• ফুটবল, অন্যান্য
  • " />

     

    ১০ উক্তিতে আন্দ্রেয়া পিরলোর ক্যারিয়ার, দর্শন

    ১০ উক্তিতে আন্দ্রেয়া পিরলোর ক্যারিয়ার, দর্শন    

    আন্দ্রেয়া পিরলো, নামের সঙ্গে 'মায়েস্ত্রো' শব্দটা জুড়ে গেছে তার। মাঝমাঠের মায়েস্ত্রোই ছিলেন তিনি। ব্রেসিয়াতে ক্যারিয়ার শুরু করে রবার্তো বাজ্জিওর সঙ্গে ছন্দ মেলাতে গিয়ে ডিপ লাইং মিডফিল্ডারের ভূমিকায় শুরু করেছিলেন। সেটা আলিঙ্গন করেছেন ক্যারিয়ারের শেষ পর্যন্ত। ওই 'রেজিস্তা' পজিশনে খেলা সেরা ফুটবলারদের সংক্ষিপ্ত তালিকায় তিনি থাকবেন ওপরের দিকেই। মায়েস্ত্রোরা যেমন জীবন দর্শন শিক্ষা দেন, পিরলো তেমন মাঝমাঠের বিদ্যা শিখিয়েছিলেন বিশ্বকে।

    ২০১৭ সালে বুট জোড়া তুলে রাখার পর এবার তার বয়স হলো ৪২। জন্মদিনে পিরলোকে স্মরণ তার উক্তি দিয়েই। যাতে আছে ফুটবলের গল্প, আছে জীবনের গল্পও।


    ১. নির্ভার পিরলো

    চাপকে আমি কোনো পাত্তাই দেই না। আমি বিকেলে ঘুমিয়ে কাটাই, ঘুম থেকে উঠে প্লেস্টেশনে গেম খেলি। এরপর গিয়ে বিশ্বকাপ জিতে আসি।

    আন্দ্রেয়া পিরলো কতোখানি নির্ভার থাকতেন তার একটা প্রমাণ। সতীর্থ জেনেরো গাত্তুসোর সঙ্গে প্রতিদিন সকালে গেম খেলতেন। এরপর যেতেন অনুশীলনে, ফিরে আবার বসে যেতেন গেম খেলতে। এই ছিল তার জীবন।


       ২. ফুটবল > সেক্স

    একটা দল সবার। এমন দলের অংশ হতে পেরে ভালো লাগে। এতো ভালো লাগে যে কখনও কখনও এটা সেক্সের চেয়েও বেশি ভালো মনে হয়। এই অনুভূতির স্থায়িত্বও বেশি। আর যদি কখনও তেমনটা না হয় তাহলেও তা আপনার দোষ না…বেডরুমের সৈন্য হওয়ার চেয়ে খেলার মাঠে সৈন্য হওয়া অনেকগুণ ভালো।

    ফুটবল পিরলোর কাছে কতোখানি গুরুত্বপূর্ণ? এরপর আপনি আর জবাব খুঁজতে যাবেন?


    ৩. "আর না"... মনে হয়েছিল পিরলোরও

    ইস্তাবুলের পর ভেবেছিলাম খেলাই ছেড়ে দেব। সবকিছু অর্থহীন মনে হচ্ছিল। ২০০৫ এর চ্যাম্পিয়নস লিগ আমার সব শক্তি শুষে নিয়েছিল।

    ২০০৫ সালে লিভারপুলের বিপক্ষে চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে প্রথমার্ধে ৩-০ গোলে এগিয়ে ছিল মিলান। এরপর লিভারপুল সমতায় ফেরে দ্বিতীয়ার্ধে। শেষে টাইব্রেকারে হেরে শিরোপা হাতছাড়া হয় মিলানের।
     


    ৪. পিরলোনহো

    অনেকবছর পর, অনেক কিছু অর্জনের পরও ২০০৫ সালের চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালের ক্ষতটা শুকায়নি তার। আমি ইতালিয়ান, তবে একটু ব্রাজিলিয়ানও। আপনি আমাকে পিরলোনহো বলে ডাকতে পারেন।

    খেলার ধরন দেখে ইতালিয়ান বিশ্বাস করতে কষ্ট হয়? পিরলো নিজেও জানেন এই মেধা নিয়ে ব্রাজিলে জন্মালে হয়ত নাম কামাতে পারতেন আরও!


    ৫. আহা ফিফা!


    চাকার পর সেরা আবিষ্কার হলো প্লেস্টেশন। এই গেমে আমি মিলানে যোগ দেওয়ার আগে অল্পকিছু সময় আমি বার্সেলনায় খেলেছি। আসলে কতো ম্যাচ খেলেছি আমি প্লেস্টেশনে? কে জানে! ক্যারিয়ারে যা খেলেছি তার চেয়ে অন্তত চারগুণ বেশি তো হবেই।

    পিরলো আর প্লেস্টেশন, বেটার দ্যান ইওর লাভস্টোরি।


    ৬. ভদ্র ছেলে পিরলোর 'বখাটে' বন্ধু গাত্তুসো


    ওর মুখের দিকে তাকালে বুঝতে পারতাম। রাগে লাল হয়ে যেত ওর চেহারা। দেখেই আপনি বুঝতে পারতেন এরপর কী হতে যাচ্ছে। আমরা সব ছুরি আলাদা করে রাখতাম। গাত্তুসো কাঁটা চামচ নিয়ে তেড়ে আসত। ওর কাটা চামচ আক্রমণের জন্যও কেউ কেউ ম্যাচ মিস করত পরে। যদিও আনুষ্ঠানিক ঘোষণায় লেখা থাকত, মাসল টান খেয়েছে ওই খেলোয়াড়।

    মিলান আর ইতালি সতীর্থ গাত্তুসোকে নিয়ে অনেক গল্প আছে পিরলোর কাছে!


    ৭. খাটে নয়, খেলতে হবে মাঠে

    আন্তোনিও কাসানোর দিকে তাকান। ও না হলেও ৭০০ নারীর সঙ্গে রাত কাটিয়েছে। কিন্তু ইতালিতে ও ডাক পায় না। এরপরও কি আসলেই আপনি তৃপ্ত হতে পারবেন? আমি হলে তো হতাম না।

    জীবনে কোনটা গুরুত্বপূর্ণ সেটা বেছে নিতে হবে নিজেকেই। আন্তোনিও কাসানোর ইতালিতে ডাক না পাওয়ার ব্যাপারে মন্তব্য করতে  গিয়ে পিরলো বুঝিয়ে দিয়েছেন সেটাই।  


    ৮. ফুটবলের জিপসি


    মাঠে আমি অনেকটা ভ্রমণে থাকা জিপসি। এমন একজন মিডফিল্ডার যে মাঠে শুধু ফাঁকা একটা জায়গা খোঁজে। ছায়া হয়ে মার্কাররা পেছনে লেগে থাকলে দম বন্ধ হয়ে আসে। একটু ফাঁকা জায়গায় আরামে ঘুরঘুর করা যায়।

    ডিফেন্স লাইনের ঠিক সামনে খেলতেন পিরলো। মার্কার তার চোখের বিষ। ফাঁকা জায়গা খোঁজাই ছিল তার কাজ।


    ৯. যাহা মারিব, সত্যি মারিব...

    ডেডবল অবস্থা থেকে মারা সব শট একেকটা পিরলো। প্রত্যেকটা শটে আমার নাম থাকে, সবগুলো আমার সন্তানের মতো। প্রত্যেকটা শট আপনার এক মনে হবে, কিন্তু ওরা জমজ না।

    ইএ স্পোর্টস চ্যাম্পিয়নস লিগ ২০০৮ খেলেছেন কখনও?  এসি মিলানের বিপক্ষে খেললে বক্সের ধারে কাছেও ফাউল করবেন না। আন্দ্রে পিরলো যে কোনো জায়গা থেকেই গোল করতে পারতেন। বাস্তব জীবনেও ওরমই ছিলেন পিরলো।


    ১০. বিনয়ী পিরলো, সুখী পিরলো

    ঘুমাতে যাওয়ার আগে আয়নায় নিজের চেহারা দেখি। একজন গড়পড়তা বাজে চেহারার লোকের প্রতিবিম্ব ভেসে ওঠে- এলোমেলো দাঁড়ি, বেয়াড়া চুল, বাঁকা তবে একটু চোখা নাক, চোখের নিচে গর্ত। এসব ছাড়া আমি একজনকে দেখি যে আসলেই সুখী।  

    আন্দ্রেয়া পিরলোকে আপনি যে কোনো সিনেমার নায়কের চরিত্রে দাঁড় করিয়ে দিতে পারতেন। লম্বা চুল পরিপাটি বা অগোছালো যেমনই রাখেন না কেন, চোখের ভেতর তো আর ঢুকে যায় না! তার মতো তার শ্রীও তো নিখুঁত। সেটা অবশ্য স্বীকার করতে চান না পিরলো। তবে তৃপ্তির কথা স্বীকার করে নেন অকোপটেই।