• আইসিসি টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০১৬
  • " />

     

    "বুড়োদের" অবেলায় ফেরা!

    টি-টোয়েন্টি, কারও কাছে চরম রোমাঞ্চকর, কারও কাছে স্রেফ ‘ম্যাগি নুডলস’, ছাড়লাম, খেয়ে নিলাম, ব্যাস। সে যাই হোক, টি-টোয়েন্টি কিন্তু ‘পরীক্ষা-নিরীক্ষা’র বেশ বড় একটা মাধ্যম। তা ব্যাটিং অর্ডার বলুন, বোলিং-পরিবর্তন বলুন কিংবা ব্রডকাস্টারদের নতুন নতুন ‘ফিচার’ এর কথাই বলুন না কেন! জর্জ বেইলির মতো কারও তাই অধিনায়কত্ব দিয়েই অভিষেক হয়ে যায় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে। টি-টোয়েন্টির এই ‘বাজিয়ে দেখা’র মানসিকতা তৈরীর কারণেই কিনা, কোনো কোনো দেশের রঙ্গিন জার্সিতে তাই ফিরে আসছে হারিয়ে যাওয়া পুরোনো মুখ। 

     

    যুবরাজ সিং, ভারত

    ভারতের জন্য সেদিন ১৩০ রান যথেষ্ট ছিল না, মিরপুরে ক্রিকেটের নতুন ফরম্যাটের ট্রফিটা দ্বিতীয়বার ঘরে তোলার জন্য। যেমন ২১ বলে ১১ রানের এক ইনিংস যথেষ্ট ছিল না, দলে জায়গা ধরে রাখার জন্য। ২০১১ সালের ভারতকে বিশ্বকাপ জেতানোর নায়ক তাই বাদ পড়েছিলেন এরপর, ভারতের জাতীয় দল থেকে। যুবরাজ ফিরে এলেন, অস্ট্রেলিয়া সফরে ভারতের তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের জন্য। খুশী হয়েছিলেন, আবার হতাশও হয়েছিলেন ইউভরাজ। শুধু যে টি-টোয়েন্টি, ওয়ানডে দলে যে ফেরা হয়নি এখনও! তবে পারফরম্যান্স দিয়ে নির্বাচকদের ঠিক ‘খুশী’ করতে পারলেন, নাকি হতাশই করলেন, তা অবশ্য বিচার করার সময় আসেনি এখনও! এ পর্যন্ত হওয়া সিরিজের দুই ম্যাচের একটিতেও ব্যাটিংয়ের সুযোগ পাননি, এক ম্যাচে এক ওভার বোলিংয়ে ১০ রান দিয়ে উইকেট নেই, আরেকটিতে ২ ওভারে ৭ রানে পেয়েছেন এক উইকেট।

    সামনের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দলে থাকতে পারলে কি ৩৪ বছর বয়স্ক যুবরাজই হবেন ভারতের ‘এক্স-ফ্যাক্টর’?

     

    আশীষ নেহরা, ভারত

    ২০১১ সালের বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে ভারতের হয়ে শেষবার খেলেছিলেন। ফাইনাল মিস করেছিলেন আঙ্গুলের চোটের কারণে। শুধু ফাইনাল নয়, এরপর প্রায় ৫ বছর ভারতের হয়ে খেলার সুযোগটাও মিস করে যাচ্ছিলেন সামনের এপ্রিলে ৩৭ পূর্ণ করতে যাওয়া আশীষ নেহরা। যুবরাজের মতো তিনিও শুধু অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে তিন টি-টোয়েন্টির জন্যই ডাক পেয়েছেন, তবে পাখির চোখ করছেন ঘরের মাটির টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকেই।

    ডাক পেয়ে একটা ‘অকপট’ সত্যও বলে ফেলেছিলেন নেহরা, ‘আমি অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে যদি ভাল করি, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সুযোগ পাই, লোকে বলবে, “ওহ, একে তো আরও আগেই সুযোগ দেয়া উচিৎ ছিল!” আর যদি ভাল না করি, তখন বলবে, “এতদিন একে না নেওয়াটাই ঠিক ছিল”! ভারতের ব্যাপারস্যাপার এমনই!’

    দুই ম্যাচে ৮ ওভার বোলিং করে ৬৪ রান দিয়ে পেয়েছেন এক উইকেট, আশীষ নেহরা ভারতীয়দের কী বলার সুযোগ করে দিচ্ছেন?

     

    শন টেইট, অস্ট্রেলিয়া
     

    ‘আমরা আসলে জানি না, সামনে কী পেতে যাচ্ছি। এর পুরোটাই শনের ওপর নির্ভর করছে। সত্যি বলতে কী, আমি জানতামও না, সে বিগব্যাশে এতগুলো ম্যাচ খেলবে। দেশের মধ্যে সে-ই এখনও বোধহয় সবচেয়ে দ্রুত বোলার। আর টি-টোয়েন্টিতে একটু হলেও পেস লাগবে আপনার’। প্রধান নির্বাচক রড মার্শের কথাতেই বুঝে যাওয়ার কথা, শন টেইটকে বছর পাঁচেক পর কেন ডাকা হয়েছে অস্ট্রেলিয়ার টি-টোয়েন্টি দলে।

    কদিন আগেই মজা করে টেইট বলেছিলেন, অস্ট্রেলিয়ার জার্সি তাঁর গায়ে এখন আর ঠিকমতো বসবে না! তবে মিচেল জনসনের অবসর, প্যাট কামিন্স, ন্যাথান কোল্টার-নাইল, জেমস প্যাটিনসনের সঙ্গে মিচেল স্টার্কের চোট, টেইটের গায়ে ঠিকই আবার সেই জার্সিটা চড়িয়েছে। ২০১১ সালে শেষ খেলেছিলেন অস্ট্রেলিয়ার হয়ে, টেইট তাই ডাক পেয়ে বলেছিলেন, ‘আমি আসলে খুবই খুশী। এক দুই বা তিন ম্যাচ হোক, হোক এর চেয়ে বেশী ম্যাচের জন্য, দলে ডাক পাওয়াটা সব সময়ই বিশেষ কিছু!’

    ভারতের সঙ্গে সিরিজে খেলেছেন এক ম্যাচ, ৪৫ রান দিয়ে উইকেট পাননি কোনো। কদিন পরই ৩৩ পূর্ণ করতে যাওয়া টেইটের জন্য আরও বিশেষ কিছু (পড়ুন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ডাক পাওয়া) অপেক্ষা করে আছে কিনা, তার জন্য অপেক্ষা করতে হবে আরেকটু।

     

    দিলহারা ফার্নান্ডো, শ্রীলঙ্কা

    অধিনায়ক লাসিথ মালিংগা ভারতের সঙ্গে সামনের টি-টোয়েন্টি সিরিজটা মিস করবেন। অল-রাউন্ডার অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস, পেসার নুয়ান কুলাসেকেরা ও স্পিনার রঙ্গনা হেরাথ, থাকবেন না তাঁরাও। এত চোটের ভীড়ে তাই শ্রীলঙ্কা দলে ডাক পেয়ে গেলেন ২০১২ সালের মাঝামাঝি শ্রীলঙ্কার হয়ে শেষ খেলা পেসার দিলহারা ফার্নান্ডো। এর আগে ১৭টি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ১৮টি উইকেট আছে ফার্নান্ডোর। সঙ্গে আছে ৪০টি টেস্ট ও ১৪৭টি ওয়ানডে খেলার অভিজ্ঞতাও। তবে ভারতের সঙ্গে সিরিজে ফার্নান্ডোর পারফরম্যান্স আর মূল অন্যান্য খেলোয়াড়দের চোটের ওপরও নির্ভর করছে, ফার্নান্ডোর এই ‘বিস্ময় ডাক পাওয়া’র মেয়াদ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ পর্যন্ত টিকবে কিনা!  

     

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন