• ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ
  • " />

     

    ওল্ড ট্রাফোর্ডেও সিটিকে হারিয়ে দিল ইউনাইটেড

    ফুলটাইম
    ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ২-০ ম্যানচেস্টার সিটি


    ওল্ড ট্রাফোর্ডে দুই দলের শেষ ৭ দেখায় ম্যানচেস্টার সিটি জিতে ফিরেছিল ৬ বার। আরেকবার ম্যাচ হয়েছিল ড্র। ডিসেম্বরে ইতিহাদে প্রিমিয়ার লিগে ম্যান সিটিকে হারানোর প্রেরণা অবশ্য সঙ্গী ছিল ইউনাইটেডের। তবে এরপরও একটি রেকর্ড ছিল তাদের বিপক্ষে। ২০০৯-১০ সালের পর আর কখনই এক মৌসুমে সিটিকে দুইবার লিগে হারাতে পারেনি ইউনাইটেড। স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসনের আমল শেষ হওয়ার পর সেই অপূর্ণতা ইউনাইটডের ঘুচেছে ওলে গানার সোলশারকে দিয়ে। অ্যান্থনি মার্শিয়াল ও স্কট ম্যাকটমিনের গোলে সিটিকে হারিয়ে ১০ বছর পর আবার সিটির ওপর "ডাবল" পূর্ণ করেছে রেড ডেভিলরা। আর তাতে নিজের ক্যারিয়ারের প্রথমবারের মতো এক কোচের বিপক্ষে ৩ ম্যাচে হারের স্বাদ পেতে হয়েছে পেপ গার্দিওলাকে (একবার লিগ কাপে, দুইবার লিগে)।

    এই দশ বছরে পরিবর্তন হয়েছে অনেক কিছু। ম্যানচেস্টারের রাজত্ব লাল থেকে নীল দলের কাছে ন্যস্ত হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে সব ম্যানচেস্টার ডার্বিতেও পরিস্কার ফেভারিট থাকে সিটি। ডিসেম্বরে সিটিকে ২-১ গোলে হারিয়ে চমক দেখিয়েছিল ইউনাইটেড। সেবারের তুলনায় এবার অবশ্য আরও ধারাবাহিক ছিল ইউনাইটেডের ফর্ম। টানা ৯ ম্যাচ অপরাজিত ছিল তারা। আর লিগ শিরোপা একরকম নিশ্চিতভাবে হারিয়ে ফেলা সিটিই বরং ডার্বিতে ছিল রঙহীন।।

    তবে সবচেয়ে বেশি নড়বড়ে ছিলেন বোধ হয় সিটি গোলরক্ষক এডারসন। দুই অর্ধে তার দুই ভুলেই গোল খেয়েছে সিটি। ম্যাচ শেষে সোলশার যখন বাতাসে হাই হাইভ দিয়ে উযাপন করেছেন অন্য প্রান্তে থাকা এডারসন তখন ওল্ড টাফোর্ড খুঁড়ে ভেতরে ঢুকে যেতে পারলে বাঁচেন! 


    ম্যাচের আধ ঘন্টা চলার সময়ে বক্সের ঠিক বাইরে ফ্রি-কিক পেয়েছিল ম্যান ইউনাইটেড। ব্রুনো ফার্নান্দেজ উড়িয়ে মেরে বল ফেলেছিলেন বক্সের ভেতর বাম কোণায়। মার্শিয়াল কাঁধের ওপর দিয়ে উড়ে আসা বল মাটিতে পড়ার আগেই নিচু শটে গোল করেন। শটে অবশ্য গতি অতোখানি ছিল না, এডারসনও বলে নাগাল পাওয়ার মতো জায়গাতেই ছিল। তবে তার হাতের নিচ দিয়ে বল ঢুকে যায় সিটির জালে।

    দশ বছর পর সিটির ওপর ডাবল পূরণ করার দিনে ব্যক্তিগত একটি রেকর্ডও হয়েছে মার্শিয়ালের। ইতিহাদেও সিটির বিপক্ষের জয়ের ম্যাচে গোল করেছিলেন তিনি। এবার ফিরতি ম্যাচে গোল করে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পর প্রথম ইউনাইটেড খেলোয়াড় হিসেবে এক মৌসুমে দুইবার সিটির বিপক্ষে গোল করার মাইলফলক ছুঁয়েছেন ফ্রেঞ্চম্যান। আর মার্শিয়ালের গোলে সাহায্য করার পর ইউনাইটেডের পর্তুগিজ ফুটবলার ফার্নান্দেজ তার দুই গোলের সঙ্গে অ্যাসিস্টের সংখ্যা নিয়ে গেছেন তিনে। প্রিমিয়ার লিগে ফার্নান্দেজ আসার পর এতোগুলো গোলে অবদান নেই অন্য কারও। 

    প্রথমার্ধে আরও বেশ কয়েকটি সুযোগ কাজে লাগাতে পারত ইউনাইটেড। মার্শিয়াল একবার ভালো জায়গা থেকে পাস না দিয়ে নিজেই গোলে শট করে সুযোগ নষ্ট করেছেন। একই কাজ অন্য অর্ধে ড্যানিয়েল জেমসও করেছেন। তিনিও বক্সের ভেতর ফাঁকায় থাকা ফার্নান্দেজকে পাস না দিয়ে গোলে শট করেছেন সরাসরি।

    প্রথমার্ধে তেমন কোনো সুযোগ তৈরি করতে পারেনি সিটি। গোলে মাত্র একবার শট করেছিল তারা। ২০১৮ সালে লিভারপুলের বিপক্ষে ম্যাচের পর প্রথমার্ধে  গোলে শট করার হিসাব অনুযায়ী সিটির সবচেয়ে দুর্বল আক্রমণ ছিল এবার। দ্বিতীয়ার্ধে  শুরুতে সার্জিও আগুয়েরো অবশ্য একবার গোলও করেছিলেন। তবে ভিএআরে পরে অফসাইডে থাকার কারণে বাতিল হয়েছে সেটা। পরে গ্যাব্রিয়েল হেসুস, রাহিম স্টার্লিংরাও গোলে শট করে ডেভিড গি গিয়াকে ফেরাতে পারেননি।

    ডি গিয়ার স্বস্তির দিনে অন্য প্রান্তে দুঃস্বপ্নের এক রাত পার করতে হয়েছে এডারসনকে। দ্বিতীয়ার্ধের মাঝামাঝি সময়ে ব্যাক পাস নিয়ন্ত্রণে নিতে গিয়ে প্রায় গোল হজম করে বসতে গিয়েছিলেন তিনি। পরে দারুণ রিকভারিতে গোললাইন থেকে নিজেই মার্শিয়ালকে গোল পেতে দেননি। তবে যোগ করা সময়ে তার ভুল থ্রো থেকে বল পেয়ে ৩৫ গজ দূর থেকে
    সরাসরি শট করে গোল পেয়ে যান বদলি ম্যাকটমিনে। তাতে এডারসনের সঙ্গে সিটির ষোলকলাও পুর্ণ হয় ওল্ড ট্রাফোর্ডে।

    লিগে সপ্তম হারে লিভারপুলকে আরও একটু সুবিধা করে দিল আসলে সিটি। লিভারপুলের লিগ জিততে আর দুইটি জয় দরকার। লিভারপুল তাদের পরবর্তী ম্যাচ খেলার আগেই সিটি অবশ্য লিগে আরও দুইটি ম্যাচ খেলে ফেলবে। বোর্নমাউথ আর আর্সেনালের বিপক্ষে ওই দুই ম্যাচ হেরে গেলে আর কোনো ম্যাচ না খেলেই চ্যাম্পিয়ন হয়ে যাবে লিভারপুল। আর দারুণ এক জয়ে ৪৫ পয়েন্ট নিয়ে ম্যান ইউনাইটেড উঠে এসেছে পয়েন্ট টেবিলের ৫ এ। চার থাকা চেলসির চেয়ে ৩ পয়েন্টে পিছিয়ে আছে তারা। ম্যান সিটির ইউরোপিয়ান প্রতিযোগিতায় খেলার নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকলে পঞ্চম হয়েও পরেরবার চ্যাম্পিয়নস লিগে খেলতে পারবে ইউনাইটেড। তাতে ম্যানচেস্টারের লাল অংশের আনন্দটা দ্বিগুণই হওয়ার কথা!