• এশিয়া কাপ ২০১৬
  • " />

     

    ২২ গজের সেলুলয়েড : 'লেগ আফটার উইকেট'!

    ছবির পরে ছবি চলে নাকি তৈরী হয় সিনেমা। ক্রিকেট ম্যাচও তো তাই। টুকরো টুকরো অসংখ্য ছবি জন্ম নেয় যেখানে। ২২ গজ আর সবুজ ওই উদ্যানের ছবিগুলোকে যদি ধরা যেত সেলুলয়েডে! 


     

    মানজুরের মুক্তি

    আন্তর্জাতিক অভিষেকের প্রায় ৮ বছর পর ক্রিকেটের এই সংস্করণে সুযোগ পেলেন। তবে আট বছরের ‘অপেক্ষা’র অবসানের রাস্তাটা ঠিক মসৃণ বা সুখকর হলো না খুররম মানজুরের। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারটা বুমরাহকে দিলেন মেডেন। ৮ বলে যখন ১ রান, নেহরাকে চার মেরে একটু ছাড়ানোর চেষ্টা করলেন নিজেকে। হলো না, খোলসবন্দী হলেন আবারও। ১৮ বলে ১০ রান করে যেন নিজেকেই নিজে মুক্তি দিলেন মানজুর। বুমরাহর বলটা কাভারে ঠেলে এক রান নিয়েছিলেন মালিক, তবে মানজুরের ইচ্ছা ছিল ভিন্ন। দুই রানের জন্য ছুটে যতক্ষণে বুঝলেন মালিক ওপারেই দাঁড়িয়ে, ততক্ষণে অর্ধেক ক্রিজ পার হওয়া সারা! হাত থেকে ছিটকে গেল ব্যাট, কোহলির থ্রো স্ট্যাম্পে লাগার পর তো ইনিংস থেকে ছিটকে গেলেন মানজুরও!

     

    মেডেনের রাজা

    মানজুর মেডেন দেওয়ার পর বুমরাহ মেডেন পেয়েছেন মালিকের কাছ থেকেও। টি-টোয়েন্টির ইতিহাসে এক ইনিংসে দুই মেডেন পাওয়ার এটি ১৬তম ঘটনা। রঙ্গনা হেরাথ দুই মেডেন করতে বল করেছিলেন ৩.৩ ওভার, বুমরাহ করেছেন ৩ ওভার। তবে ২০১৪ সালে চট্টগ্রামে নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধে ২ ওভার বোলিং করে দুইটিই মেডেন পেয়েছিলেন শ্রীলঙ্কান পেসার নুয়ান কুলাসেকেরা!

     

    অচেনা অশ্বিন

    ২০১৪ সালের ৭ সেপ্টেম্বর বার্মিংহামে ইংল্যান্ডের সঙ্গে টি-টোয়েন্টিতে শেষ উইকেটবিহীন ছিলেন রবিচন্দ্রন অশ্বিন। এরপর খেলেছেন আরও ৯টি টি-টোয়েন্টি, উইকেট পেয়েছেন এর প্রত্যেকটিতেই। আইসিসির টি-টোয়েন্টির র‍্যাংকিংয়ের দুই নম্বর বোলার মিরপুরের আবার থাকলেন উইকেটশূন্য, ৩ ওভারে ২১ রান দিয়ে। ইনিংসে সবচেয়ে বেশী ইকোনমি রেটও অশ্বিনের, যে ম্যাচেই কিনা প্রতিপক্ষকে ৮৪ রানে গুটিয়ে দিয়েছে তাঁর দল!

     

    উইকেট জোড়া জোড়া

    অষ্টম ওভারের প্রথম বলে উমর আকমলকে এলবিডাব্লিউ করেছিলেন যুবরাজ সিং, ওই ওভারেরই শেষ বলে রান-আউট হয়েছিলেন শহীদ আফ্রিদি। অষ্টাদশ ওভারে হারদিক পান্ডিয়া পরপর দুই বলে আউট করেছিলেন মোহাম্মদ সামি ও মোহাম্মদ আমীরকে। সেই আমীরই প্রথম ওভারে ফেরালেন রোহিত শর্মা ও আজিঙ্কা রাহানেকে। দুইজনই হলেন এলবিডাব্লিউ।

     

    আম্পায়ার- লেগ আফটার উইকেট

    ব্যাটের বদলে পায়ে লাগলে তিনি আউট দিয়েছেন কত ব্যাটসম্যানকে! এ ম্যাচেও মোহাম্মদ আমীরের বলে আউট দিয়েছেন রোহিত ও রাহানেকে। সেই রুচিরা পালিয়াগুরুগেরই পায়েই পরে লাগলো বল, বেশ জোরেসোরেই! পয়েন্ট থেকে থ্রো করেছিলেন উমর আকমল, স্ট্যাম্পের পেছনে দাঁড়িয়ে বলটা ঠিক খেয়াল করেননি শ্রীলঙ্কান আম্পায়ার। আকমল বা পাকিস্তানীরা অবশ্য আবেদন করেননি, ‘ক্ষমা’ই চেয়েছেন!

     

    রিয়াজের ‘উল্টো’যাত্রা!

    আগের ৮ ওভারে সর্বোচ্চ রান ছিল ৮ রান, ৭ম ওভারে মোহাম্মদ আমীরকে দুইটি চার মেরেছিলেন বিরাট কোহলি। ৯ম ওভারে এসে সেই কোহলি আবার মারলেন দুইটি চার, সঙ্গে যুবরাজের এক চার মিলিয়ে ওয়াহাব রিয়াজ মোট দিলেন ১৫ রান; খেলাও যেনো পাকিস্তানের হাত থেকে চলে গেলো কিছুটা। পরের ওভার করতে এসে প্রথমেই দিলেন নো, তবে ৫ রান দিয়েই অবশ্য ‘রক্ষা’ পেলেন রিয়াজ, এ যাত্রায়!

     

    আফ্রিদির 'দ্বিতীয়' 

    ৯১তম টি-টোয়েন্টি খেলতে নেমেছিলেন পাকিস্তান অধিনায়ক। ব্যাট হাতে করেছেন ২ রান, বল করতেই আসেননি! এর একবারই হয়েছিল এমন, শহীদ আফ্রিদি যে ম্যাচে শুধুই ব্যাট করেছিলেন। ২০১৩ সালে সেঞ্চুরিয়নে আফ্রিদি বোলিংয়ে আসার আগেই অল-আউট হয়ে গিয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা, আর আজ ভারতকে অল-আউটের চেষ্টায় নিজেকে সামিলই করলেন না! 

     

    ‘কুল’ কোহলি

    দুই ওপেনার শুন্য রানেই ফিরেছিলেন। সুরেশ রায়নাও ফিরলেন তাড়াতাড়িই! ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের ড্রেসিংরুমগামী স্রোতের উল্টোপথেই যেন হাঁটা দিলেন বিরাট কোহলি। ফ্লিক আর কাভার ড্রাইভ করে খেললেন অসাধারণ কিছু শট। মোট ৭ চারে ৫১ বলে করলেন ৪৯ রান। ইনসাইড-এজ হওয়ার পরও এলবিডাব্লিউ দিলেন আম্পায়ার, তবে ততক্ষণে ভারতকে নিরাপদ দূরত্বেই পৌঁছে দিয়েছেন ভারতের টেস্ট অধিনায়ক।

     

    ছক্কা-বিহীন টি-টোয়েন্টি!

    আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের এই ক্ষুদ্রতম সংস্করণে চার-ছক্কাই দর্শকদের বিনোদনের উৎস! ছুটির দিন থাকায় কানায় কানায় ভর্তি স্টেডিয়ামের দর্শকরা হয়ত ভীড় জমিয়েছিলেন ধুমধাড়াক্কা ব্যাটিং দেখতেই। তবে এই লো-স্কোরিং ম্যাচে তা আর হলো কই? পুরো ম্যাচ জুড়ে মাত্র ১৮টি চার হলেও দু'দলের কেউই মারতে পারেননি কোনো ছক্কা। এই নিয়ে পুরোপুরি সম্পন্ন হওয়া আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে মাত্র ৫ বার হলো এমন ঘটনা।  

     

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন