• ক্রিকেটে ফেরা
  • " />

     

    সিরিজ শুরুর খবরে সৌম্যদের স্বস্তি, অনিশ্চিত বিলম্বের পর ট্রেনের 'খবর' হওয়ার মতো...

    ২৪ অক্টোবর আসতে এখনও দুই মাসেরও বেশি সময় বাকি। 

    তবে স্টেশনে অনেক্ষণ অনিশ্চিত অপেক্ষার পর অবশেষে যখন জানতে পারেন বিলম্বিত ট্রেন কখন আসছে, সেটা একটা স্বস্তি দেয় নিশ্চয়ই। রেলওয়ের লোক বা স্টেশনের জমায়েতের কথিত ভাষায়-- ট্রেনের খবর হয়েছে। অন্তত ক্ষণগণনা করেও তো সময় কাটে এরপর! একটা টাইমফ্রেমও দাঁড় করাতে পারেন আপনি।  

    ২৪ অক্টোবর বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য এমনই। বুধবার নিশ্চিত হয়েছে, ওইদিন শুরু হচ্ছে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৩ টেস্টের সিরিজ। এর আগে সেপ্টেম্বরের ২৩ তারিখ সম্ভাব্য যাত্রার সময়, তারও আগে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি থেকে হবে কন্ডিশনিং ক্যাম্প। অক্টোবর আসতে যেমন বাকি আছে বেশ কিছুদিন, তেমনি এ সফরকে ঘিরে প্রস্তুতিটাও বাংলাদেশের হবে দীর্ঘই। 

    দেশে কন্ডিশনিং ক্যাম্পের পর শ্রীলঙ্কা গিয়ে কোয়ারেন্টাইনে ১৪ দিনের সম্ভাব্য সময়সীমা পার করার পর অনুশীলন হবে সেখানেও। অনুশীলনে সহায়তা করার জন্য জাতীয় দলের সঙ্গী হবে এইচপি দলও। এ সফরে টি-টোয়েন্টি খেলার আলোচনা হলেও এখনও অনিশ্চিত সেটি। 

    শুধু টেস্ট হলে সৌম্য সরকার থাকবেন কিনা, সে প্রশ্ন থেকে যায়। ২০১৯ সালে আফগানিস্তানের বিপক্ষে শেষ টেস্ট খেলেছেন তিনি, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে শেষ দুটি টি-টোয়েন্টিতে ৬২ ও ২০ রানের অপরাজিত দুটি ইনিংস ছিল তার। টেস্ট দলে থাকবেন কিনা, না থাকলে এইচপির হয়ে যাবেন কিনা, সেসব ভাবার আগে আপাতত সৌম্য স্বস্তি পাচ্ছেন-- অবশেষে যে খেলা শুরুর খবর পেয়েছেন তিনি! 
     


    নির্বাচক হাবিবুল বাশারের সঙ্গে বাংলাদেশ টেস্ট অধিনায়ক মুমিনুল হক, বৃহস্পতিবার মিরপুরে/বিসিবি


    ঈদের ছুটির পর থেকেই মিরপুরে ব্যক্তিগত অনুশীলন শুরু করেছেন সৌম্য। আপাতত আলাদা আলাদা করে ক্রিকেটারদের অনুশীলনে ফিরিয়েছে বিসিবি, সামনে কন্ডিশনিং ক্যাম্পের বিস্তারিত নিশ্চিত করবে তারা। সৌম্য বলছেন, তার অনুভূতিটা, “এটা স্বস্তির যে, খেলা শুরু হতে যাচ্ছে আমাদেরও। এতদিন যখন খেলা দেখতাম ইংল্যান্ডের, খারাপ লাগতো অনেক যে আমরা কবে খেলব। অবশ্য ভালও লাগতো যে, না, খেলা শুরু হয়েছে। গতকাল শোনা গেছে যে আমাদের সফর নিশ্চিত। তো এটাও নিজের কাছে অনেক ভাল লাগছে।” 

    কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে বেশি সময় থাকতে হবে বাইরে, সঙ্গে মানতে হবে কড়া-বিধিনিষেধও। সৌম্যর মতে, এগুলোকে টিমওয়ার্ক হিসেবেই দেখা উচিৎ, “সবকিছুরই প্রথম জিনিসটা একটু অন্যরকম থাকে। এক মাস আগে গেলে সবাই অনুশীলনের ভেতর থাকবে, একটু বেশি হলেও নিরাপত্তার জন্য করতে হবে, টিমওয়ার্ক হিসেবেই ধরতে হবে।”

    ‘বায়ো-সিকিউর’ বলয়ের মাঝে ইংল্যান্ড এরই মাঝে খেলেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে, এখন খেলছে পাকিস্তানের বিপক্ষে। পরিস্থিতির খুব নাটকীয় উন্নতি না হলে মোটামুটি তেমন বলয়ে থাকতে হবে বাংলাদেশ দলকেও। যারা খেলবেন, তাদের বাইরে তাই কাউকে সম্পৃক্ত করতে চায় না শ্রীলঙ্কা বোর্ডও, এইচপি দলকে বাংলাদেশ অনুশীলনের জন্য নিয়ে যাবে সে কারণেই। 

    “নিরাপত্তার যেহেতু একটা ব্যাপার থাকে। দল তো পরিবারের মতোই। সবাইকে নিরাপদে রেখেই কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে, নিয়ম মেনে খেলার মাঠে নামাই ভাল হবে। যে কোনও একজনের কিছু হলে সবাই ভুক্তভোগী হবে। 

    ব্যক্তিগত দিক দিয়ে সৌম্যর চাওয়া, যেখান থেকে শেষ করেছিলেন, সেখান থেকেই শুরু করার, “শেষ খেলেছিলাম টি-টোয়েন্টি জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। দুটি ভাল ইনিংস ছিল, চেষ্টা থাকবে সেখান থেকেই শুরু করার।” 

    সে শুরুর একটা তারিখ অন্তত জানা গেছে, আপাতত স্বস্তি তো সেটিই। 

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন