• চ্যাম্পিয়নস লিগ
  • " />

     

    লিঁওর কাছে হেরে ফিরল 'নিষ্প্রভ' জুভেন্টাস

    লিঁওর কাছে হেরে ফিরল 'নিষ্প্রভ' জুভেন্টাস    

    ফুলটাইম
    লিওঁ ১ - ০ জুভেন্টাস


    ম্যাচের শুরু থেকেই স্বাগতিক সমর্থকদের শোরগোলে মুখর ছিল পার্ক অলিম্পিক লিওঁ। ম্যাচের আগে প্রায় সব মানদন্ডের হিসেবে জুভেন্টাসে চেয়ে অনেক পিছিয়ে ছিল স্বাগতিকরা। এর ওপর দলকে দ্বিতীয় রাউন্ডে তোলার মূল কারিগর মেম্ফিস ডিপাইও ছিলেন না ইনজুরির কারণে। কঠিন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে তাই একটু ‘উচ্চ ডেসিবেলে’র সমর্থনই প্রয়োজন ছিল অলিম্পিক লিওঁ-র। সেই সমর্থন কাজ করল ম্যাজিকের মতো। শুরুর কিছুক্ষণ সমঝে খেলার পর আর ‘তুরিনের বুড়ি’দের আর তোয়াক্কা করেনি স্বাগতিকরা। জুভের স্লথ ফুটবলের সুযোগ দুহাত ভরে নিয়েছে তারা। প্রথমার্ধে লুকাস টুসার্টের অসাধারণ গোলের লিড ম্যাচের বাকিটা সময় ধরে রেখে প্রথমবারের মতো জুভেন্টাসকে হারিয়েই মাঠ ছেড়েছে রুডি গার্সিয়ার দল।

    গত ২৪ বছরে ইউরোপে কোনও সাফল্য নেই জুভেন্টাসের। সাফল্য পেতে মরিয়া ইতালির অভিজাত ক্লাবটি চ্যাম্পিয়নস লিগের ‘বরপুত্র’ ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে দলে এনেছে। ইউরোপে ব্যর্থ ম্যাসিমিলিয়ানো আলেগ্রিকে সরিয়ে গত মৌসুমের ইউরোপা লিগ জয়ী মাউরিজিও সারিকে দিয়েছে দলের দায়িত্ব। যদিও তুরিনের লেগ এখনও বাকি। তবুও এই হারটা জুভেন্টাসের শিরোপা স্বপ্নে বড় আঘাত। সারির জায়গা নড়বড়ে করে দেওয়ার জন্যও যথেষ্ট।


    প্রথমার্ধে বাক্সবন্দি থাকার পর দ্বিতীয়ার্ধে খোলসমুক্ত হয়ে দিবালা-কুয়াদ্রাদো-হিগুয়াইনরা গোল করার চেষ্টা করলেন অনেক, কিন্তু স্বাগতিক রক্ষণের দুর্দান্ত গঠনের সামনে সেসব তুচ্ছ হয়েছে। চ্যাম্পিয়নস লিগের নকআউট পর্বে সর্বোচ্চ ৬৫ গোল করা রোনালদোও এদিন গোলমুখে ছিলেন একেবারে নিষ্প্রভ। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা ১০ ম্যাচে গোল করলেও লিওঁতে এসে ছন্দপতন হয়েছে রোনালদোর। জুভেন্টাসের ছন্নছাড়া চেহারাটা তো তারই প্রতিচ্ছবি।

    ম্যাচের গতিপথ প্রথম বাঁশি থেকেই লিওঁ-র মনমতো এগিয়েছে। শুরুর কয়েক মিনিট বল এদিক-সেদিক করার পরও লিওঁ-র আটসাঁট রক্ষণের চাবি খুঁজে পায়নি জুভেন্টাস। প্রথম বিশ মিনিট লিওঁ শুধু রক্ষণের কাজটাই মনোযোগ দিয়ে করেছে। ফর্মেশন ঠিক রেখে, জুভের পজিশনের সময় দ্রুত ‘ক্লোজ ডাউন’ করে সফরকারীদের ব্যাকফুটে ঠেলে দেয় তারা। দ্রুত আক্রমণে উঠতে না পারা, এবং মধ্যমাঠে একজন জাত প্লেমেকারের অভাব ম্যাচ জুড়েই ভুগিয়েছে জুভেন্টাসকে।

    ২০ মিনিট পেরিয়ে যাওয়ার পরই ‘অতিকায় হস্তি’র হালকা-পটকা চাল দেখে নিজেদের অর্ধ ছেড়ে জুভের বক্সের দিকে এগোয় লিওঁ। ২১ মিনিটেই কর্নার থেকে টোকো একাম্বির শট ক্রসবারের উপরের অংশে লেগে ফিরে আসে। আর শুরু হয় লিওঁ-র আক্রমণের ঢল। প্রথমার্ধের বাকিটা সময় অতিথিদের রীতিমত শাসন করেছেন তারা। উইং ব্যবহার করে একের পর এক ক্রসে জুভে রক্ষণে ভয় ধরিয়েছেন ডেম্বেলে-একাম্বিরা। সাফল্য পেতেও তাই বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি স্বাগতিকদের। ৩১ মিনিটে বাম প্রান্ত দিয়ে হুসেম আওয়ার দারুণ এক দৌড়ে জুভের বাইলাইনের কছে চলে যান, সেখান থেকে তার বিপজ্জনক উড়ন্ত ক্রসে ৬ মিটার বক্সের মাঝে অরক্ষিত টুসার্ট দারুণ টাচে টপ কর্নার কাঁপিয়ে দেন।

    তবে তার গোলে টপ কর্নারের সঙ্গে ম্যাচের আগে চাকরি নিয়ে ‘নিশ্চিন্ত’ সারির প্রাণটাও এক মুহূর্তের জন্য কেঁপে উঠেছে নিশ্চিত। তাই তো গোল হজমের পর সাইডলাইন থেকে চিৎকার করে ‘ঘুমন্ত’ জুভে খেলোয়াড়দের জাগিয়ে তোলার চেষ্টা করলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর তাদের জাগিয়ে তুলতে পারলেন কই! ইউরোপে টানা ২২ ম্যাচ অপরাজিত থাকার পর হারের স্বাদ চেখে দেখতে হল তাকে।

    প্রথমার্ধে ছন্দহীন ফুটবল খেলে একটি শটও লক্ষ্যে রাখতে পারেনি ইতালিয়ান চ্যাম্পিয়নরা। দ্বিতীয়ার্ধেও একই হাল! রোনালদো-দিবালা এবং বদলি হিসেবে নামা গঞ্জালো হিগুয়েন লিওঁ-র বক্সের আশাপাশে দীর্ঘ সময় বিচরণ করলেও লক্ষ্যে শটের সংখ্যা ম্যাচ শেষেও ‘শুন্য’ই থেকেছে। গত ১৬ বছরে চ্যাম্পিয়নস লিগে এই নিয়ে তৃতীয়বার পুরো ম্যাচে প্রতিপক্ষের গোলে একটিও শট নিতে পারেনি বিয়াঙ্কোনেরিরা। অবশ্য ৮৭ মিনিটে অন টার্গেটে একটি শট রেখেছিলেন দিবালা, সেই অন টার্গেট শট জালেও জড়িয়েছিল, কিন্তু বিধি বাম! অফসাইডের কারণে বাতিল হয়ে যায় দিবালার সেই প্রচেষ্টা। লক্ষ্যে শটের সংখ্যাও শুন্যতে ফিরে আসে।

    ১৭ মার্চ তুরিনে শেষ ষোলর ফিরতি লেগে একে অপরের মুখোমুখি হবে এই দুই দল। গতবারও দ্বিতীয় রাউন্ডের প্রথম লেগে প্রতিপক্ষের মাঠ থেকে হেরে এসে ফিরতি লেগে রোনালদো হ্যাটট্রিক করে জুভেন্টাসকে উদ্ধার করেছিলেন। আপাতত জুভেন্টাস সমর্থকেরা সারির ওপর ভরসা করতে না পারলেও অতীত থেকে আশা দেখতে পারেন। তবে স্বাগতিক জুভেন্টাসকে সেদিন কঠিন পরীক্ষা দিতে হবে, তা নিশ্চিত।

    জুভেন্টাস একাদশ

    সেজনি, বনুচ্চি, ডি লিট, ডানিলো, সান্ড্রো, পিয়ানিচ, বেনটানকুর, রাবিয়ট, কুয়াদ্রাদো, দিবালা, রোনালদো

    লিওঁ একাদশ

    লোপেস, মার্সেলো, বেনায়ের, মার্সাল, টুসার্ট, গুইমারায়েস, ডুবয়েঁ, কর্নেট, আওয়ার, টোকো একাম্বি, ডেম্বেলে