• ফুটবল, অন্যান্য
  • " />

     

    করোনার লক্ষণ গোপন করায় আটালান্টার কোচকে ভ্যালেন্সিয়ার নিন্দা

    করোনার লক্ষণ গোপন করায় আটালান্টার কোচকে ভ্যালেন্সিয়ার নিন্দা    

     করোনার লক্ষণ লুকিয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলোর ম্যাচে ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে ডাগআউটে দাঁড়িয়েছিলেন ইতালিয়ান ক্লাব আটালান্টার কোচ জিয়ান পিয়েরো গ্যাস্পেরিনি। গ্যাজেত্তা দেল্লো স্পোর্তের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে এই বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন আটালান্টা কোচ। পরে এরকম দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণের জন্য আটালান্টা কোচের নিন্দা করেছে ভ্যালেন্সিয়া।

    সাক্ষাৎকারে ভ্যালেন্সিয়ার সঙ্গে ১০ মার্চের সেই ম্যাচের প্রচণ্ড অসুস্থ থাকার কথা স্বীকার করেছেন গ্যাস্পেরিনি। হাসপাতালগুলোতে তখন প্রচুর করোনা রোগী থাকায় তখন চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে ভয় পাচ্ছিলেন বলে জানিয়েছেন তিনি, “আমি ভয় পাচ্ছিলাম। ভ্যালেন্সিয়ার সঙ্গে ম্যাচের দিন শরীরের অবস্থা খুব ভালো ছিল না, সেদিন বিকেলে আমার অবস্থা বেশ খারাপ হয়ে গিয়েছিল। ম্যাচের পরের দুই রাতে আমি ভালোমতো ঘুমাতে পারিনি। আমার জ্বর ছিল না, কিন্তু মনে হচ্ছিলো আমার শরীরের তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে গেছে। বাসার বাইরে দিয়ে প্রত্যেক দুই মিনিটেই একটি করে অ্যাম্বুলেন্স যাচ্ছিল। হাসপাতাল কাছেই ছিল, মনে হচ্ছিল আমরা যুদ্ধক্ষেত্রে আছি। পরে রাতে ভাবলাম, যদি এমন অবস্থাতে আমি হাসপাতালে যাই, কে জানে আমার কী হবে? আমি এখন কোনোমতেই যেতে পারব না। ম্যাচের ছবি দেখলেই বুঝতে পারবেন, আমার অবস্থা খুব বেশি ভালো ছিল না।”


    যদিও ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে সেই ম্যাচে ডাগআউটে দাড়িয়ে ইতিহাস গড়েছিলেন গ্যাস্পেরিনি। আটালান্টাকে প্রথমবারের মতো তুলেছিলেন চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে। তবে ক্লাবের এমন ঐতিহাসিক মুহূর্ত মোটেই উপভোগ করার সুযোগ পায়নি আটালান্টা ক্লাবের শহর বেরাগামোর বাসিন্দারা। ইতালির যে কয়েকটি শহরে ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে করোনা তার মাঝে বেরাগামো অন্যতম। ১৯ ফেব্রুয়ারি মিলানে ভ্যালেন্সিয়া এবং আটালান্টার প্রথম লেগের ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেই অঞ্চলে করোনার ব্যাপক বিস্তারের পেছনে বড় কারণ হিসেবেই অনেকে সেই ম্যাচটিকে দায়ী করেছেন। বলা হচ্ছিল সেটি ছিল ইতালির 'বায়োলজিক্যাল বোম্ব'।

    তবে দ্বিতীয় লেগটি স্পেনে ভ্যালেন্সিয়ার মাঠে কোনও দর্শক ছাড়াই অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তবে সেই ম্যাচের পর ভ্যালেন্সিয়ার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল তাদের খেলোয়াড় এবং স্টাফদের প্রায় ৩৫ ভাগ লোক করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। আর তাই আটালান্টা কোচের সাক্ষাৎকারের পর ক্ষোভই জানিয়েছে স্প্যানিশ ক্লাবটি। গ্যাস্পেরিনির নিন্দা করে দেওয়া বিবৃতিতে ক্লাবটি বলেছে, “আটালান্টা কোচের মন্তব্যে আমরা উষ্মা প্রকাশ করছি। করোনার লক্ষণ থাকার পরেও তিনি কোনও ব্যবস্থা না নিয়ে বরং মেস্তায়ায় ভ্যালেন্সিয়ার সঙ্গে আটালান্টার ৪-৩ গোলে জয়ের ম্যাচটিতে ডাগআউটে দাঁড়িয়েছেন। তার এই কাজের মাধ্যমে তিনি অনেক লোককে স্বাস্থ্য ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছেন।”

    অবশ্য সেই ম্যাচের পরপরই তিন সপ্তাহের জন্য আটালান্টার ট্রেনিং গ্রাউন্ডে সেলফ আইসোলেশনে ছিলেন গ্যাস্পেরিনি। এরপর পরিবারের সঙ্গে অবস্থানকালেও সামাজিক দূরত্বের বিধান কঠোরভাবে পালন করেছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।