• ফুটবল, অন্যান্য
  • " />

     

    আয়াক্সের সেই আড্ডাটা আর নেই...

    আয়াক্সের সেই আড্ডাটা আর নেই। থাকার কথাও হয়ত ছিল না। আয়াক্সের মতো ক্লাবের এই পরিণতিই ছিল অনুমিত। তরুণরা আসর জমিয়ে দিয়ে যাবেন, এরপর আসর ভাঙবে। আবার নতুন করে আশায় বুক বাধবে আয়াক্স। এই যেন নিয়ম! 

    ২০১৮-১৯ মৌসুমে তরুণ একটি দল নিয়ে এসে চ্যাম্পিয়নস লিগে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলে আয়াক্স কোচ এরিক টেন হাগ। ডাচ ফুটবলের নতুন যুগের সেরা কিছু খেলোয়াড় সেই আয়াক্স দলে ছিল। ফ্রেঙ্কি ডি ইয়ং, মাথিয়াস ডি লিটদের সেই আয়াক্স ১৯৯৭ সালের পর প্রথম চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনাল পর্যন্ত গিয়েছিল। ভাগ্য আরেকটু প্রসন্ন হলে ফাইনালটাও খেলা হয়ে যেত। তবে ম্যাচের কার্যত শেষ সেকেন্ডে টটেনহাম ফরোয়ার্ড লুকাস মৌরার গোলে অ্যামস্টারডামে রুপকথা ট্র্যাজেডিতে পরিণত হয়েছিল।

    তবে ফুটবল সংশ্লিষ্ট সবাই তখন ধারণা করেছিলেন, আয়াক্সের এই ‘স্বপ্নের’ দলটিকে হয়ত আর কখনোই একসাথে খেলতে দেখা যাবে না। আদতে সেটাই হয়েছে। টটেনহামের বিপক্ষে সেই ম্যাচের আরও আগেই দলের মধ্যমাঠের কাণ্ডারি ডি ইয়ংকে বার্সেলোনা দলে ভেড়ায়। একে একে সেই নবীন দলের তরুণ অধিনায়ক ডি লিট, জিয়েখ, ভেল্টম্যান, ডি বিকরা আয়াক্স ছেড়ে পাড়ি জমিয়েছেন নতুন ঠিকানায়।

    চলুন দেখে নেওয়া যাক আয়াক্সের ২০১৮-১৯ মৌসুমের সেই দুর্দান্ত দলের নিয়মিত মুখগুলো এখন কে কোথায় আছেন... 

    আন্দ্রে ওনানা (গোলরক্ষক)

    আয়াক্সের ২৪ বছর বয়সী গোলরক্ষক চ্যাম্পিয়নস লিগ দিয়ে সবার নজরে এসেছিলেন। অবশ্য তার ভুলেই সেমিফাইনালে সমতাসূচক গোলটি হজম করেছিল আয়াক্স। ২০১৬ সাল থেকে মূল দলের সঙ্গে আছেন তিনি। মাঝে টটেনহামসহ কয়েকটি ক্লাব তাকে নিয়ে আগ্রহ দেখালেও আপাতত আয়াক্সেই রয়েছেন এই ক্যামেরুনিয়ান গোলরক্ষক।

    মাথিয়াস ডি লিট (ডিফেন্ডার)

    বর্তমান সময়ে ইউরোপের সবচেয়ে প্রতিভাবান তরুণ সেন্টারব্যাক হচ্ছেন ডি লিট। ২০১৮-১৯ চ্যাম্পিয়নস লিগের অনেক আগে থেকেই বিশ্বের সব বড় ক্লাবগুলোর নজর ছিল তার দিকে। একদিকে তার দারুণ রক্ষণশৈলী অন্যদিকে অসাধারণ নেতৃত্বগুণ, সবমিলিয়ে ‘পারফেক্ট প্যাকেজ’ বলা যায় তাকে। আর চ্যাম্পিয়নস লিগের পরপরই নিজেদের বর্ষীয়ান ডিফেন্ডারদের উত্তরসূরি হিসেবে তাকে বেছে নেয় ইতালিয়ান জায়ান্ট জুভেন্টাস। আয়াক্সের হয় ৩ মৌসুমে ১১৭ ম্যাচ খেলেছিলেন তিনি।

    দালি ব্লিন্ড (ডিফেন্ডার)

    আরেক সেন্টারব্যাক ব্লিন্ডও আয়াক্সের একাডেমী থেকে উঠে এসেছেন, এখনো আয়াক্সেই রয়েছেন। আয়াক্সের সেই দলটির সবচেয়ে বয়স্ক খেলোয়াড়দের একজন হচ্ছেন ব্লিন্ড। ৩০ বছর বয়সী এই ডিফেন্ডার অবশ্য গত চ্যাম্পিয়নস লিগের সময় হৃদরোগের সমস্যায় পড়েন। গত ফেব্রুয়ারিতে মাঠে ফিরলেও সম্প্রতি একটি প্রাক-মৌসুম ম্যাচের সময় আবারও হৃৎপিণ্ডের সমস্যা নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় তাকে।

    নিকোলাস টালিয়াফিকো (ডিফেন্ডার)

    আর্জেন্টাইন লেফটব্যাক তাগ্লিয়াফিকো ২০১৮ সালে স্বদেশী ক্লাব ইন্দিপেন্দিয়েন্তে থেকে আয়াক্সে এসেছিলেন। ইউরোপের বেশ কয়েকটি ক্লাব তাকে দলে পেতে আগ্রহ প্রকাশ করলেও এখনও আমস্টারডামেই আছেন এই ২৮ বছর বয়সী ডিফেন্ডার। গুঞ্জন ভারী লেস্টার সিটির দিকে, টালিয়াফিকোকে শেষ পর্যন্ত দলে ভেড়াতে পারে তারা এই মৌসুমেই।

    নাসের মাজরাউই (ডিফেন্ডার)

    ২২ বছর বয়সী এই মরোক্কান ডিফেন্ডারও আয়াক্স একাডেমী থেকে উঠে এসেছেন। ২০১৮ সালে সিনিয়র দলের হয়ে অভিষেক হয় তার। তিনিও আছেন আয়াক্সের সঙ্গেই।


    ফ্রেঙ্কি ডি ইয়ং (মিডফিল্ডার)

    আয়াক্সের সেই দলটির সবচেয়ে প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের একজন এই ডি ইয়ং। মাত্র ২৩ বছর বয়সেই নিজেকে একজন পূর্ণাঙ্গ মিডফিল্ডার হিসেবে গড়ে তুলেছিলেন। সেবারের চ্যাম্পিয়নস লিগে রিয়াল মাদ্রিদ, জুভেন্টাসের মতো ক্লাবগুলোর বিপক্ষে দাপটের সঙ্গে আয়াক্সের মধ্যমাঠ সামলেছিলেন তিনি। 

    বার্সেলোনা কিংবদন্তি দুই মিডফিল্ডার জাভি এবং আন্দ্রেস ইনিয়েস্তার উত্তরসূরি খুঁজছিল অনেকদিন থেকে। ডি ইয়ংয়ের মধ্যে তাদের ছায়া খুঁজে পেয়েছিলেন বার্সা কর্তারা। তাই তো মৌসুম শেষের আগেই তাকে ন্যু ক্যাম্পে আনার কাজ সেরে ফেলেন তারা।

    লাসে শোন (মিডফিল্ডার)

    রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে শেষ ষোলর দ্বিতীয় লেগে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুকে স্তব্ধ করে দিয়েছিল তার দুর্দান্ত ফ্রি-কিকে করা গোল। তার গোলটির মাধ্যমে গোলের ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের জালে গোলের হালি পূর্ণ হয়েছিল আয়াক্সের। ২০১২ সালে আয়াক্সে এসেছিলেন তিনি। ৩৪ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডার সেই চ্যাম্পিয়নস লিগের পরেই আয়াক্স ছেড়ে ইতালিয়ান ক্লাব জেনোয়াতে পাড়ি জমান।


    আরও পড়ুনঃ যেদিন ডি ইয়ংরা হয়ে যান ভ্যান গগ


    হাকিম জিয়েখ (উইঙ্গার)

    আয়াক্সের আক্রমণভাগ সেই মৌসুমে আলাদাভাবে নজরে এসেছিল সবার। দারুণ পাসিং, পজেশনের জ্ঞান, দুর্দান্ত ফিনিশিং; সব মিলিয়ে আয়াক্সের আক্রমণভাগ প্রত্যেক ম্যাচেই প্রতিপক্ষের ভিত নাড়িয়ে দিচ্ছিল। আর সেই আক্রমণভাগেরই অন্যতম আলোচিত চরিত্র ২৭ বছর বয়সী মরোক্কান উইঙ্গার জিয়েখ। তার ওয়ার্করেট, পায়ের কারিকুরি, গতি সহ সবকিছুই মুগ্ধ করেছিল ফুটবল প্রেমীদের। সেই মৌসুমের পরই আয়াক্স ছেড়ে দেবেন বলে গুঞ্জন উঠলেও শেষ পর্যন্ত আরও এক মৌসুম আয়াক্সে থেকেছেন তিনি। অবশেষে ২০২০-২১ মৌসুমে চেলসিতে যোগ দিয়েছেন জিয়েখ।

    ডনি ভ্যান ডি বিক (মিডফিল্ডার)

    সেবারের চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালে টটেনহামের বিপক্ষে প্রথম লেগে ম্যাচের একমাত্র গোলটি এসেছিল তার পা থেকে। আক্রমণভাগের প্রাণ হিসেবে দলের প্রতিটি ফরোয়ার্ড মুভমেন্টেই তার অবদান ছিল। এক মৌসুম পর তিনিও আয়াক্স ছেড়েছেন, পাড়ি জমিয়েছেন ওল্ড ট্রাফোর্ডে।

    ডেভিড নেরেস (ফরোয়ার্ড)

    ব্রাজিলিয়ান ক্লাব সাও পাওলোর একাডেমী থেকে উঠে আসা এই ফরোয়ার্ড সেবারের চ্যাম্পিয়নস লিগে বিশেষভাবে তার ফিনিশিংয়ের জন্য প্রশংসিত হয়েছিলেন। চ্যাম্পিয়নস লিগের পর বেশ কয়েকটি ক্লাবের আগ্রহের কেন্দ্রে থাকলেও এখনো আয়াক্সে রয়েছেন তিনি।

    দুসান তাদিচ (স্ট্রাইকার)

    আয়াক্সের হয়ে সেবারের চ্যাম্পিয়নস লিগে যেন পুনর্জন্ম হয়েছিল ৩১ বছর বয়সী এই সার্বিয়ান স্ট্রাইকারের। ২০১৮ সালে আয়াক্সে আসার আগে চার মৌসুম সাউদাম্পটনে খেলে মোটে ২৩ গোল করেছিলেন। আর আয়াক্সে নিজের প্রথম মৌসুমেই করেছিলেন ৩৮ গোল। তিনিও অবশ্য এখনো আয়াক্সের ডেরাতেই আছেন।

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন