে এশিয়ার বাইরে পেয়েছেন ওয়ানডে সেঞ্চুরি।

     

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন