• ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ
  • " />

     

    ফেরান তোরেসকে কেন 'পানির দামে' পেয়েছে সিটি?

    স্প্যানিশ ক্লাব ভ্যালেন্সিয়া থেকে ২০ মিলিয়ন পাউন্ড খরচ করে ফেরান তোরেসকে দলে টেনেছে ম্যানচেস্টার সিটি। মৌসুমজুড়ে স্পেনে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখানর পর পেপ গার্দিওলার নজরে এসেছিলেন এই তরুণ উইঙ্গার। নিজের ২০ তম জন্মদিনের আগেই সিনিয়র পর্যায়ে একশ-র বেশি প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ খেলা হয়ে গেছে তোরেসের।

    তবে কেন গার্দিওলা ২০ বছর বয়সী এই তরুণ স্প্যানিশ উইঙ্গারকে দলে টানতে আগ্রহ দেখিয়েছেন? প্রথমত সিটির আক্রমণভাগের দুইজন  খেলোয়াড় এই মৌসুম শেষে বিদায় নিচ্ছেন। অভিজ্ঞ প্লেমেকার ডেভিড সিলভা এবং গতিময় উইঙ্গার লেরয় সানে দুজনেই ম্যানচেস্টারের নীল অর্ধ ছেড়ে যাছেন। এমন অবস্থায় আক্রমণভাগে নতুন খেলোয়াড় সংযোজন খুবই জরুরী ছিল সিটির জন্য।


    তবে সেটা করতে গিয়ে বড় নামের পেছনে না ছুটে বরং ভ্যালেন্সিয়ার অ্যাকাডেমি থেকে উঠে আসা এবং গত মৌসুম লা লিগায় তাক লাগিয়ে দেওয়া তোরেসকেই সিলভা-সানেদের যোগ্য উত্তরসূরি মনে করেছেন গার্দিওলা। অবশ্য ২০১৮-১৯ মৌসুমেও ভ্যালেন্সিয়ার জার্সিতে খেলেছিলেন তোরেস, তবে তিনি যে জায়গায় খেলে অভ্যস্ত সেখানে গনসালো গেদেস নিয়মিত পারফর্ম করায় তার একাদশে সুযোগ হয়েছিল কম। তবে এবার গেদেস চোটে পড়ে মৌসুমের বড় একটা সময় মাঠের বাইরে কাটানোয় নিয়মিত খেলার সুযোগ তৈরি হয়েছিল তার সামনে। আর সেই সুযোগ এক কথায় লুফে নিয়েছেন এই উইঙ্গার।

    গত মৌসুমে লা লিগায় ৩৪ ম্যাচে মাঠে নেমেছেন তিনি। চ্যাম্পিয়নস লিগেও ৬ ম্যাচ খেলেছিলেন তোরেস। সবমিলিয়ে গত মৌসুমে ৬ গোল এবং ৮ অ্যাসিস্ট করেছেন তিনি। গোল-অ্যাসিস্টের পরিসংখ্যান অবাক করা না হলেও তার সক্ষমতা নিয়ে কারও কোনও সন্দেহ নেই। ভ্যালেন্সিয়ার অ্যাকাডেমি পরিচালক হোসে হিমেনেজের মতে, তোরেস তার খেলা দিয়ে যে কাউকে ‘অবাক করে দিতে পারে’। ভ্যালেন্সিয়ার স্থানীয় পত্রিকা লাস প্রভিন্সিয়াসের ফুটবল সাংবাদিক পেদ্রো কাম্পোসের মতে, সে ‘বিস্ফোরক’। এককথায় ইউরোপিয়ান ফুটবলের উঠতি তাঁরাদের মাঝে অন্যতম এই তোরেস।


    তোরেসের সক্ষমতা নিয়ে বলতে গিয়ে তাকে অসাধারণ উইঙ্গার হিসেবে বর্ণনা করেন কাম্পোস, “সে একজন বিশুদ্ধ উইঙ্গার। সে আক্রমণে ওঠার নিজের শক্তি এবং দক্ষতার পূর্ণ ব্যবহার করে। খেলোয়াড়দের পাশ দিয়ে বেরিয়ে যাওয়া, ড্রিবলিং এবং নিখুঁত হেডার তার বিশেষত্ব। রক্ষণে কিছুটা দুর্বল সে, আক্রমণে উঠলে সেখান থেকে ফরে নিজের জায়গা কাভার করতে কিছুটা কষ্ট হয় তার। তবে আক্রমণে সে ইউরোপের সবচেয়ে বিস্ফোরক খেলোয়াড়দের একজন, আর আক্রমণটাই তো তার মূল কাজ।”

    তোরেসের মতো সম্ভাবনাময় তরুণ খেলোয়াড়কে সিটি পানির দামে পেয়েছে বলে মনে করেন স্প্যানিশ ফুটবল বিশেষজ্ঞ টেরি গিবসন। তোরেস তার চুক্তির শেষ বছরে পদার্পণ করছিল। গিবসনের মতে, তাকে আরও আগেই নতুন চুক্তি দিয়ে রেখে দেওয়া উচিৎ ছিল ভ্যালেন্সিয়ার। স্প্যানিশ ক্লাবটির তরফ থেকে এটিকে বিশাল ব্যর্থতা হিসেবেই দেখছেন গিবসন। তোরেস দুই উইংয়ে খেলতে পারেন, নাম্বার টেন হিসেবেও মানিয়ে নিতে অসুবিধা হয় না তার। বয়স মাত্র ২০, তবে এরই মধ্যে তিন মৌসুম লা লিগায় খেলার অভিজ্ঞতা হয়ে গেছে। শীঘ্রই স্পেনের জাতীয় দলেও তার ডাক পড়বে বলে মনে করেন গিবসন।

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন