• ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ
  • " />

     

    মরিনহোকে আবারও টেক্কা দিলেন ল্যাম্পার্ড

    ফুল টাইম
    চেলসি ২ - ১ টটেনহাম



    হোসে মরিনহোর স্টামফোর্ড ব্রিজে প্রত্যাবর্তন, পয়েন্ট টেবিলে চতুর্থ স্থানের লড়াই- চেলসি আর টটেনহামের আজকের লন্ডন ডার্বির আকর্ষণটা একটু বেশিই ছিল। ফর্ম চেলসির চেয়ে কিছুটা ভালো হলেও চোট সমস্যা ও চেলসির মাঠে ব্যর্থতার ইতিহাস- এই দুটি কারণে মনস্তাত্ত্বিক দিক থেকে পিছিয়ে থেকেই ম্যাচ শুরু করেছিল টটেনহাম। আর সেই পিছিয়ে থেকেই তারা ম্যাচ শেষ করেছে। অলিভিয়ের জিরু এবং মার্কোস আলোনসোর গোলে ঘরের মাঠে জয় পেয়েছে চেলসি। শেষের অ্যান্টোনিও রুডিগারের আত্মঘাতী গোলের সুবাদে ব্যবধান কমায় টটেনহাম। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। ওল্ড ট্রাফোর্ডের পর ব্রিজ থেকেও হার নিয়েই ফিরেছেন “স্পেশাল ওয়ান” হোসে মরিনহো। আর গত ১৪ বছরে এই প্রথম লিগে হোম এবং অ্যাওয়ে দুই ম্যাচেই টটেনহামকে হারিয়েছে চেলসি। সেই সঙ্গে পয়েন্ট টেবিলের চতুর্থ স্থানে অবস্থানটি কিছুটা পাকাপোক্ত করেছে। আর মরিনহোর সঙ্গে তিন বারের দেখায় তিন বারই জয় পেয়েছেন ল্যাম্পার্ড।

    দলের মূল দুই ফরোয়ার্ড হ্যারি কেইন ও সন হিউং মিন নেই, মরিনহো তাই অনেকটা রক্ষণাত্মক ফর্মেশনে আজ দল সাজিয়েছিলেন। দলের মূল তিন সেন্টার ব্যাক সঙ্গে দুই ফুল ব্যাক মিলে পাঁচ জনের ব্যাকলাইন নিয়ে খেলে টটেনহাম। মিডফিল্ডে খেলেন চারজন, আক্রমণে একা স্টিভেন বার্গউইন। কিন্তু এরপরেও চেলসির আক্রমণের স্রোত ঠেকানো যায়নি। 

    ম্যাচে চেলসির শুরুটা ছিল বিদ্যুৎগতির। বলের দখল বুঝে নেওয়ার সঙ্গে দ্রুত আক্রমণে উঠেছে তারা। পক্ষান্তরে টটেনহাম বলের দক্ষল পেয়েছে অনেক কম। পেলেও বল নিয়ে এগুবে না পিছুবে, সেই সিদ্ধান্ত নিতে নিতেই বল হারিয়েছে তারা। প্রথমার্ধের ১৫ মিনিটে সিজার আজপিলিকুয়েটার রক্ষণচেরা পাস খুঁজে নেয় অলিভিয়ের জিরুকে। জিরু ডান পায়ের জোরালো শট নেন গোলমুখে, তবে টটেনহাম গোলরক্ষক উগো লরিস ফিরিয়ে দেন সেই শট। রস বার্কলির ফিরতি শট বারপোস্টে লেগে ফিরে আসে আবার জিরুর পায়ে। এবার আর কোনও ভুল করলেন না চেলসির এই ফ্রেঞ্চ ফরোয়ার্ড, নিখুঁত শটে লক্ষ্যভেদ করে চেলসিকে এগিয়ে দেন। নভেম্বরের পর একাদশে প্রথমবার জায়গা করেই জিরু মৌসুমে লিগে তার প্রথম গোল পেয়েছেন।

    প্রথমার্ধে আরও কিছু সুযোগ পেলেও চেলসি ব্যবধান বাড়াতে পারেনি। এই অর্ধে চেলসির আক্রমণ ঠেকাতে ব্যস্ত টটেনহামের সেরা স্পেলটি আসে ৩৪ থেকে ৩৬, এই তিন মিনিটের মাঝে। বার্গউইনের থ্রু পাস থেকে লুকাস মৌরার গোলমুখী শট ব্লক করেন আজপিলিকুয়েটা। সেখান থেকে পাওয়া কর্নারে ডাভিনসন সানচেজের হেড সেভ করেন চেলসি গোলরক্ষক উইলি কাবায়েরো। এর পরের মিনিটে ডিফেন্স থেকে পাওয়া লং বল নিয়ে একক প্রচেষ্টায় চেলসি গোলমুখে গেলেও বলের নিয়ন্ত্রণ রাখতে না পেরে হেলায় সুযোগ হারান জাফে টাঙ্গাঙ্গা।

    দ্বিতীয়ার্ধে মরিনহোর টটেনহাম আরেকটু আক্রমণাত্মক হয়ে খেলবে, এমনটাই ধারণা ছিল সবার। কিন্তু প্রথমার্ধের চিত্রনাট্য মেনেই এগিয়ে গেল ম্যাচ। এই অর্ধেও শুরু থেকে টটেনহামকে চেপে ধরেছে চেলসি। দ্বিতীয়ার্ধ শুরুর তিন মিনিটের মধ্যেই চেলসি পেয়ে গেল দ্বিতীয় গোল। টটেনহাম বক্সের সামনে নির্বিঘ্নে প্রান্ত বদল করার সুযোগ পেয়েছিলেন বার্কলি। ডান প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে থাকা মার্কোস আলোনসোকে আড়াআড়ি পাস করলেন। বাঁ পায়ের তীব্র গতির শটে লরিসকে কোনও সুযোগ না দিয়ে বল জালে পাঠান আলোনসো।

    দ্বিতীয়ার্ধের সাত মিনিটে ম্যাচের সবচেয়ে বিতর্কিত মুহূর্তটি আসে। আজপিলিকুয়েটার গোড়ালিতে বাজেভাবে আঘাত করেও ভিএআরের সুবাদে লাল কার্ড থেকে বেঁচে যান টটেনহামের জিওভানি লো সেলসো। 

    ম্যাচের ৮০ মিনিটে ম্যাসন মাউন্টের ক্রসে ট্যামি আব্রাহাম পা ছোঁয়াতে ব্যর্থ হন। এর পরের মিনিটে আলোনসোর ফ্রিকিক বারপোস্টে লেগে ফিরে আসে। শেষদিকে অবশ্য রুডিগারের আত্মঘাতী গোলের সুবাদে ব্যবধান কমিয়েছে টটেনহাম। কিন্তু চেলসির মাঠে জয় অধরাই থাকল মরিনহোর দলের।