• লা লিগা
  • " />

     

    ভিয়ারিয়ালে দু দন্ড শান্তি মিলল বার্সেলোনার

    ফুলটাইম
    ভিয়ারিয়াল ১-৪ বার্সেলোনা


    লা লিগার শিরোপা রিয়াল মাদ্রিদের ঘরে প্রায় চলেই গেছে। অথচ এক মাস আগেও সবকিছু বার্সেলোনার আয়ত্তে ছিল। করোনাভাইরাসের বিরতির পর লা লিগা ফিরল, বার্সেলোনাও নিয়ন্ত্রণ হারালো। একের পর এক পয়েন্ট খুইয়ে রিয়ালের শিরোপা জয়ের পথটাও আরেকটু তরান্বিত করেছে বার্সা। তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে মাঠে, মাঠের বাইরে বহু কারণে অশান্ত বার্সা। অস্থির সময়ে দারুণ এক জয় বার্সাকে কিছুটা প্রশান্তি ফিরিয়ে দিয়েছে।

    এই জয়ের পরও অবশ্য রিয়াল মাদ্রিদের চেয়ে ৪ পয়েন্টে পিছিয়ে আছে বার্সা। লিগে বাকি আর ৪ ম্যাচ। গাণিতিক হিসাবে শিরোপা স্বপ্ন এখনও টিকে আছে। তবে খোদ বার্সা খেলোয়াড়রাও নিশ্চয়ই জানেন সেই সম্ভাবনা প্রায় অসম্ভবের মতোই।


    তবে আপাতত এই জয়টাতেই ফোকাস করতে চাইবেন বার্সা সমর্থকেরা। বহুদিন পর আক্রমণাত্মক বার্সার দেখা মিলেছে। লিওনেল মেসি, লুইস সুয়ারেজে, আন্টোয়ান গ্রিযমানকে একসঙ্গে  মাঠে নেমে সফল হয়েছেন। মেসি করেছেন দুই অ্যাসিস্ট, তাতে পরের দুইজন করেছেন দেখার মতো দুই গোল। আর মৌসুমে মেসির অ্যাসিস্ট দাঁড়িয়েছে ১৯টি। ২০১০-১১ আর ২০১৪-১৫ মৌসুমে সর্বোচ্চ ১৮টি অ্যাসিস্ট ছিল মেসির। লিগে এক মৌসুমে সর্বোচ্চ অ্যাসিস্টের নিজের রেকর্ডটা ছাড়িয়ে গেছেন বার্সা অধিনায়ক। আর শেষে বদলি নেমে আনসু ফাতিও যোগ দিয়েছেন স্কোরশিটে।

    লা সিরামিকায় শুরুতেই নিজেদের ওপর চাপ কমিয়ে ফেলেছিল বার্সা। ম্যাচের ৩ মিনিটে জর্দি আলবার ক্রস থেকে পাউ তোরেস আত্মঘাতী গোল করে বসেন। তবে এরপরও পুরোপুরি স্বস্তি মেলেনি বার্সার। এই মৌসুমে যেন নিয়মিত ঘটনাই হয়ে গেছে সেটি। ভিয়ারিয়ালও ক্ষমা করেনি। জেরার্ডো মরেনো ১৪ মিনিটেই গোল শোধ দিয়ে ভিয়ারিয়ালকে ম্যাচে ফিরিয়ে আনেন।

    দুইদলের প্রথমার্ধ দেখেছে দুই প্রান্তের ফুটবল। একবার একদল আক্রমণে ওঠে তো পরেরবার অন্যদল। ২০ মিনিটেই আবার সফল তাতে বার্সা। মিডফিল্ডে বল জিতে মেসি ঝলক দেখিয়েছেন। ভিয়ারিয়ালের দুই ডিফেন্ডারকে ফাঁকি দিয়ে বক্সের সামনে গিয়ে বাম পাশে থাকা সুয়ারেজকে পাস দিয়েছেন। উরুগুইয়ান স্ট্রাইকার ডান পায়ের বাঁকানো শটে বল জড়িয়েছেন টপ কর্নারে।

    মার্ক আন্দ্রে টের স্টেগানকে সচেষ্ট থাকতে হয়েছে এরপরও। এক গোলের লিড হারাতে পারত বার্সা। দারুণ কিছু সেভ করে জার্মান গোলরক্ষক বার্সাকে পথ হারাতে দেননি। বিরতির আগে কাজটা সহজ করে দিয়েছেন গ্রিযমান। সাবেক ক্লাব অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে কয়েক মিনিটের জন্য মাঠে নেমেছিলেন তিনি, শেষ ৮ ম্যাচেও কোনো গোল পাননি। কোচ কিকে সেতিয়েন বলেছিলেন গ্রিযমানকে নামালে দলের ভারসাম্য ঠিক থাকে না। বিশ্বকাপ জয়ী ফুটবলার বার্সার জন্য ব্রাত্য হয়ে পড়েছেন- এমন গুজব জোরালো হয়ে উঠছিল ধীরে ধীরেই। তবে ৪৫ মিনিটে গ্রিযমান দেখিয়েছেন আত্মবিশ্বাস তলানিতে থাকা অবস্থাতেও কতোখানি ধারালো হতে পারেন তিনি।

    ভিয়ারিয়ালের বক্সের ঠিক বাইরে মেসির সঙ্গে দারুণ বোঝাপড়ার পর ব্যাকহিল থেকে বল পান গ্রিযমান। সুয়ারেজে যেখান থেকে গোল করেছেন সেখানেই বল পেয়েছিলেন তিনি। তিনিও একই কোণায় বল জড়িয়েছেন, তবে বাম পায়ের দুর্দান্ত এক চিপে। এরপর মেসির কোলে চেপে বসেছেন, গ্রিযমান ভারমুক্ত হলেন যেন ওই এক গোলেই।

    দ্বিতীয়ার্ধে বেশিরভাগ সময়ই দেখা গেছে বার্সার দাপট। ভিয়ারিয়াল গোলরক্ষক সার্জিও আসেনখো একের পর এক সেভ করে স্কোরলাইনটা বাড়তে দেননি। এর মধ্যে মেসি নিজেও গোল করেছিলেন ৬৯ মিনিটে। কিন্তু অফসাইডের কারণে পরে ভিএআরে বাতিল হয়েছে সেই গোল। যোগ করা সময়ে ফ্রি-কিক থেকে মেসির শট লেগেছে বারপোস্টে। তাই ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে আর গোল পাওয়া হয়নি মেসির।

    রিকি পুজ মাঠে নেমেছিলেন ৬০ মিনিটে, আরেক তরুণ ফাতি ৭২ মিনিটে। দুইজনই দিশেহারা বার্সাকে আলোর রেখা দেখিয়েছেন আরেকবার। ফাতি অবশ্য এক ধাপ বেশি গেছেন। ১৭ বছর বয়সী ৮৬ মিনিটে করেছেন সলো গোল। আলবার কাছ থেকে বাম প্রান্তে বল পেয়ে ঢুকে গিয়েছিলেন বক্সের ভেতর, নিজেই শট নিয়েছেন। সেই বল গড়িয়ে গড়িয়ে গিয়ে জড়িয়েছে ভিয়ালের জালে। 

    এই ম্যাচের পর আপাতত নতুন একটা লাইফলাইন পেয়ে গেল বার্সা। তবে তার ধারাবাহিকতা কতোখানি থাকে সেটাই এখন প্রশ্ন।

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন