• ক্রিকেটারদের আলাপ
  • " />

     

    "ছোটবেলা থেকেই ভাবতাম, রানতাড়ায় ভারতকে যে কোনও ম্যাচ জেতাতে পারব আমি"

    ছোটবেলা থেকেই রানতাড়ার পরিস্থিতিতে নিজেকে ভাবতেন বিরাট কোহলি, নিজেকে বলতেন, তিনি থাকলে জেতাতে পারতেন ভারতকে। রানতাড়াকে চাপ হিসেবে নয়, তিনি দেখেন সুযোগ হিসেবেই। এমন পরিস্থিতিতে সেই ছোটবেলার আনন্দটাও ফিরে আসে তার। রানতাড়া তার সহজাত বলেও মনে করেন তিনি। 

    সীমিত ওভারে রানতাড়ায় কোহলির রেকর্ড প্রায় অবিশ্বাস্য ধরনের। ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ২৩৯ ইনিংসের মাঝে রানতাড়ায় ব্যাটিং করেছেন তিনি ১৩৪ বার, ক্যারিয়ার গড়.৫৯.৩৩ থেকে বেড়ে এসব ম্যাচে হয়েছে ৬৯.৩৩-এ। তবে ৮৯ বার ভারতের হয়ে রানতাড়ায় জেতা ম্যাচে ব্যাটিং করেছেন কোহলি, সেসব ম্যাচে তার গড় ৯৬.২১! ওয়ানডেতে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং করে সেঞ্চুরি করেছেন ২৬টি, এর ২২টিতেই জিতেছে তার দল। 

    আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে জেতা ম্যাচের যেসবে পরে ব্যাটিং করেছেন, সেগুলোতে তার গড় ১০৭.৯১! ৩৮ ম্যাচের মাঝে ভারত জিতেছে ২৯টিতেই। 

    কোহলির সঙ্গে আলোচনার ক্ষেত্রে তাই রানতাড়ার বিষয় আসাটা যেন খুবই স্বাভাবিক, এবং কৌতুহলও সহজাত। তামিম ইকবালও সেটিই করেছেন, তার শো-তে প্রশ্ন করেছেন রানতাড়ায় কোহলির রহস্য জানতে চেয়ে। কোহলি বলেছেন, প্রক্রিয়াটা জটিল নয় মোটেও, “মানসিক প্রক্রিয়াটা খুবই সরল। মাঝে মাঝে তো মুশফিকরাও (রহিম, বাংলাদেশের উইকেটকিপার) স্টাম্পের পেছনে থেকে কিছু বলে সহায়তা করে, আমি আরও উজ্জীবিত হয়ে যাই।
     


    “তবে সত্যি বলতে-- আমি তরুণদেরও বলি, যে আত্মবিশ্বাস থাকতে হবে। আমি যখন ছোট ছিলাম, টিভিতে ম্যাচ দেখতাম। যখনই ভারত কোনও ম্যাচ রানতাড়া করে জিততে পারতো না, আমি এটা ভেবে ঘুমাতে যেতাম যে আমি হলে জেতাতে পারতাম। বাচ্চা হিসেবে স্বপ্ন ছিল এমন। 

    “তো এমন পরিস্থিতিতে এলেই আমার সেই আনন্দটা হয়। নিস্পাপ যে অনুভূতিটা, যেটা ছিল-- আমি জেতাতে পারতাম। রানতাড়া এমন একটা পরিস্থিতি যে আপনি ঠিক ঠিক জানেন, কতো রান করতে হবে জেতার জন্য। আমার কাছে এর চেয়ে পরিস্কার পরিস্থিতি আর নেই। আপনি সে পরিস্থিতিতে কীভাবে দেখছেন, সেটা আপনার ব্যাপার। তবে আমি এটিকে সুযোগ হিসেবে দেখি। এটা সুযোগ-- দল হিসেবে জেতাটা জরুরী। এটা আমার জন্য সুযোগ যেখানে আমি অপরাজিত থাকতে পারব। এখানে আমি দেখতে পারি যে আমি দলকে জেতাতে পারব।”

    লক্ষ্য যেমনই হোক, কোহলির প্রক্রিয়া থাকে এমনই, “৩৭০-৩৮০ হলেও আমি কখনোই ভাবি না যে আমি জেতাতে পারব না। এমন একটা অবস্থা হয়েছিল, ২০১২ সালে হোবার্টে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। কোয়ালিফাই করতে আমাদের ৪০ ওভারের মধ্যে ৩৩০-এর মতো তাড়া করতে হতো। তো হাফটাইমে আমি (সুরেশ) রায়নার সঙ্গে কথা বলেছিলাম-- এ ম্যাচকে আমরা দুটি ২০ ওভারের ম্যাচের মতো ভাবব। 

    “প্রথম ২০ ওভারে দেখি কতো হয়, ৪০ ওভারকে অনেক দূরের পথ মনে হয়। পরের ২০ ওভারে আরেকটি টি-টোয়েন্টি খেলব। প্রথমদিকে ২টা উইকেট গেলেও পরেরভাগে ৮ উইকেট নিয়ে আমরা ১২ করেও (ওভারপ্রতি) তুলতে পারি। এমন প্রক্রিয়া থাকে, যে দিক দিয়ে পরিস্থিতি দেখা হয়। প্রথম আউটলুকই আসলে বলে দেয়, পরিস্থিতি কোনদিকে যাবে।

    “আমার মনে হয়, আমার এই ব্যাপারটা সহজাত। মাঝে মাঝে নিজেকে প্রস্তুত করতে প্রয়োজন হয়, তবে এটা বেশি সহজাত হিসেবেই আসে আমার।”