• ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ
  • " />

     

    ৪৪ ম্যাচ অপরাজিত থাকার পর হারের মুখ দেখল লিভারপুল

    ফুলটাইম
    ওয়াটফোর্ড ৩ - ০ লিভারপুল


    ভিকারেজ রোডে এক রাতে অনেক স্বপ্ন ভাঙল লিভারপুলের। লিগে অপরাজিত থাকা, টানা জয়ের রেকর্ড গড়া; এসব মাইলফলক অধরাই থেকে গেল ইয়ুর্গেন ক্লপের দলের। প্রিমিয়ার লিগে ৪৪ ম্যাচ অপরাজিত থাকার পর হারের স্বাদ পেয়েছে অলরেডরা। পয়েন্ট টেবিলের ১৯ নম্বরে থাকা দল ওয়াটফোর্ডের সঙ্গে হেরে বসেছেন সালাহ-মানেরা। দ্বিতীয়ার্ধে একটি নয়, দুটি নয়, তিন-তিনটি গোল খেয়েছেন তারা। ইসমাইলা সারের দুই গোল এবং তারই অ্যাসিস্টে ট্রয় ডিনের করা গোলে ‘অচেনা’ লিভারপুলকে নিয়ে রীতিমত ছেলেখেলা করেছে অবনমন শঙ্কায় থাকা ওয়াটফোর্ড।

    ওয়াটফোর্ডের মাঠে লিভারপুল গিয়েছিল নতুন রেকর্ড গড়তে। জিতলেই একটানা ১৯ ম্যাচ জয়ের নতুন প্রিমিয়ার লিগের রেকর্ড গড়া হয়ে যেত লিভারপুলের। এককভাবে আর তাই রেকর্ড গড়া হচ্ছে না ক্লপের দলের। এই মৌসুমে ২৭ ম্যাচ অপরাজিতই ছিল লিভারপুল। এর সঙ্গে যোগ হয়েছিল আগের মৌসুমের কিছু ম্যাচ। ওয়াটফোর্ডের আগে লিগে লিভারপুল সবশেষ হেরেছিল ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে, ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে।

    শেষ কবে লিভারপুলকে প্রিমিয়ার লিগে এতটা ছন্নছাড়া ফুটবল খেলতে দেখেছেন আপনি? ম্যাচের শুরু থেকেই গতিপথের নিয়ন্ত্রণ স্বাগতিকদের হাতে তুলে দিয়েছিলেন ক্লপের শিষ্যরা। শিরোপা থেকে মোটে ৪ জয় দূরে থাকা দলের এমন আত্মসমর্পণ কে আশা করেছিল? তাও আবার ওয়াটফোর্ডের বিপক্ষে?


    প্রথমার্ধে বাম প্রান্ত দিয়ে জেরার্ড ডেলফু এবং মধ্যভাগ দিয়ে স্বাগতিক অধিনায়ক ডিনে লিভারপুলকে তটস্থ রাখলেও গোলমুখ খুঁজে পাননি তারা। অপরদিকে সালাহ-মানে-ফিরমিনোকে দিয়ে গড়া লিভারপুলের ফ্রন্টলাইন যখনই  আক্রমণে উঠতে চেয়েছে দারুণ সব ইন্টারসেপশনে সেসব প্রচেষ্টা রুখে দিয়েছে ওয়াটফোর্ড।

    অবশ্য চ্যাম্পিয়নস লিগে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের কাছে হার এবং লিগে শেষ ম্যাচে ওয়েস্টহ্যামের বিপক্ষে কষ্টার্জিত জয় দেখে কিছুটা আঁচ করা যাচ্ছিল, মৌসুমের ‘বিজনেস এন্ডে’ কিছুটা ক্লান্ত-শ্রান্ত হয়েই পৌঁছেছে ক্লপের দল। তবে তাই বলে লিগের ১৯ তম দলের সঙ্গে এমন হার হয়ত কল্পনাও করেননি অলরেড সমর্থকরা। প্রথমার্ধে কিছুটা রয়েসয়ে খেলা লিভারপুলের কাছে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যাশা ছিল তাদের। ম্যাচের শেষের দিকে গোল করে পূর্ণ পয়েন্ট ছিনিয়ে নেওয়াটাকে অনেকটা ট্রেডমার্কে পরিণত করেছিল এই লিভারপুল। কিন্তু এদিন আর সেই ম্যাজিক হল না।

    প্রথমার্ধের পর দ্বিতীয়ার্ধেও একই চিত্র। ওয়াটফোর্ডের আক্রমণ সামলাতে ব্যস্ত লিভারপুল। তবে এই অর্ধে আর গোলমুখে গিয়ে খেই হারায়নি স্বাগতিকরা। ম্যাচের ৫৪ মিনিটে সাধারণ একটি থ্রো-ইন সামলাতে ব্যর্থ হয় লিভারপুল। সেই থ্রো ইন থেকে ডেয়ান লোভরেনকে বোকা বানিয়ে বল দখলে নেন আব্দুলায়ে ডকুরে। তার গোলের সামনে বাড়ানো বলকে জালে পাঠাতে এরপর কোনো কষ্টই হয়নি সারের। গোল হজম করে লিভারপুল কিছুটা ওপরের দিকে উঠে খেলতে থাকে। সেই সুযোগে ম্যাচের ৬০ মিনিটে আবারও সারের ছোবল। লিভারপুলের অর্ধে বল পেয়ে অনেকটা জায়গা দৌড়ে এগিয়ে আসতে থাকা অ্যালিসনকে বোকা বানিয়ে বল জালে পাঠান তিনি। ভার্জিল ভ্যান ডাইক ক্লাবে যোগ দেওয়ার পর লিভারপুল এই প্রথম টানা দুই ম্যাচে তখন দুইটি করে গোল হজম করেছে। আর লিগে লিভারপুল দুই গোলের ব্যবধানে পিছিয়ে পড়েছে ২০১৮ সালের পর প্রথমবারের মতো।

     অবশ্য লিগে ৪২২ দিন অপরাজিত থাকা লিভারপুলের সামনে তখনও আশা, ‘শেষবেলার ম্যাজিক’। ৭২ মিনিটে বক্সের ভেতর থেকে সারের বুদ্ধিদীপ্ত ব্যাক পাস ধরে দারুণ ফিনিশে লিভারপুলের অপরাজিত থাকার স্বপ্ন ভেঙ্গে চুরামার করে দেন ডিনে।

    লিভারপুলের লিগ জেতাটা এখন কেবল সময়ের ব্যাপার। এক হারে হয়ত কেবল অপেক্ষাটা বাড়বে কিছুদিনের জন্য। শেষ পর্যন্ত সব ঠিক ঠাক থাকলে রেকর্ড গড়েই লিগ জিততে পারে লিভারপুল। কিন্তু একটি ব্যাপার নিশ্চিত হয়ে গেল এবার, একটি রেকর্ড ছোঁয়া হবে না তাদের। ২০০৩-০৪ মৌসুমে ‘ইনভিন্সিবলস’ আর্সেনালের রেকর্ডটা থেকে গেল ধরা ছোঁয়ার বাইরে।

    বাকি ১০ ম্যাচের আর ৪টিতে জিতলেই অ্যানফিল্ডে উৎসব হবে, তাই খুব একটা হতাশ হওয়ার কারণ নেই লিভারপুল সমর্থকদের। তবে পারফরমেন্সের হিসেবে আজ একটি ‘জেগে ওঠার সঙ্কেত’ পেয়েছে ক্লপের দল, সেটি নিশ্চিত।

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন