• আয়ারল্যান্ডের ইংল্যান্ড সফর ২০২০
  • " />

     

    বেইরস্টো-ঝড়ের পর আয়ারল্যান্ডকে হতাশ করলেন উইলি-বিলিংস

    ২য় ওয়ানডে, সাউদাম্পটন 
    আয়ারল্যান্ড ২১২/৯, ৫০ ওভার (ক্যামফার ৬৮, টেকটর ২৮, সিং ২৫, রশিদ ৩/৩৪, উইলি ২/৪৮, মাহমুদ ২/৪৫)
    ইংল্যান্ড ২১৬/৬, ৩২.৩ ওভার (বেইরস্টো ৮২, উইলি ৪৭*, বিলিংস ৪৬*, লিটল ৩/৬০, ক্যামফার ২/৫০)
    ইংল্যান্ড ৪ উইকেটে জয়ী ও ৩ ম্যাচ সিরিজে ২-০তে এগিয়ে


    কেভিন ও’ব্রায়েন এ ম্যাচে ৭ বলে করেছেন ৩ রান, বোলিং করেননি, ক্যাচও নেননি। তবুও তার নামটা আসছে ২০১১ বিশ্বকাপে বেঙ্গালুরুর স্মৃতির কারণে। ৩ ম্যাচে ২ বার সুযোগ 'তৈরি' করেও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আয়ারল্যান্ডের ইতিহাসের একমাত্র ওয়ানডে জয় হয়ে থাকলো যে এ ম্যাচের পরও সেটিই।

    গত বছরের মে-তে মালাহাইডে ১৯৮ রান করেও ইংল্যান্ডকে কাঁপিয়ে দিয়েছিল আয়ারল্যান্ড, ১০১ রানেই ৬ষ্ঠ উইকেট হারিয়েছিল অইন মরগানের দল। সাউদাম্পটনে এদিনও অপেক্ষাকৃত ‘কম’ স্কোর তাড়া করতে গিয়ে ১৩৭ রানে ৬ উইকেট হারিয়েছিল তারা। আরেকটি জয়ের আশা হুট করেই জেগেছিল আয়ারল্যান্ডের। তবে হলো না। সেদিন বেন ফোকস ও টম কারান যা করেছিলেন, এদিন করলেন স্যাম বিলিংস ও ডেভিড উইলি। দুজনের ৭৯ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে টানা দ্বিতীয় ম্যাচ জিতে সিরিজ জিতে গেছে বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। 

    এদিনও তাই পরাজিতদের দলেই থাকতে হলো কারটিস ক্যামফারকে। টানা দ্বিতীয় ফিফটি করলেন, ইতিহাসের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে নিজের প্রথম দুই ইনিংসে ফিফটির পর নিলেন উইকেটও। তবে যথেষ্ট হলো না সেসব। অবশ্য জনি বেইরস্টো যেভাবে ব্যাটিং করেছেন, তাতে যথেষ্ট হওয়ার প্রশ্নই একসময় হারিয়ে গিয়েছিল। বেইরস্টোর ৪১ বলে ৮২ রানের ইনিংসে এ জয়কে শুধুই সময়ের অপেক্ষা হচ্ছিল ইংল্যান্ডের এক সময়, তবে ১২ বলের ব্যবধানে জশ লিটলের ৩ উইকেটে লড়াইয়ে ফিরেছিল আয়ারল্যান্ড। 

    রানতাড়ায় আগেরদিন শুরুতে ফিরেছিলেন বেইরস্টো, এদিন জেসন রয়। ইনিংসের তৃতীয় বলে অফস্টাম্পের বাইরের হাফভলিতে ব্যাট চালিয়ে ধরা পড়েছেন তিনি। ২য় ওভারের ৪র্থ বলে লিটলকে কাভারের ওপর দিয়ে চার দিয়ে নিজের দানবীয় রূপ ধারণ করা শুরু করেছেন বেইরস্টো। পরের বলে ইনসাইড-এজে হয়েছে চার, তবে বেইরস্টো থামেননি। 
     


    ইয়াংয়ের পরের ওভারে মেরেছেন ৩টি চার। এরপর থেকে ৯ম ওভার বাদ দিলে ১৬তম ওভার-- বেইরস্টো যতক্ষণ ক্রিজে ছিলেন-- ততক্ষণ পর্যন্ত প্রতি ওভারেই এসেছে বাউন্ডারি। ৯ম ওভারে ক্যামফারের নিপড-ব্যাক ডেলিভারিতে নিজের রক্ষণের দরজা আলগা হয়ে গেছে ভিনসের। এরপর একই বোলারের ফুললেংথের বলে এলবিডব্লিউ হয়েছেন টম ব্যান্টন, টানা দুই ইনিংসে ব্যান্টনের উইকেট নিলেন ক্যামফার। 

    বেইরস্টো ঝড় চলেছে এর মাঝে। ২১ বলে ফিফটি করে ইংল্যান্ডের দ্রুততম ফিফটির অইন মরগানের রেকর্ডে ভাগ বসিয়েছেন। লিটলের অফস্টাম্পের বাইরের বলে এজড হওয়ার আগে তার ৪১ বলের ইনিংসে মেরেছেন ১৬টি বাউন্ডারি-- মোট ৬৮ রান এসেছে সেখান থেকেই। এ ইনিংস দিয়ে ক্যারিয়ারে ৩ হাজার পূর্ণ হলো এই ডানহাতির, যৌথভাবে পঞ্চম দ্রুততম ব্যাটসম্যান হিসেবে ৭২ ইনিংসে এ মাইলফলক পূর্ণ করলেন তিনি।   

    বেইরস্টো যতক্ষণ ব্যাটিং করছিলেন, ভিনস-ব্যান্টনের জন্য ততক্ষণ ছিল নিজের ক্যারিয়ারে ‘কিছু’ করার সুযোগ, তবে তারা পারলেন না। বেইরস্টোর উইকেটের পর বদলে গেল চিত্রটাও। লিটলের ৪ বলের ব্যবধানে শর্ট বলে ক্যাচ তুললেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক মরগান, সহ-অধিনায়ক মইন আলি। তখনও ইংল্যান্ডের প্রয়োজন ছিল ৭৬ রান।

    তবে পরের ওভারে শেষ বলে চার মেরে চাপ যেন একটু আলগা করার আভাস দিলেন উইলি, ২ ওভার পর লিটলকে ছয়, তারপরের ওভারে ক্যামফারকে চার মেরে এক বছর আগের মালাহাইডের ওই স্মৃতি ফিরিয়ে আনার আভাস দিলেন। ৪৬ বলে ৪৭ রান করলেন শেষ পর্যন্ত ৫ চার ও ২ ছয়ে, বিলিংস করলেন ৬ চারে ৬১ বলে ৪৬। 

    সাউদাম্পটনে প্রায় পুরোটা দিনই আকাশ ছিল মেঘলা, তবে এবার টসে জিতে ব্যাটিং নিয়েছিলেন আয়ারল্যান্ড অধিনায়ক অ্যান্ডি ব্যালবার্নি। আগের দিনের মতো এদিনও শুরুতেই আঘাত করেছেন ডেভিড উইলি, তার হুট করেই সিমে পড়ে ভেতরের দিকে ঢোকা বলে ব্যাট নামানোর সময় পাননি গ্যারেথ ডিলানি, হয়েছেন এলবিডব্লিউ। পরের ওভারে অফস্টাম্পের বাইরের বলে ব্যাট ছুঁড়ে ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে টম ব্যান্টনের দারুণ ক্যাচে পরিণত হয়েছেন পল স্টার্লিং।
     


    অ্যান্ডি ব্যালবার্নি ও হ্যারি টেকটরের ২৪ রানের ওপেনিং জুটি ভেঙেছে জেমস ভিনসের বলে। ২৭ ম্যাচের সীমিত ওভারের ক্যারিয়ারে এই প্রথম বোলিং করলেন ভিনস, ব্যালবার্নি শর্ট বলে দোটানায় ভুগে বটম-এজড হয়ে পরিণত হয়েছেন তার প্রথম আন্তর্জাতিক উইকেটে। এরপরই দৃশ্যপটে হাজির হয়েছেন আদিল রশিদ। 

    কেভিন ও’ব্রায়েনকে রশিদ বোল্ড করেছেন পঞ্চম স্টাম্প লাইনে করা দারুণ এক গুগলিতে। টাকার ও টেকটরের ৩৪ রানের জুটিও শেষ হয়েছে তার বলেই। ফুললেংথের বলে আলগা শট খেলে মিড-অনে সাকিব মাহমুদের হাতে ধরা পড়েছেন টেকটর, অভিষেকে ডাকের দুস্মৃতি ভুলে এদিন করতে পেরেছেন ২৪ রান। তিন অঙ্ক ছোঁয়ার আগেই ৬ উইকেট নেই, আয়ারল্যান্ডকে আরেকবার বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করার দায়িত্ব তুলে নিয়েছেন এরপর ক্যামফার। 

    সিমি সিংয়ের সঙ্গে ৬০ রানের পর অ্যান্ডি ম্যাকব্রাইনের সঙ্গে তার ৫১ রানের জুটিতেই ২০০ পেরিয়েছিল আয়ারল্যান্ড। শুরুতে ধীরগতির ছিলেন, সতর্ক থেকে থিতু হয়েছেন। প্রথম ৩৫ রান করতে নিয়েছিলেন ৬৫ বল, পরের ২২ বলে করেছেন ৩৩ রান। টপলিকে স্কুপ করে চার মেরে ফিফটি করেছেন, ছয় নম্বর বা এর নিচে ব্যাটিং করে ওয়ানডেতে নিজের প্রথম দুই ইনিংসে ফিফটি করা দ্বিতীয় ব্যাটসম্যান তিনি, অস্ট্রেলিয়ার ডেভিড হাসির পর। 

    ক্যামফারের ইনিংসের সবচেয়ে সেরা মুহুর্ত ছিল উইলির ওভারে তিন চার- পুল, ইনসাইড আউটের পর মেরেছেন রিভার্স স্কুপে। ৯ বল বাকি থাকতে মাহমুদের বলে ব্যাট ছুঁড়ে থার্ডম্যানে ধরা পড়েছেন তিনি। এর আগে ৩৩ বলে ২৪ রান করা সিং-ও ক্যাচ দিয়েছিলেন মাহমুদের বলে। ইনিংসের শেষ বলে সমানসংখ্যক বলে ২১ রান করা ম্যাকব্রাইনকে আউট করে ১৫৯৭ দিন পর আরেকটি আন্তর্জাতিক উইকেট পেয়েছেন ২০১৬ সালের পর আবারও খেলতে নামা রিস টপলি। 
     

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন